দ্বাদশ আদিত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সূর্যের ১১শ-শতাব্দির ভাস্কর্য যার শীর্ষে আরও এগারোটি আদিত্যকে চিত্রিত করা হয়েছে।

আদিত্য (সংস্কৃত: आदित्य) নামটি একবচনে সূর্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আদিত্য বা আদিতেয় বলতে অদিতির সন্তানকে বোঝায়।[১] সাধারণত, আদিত্যগণ সংখ্যায় বারো। এদের একত্রে দ্বাদশ আদিত্য বলা হয়। এরা হলেন, বিবস্বান (সূর্য), অর্যমা, পূষা, ত্বষ্টা, সাবিত্র, ভগ, ধাত্র, বিষ্ণু, বরুণ, মিত্র, ইন্দ্র, অংশুমান[২] অনেক পণ্ডিতের মতে, দ্বাদশ আদিত্য বলতে বারোটি মাসকে বুঝানো হয়।

এগুলি ঋগ্বেদে আবির্ভূত হয়, যেখানে সংখ্যায় ৬-৮টি, সব পুরুষ। ব্রাহ্মণ শাস্ত্রগুলোর মধ্যে সংখ্যা বেড়ে ১২ হয়েছে। মহাভারতপুরাণে ঋষি কশ্যপকে তাদের পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[২] বছরের প্রতিটি মাসে ভিন্ন আদিত্য চকমক বলা হয়।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

দিত ধাতু দ্বারা বন্ধন, খণ্ডন, ছেদন অর্থ বুঝায়। দিতি, যাহার বন্ধন নেই, সীমা আছে, খণ্ডিত বা ছিন্ন। অদিতি অর্থ, যাহা বন্ধন নেই, অখণ্ড, অবিচ্ছিন্ন, সীমা নেই, যে অনন্ত।[৩] “দো অবখণ্ডনে” ধাতু হতে “অদিতি” এবং এর সাথে তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে “আদিত্য” শব্দটি সিধ্য হয়।[৪]

গোয়ালিয়রের সূর্য মন্দির বিখ্যাত কোনার্কের আদলে তৈরি।

আদিত্যগণের তালিকা[সম্পাদনা]

পাঠ্য সংখ্যা তালিকা
ঋগ্বেদ ঋগ্বেদে আদিত্যগণ সংখ্যায় সাত বা আট[২] বরুণ, মিত্র, অর্যমা, দক্ষ, ভগ, অংশুমান, সাবিত্র বা সূর্য[৫][৬], এবং কখনও কখনও মার্তণ্ড
ব্রাহ্মণ শতপথ ব্রাহ্মণে, কিছু অনুচ্ছেদে আদিত্যের সংখ্যা আট এবং একই ব্রাহ্মণের অন্যান্য গ্রন্থে ১২ জন আদিত্যের কথা বলা হয়েছে।[৭]:১০২ যম, অর্যমা, ইন্দ্র, রবি, বরুণ, ধাত্র, ভগ, সাবিত্র, সূর্য বা অর্ক, অংশ বা অংশুমান, মিত্র, দক্ষ
বিষ্ণু পুরাণ বিষ্ণু পুরাণে ১২ জন আদিত্যের কথা বলা হয়েছে।[৮] বিষ্ণু, অর্যমা, ইন্দ্র, ত্বষ্টা, বরুণ, ধাত্রী, ভগ, সাবিত্র, বিবস্বান, অংশ বা অংশুমান, মিত্র, পুষা
ভাগবত পুরাণ ভাগবত পুরাণে ১২ জন আদিত্যের নাম দেওয়া হয়েছে।[৯] বামন, অর্যমা, ইন্দ্র, ত্বষ্টা, বরুণ, ধাতা, ভগ, পরজন্য, বিবস্বান, অংশুমান, মিত্র, পূষা
লিঙ্গ পুরাণ লিঙ্গ পুরাণে ১২ জন আদিত্যের কথা বলা হয়েছে।[১০] ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, ত্বষ্টা, বরুণ, ধাতা, ভগ, সাবিত্র, বিবস্বান, অংশুমান, মিত্র, পুষা
উপনিষদ ছান্দোগ্য উপনিষদে, আদিত্য তার অবতারে বামন হিসেবে বিষ্ণুর একটি নাম। তার মা অদিতি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Werner, Karel (2005). A Popular Dictionary of Hinduism. Routledge. p. 17. ISBN 9781135797539.
  2. Dalal, Roshen (2014-04-18). Hinduism: An alphabetical guide. Penguin UK. ISBN 978-81-8475-277-9.
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দেবতত্ত্ব ও হিন্দুধর্ম, বঙ্কিম রচনাবলী। পৃষ্ঠা ৭৮৬
  4. সত্যার্থ প্রকাশ; দয়ানন্দ সরস্বতী ১ম সমুল্লাস
  5. Jamison, Stephanie; Brereton, Joel (2015). The Rigveda – Earliest religious poetry of India. Oxford University Press. p. 43. ISBN 978-0190633394.
  6. MacDonell, Arthur Anthony (1897). Vedic Mythology. Oxford University Press. p. 43.
  7. Muir, John (1863). Original Sanskrit Texts on the Origin and Progress of the Religion and Institutions of India. Williams and Norgate.
  8. "Book I: Chapter XV". Vishnu Purana – via Sacred-Texts.com.
  9. Srimad Bhagavata Purana. 12.11.27–49.
  10. Linga Purana.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • "On the Ādityas"hinduwebsite.com। Concepts in Hinduism। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]