কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য (সেপ্টেম্বর ১৮৪০ - ১৩ আগস্ট ১৯৩২) একজন বাঙালি পণ্ডিত, সাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ । তিনি মালদহের অধিবাসী ছিলেন । ১৮৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন । পিতার নাম রামজয় তর্কালঙ্কার[১][২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন । সে সময়ে সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা এবং ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে বৃত্তিলাভ করেন । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে এন্ট্রান্স পরীক্ষা শুরু হলে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে এক বছর পড়েন । ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিএ পাস করেন । [১][২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বিএ পাস করার পর তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন । এরপর বিদ্যালয়সমূহের উপ-পরিদর্শক এবং ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন । এখানে এগারো বছর অধ্যাপনা করবার পর বিএল পাস করেন এবং ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ওকালতি করবার জন্য কলেজ ত্যাগ করেন । ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা ঠাকুর আইন অধ্যাপক নিযুক্ত হন । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রিপন কলেজে (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) অধ্যক্ষতা করেন । [১][২]

সাহিত্যকীর্তি[সম্পাদনা]

কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থ দুরাকাঙ্ক্ষের বৃথা-ভ্রমণ এবং বিচিত্রবীর্য তার অপরিণত বয়সের রচনা হলেও তার প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে । তার পৌল ও ভর্জিনী মূল ফরাসি থেকে অনুবাদ । তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা হিতবাদীর প্রথম সম্পাদক ছিলেন । ভারতী, অবোধবন্ধু এবং পূর্ণিমা পত্রিকায় তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল । [১] তিনি হিন্দুশাস্ত্র চতুর্থ ভাগ সঙ্কলন করেছিলেন এবং বাচস্পত্যাভিধান সঙ্কলনে তারানাথ তর্কবাচস্পতিকে সাহায্য করেন । তারানাথ তর্কবাচস্পতি তাকে বিদ্যাম্বুধি উপাধি দিয়েছিলেন । [১][২]

তার দুরাকাঙ্ক্ষের বৃথা-ভ্রমণ সম্পর্কে সাহিত্যিক অক্ষয়চন্দ্র সরকার বলেছেন :

...ইহাতে কাদম্বরীর আড়ম্বর নাই, বিদ্যাসাগরের সরসতা নাই, অক্ষয়কুমারের প্রগাঢ়তা নাই, প্যারীচাঁদের গ্রাম্য সরসতা নাই, অথচ যেন সকলই আছে । এবং উহাদের ছাড়া আরও যেন কিছু নূতন আছে । ... আমার বিশ্বাস দুরাকাঙ্ক্ষের ভাষা বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষার জননী । [২]

তিনি সংস্কৃত কাব্যগুলির ছাত্রপাঠ্য সংস্করণ প্রকাশ করে ছাত্রদের সংস্কৃত শিক্ষার পথ সহজ করেছিলেন । তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্য ছিলেন । [১]

কঁৎ-এর পজিটিভিজম দর্শনে বিশ্বাসী কৃষ্ণকমল ছিলেন নাস্তিক । প্রখ্যাত পণ্ডিত রামকমল ভট্টাচার্য তার দাদা ছিলেন । [১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান - প্রথম খণ্ড - সাহিত্য সংসদ আইএসবিএন ৮১-৮৫৬২৬-৬৫-০
  2. পুরাতন প্রসঙ্গ - বিপিনবিহারী গুপ্ত