জাদু (মায়াবিদ্যা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জাদু বা মায়াবিদ্যা একটি ধারণাগত পদ্ধতি যার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির স্বাভাবিক কোন ঘটনা, বস্তু, জীব বা ভৌত কার্যকলাপের অতীন্দ্রিয়, আধিভৌতিক বা অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত করে। এই পদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মানুষ যেসব আচার-অনুষ্ঠান পালন করে এবং বিভিন্ন কিছুর ব্যাখ্যা করার জন্য সে যে বিশ্বাস গ্রহণ করে তাকেও জাদু বলা যেতে পারে।

পৃথিবীতে নানা ধরনের বিশ্বাস রয়েছে, এই বিশ্বাস থেকেই বিভিন্ন জাদু-টোনা অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার তৈরি হয়। এরই অবধারিত পরিণাম জাদুুুুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এগুলো আসলে বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা হলেও অনেকেই বিশ্বাস করেন যে বাস্তবেও জাদু নামক জিনিসের অস্তিত্ব রয়েছে। ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর এলাকায় ১৯৯৮ সালে এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে। একটি মেয়েকে তার চাচী নানান ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে অসুস্থ করে রাখত। এক্ষেত্রে সে কোনো কঠিন বস্তু বা কোনো দৃশ্যমান মাধ্যমের সাহায্য নিত না। যা ঘটত তা সম্পূূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটির চোখের আড়ালে ঘটত মেয়েটিকে কখনও কিছু খাওয়ানো বা তার দেহেও কিছু প্রবেশ করানো হয়নি। মেয়েটি জাতে মুসলমান ছিল। পরে একটি বিশেষ দলের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানোর পর এই বিষয়টি জানা যায়। দেখা যায় যে একটা ব্রা’র গোলাকার অংশের উপর শয়তানের ছবি এঁকে তার সঙ্গে আরবি হরফ ও খেজুুরের কাঁটা যুক্ত করে সেটাকে একটা কালো বোতলের ভেতর ঢুকিয়ে রাখা হয়। সেই সঙ্গে একপ্রকার কটু গন্ধযুক্ত পদার্থও ব্যবহার করা হয়েছিল৷ এই ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে মারা যায়। সে-সময় থানা পুলিশের টানাপোড়েনে জাদুকারিনী মহিলাকে আটক করা হলেও আদালত এই জাদুুুর বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকার না করায় অভিযুক্ত মহিলাটি ছাড়া পেয়ে যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো জেল থেকে ছাড়া পাবার কিছুদিন পর ওই মহিলাটি অদ্ভুতভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।


ঐ সময় বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্ররা পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের দ্বারস্থ হয়। ঐ সংস্থার বিজ্ঞানীরা জাদুর বিষয়টি মানতে চায় নি। তারা এটিকে সাইকোলজিক্যাল হ্যাযার্ড বা মানসিক সঙ্কট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অপরদিকে স্থানীয় মাওলানা ডা. খন্দকার লিয়াকত আলী এই বিষয়টিকে খারাপ জ্বীনের (ইসলামী মতে জ্বীন হল অতিলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন একপ্রকার জীব যারা মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে থাকে এবং তাদের ক্ষমতা দিতে তারা ক্ষতি বা হিত সাধন করতে পারে,) সাথে সম্পৃক্ত বিষয় বলে অভিহিত করেন।

এছাড়া আরও কিছু জাদু বিদ্যা রয়েছে যেগুলো খ্রিষ্টান বা ইহুদিরা প্রয়োগ করে থাকে। অতীতে মিশরে জাদুবিদ্যার ভয়ঙ্কর প্রভাব ছিল। প্রাচীন ব্যাবিলনকে জাদুর শহর বলা হত। ধারণা করা হয় যে, ইহুদিদের হাত ধরেই জাদুর উৎপত্তি ঘটেছে। ইসলামী মতে কোরানকে খারাপ ভাবে পড়লে, উল্টো করে পড়লে, এর কোন আয়াতকে বিকৃত করলে জাদু করা যায়। তবে এগুলো করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োগকারীও মৃত্যুর মুখে পড়তে পারে। অনেকে এই পদ্ধতিকে কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক বলে থাকেন। বাস্তবে কালো জাদুই হোক বা সাদা বা সাধারণ জাদুই হোক, সব ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ব্যক্তি জাদু করে সে এক অদৃশ্য সত্তাকে ডাকতে থাকে। সেই ক্ষমতাকে পুরুষ বা নারী রূপে আমণ্ত্রণ জানানো হয়। সকল ক্ষেত্রেই এই আমন্ত্রণ শ্রোতাদের কান এড়িয়ে বিড়বিড় করে ডাকা হয়। এটি সাধারণত মঞ্চের উপর করা হয়। এটি ম্যাজিসিয়ানের ম্যাজিক দেখানোর সময় করা হয়ে থাকে। একে "বিভ্রম বা ভ্রান্তি " বলা যেতে পারে । কিন্তু কালো জাদু সর্বদাই লোকচক্ষুর অন্তরালে করা হয়। কালো জাদুর পদ্ধতি মেনে এটি করা হয়। এটি জাদুকর এর হাত সাফাই বা বিভ্রমের মতো না হলেও, আদতে এটিও মায়াবিদ্যার মধ্যে পড়ে। এরই আর একটি রূপ হল 'কূহক'। ভারতবর্ষে বাণ মারাও কালো জাদুর মধ্যে পড়ে। ভারতবর্ষের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন অপর কয়েকটি দেশেও বাণ মারার প্রচলন রয়েছে। বাণ মারাতে সাধারণত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে না। তবে চামড়ার রোগ, চুলকানি, ব্যথা, শরীরের আরও কয়েকটি রোগ তৈরি হতে পারে। যেগুলো আস্তে আস্তে সেরে যায় ।

ইউরোপের কিছু দেশের উইচক্রাফটের ঘটনাও কালো জাদুর মধ্যে পড়ে।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র স্থানীয় পত্রিকা[সম্পাদনা]