নেপচুনিয়াম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

নেপচুনিয়াম পর্যায় সারণীর অ্যাক্টিনাইড সিরিজের তথা গ্রুপ 3B এর অন্তর্গত একটি তেজস্ক্রিয় মৌল। প্রথম কৃত্রিমভাবে প্রস্তুতকৃত ট্রান্সইউরেনিয়াম মৌল হিসেবেও এর পরিচিতি রয়েছে। এটি রৌপ্য বর্ণের ধাতব পদার্থ।

আবিষ্কার[সম্পাদনা]

এডুইন ম্যাটিসন ম্যাকমিলান (Edwin Mattison McMillan) এবং ফিলিপ হগ অ্যাবেলসন (Philip Hauge Abelson) নামক দুজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৯৪০ সালে নেপচুনিয়াম তৈরি করেন। তারা ইউরেনিয়ামের আকরিকের নিউট্রন আবেশিত ট্রান্সমিউটেশন বিক্রিয়ার (Neutron-induced Transmutation Reaction) মাধ্যমে এটি প্রস্তুত করেন। মূলত সাইক্লোট্রন নামক যন্ত্র থেকে উচ্চ দ্রুতিসম্পন্ন নিউট্রন দ্বারা ইউরেনিয়ামকে আঘাত করার ফলে এটি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

সাধারণ বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ব্রিডার চুল্লীর মাধ্যমে ইউরেনিয়াম-২৩৮ থেকে প্লুটোনিয়াম তৈরির সময় উপজাত হিসেবে নেপচুনিয়াম উৎপাদিত হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্লুটোনিয়ামের ১০০০ ভাগের ১ ভাগ নেপচুনিয়াম উৎপাদিত হয়।

এটি সাধারণত তিনটি কেলাস গঠন প্রদান করে। তবে কক্ষ তাপমাত্রায় আলফা-অর্থোরম্বিক গঠন দেখায়। রাসায়নিকভাবে সক্রিয় এ মৌলটির ধর্ম অনেকটা ইউরেনিয়াসের মতই। জলীয় দ্রবনে এটি বিভিন্ন আয়নের জন্য বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যমূলক বর্ণ প্রদান করে। যেমন :

  • Np3+ = হালকা পার্পল
  • Np4+ = হালকা হলুদাভ সবুজ
  • (NpO2)+ = সবুজাভ নীল
  • NpO2+ = অ্যানায়নের উপর নির্ভর করে বর্ণহীন থেকে গোলাপী অথবা হলুদাভ সবুজের মধ্যে পরিবর্তনশীল

আইসোটোপ[সম্পাদনা]

নেপচুনিয়ামের সকল আইসোটোপই তেজম্ক্রিয়। সবচেয়ে স্থিতিশীল আইসোটোপ হচ্ছে নেপচুনিয়াম-২৩৭ যার অর্ধায়ুকাল ২,১৪০,০০০ বছর। আর সবচেয়ে অস্থিতিশীল আইসোটোপ হচ্ছে নেপচুনিয়াম-২৩২ যার অর্ধায়ুকাল ১৩ মিনিট।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

নিবন্ধের উৎস[সম্পাদনা]

  • উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র - প্রফেসর মো. মহির উদ্দিন, লায়লা মুসতারিন, ড. তানভীর মুসলিম, হাছিনা বেগম।
  • উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র - ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী, হারাধন নাগ।
  • ব্রিটানিকা বিশ্বকোষ (Encyclopedia Britannica)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]