তেত্রিশ কোটি দেবতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সংস্কৃতে কোটি শব্দের দুটি অর্থ, একটি হল 'প্রকার' এবং অপরটি হল 'কোটি' (Crore)। বেদে তেত্রিশ কোটি (সংস্কৃত: ত্রয়স্তিমাশতি কোটি) দেবতা বলতে বেদে তেত্রিশ রকমের দেবতার কথা বলা হয়েছে। শতপথ ব্রাহ্মণ এবং অন্যান্য গ্রন্থে এটি পরিষ্কার ভাবে ব্যখ্যা করা হয়েছে। অথর্ব বেদের দশম অধ্যায় সপ্তম সুক্তের ত্রয়োদশ শ্লোকে বলা হয়েছে-

যস্য ত্রয়স্ত্রিংশদ্ দেবা অঙ্গে সর্বে সমাহিতাঃ।

স্কম্মং তং ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।

অর্থাৎ, পরম ঈশ্বরের প্রভাবে এই তেত্রিশ জন দেবতা বিশ্বকে বজায় রেখেছে।

শুরুতে ঋক্ বেদে তিন (৩) রকমের দেবতার কথা বলা হয়েছিল। এনারা ছিলেন- অগ্নি, বায়ু এবং সূর্য্য। ঋক্ বেদে পরবর্তী অধ্যায়ে সেই দেবতার সংখ্যা বেড়ে তেত্রিশ (৩৩) রকমের হয়। এনাদের মধ্যে এগারো জন পৃথিবীতে, এগারো জন বায়ুতে এবং বাকি এগারো জন মহাকাশ বা অন্তরিক্ষে অবস্থান করছেন।

তেত্রিশ দেবতার নাম[সম্পাদনা]

এই তেত্রিশ জন হলেন

দ্বাদশ আদিত্য:[সম্পাদনা]

ভাগবত পুরাণ অনুসারে এই দ্বাদশ আদিত্য হলেন:

  • বিবস্বান্
  • অর্যমা
  • পূষা
  • ত্বষ্টা
  • সবিতা
  • ভগ
  • ধাতা
  • বিষ্ণু (দ্বাদশ আদিত্যের অধিপতি)
  • বরুণ
  • মিত্র
  • ইন্দ্র
  • অংশুমান

একাদশ রুদ্র:[সম্পাদনা]

এই একাদশ রুদ্র হলেন মহাদেব শিবের বিভিন্ন রূপ

  • মন্যু
  • মনু
  • মহিনস
  • মহান
  • শিব
  • ঋতুধ্বজ
  • উগ্ররেতা
  • ভব
  • কাল
  • বামদেব
  • ধুতব্রত

অনেক গ্রন্থ অনুসারে একাদশ রুদ্র হলেন মানব শরীরের দশ চালিকা শক্তি এবং এক আত্মা। বৃহদারন্যক উপনিষদে একাদশ রুদ্র হলেন

  • প্রাণ(নিঃশ্বাস)
  • অপান(প্রশ্বাস)
  • ব্যন
  • সমান
  • উদাম
  • নাগ
  • কুর্ম্ম
  • কৃকল
  • দেবদত্ত
  • ধনঞ্জয়
  • আত্মা

অষ্টবসু:[সম্পাদনা]

মহাভারত অনুসারে অষ্টবসু হলেন

দুই অশ্বিন[সম্পাদনা]

● নাসত্য ● দস্র।

বিশ্বামিত্রপুত্র মধুচ্ছন্দা অশ্বিদ্বয়ের পরিচিতি দিয়েছেন এভাবে : ' হে অশ্বিদ্বয় ! তোমরা সর্বরোগহর , যা সত্য নয় এমন ভাষণরহিত তাই নাসত্য , দর্শনীয় স্রকতুল্য তাই দস্র । তোমরা রুদ্রবর্তনী (অর্থাৎ পরস্পরকে রুদ্রবেগে আবর্তনকারী '। [১] । কণ্বপুত্র মেধ্যাতিথির অশ্বিনী-আবাহন : ' অন্ধকারকে উদ্ভাসিত ক'রে যে দেবদ্বয়ের দিব্যলোকস্পর্শী রথ সুন্দরভাবে চলেছে সে অশ্বিনদের আমরা আবাহন করছি ' । [২] । অঙ্গিরাপুত্র হিরণ্যস্তুপএর ভাবনা : ' আকাশ জুড়ে এ তেত্রিশ দেবতার সাথে নাসত্যদ্বয় আসে , মধুপায়ী (এ) অশ্বিনদের সহাবস্হানে আয়ুর অস্ত পর্যন্ত নিরপরাধ ক্ষতমুক্ত প্রতিষেধকশক্তিযুক্ত দ্বেষহীন হবো ' । [৩] Reference: https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%85%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%80

বৃহদারন্যক উপনিষদে তেত্রিশ দেবতা[সম্পাদনা]

বৃহদারন্যক উপনিষদ (৩.৯.২ থেকে ৩.৯.১১)

বিদগ্ধ শাকল্য যাজ্ঞবল্ক্যকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব (শক্তি) কয়টি?"

যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, "৩৩টি"

তখন শাকল্য আবার বললেন, "হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?"

তখন তিনি আবার বললেন, "৬টি"

শাকল্য আবার বললেন, "হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?"

তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন, "৩টি"

আবার শাকল্য জিজ্ঞাসা করায় তিনি উত্তর দিলেন দুইটি।

তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞাসা করলেন, "হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?"

তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, "দেড়টি"

শাকল্য আবার জিজ্ঞাসা করলেন, "হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?"

তখন তিনি বললেন "একটি!"

তখন শাকল্যজিজ্ঞাসা করলেন, "এই ৩৩টি দেব কি?"

যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, "অষ্টবসু, যা হল- অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু, অন্তরীক্ষ, আদিত্য, দ্যৌ, চন্দ্র এবং নক্ষত্র। একাদশ রুদ্র যা হল- প্রাণ (নিঃশ্বাস), অপান(প্রশ্বাস), ব্যন, সমান, উদাম, নাগ, কুর্ম্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয় এবং জীবাত্মা। দ্বাদশ আদিত্য হলেন বছরের বারো মাস এবং ইন্দ্র, প্রজাপতি অর্থাৎ মোট ৩৩টি। ইন্দ্র হলেন বিদ্যুৎ আর প্রজাপতি হলেন যজ্ঞ (যে কোনশুভ কর্ম)।"

তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞাসা করলেন, "তাহলে ৬টা দেব কি ?"

তখন তিনি উত্তর দেন, "অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু, অন্তরীক্ষ, আদিত্য, দ্যুঃ"।

তখন তিনি বললেন, "তাহলে ৩টি দেব কি?"

তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, "তিনলোক (ভ্যু,দ্যু,অন্তরীক্ষ)"

তারপর শাকল্য আবার বললেন, "সেই দুইটি দেব কি কি?"

"খাদ্য এবং প্রান" উত্তর দিলেন যাজ্ঞবল্ক্য।

তখন আবার শাকল্য জিজ্ঞেস করলেন "সেই দেড়টি কি?"

তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন, "যিনি প্রবাহিত হন"

তখন শাকল্য বললেন, "সেই এক এবং অদ্বিতীয় যিনি প্রবাহিত হন তাঁকে আপনি কিভাবে দেড় বললেন?"

তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, "যখন তা প্রবাহিত হয় তখনই সবকিছু উত্‍পন্ন হতে শুরু করে।"

"তাহলে কে সেই এক?"

"সেই এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্ম যাকে সবাই তত্‍ বলে জানে।"