তাকী উসমানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তাকী উসমানী
চিত্র:পুরুষ
উপাধি শাইখুল ইসলাম, আল্লামা, মুফতি
জন্ম ১৯৪৩
দেওবন্দ, সাহারানপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত
জাতিভুক্ত পাকিস্তানী
আইনশাস্ত্র হানাফি
ধর্মবিশ্বাস সুন্নি
মূল আগ্রহ ফিকহ, ইসলামী অর্থনীতি
লক্ষণীয় কাজ পাকিস্তানের মিজান ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা

বিচারপতি মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী (জন্ম: ১৯৪৩) পাকিস্তানের একজন প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদীস,ইসলামী ফিকহ,তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ। তিনি বর্তমানে ইসলামী অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। তিনি ইসলামী ফিকহ্ ,হাদিস,অর্থনীতি এবং তাসাউউফ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। তিনি বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “মাআরিফুল কোরআন”এর রচয়িতা মুফতি শফী উসমানীর সন্তান এবং বিখ্যাত দুই ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা রফী উসমানী ও মাওলানা ওয়ালী রাজীর ভাই।[১]

জীবন[সম্পাদনা]

মাওলানা তাকী উসমানী ১৯৪৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। দারুল উলূম করাচী থেকে আলীম ডিগ্রী অর্জন করার পর তিনি তাঁর পিতা মাওলানা শফী উসমানীর তত্ত্বাবধানে ইসলামী ফিকহে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে তিনি দারুল উলুম করাচী থেকে ইসলামিয়্যাতে তাখাস্সুস (পি.এইচ.ডির সমমানের ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রী এবং করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি ডিগ্রী অর্জন করেন।[২] তিনি শায়খ হাসান মাশাত, মুফতী মুহাম্মদ শফী উসমানী, মাওলানা ইদ্রীস কান্দলভী, মুফতী রশীদ আহমাদ লুধিয়ানভী এবং শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনার ইজাযত (অনুমতি) গ্রহণ করেন। তাসওউফের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেওবন্দের আলিমদের ধারা অনুসারে তিনি আশরাফ আলী থানভী (র:)এর দুই খলিফা শায়খ ডা: আব্দুল হাই আরিফী এবং মাসীহুল্লাহ খান থেকে বাইআত গ্রহণ করেন।[৩] “মিজান ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলামী ব্যাংকিং চালু করেন। তাকী উসমানী আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (ওআইসির একটি শাখা সংস্থা) এর একজন স্থায়ী সদস্য। ৯ বছর তিনি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।[৪] ২০০৪ সালের মার্চ মাসে মাওলানা তাকী উসমানীকে দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থনীতি সংস্থার বার্ষিক অনূষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রি ইসলামী অর্থনীতিতে তাঁর অবদান ও অর্জনের কারণে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে। প্রতি সপ্তাহের রবিবার তিনি করাচীর দারুল উলুম মাদরাসায় তাযকিয়াহ তথা আত্মশুদ্ধি সম্পর্কে বয়ান করেন। বর্তমানে তিনি দারুল উলুম করাচীতে সহীহ বুখারী,ফিকহ এবং ইসলামী অর্থনীতির দরস দেন। ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট যুলফিকার আলী ভুট্টোর আমলে পাকিস্তান ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি কর্তৃক কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করার ব্যাপারে আলিমদের মধ্য হতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে হদ্দ,ক্বিসাস এবং দিয়ত সম্পর্কিত আইন প্রণয়নে তিনি অগ্রবর্তি ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি উর্দূ মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ এবং ১৯৯০ সাল থেকে ইংরেজি মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সম্পাদক পদে আছেন।ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে বহু প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি আরবি,উর্দূ এবং ইংরেজি ভাষায় ষাটের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা।[৫] তার রচিত অধিকাংশ বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]