কারামত আলী জৌনপুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
কারামত আলী জৌনপুরী
জন্ম

১২ জুন, ১৮০০ খ্রি. (১৮ মুহররম, ১২১৫ হিজরী)

জৌনপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত
মৃত্যু ৩০ মে, ১৮৭৩ খ্রি. (৩ রবিউস সানি, ১২৯০ হিজরী)
রংপুর, বাংলাদেশ
উপাধি হাদিয়ে বাঙ্গাল ও আসাম
ধর্ম ইসলাম

মাও. কারামত আলী জৌনপুরী রহ. ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দির উল্লেখযোগ্য সমাজ সংস্কারক ও সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভী রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তরিকায়ে মুহাম্মদিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারক। তিনি ওয়াজ নসীহত করে মানুষকে হেদায়তের পথে আহবান করতেন।

জন্ম ও বংশ[সম্পাদনা]

মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরীা ভারতের উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আবু ইব্রাহিম শেখ মোহাম্মদ ইমাম বখশ। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর বংশধর ছিলেন। [১] তিনি ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন, ১২১৫ হিজরীর ১৮ মুহাররাম জন্মগ্রহন করেন। জন্মের পর তার পিতা তার নাম রেখেছিলেন আলী, কথিত আছে পরবর্তীতে তাঁর কারামত দেখে জনসাধারন তাকে কারামত আলী নামে অভিহিত করে। [২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

কারামত আলী জৌনপুরী তাঁর পিতার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর মওলানা কুদরতউল্লাহ রুদলভী ও আহমদউল্লাহ আল্লামীর নিকট নিকট পবিত্র হাদিস শরীফ ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন। আঠারো বছর বয়সে কারামত আলী জৌনপুরী রহ. তাসাউফ (আধ্যাত্মিক জ্ঞান) শাস্ত্রে আগ্রহী হয়ে রায়বেরিলীতে তরিকায়ে মুহাম্মদিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভী রহ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর নিকট বাই’য়াত গ্রহণ করেন। [১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

সাইয়েদ আহমাদ ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত মুজাহিদ। কারামত আলী ও তাঁর সাথে জিহাদে অংশগ্রহনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সাইয়েদ আহমাদ তাকে সশস্ত্র সংগ্রামের বদলে বাংলা ও আসাম অঞ্চলে ওয়াজ-নসীহত ও লেখনীর মাধ্যমে সমাজ সংস্কার ও ধর্মপ্রচারের নির্দেশ দেন। কারণ তৎকালীন সময়ে এসব অঞ্চলের সাধারণ মুসলমানরা ইসলাম ধর্মের আবশ্যকীয় কার্যক্রম যেমন নামাজ, রোজা ভুলে অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করত। মুর্শিদের নির্দেশে কারামত আলী বাংলা ও আসাম অঞ্চলে ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের কাজে লিপ্ত হন। [১][২]

সমকালীন রাজনীতিতে অবস্থান[সম্পাদনা]

কারামত আলী হাজী শরীয়তউল্লাহ প্রবর্তিত ফরায়েজি আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। ফরায়েজিরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষকে দারুল হরব মনে করত এবং জুমাঈদের নামাজ আদায় করত না। পক্ষান্তরে কারামত আলী মনে করতেন ভারতবর্ষ যদিও দারুল ইসলাম নয়, তবে দারুল হরব ও নয়। বরং ভারতবর্ষ হচ্ছে দারুল আমান। কারণ ব্রিটিশরা মুসলমানদেরকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে দেয়। এ বিষয়ে তিনি ফরায়েজিদের সাথে বিতর্ক করে তার মত প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। [১]

ইন্তেকাল[সম্পাদনা]

ওয়াজ নসীহত ও ধর্মপ্রচারের সুবাদে কারামত আলী রহ. নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, আসাম, রংপুর এবং আরও অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করেন। সফরকালীন অবস্থায় ১৮৭৩ সালে রংপুরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে তাঁরিইন্তেকাল হয়। রংপুরে মুনশিপাড়া জামে মসজিদের পাশে থাকে দাফন করা হয়। [১][২]

রচনাবলী[সম্পাদনা]

কারামত আলী প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন। তন্মধ্যে মাত্র ১৯ টি পুস্তক তিন খন্ডে যখীরায়ে কারামত নামে প্রকাশিত হয়। অন্যান্য পুস্তকগুলো বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য। তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুস্তকের তালিকা হচ্ছেঃ

  • মিফতাহুল জান্নাত
  • তরজমায়ে শামায়েলে তিরমিযী
  • কাউকাবে দুররী
  • বারাহীনে কাতইয়াহ ফি মাওলিদে খাইরিল বারিয়্যাহ
  • নুরুন আলা নুর
  • যাদুত তাকওয়া
  • যিনাতুল কারী
  • মুখারিজুল হুরুফ
  • তাযকিরাতুন নিসওয়ান [২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১], জৌনপুরী, কেরামত আলী, বাংলাপিডিয়া।
  2. উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিমদের রাজনৈতিক জীবন,মাও. আবু বকর সিদ্দিক, খোশরোজ কিতাবমহল, পৃ.৩১-৪০
  • সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ১ম খন্ড, ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ