সহীহ বুখারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সহীহ বুখারী (আরবি: صحيح البخاري‎), সুন্নী ইসলাম মতে কিতাবুস সিত্তা অর্থাৎ হাদীস বিষয়ক প্রধান ছয়টি গ্রন্থের অন্তর্গত হাদিসের প্রধান গ্রন্থ। পারস্যের স্বনামধন্য মুসলিম চিন্তাবিদ ইমাম বুখারী মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর বানীর এই গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।[১] এই গ্রন্থটিকে কোরানের পর সবচাইতে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে ধরা হয় [২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইমাম বুখারী স্বীয় শিক্ষক ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন।একদিন ইসহাক একটি এমন গ্রন্থের আশা প্রকাশ তরেন,যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে শুধু সহিহ হাদীস। ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন।২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কার হারাম শরীফে এই গ্রন্থের সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়। বুখারী শরীফের সংকলনকালে তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস গ্রন্থ সন্নিবেশিত করার আগে গোসল করে দু' রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন।[১১] এই গ্রন্থে তিনি সকল সহিহ হাদীস সংকলন করেননি। বরং সহিহ হাদীসের মাঝে যেগুলো তার নির্ধারিত শর্তে উন্নীত হয়েছে,সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি স্বয়ং বলেন, "আমি জা'মে কিতাবে সহিহ হাদিস ব্যতিত অন্যকোন হাদিস ওল্লেখ করিনি। তবে কলেবর বড় হয়ে যাওয়ার আশংকায় অনেক সহিহ হাদিসকে বাদ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি আমার কিতাবে প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বেই গোসল করেছি এবং দুরাকাআত আদায় করে নিয়েছি। অপর বর্ণনা হতে জানা যায় যে, ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর স্বীয় কিতাবের শিরোনাম সমূহ রাসুলে করিম (সা) এর রওজা এবং মসজিদে নববির মধ্যস্থলে বসে লিখেছিলেন এবং প্রত্যেক শিরোনামের জন্য দুরাকায়াত নফ্ল নামাজ আদায় করেছেন। ইমাম বুখারীর প্রায় ৬ লাখ হাদীস মুখস্ত ছিল। বুখারী শরীফের পুরো নাম হলোঃ আল-জামি আল-সাহীহ আল-মুসনাদ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। বুখারি শরীফ প্রণয়ের স্থানঃ আবুল ফজল মোহাম্মদ বিন তাহেরের বর্ণনা মতে, ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর গ্রন্থখানি বুখারাতে বসে রচনার কাজ শেষ করেছেন। আবার কারো মতে মক্কা মুয়াজ্জামায় আবার কারো মতে বসরাতে। তবে ওল্লেখিত সকল বর্ণনা নির্ভুল। কেননা তিনি ওল্লেখিত সকল নগরীতে অবস্থান করেছেন। স্বয়ং ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, আমি আমার সহিহ বুখারি সঙ্গে নিয়ে বসরা শহরে ৫ বছর অবস্থান করেছি এবং আমার কিতাব প্রণয়ের কাজ শেষ করি। আর প্রতি বছরই হজ্ব পালন করি এবং মক্কা হতে বসরাতে ফিরে আসি।তিনি ৬ লাখ হাদিস হতে যাচাই বাছাই করে সর্বসাকুলে ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে এ প্রসিধ্য গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন।

হাদিস সংখ্যা[সম্পাদনা]

এই গ্রন্থে মোট সাত হাজার একশত পঁচাত্তর (৭,১৭৫) খানি হাদিস আছে। আর পুনরুক্ত ছাড়া আছে চার হাজারের (৪,০০০) মতো।[৩]

ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহ[সম্পাদনা]

সহীহ বুখারী রচনার পর থেকে এ পর্যন্ত তার বহু ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখা হয়েছে। এর মাঝে অন্যতম হলো আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী এবং ইমাম বদরুদ্দীন আল-আইনী রচিত উমদাতুল ক্বারী। নিচে সহীহ বুখারীর উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো:

  • আল-কিরমানী রচিত আল-কাউয়াকিব আল-দারারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাত্‌হ আল-বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রচিত উ'মদাতুল ক্বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আল্লামা ক্বাসতাল্লানী রচিত ইরশাদ আল-সারী লি শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mabadi Tadabbur-i-Hadith, Amin Ahsan Islahi
  2. The Canonization of Al-Bukhari and Muslim: The Formation and Function of the Sunni Hadith Canon by Jonathan Brown, BRILL, 2007
  3. Hady al-Sari, pg. 654.