যুগ চক্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যুগ চক্র হ'ল হিন্দু মহাজাগতিক চক্রযুগ। প্রতিটি চক্র ৪,৩২০,০০০ বছর (১২,০০০ দৈব বছর) পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং চারটি যুগ পুনরাবৃত্তি করে: সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, দ্বাপর যুগকলি যুগ[১] যেহেতু যুগ চক্র চারটি যুগের মধ্য দিয়ে অগ্রগতি লাভ করে, সেহেতু প্রতিটি যুগের দৈর্ঘ্য এবং মানবতার সাধারণ নৈতিকশারীরিক অবস্থা প্রতিটি যুগে এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পায়। এক মন্বন্তরে (মনুর বয়স) একাত্তরটি যুগ চক্র এবং এক কল্পে (ব্রহ্মার দিন) এক হাজার যুগ চক্র রয়েছে।[২]

ব্যাপ্তিকাল ও গঠন[সম্পাদনা]

হিন্দুগ্রন্থে চারটি যুগ (বিশ্বযুগ) বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে একটি যুগ চক্রের মধ্যে চারটি যুগ রয়েছে। প্রতিটি যুগকে তার যুগ-সন্ধ্যা (ভোর) এর আগে এবং তার যুগ-সন্ধ্যাংশ (সন্ধ্যার) পরে একটি প্রধান সময়কাল হিসাবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে প্রতিটি গোধূলি (ভোর/সন্ধ্যা) এর প্রধান সময়কালের দশমাংশ অবধি থাকে। এর দৈর্ঘ্য কয়েকটি দৈব-বছরের সমান, এবং প্রতিটি দৈব-বছর ৩৬০টি সৌর (মানব) বছরের সমান।[১][২][৩]

প্রতিটি যুগ চক্র ৪,৩২০,০০০ বছর (১২,০০০ দৈব বছর) অবধি তার চারটি যুগ এবং তাদের অংশগুলি নিম্নলিখিত ক্রমে সংঘটিত হয়:[১][২][৩]

  • সত্যযুগ সন্ধ্যা (ঊষা): ১৪৪,০০০ (৪০০ দৈব) বছর
  • সত্যযুগ (সত্য): ১৪৪০,০০০ (৪০০০ দৈব) বছর
  • সত্যযুগ সন্ধ্যা (সন্ধ্যা):১৪৪,০০০ (৪০০ দৈব) বছর
  • ত্রেতাযুগ সন্ধ্যা (ঊষা): ১০৮,০০০ (৩০০ দৈব) বছর
  • ত্রেতাযুগ (সত্য): ১০৮০,০০০ (৩০০০ দৈব) বছর
  • ত্রেতাযুগ সন্ধ্যা (সন্ধ্যা):১০৮,০০০ (৩০০ দৈব) বছর
  • দ্বাপরযুগ সন্ধ্যা (ঊষা): ৭৩,০০০ (২০০ দৈব) বছর
  • দ্বাপরযুগ (সত্য): ৭২০,০০০ (২০০০ দৈব) বছর
  • 'দ্বাপরযুগ সন্ধ্যা (সন্ধ্যা):৭২,০০০ (২০০ দৈব) বছর
  • কলিযুগ সন্ধ্যা (ঊষা): ৩৬,০০০ (১০০ দৈব) বছর
  • কলিযুগ (সত্য): ৩৬০,০০০ (১০০০ দৈব) বছর
  • কলিযুগ সন্ধ্যা (সন্ধ্যা):৩৬,০০০ (১০০ দৈব) বছর

বর্তমান চক্রের চারটি যুগে কলিযুগের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত তারিখ রয়েছে, চতুর্থ ও বর্তমান যুগ, খ্রিস্টপূর্ব ৩১০২ সালে শুরু হয়েছিল:[২][৪][৫]

যুগ চক্র
যুগ শুরু (– শেষ) দৈর্ঘ্য
সত্য যুগ ৩,৮৯১,১০২ খ্রিস্টপূর্ব ১,৭২৮,০০০ (৪,৮০০)
ত্রেতা যুগ ২,১৬৩,১০২ খ্রিস্টপূর্ব ১,২৯৬,০০০ (৩,৬০০)
দ্বাপর যুগ ৮৬৭,১০২ খ্রিস্টপূর্ব ৮৬৪,০০০ (২,৪০০)
কলি যুগ* ৩১০২ খ্রিস্টপূর্ব – ৪২৮,৮৯৯ খৃষ্টাব্দ ৪৩২,০০০ (১,২০০)
বছর: ৪৩,২০,০০০ সৌর (১২,০০০ দৈব)
(*) বর্তমান. [টীকা ১][৫][৬]

হিন্দু মহাকাব্য, স্মৃতিশাস্ত্রসূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারে, পৃথিবীর এক বছর, এক দৈব দিন (২৪ ঘন্টা) এর সমান। বারো হাজার দৈব বছরে এক যুগ চক্র। প্রতিটি যুগ চক্র চার ভাগে বিভক্ত। সত্য যুগের সময়কাল চার হাজার দৈব বছর। এই চক্রের সকাল চারশো বছর এবং এর সন্ধ্যা চারশত বছর নিয়ে গঠিত। প্রতিটি সময়কাল ধীরে ধীরে গৌণ অংশ এবং সংযুক্ত অংশ উভয়ই প্রধান সময়কালের ক্ষেত্রে এক চতুর্থাংশ হ্রাস পায়।[৭][৮][৯][টীকা ২]

চার যুগের সময়কাল[সম্পাদনা]

চতুর্যুগ বিভাজন দৈব বছর মোট দৈব বছর মানব বছর মোট মানব বছর
সত্য যুগ উষা ৪০০ = ৪৮০০ বছর ৩৬০০০ = ১৭,২৮,০০০ বছর
সত্য ৪০০০ ৩৬০০০০
সন্ধ্যা ৪০০ ৩৬০০০
ত্রেতা যুগ উষা ৩০০ = ৩৬০০ বছর ৭২০০০ = ১২,৯৬,০০০ বছর
ত্রেতা ৩০০০ ৭২০০০০
সন্ধ্যা ৩০০ ৭২০০০
দ্বাপর যুগ উষা ২০০ = ২৪০০ বছর ১০৮০০০ = ৮,৬৪,০০০ বছর
দ্বাপর ২০০০ ১০৮০০০০
সন্ধ্যা ২০০ ১০৮০০০
কলি যুগ উষা ১০০ = ১২০০ বছর ১৪৪০০০ = ৪,৩২,০০০ বছর
কলি ১০০০ ১৪৪০০০০
সন্ধ্যা ১০০ ১৪৪০০০
মোট =১২,০০০ = ৪৩,২০,০০০ বছর

[১০]

সত্য যুগ[সম্পাদনা]

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, সত্য যুগ হলো চার যুগের প্রথম যুগ। সত্য যুগে ধর্মের চার পাদ বিদ্যমান ছিল। বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষে তৃতীয়া তিথিতে রবিবারে সত্যযুগের উৎপত্তি। এর পরিমাণ ১৭,২৮,০০০ বছর।[১০] এ যুগে কোনো প্রকার পাপ ছিল না।[১১] এ যুগে প্রাণ ছিল মজ্জায়, মৃত্যু ছিল ইচ্ছাধীন, এবং সোনার পাত্র ব্যবহার করা হত। সত্যযুগের অবতার মোট ৪ জন- মৎস্য (মাছ), কূর্ম (কচ্ছপ), বরাহ (শুকর) ও নৃসিংহ[১২] সত্যযুগের বেদ- সামবেদ

চাক্ষুষ মন্বন্তরের শেষের দিকে এক প্রলয়ংকারী বন্যায় পৃথিবী থেকে জীবনের সকল নিশানা মুছে যায়। শুধু মাত্র মৎস্য অবতার হিসাবে বৈবস্বত মনুকে বিষ্ণু বাঁচিয়ে নেয়। মৎস পরবর্তী চক্রে পৃথিবীকে জনাকীর্ণ করে তোলে।[১৩][১৪][১৫] ইতিহাসের সকল রাজবংশের আগমন ঘটে বৈবস্বত মনুর পুত্র ও তার একমাত্র কন্যা ইল হতে। এই কন্যা এক যজ্ঞ থেকে জন্ম নেয় ও পরে তার স্ত্রী হয়।[১৬] ইক্ষ্বাকু বৈবস্বত মনুর জ্যেষ্ঠ পুত্র যিনি কোসালা রাজ্যের অযোধ্যায় সূর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। উল্লেখ যে বৈবস্বত মনুর পিতা হল বিবস্বান তথা সূর্য দেব। ইক্ষভাকুর কনিষ্ঠ পুত্র নিমি একটু পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বিদেহ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। মিথিলাকে বিদেহ রাজ্যের রাজধানী হিসাবে প্রথিষ্ঠা করেন, নিমির পুত্র মিথি।[১৭] রাজা মিথিকে জনক নামে ও ডাকা হয়, পরবর্তীতে এ নামেরই প্রচলন ঘটে।

একই সময়ে মধ্যদেশের (দোয়াব) প্রতিস্থানে উত্থান ঘটে চন্দ্র বংশের। তারা হল বৃহস্পতির স্ত্রী। তারা ও চন্দ্রের (সোম) অবৈধ প্রণয়ে জন্ম হয় বুধের। বুধ ও ইলার ঔরসজাত সন্তান পুরূরবার।[১৮] পুরূরবার ও উর্বশীর প্রেম কাহিনী প্রথম বর্ণিত হয় ঋগ্বেদে।[১৯] কয়েক প্রজন্ম ধরে তাদের এ প্রেম কাহিনী ভারতের পৌরাণিক কল্পকাহিনীতে আবর্তিত হয়েছে। কবি কালিদাস এ কাহিনী অবলম্বনে তার বিক্রম উর্বশী নাটক রচনা করেছেন। পুরূরবারের কনিষ্ঠ পুত্র অমাবসু কান্যকুজ্ব (কনৌজ) সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।[২০]

পুরূরবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র আয়ুসের পরে সাম্রাজ্যটি দুটি ভাগে ভাগ হয়। আয়ুসের বড় ছেলে নহুশ স্বর্গে ইন্দ্র হিসাবে অধিষ্ঠিত হলে সে ইন্দ্রানীর (ইন্দ্রের স্ত্রী শচী) প্রতি প্রণয়াসক্ত হয়ে পরে।[২১] তার এ লোলুপ দৃষ্টির জন্য তাকে স্বর্গ হতে বিতাড়িত করা হয়। ক্ষত্রবর্ধ আয়ুসের আরেক ছেলের নাম, তিনি কাশিতে (বারাণসী) রাজ্য স্থাপন করেন। তার বংশধররা কাশ্য নামে পরিচিত।[২০]

নহুশের পুত্র ও উত্তরাধিকারী যযাতি একজন বিখ্যাত বিজেতা ছিলেন, তিনি চক্রবর্তী রাজা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তার দুই স্ত্রী, সকল অসুর-দানবদের গুরু শুক্রাচার্যের (শুক্র) কন্যা দেবযানী ও দানবরাজের কন্যা শর্মিষ্ঠা। তার ছিল পাঁচ পুত্র, দেবযানীর গর্ভে জন্ম হয় যদু ও তুর্বসুর এবং শর্মিষ্ঠার গর্ভে জন্ম নেয় দ্রুহ্য, অণু ও পুরু (পোরাস)। এদের মধ্যে পুরু সর্ব কনিষ্ঠ হলেও, সে ছিল সব থেকে কর্তব্যপরায়ণ। তাই যযাতি তাকেই প্রতিস্থানের পুরুষানুক্রমিক সার্বভৌম ক্ষমতার উত্তরাধিকারী করে যান।[২২] বড় পুত্ররা প্রতিস্থানের আশপাশের রাজ্যগুলো পেয়েছিল। যযাতির পাঁচ পুত্র থেকেই পাঁচটি রাজ বংশের সূচনা হয় যথা- যাদব, তুর্বসু, দ্রুহ্য, অনব ও পৌরব।[২৩]

যদুর পরপরই যাদব সাম্রাজ্য দুভাগে ভাগ হয়ে যায় যার প্রধান অংশের নাম ক্রোষ্টি, ও অপর স্বাধীন অংশের নাম হৈহয় যার অগ্রভাগে ছিলেন সহস্রজিৎ। যদু বংশ রাজা শশবিন্দুর অধীনে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, তিনি চক্রবর্তীও হয়েছিলেন। অযোধ্যারাজ যুবনাশ্বের পুত্র রাজা মান্ধাতা,[২৪] শশবিন্দু কন্যা বিন্দুমতিকে বিবাহ করেন ও নিজের খ্যাতি বৃদ্ধি করেন। মান্ধাতা ও তার শ্বশুরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজ্য বিস্তার ঘটান ও চক্রবর্তী উপাধী ধারণ করেন।[২৫] চক্রবর্তী মান্ধাতার এক পুত্র পুরুকুতস-তিনি নদীর দেবী নর্মদাকে বিবাহ করেন। অপর এক ছেলে মুচকুন্দ, মহেশ্মতি নামে নর্মদা নদীর তীরে এক শহর গড়ে তোলেন ও সুরক্ষিত করেন।

তার অল্প পরেই দ্রুহ্যু রাজ গান্ধার উত্তর-পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হন(বর্তমান খাইবার পাখতুনখোয়া) ও গান্ধার রাজ্য গড়ে তোলেন। তার বংশধরগণ ভারতের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ম্লেচ্ছ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।[২৬] অণু কর্তৃক সৃষ্ট বংশ অণব, পরে উশীনর ও তিতিক্ষুর অধীনে দুভাগে ভাগ হয়। উশীনরের পুত্ররা পাঞ্জাবের পূর্ব দিকে বিভিন্ন বংশের প্রতিষ্ঠা করে যথা যোদ্ধা, অবষ্ঠী, নবরাষ্ট্র, ক্রিমিলা ও শিবি। উশিনরের পুত্র শিবি, তার নামেই তিনি শিবপুরে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনীতে তার বদান্যতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার পুত্ররা সম্পূর্ণ পাঞ্জাব দখল করে বৃষদ্রব, মদ্রক, কৈকেয় ও সৌৰীড় ইত্যাদি রাজ্য স্থাপন করে। অণু বংশের অপর অংশ পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে তিতিক্ষুর অধীনে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম ও পুণ্ড্র রাজ্য স্থাপন করে।[২৬]

হৈহয় রাজা কৃতবীর্য্য, তিনি ভৃগুদের ধর্মগুরু হিসাবে পেয়েছিলেন ও তাদের উন্নয়নে অনেক সম্পদ দান করেছিলেন। এ সম্পদদানকে কৃত্যবীর্য্যের আত্মীয়স্বজন ভালোভাবে নেয় নি। ফলে তারা সে সকল সম্পদ ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে, ভৃগুরা প্রতিরোধ করে। তারা ভৃগুদের সাথে অন্যায় আচরণ করতে থাকে, অতিষ্ঠ হয়ে ভৃগুরা অন্য দেশে পালিয়ে যায়।[২৭] তৎকালীন কান্যকুজ্বের রাজা গধিরের পুত্র ঋষি বিশ্বামিত্র[২০][২৮] গধির কন্যা সত্যবতীর সাথে বিয়ে হয় ভৃগু ঋষি রুচিকার সাথে। সত্যবতীরুচিকা জমদগ্নি নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

সূর্য বংশের ধারাবাহিকতায় গধি ও কৃতবীর্য্যের সমসাময়িক ছিলেন ত্যূর্য অরুণ। তিনি অযোধ্যার শাসক ছিলেন। ত্যূর্য অরুণ তার গুরু বশিষ্ঠের পরামর্শে নিজের সন্তান, সত্যব্রত কে বনবাস দেন। সত্যব্রতের অপর নাম ত্রিশঙ্কু। ত্যূর্য অরুনের মৃত্যুর পর ত্রিশঙ্কু সশরীরে স্বর্গারোহণের জন্য যজ্ঞের আয়জন করেন। ঋষি বশিষ্ঠ সে যজ্ঞে পৌরহিত্য করতে অস্বীকার করেন।[২৯] প্রত্যাখ্যাত হয়ে ত্রিশঙ্কু গুরুপুত্রদের শরণাপন্ন হন। পিতার কাছে থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আবার তার সন্তানদের কাছে আসায় তারা কুপিত হয়ে ত্রিশঙ্কুকে অভিশাপ দেন। এর অব্যবহিত পরে কান্যকুজ্বের রাজা বিশ্বামিত্র ঋষি বশিষ্ঠের কামধেনু নন্দিনী (আরেক নাম শবলা- দুগ্ধবতী গাভী) কে অধিকার করার চেষ্টা করেন। এতে বশিষ্ঠ ও বিশ্বামিত্রের মাঝে প্রচণ্ড এক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বিশ্বামিত্রের পরাজয় ঘটে। এতে তিনি ক্ষত্রিয় শক্তি থেকে ব্রহ্মশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব বুঝতে পারেন। তাই নিজে ব্রহ্মঋষি হওয়ার জন্য তার সিংহাসন ত্যাগ করে তপস্যা করতে থাকে।[৩০] এ সময় বিশ্বামিত্রের সাথে ত্রিশঙ্কুর মিত্রতা হয়। বিশ্বামিত্র ত্রিশঙ্কুর স্বশরীরে স্বর্গারোহণ যজ্ঞ করতে রাজি হন।[৩১]

এভাবে বশিষ্ঠ ও বিশ্বামিত্রের মাঝে শত্রুতা চলতে থাকে। এমনকি ত্রিশঙ্কুর পুত্র রাজা হরিশচন্দ্রের রাজত্ব কালেও তা বিদ্যমান ছিল। হরিশচন্দ্রের এক ছেলে, নাম রোহিত। হরিশচন্দ্র রোহিতকে বরুণের উদ্দেশ্যে বলি দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। বলি উৎসর্গে দেরি হচ্ছিল কেননা রাজা হরিশচন্দ্র শোথ রোগে (যে রোগে জলীয় পদার্থ জমে শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠে) ভুগছিলেন। বশিষ্ঠের পরামর্শে রোহিত আজিগর্তের পুত্র শুনঃশেফকে ক্রয় করে নেয়। যাতে নিজের জায়গায় শুনঃশেফকে বলি দেওয়া যায়। উল্লেখ্য যে শুনঃশেফ ছিলেন বিশ্বামিত্রের বোনের নাতি। শুনঃশেফকে বিশ্বামিত্র বরুণমন্ত্র শিখিয়ে দেন। তাই বলির পূর্বে শুনঃশেফ যখন মন্ত্র উচ্চারণ করে তখন বরুণের আবির্ভাব ঘটে, তিনি শুনঃশেফের প্রতি খুশি হয়ে তাকে মুক্ত ঘোষণা করেন ও রাজা হরিশচন্দ্রের রোগ মুক্তি ঘটান। বিশ্বামিত্র তখন শুনঃশেফকে নিজের জ্যেষ্ঠপুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন ও নতুন নাম দেন দেবরথ।[৩২][৩৩] কিন্তু এতে বিশ্বামিত্রের কিছু ছেলে বিদ্রোহ করে, বিশ্বামিত্র ও রাগান্বিত হয়ে তাদেরকে সমাজচ্যুত হওয়ার অভিশাপ দেন। তারাই ছিল বিভিন্ন দস্যু বংশ যেমন অন্ধ্র, মুতিব, পুলিন্দ ইত্যাদি বংশের পূর্বপুরুষ।[৩৪][৩৫] তৎপর বিশ্বামিত্র ব্রহ্মঋষির মর্যাদা প্রাপ্ত হন।[৩৬]

অপর দিকে হৈহয় বংশের রাজা অর্জুন কৃতবীর্য্য তার পিতা কৃতবীর্য্যের স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি ছিলেন একজন পরাক্রমশালী রাজা। জমদগ্নির সাথে তিনি দীর্ঘ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরেন। ইক্ষ্বাকু বংশের এক ক্ষুদ্র রাজার কন্যা রেণুকা। জমদগ্নি ও রেণুকার ঔরসে জন্ম নেন বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম। পরশুরাম অর্জুন কৃতবীর্য্যকে হত্যা করলে প্রতিশোধ হিসাবে কৃতবীর্য্যের সন্তান জমদগ্নিকে হত্যা করেন। পরশুরাম এর সমুচিত জবাব দিতে ক্ষত্রিয় বংশের বিনাশ সাধনে দৃঢ় সংকল্প হন। পাঁচজন ব্যতিত তিনি সকল ক্ষত্রিয়কে হত্যা করেন।[৩৭]

এই পাঁচজন পাঁচটি জাতির সৃষ্টি করেন যথা — তলজংঘা, বিতিহোত্র, অবন্তি, তুডিকের, ও যত। এরা সম্মিলিত ভাবে অযোধ্যা আক্রমণ করে ও বাহু রাজাকে রাজ্যচ্যুত করে।[৩৮] তারা কাশিরাজ দিবদাস কে পরাজিত করে রাজ্যচ্যুত করে। দিবদাসের পুত্র প্রতর্দন, বিতিহোত্রদের পরাজিত করে রাজ্য উদ্ধার করেন।[৩৯] ক্ষণকাল পরে বাহু সাগর নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সাগর তাদের সকল শত্রুকে পরাজিত করে সম্পূর্ণ রাজ্য উদ্ধার করেন ও চিরজীবনের জন্য হৈহয় বংশকে ধ্বংস করেন।[৩৮]

সাগরের পুত্রদের সংখ্যা ষাট হাজার। কোন এক কারণে তার ছেলেরা কলিপ ঋষিকে অপমান করলে, ঋষি তাদের অভিশাপ দিয়ে ভস্মে পরিণত করেন। অতঃপর সাগর তার নাতি অংশুমানকে অযোধ্যার উত্তরাধিকারী করে যান।[৪০] সাগরের শাসনের অবসানের সাথে সাথে সত্য যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ত্রেতা যুগ[সম্পাদনা]

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, ত্রেতা যুগ হলো চার যুগের দ্বিতীয় যুগ। এই যুগে সত্য যুগে বিদ্যমান ধর্মের চার পাদ হতে এক পাদ হীন হয়ে তিন পাদ বিদ্যমান থাকে।[৪১] কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথিতে সোমবারে ত্রেতা যুগের উৎপত্তি। এর পরিমাণ ১২,৯৬,০০০ বছর।[১০] এ যুগে পুণ্য তিন ভাগ, পাপ এক ভাগ। এ যুগে প্রাণ ছিল অস্থিতে,এবং রূপার পাত্র ব্যবহার করা হত। ত্রেতা যুগের অবতার মোট ৩ জন- বামন, পরশুরামরাম; [১২] ত্রেতা যুগের বেদ-ঋগ্বেদ

অংশুমানের পৌত্র, রাজা সাগরের প্রপৌত্র — ভগীরথ, গঙ্গা নদীকে মর্ত্যে এনেছিলেন যাতে তার পূর্বপুরুষ গণ তথা সাগরের পুত্রদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয় ও তারা স্বর্গে যেতে পারে।[৪২] পরবর্তী খ্যাতিমান রাজা ছিলেন ঋতুপর্ণ, তিনি নিষদ রাজ নলের সাথে মিত্রতা স্থাপন করে তার খ্যাতি আরও বৃদ্ধি করেছিলেন। বিদর্ভের যাদব রাজ ভীমের কন্যা দময়ন্তির সাথে নলের বিবাহ হয়। দময়ন্তি ও নলের বিবাহের মজার কাহিনী তৎপরবর্তীতে দ্যূত ক্রীড়ায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে যান। পাণ্ডবরা যখন কাম্যক বনে ছিলেন তখন মহর্ষি বৃহদশ্ব যুধিষ্ঠিরকে নল-দময়ন্তীর এই উপাখ্যান বলেছিলেন।[৪৩]

ভগীরথের পাশাপাশি সময়ে দুষ্মন্ত পৌরব বংশের পুনরুত্থান ঘটান। দুষ্মন্ত বিশ্বামিত্রের কন্যা শকুন্তলা কে বিয়ে করেন। দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা ভরত নামের এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।[৪৪] ভরত চক্রবর্তী উপাধী ধারণ করেন ও তার নামেই বংশের নামকরন করেন। তার উত্তর পুরুষদের মধ্যে হস্তী হলেন পঞ্চম। তিনি উচ্চ দোয়াবে রাজধানী স্থানান্তর করে তার নামানুসারে হস্তীনাপুর রাখেন। কয়েক পুরুষ পরে ভরত বংশীয়রাই বিখ্যাত ভ্রাতৃহত্যার যুদ্ধ - কুরুক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। যেখানে কৌরব, পাণ্ডব ও ভরতবংশের মধ্যে যুদ্ধ হয়।[৪৫]

হস্তীর অব্যবহিত পরেই ভরত বংশ চারটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। কৌরব ও পাঞ্চাল দুটি উল্লেখযোগ্য় বংশ। ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে যে পাঞ্চাল নরেশ দিবদাস, দস্যু সম্বরের ৯৯ টি দুর্গ ধ্বংস করেন।[৪৬] গৌতম মুণির স্ত্রী অহল্যা তার বোন। ইন্দ্র অহল্যাকে প্ররোচিত করেন ও নিজ কাম বাসনা চরিতার্থ করেন। এতে গৌতম ক্ষিপ্ত হয়ে অহল্যা কে শাপ দিয়ে পাথরে পরিণত করে বনে ফেলে যান।[৪৭]

সুর্য বংশের আরেকবার উত্থান ঘটে রঘু, অজোদশরথের মত প্রজাবৎসল নৃপতিদের সময়ে।[৪৮] বাল্মীকির রামায়ণে দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাম ও তার স্ত্রী সীতার কাহিনী বর্ণীত হয়েছে। রামের সৎমাতা কৈকেয়ির ষড়যন্ত্রের কারণে রাম, সীতা ও অনুজ লক্ষ্মণের বনবাস হয়। বনের মধ্যে সীতাকে রাক্ষস রাজ রাবণ হরণ করেন, লঙ্কায় নিজের প্রাসাদে বন্দী করে রাখেন। রামচন্দ্র বনের বানর ও ভল্লুকদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করে লঙ্কা অবরোধ করেন। লঙ্কার যুদ্ধে রাবণ রামের কাছে পরাজিত হলে রাম তাকে হত্যা করেন। সীতাকে উদ্ধার করে তিনি অযোধ্যায় ফিরে গিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

শ্রী রাম চন্দ্রের তিরভাবের সাথে সাথে ত্রেতা যুগের অবসান হয় ও দ্বাপর যুগের শুরু হয়। রাম চন্দ্রের পর সূর্য বংশের স্থায়ী পতন ঘটে।

দ্বাপর ষুগ[সম্পাদনা]

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, দ্বাপর যুগ হলো চার যুগের তৃতীয় যুগ। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে বৃহস্পতিবারে দ্বাপর যুগের উৎপত্তি। এর পরিমাণ ৮,৬৪,০০০ বছর।[১০] এই যুগে সত্য যুগে বিদ্যমান ধর্মের চার পাদ হতে দ্বিপাদ হীন হয়ে দ্বিপাদ বিদ্যমান থাকে।[৪১] এই যুগে পুণ্য অর্ধেক, পাপ অর্ধেক। এই যুগে প্রাণ ছিল রক্তে,এবং তামার পাত্র ব্যবহার করা হত। দ্বাপর যুগের অবতার মোট ২ জন- শ্রীকৃষ্ণবলরাম[১২] দ্বাপর যুগের বেদ-যজুর্বেদ

ভিমের রাজত্বের পর যদু বংশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সতবতের দুই পুত্র অন্ধকবৃষ্ণি নিজ নিজ নামে রাজ্য পরিচালনা করেন। কংসের পিতা উগ্রসেন ছিলেন অন্ধক বংশীয়। অপরদিকে কৃষ্ণের পিতা বাসুদেব ছিলেন বৃষ্ণি বংশীয়।

পাঞ্চাল ভরত বংশীয় রাজা শ্রঞ্জয় এ সময় খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেন। তার পুত্র চ্যবন ও পিজবন ছিলেন বীর যোদ্ধা। পিজবনের পুত্র সুদাস। তিনিও কিছু রাজ্য জয় করে সুদাস বংশের পত্তন করেন। কুরু, যাদব, শিবি, দ্রুহ্য, মৎস্য তুর্বসু ও অন্যান্যরা মিলে এক ফেডারেল রাজ্য স্থাপন করে। কেননা সুদা রাজ তাদের সবাইকে পরুশ্নি নদীর তীরে এক বিশাল যুদ্ধে পরাজিত করে। এ যুদ্ধকে বলা হয় দশ রাজার যুদ্ধ[৪৯] ঋগ্বেদের অনেকগুলো শ্লোকে এ বংশের ৫-৬ পুরুষ পর্যন্ত রাজাদের ও তাদের সমসাময়িক কবিদের সম্পর্কে বলা আছে।[৫০]

হস্তীর পুত্র অজমীঢ় কুরু/কৌরব বংশ অব্যহত রাখেন। পাঞ্চালরা এ বংশের সংবরণ রাজাকে সিন্ধু নদের তীরে এক যুদ্ধে পরাজিত করে তাকে বনবাসে পাঠান। পারগিটার এই পাঞ্চাল নরেশকে সুদাস বংশীয় বলে উল্লীখ করেন, কিন্তু তার সাথে এ বংশের কি সম্পর্ক বা তার বংশ পরিচয়ের কোন উল্লেখ করেননি। পরে সংবরণ পাঞ্চালদের কাছ থেকে তার রাজ্য উদ্ধার করেন। ও সূর্য কন্যা তপতীকে বিয়ে করেন।[৫১] নাট্যকার কুলশেখর(খ্রিঃ ৯০০) এ কাহিনীকে তার তপতি-সংবরণ নাটকে অমর করে রেখেছেন। তপতী ও সংবরণের পুত্র কুরু। কুরুর বংশধরগণ কৌরব নামে পরিচিত। তারপর কুরুর দ্বিতীয় পুত্র জহ্নু ক্ষমতায় বসেন।

কুরু বংশীয় বসু, যদু বংশের চেদী রাজ্য জয় করে সেখানে শাসন করতে থাকেন। তার জ্যেষ্ঠপুত্র বৃহদ্রথ মগধের রাজগিরিতে রাজধানী স্থাপন করেন। বৃহদ্রথের পুত্র জরাসন্ধ তার ক্ষমতা উত্তরে মথুরা ও দক্ষিণে বিদর্ভ পর্যন্ত বিস্তার করতে সক্ষম হন। উল্লেখ যে মথুরার অন্ধক রাজ কংশ তার বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন। কংস ছিল অত্যাচারী শাসক। সে তার পিতা উগ্রসেন কে বন্দী করে ক্ষমতা দখল করে। কংসের ভাগ্নে শ্রী কৃষ্ণ। তিনি কংসকে বধ করে উগ্রসেনকে মুক্ত করে হৃত সিংহাসন ফিরিয়ে দেন। এতে জরাসন্ধ ক্ষিপ্ত হয়ে মথুরা আক্রমণ করেন। কৃষ্ণ তখন অন্ধক ও বৃষ্ণিদের সাথে পশ্চিম দিকে সৌরাষ্ট্রের দ্বারকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন। এর পর কৃষ্ণ বিদর্ভ রাজকন্যা রুক্মিনীকে হরণ করতে গিয়ে রুক্মিনীর ভ্রাতাকে পরাজিত করেন ও রুক্মিনীকে বিয়ে করেন।[৫২] পরবর্তী জীবনে কৃষ্ণ পাণ্ডবদের মিত্রে পরিণত হন। (নিচে দেখুন।)

পরবর্তী বিখ্যাত কৌরব রাজা হলেন প্রতীপ। তার পুত্র শান্তনু । প্রতীপের জ্যেষ্ঠ পুত্র দেবপি, সিংহাসনে বসলে বারো বছর রাজ্যে কোন বৃষ্টিপাত হয় না। এতে দেবপি তার অনুজ শান্তনুকে সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে প্রধান ধর্ম গুরুর ভূমিকা পালন করে যজ্ঞ করতে থাকেন। ফলে অচিরেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়।[৫৩]

ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু ছিলেন শান্তুনুর পৌত্র । ধৃতরাষ্ট্র জ্যেষ্ঠ হলেও অন্ধ হওয়ার কারণে রাজ্য শাসনের অযোগ্য হন। ফলে পাণ্ডু সিংহাসনে বসেন। ধৃতরাষ্ট্রের অনেক পুত্র সন্তান ছিল, জ্যেষ্ঠ দুর্যোধন। অপরদিকে পাণ্ডুর ছিল পাঁচ পুত্র যথা- যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুলসহদেব। ধৃতরাষ্ট্র যেহেতু জ্যেষ্ঠ তাই তার পুত্ররা কৌরব বংশের ধরা হয়। আর পাণ্ডুর পুত্রদের পাণ্ডব বলা হয়। কুরু সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে, এ প্রশ্নে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। শান্তিপূর্ণ কোন সমাধান না হওয়ায় এ দুই পরিবার এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। বলা হয় যে ভারতের সকল ক্ষত্রিয় রাজারা কোন না কোন এক পক্ষের হয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আঠারো দিন ব্যাপী এ যুদ্ধ চলে। যুদ্ধে পাণ্ডবরা অনেক চাপের মধ্যে থাকলেও শ্রী কৃষ্ণের চালাকিতে তারা জয়ী হয়। মহাভারতে-এ যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।

উত্তরকালে যাদবরা গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, কৃষ্ণ ও নিজেকে ধ্যানে মগ্ন রাখেন। দৈবক্রমে এক শিকারির বাণ এসে কৃষ্ণকে বিদ্ধ করে ও তিনি মারা যান।[৫৪] পাণ্ডবরা কৃষ্ণের পৌত্রকে ইন্দ্রপ্রস্থে রাজ্যভার দেন। শীঘ্রই পাণ্ডবরা ও অর্জুনের পৌত্র পরীক্ষিতকে হস্তীনাপুরের উত্তরাধিকারী করে নিজেরা বানপ্রস্থে গমন করেন। শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বাপর যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

কলি যুগ[সম্পাদনা]

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, কলি যুগ হল চার যুগের শেষ যুগ। কলি যুগের সময়কাল ৪,৩২,০০০ বছর।[১০] এই যুগে সত্যযুগে বিদ্যমান ধর্মের চার পাদ হতে ত্রিপাদ হীন হয়ে একপাদ বিদ্যমান থাকবে।[৪১] পৃথিবীতে ধর্ম সংকোচিত হয়ে অধর্মের আধিক্য ঘটবে।[৫৫][৫৬][৫৭] মানুষ সল্প আয়ু নিয়ে জন্মাবে। তাদের আয়ু হবে মাত্র একশত বছর।[৫৮] এই যুগে মানুষ তপস্যাহীন হয়ে যাবে; সত্য থেকে দূরে অবস্থানরত হবে; রাজনীতি হবে কুটিল; শাসক হবে ধনলোভী; ব্রাহ্মণ হবে শাস্ত্রহীন; পুরুষ হবে স্ত্রীর অনুগত; দুষ্টের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে,এবং সব পাত্র ব্যবহার করা হবে। কলি যুগের অবতার-কল্কি[১২][৫৯][৬০]

পরীক্ষিত মৃগয়ায় ঋষি শমীককে অপমান করেন। এতে ঋষি শমিকের পুত্র শৃঙ্গী, পরীক্ষিত কে তক্ষকের দংশনে মৃত্যুর অভিশাপ দেন। অভিশাপের সপ্তম দিনে পরীক্ষিতকে তক্ষক দংশন করে। তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি কেননা তক্ষকের বিষহরি মন্ত্র তেমন কেউ জানত না।[৬১] কেবল জানত কশ্যপ। আর কশ্যপ ও তাদের আয়ত্তের বাইরে ছিল। পরীক্ষিতের পুত্র জনমজেয় তখন খুব ছোট ছিলেন। বড় হয়ে মন্ত্রীদের কাছে যখন তার পিতার মৃত্যুর বিবরণ শুনলেন, তখন তিনি সকল সর্পকে হত্যা করার জন্য সর্পসত্র যজ্ঞ করার প্রতিজ্ঞা করলেন। সর্পসত্র যজ্ঞ শুরু হলে সকল সর্প যজ্ঞের অগ্নিতে ভস্মীভূত হতে লাগল।[৬২] তখন নাগরাজ বাসুকি তার ভগিনী জরৎকারুর সাহায্য চাইলেন। জরৎকারুর নির্দেশে তার পুত্র মহাত্মা আস্তীক[৬৩](যে তার মায়ের দিক থেকে ছিল অর্ধ সর্প) জনমেজয়ের কাছে গিয়ে তার প্রীতি উৎপাদন করে সর্পসত্র যজ্ঞ বন্ধ করান।[৬৪] সর্প যজ্ঞ চলার সময় জনমেজয়ে বৈসাম্পায়ন কাছ থেকে মহাভারতের কাহিনী শোনেন। বৈশম্পায়ন ছিলে ব্যাসদেবের শিষ্য।[৬৫]

পরীক্ষিতের ষষ্ঠ বংশধর নিচাক্ষু হস্তীনাপুরের রাজধানীকে ব্যস্ত নগরের কৌসম্বি তে স্থানান্তর করেন। পূর্বে এ নগরীটি গঙ্গা নদীর এক বন্যায় ধ্বংস হয়েছিল।[৬৬] উদ্যয়ন পর্যন্ত এ বংশের অনেকে শাসন করেন। উদ্যয়ন ছিলেন বৎসের রাজা, যিনি বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন। অবন্তির যুবরাজ বাসবদত্ত পরে এ সাম্রাজ্য জয় করে নেন। বাসবদত্তের এ বিজয় আখ্যান বর্ণনা করেন গুনধ্য। পরে ভাষাশুদ্রক যথাক্রমে স্বপ্নবাসবদত্তবিনাশবাসবদত্ত নাটকে বর্ণনা করেন।

মগধে বৃহদ্রথ ও জরাসন্ধের বংশধরেরা শাসন করতে থাকেন। পরে শিশুনাগ সাম্রাজ্যের কাছে তারা ও পরাজিত হয়। শিশু নাগ সাম্রাজ্যের বিখ্যাত রাজাদের মধ্যে আছেন- বিম্বিসারঅজাতশত্রুমহাপদ্ম নন্দ শিশুনাগ সাম্রাজ্যের সর্বশেষ রাজাকে পরাজিত করেন। তিনি সকল ক্ষত্রিয় বংশকেই তথা ইক্ষ্বাকু, পাঞ্চাল, কাশি, হৈহয়, বিতিহোত্র, কলিঙ্গ, অসংকা, কুরু, মৈথিলী, সুরসেনা সহ সবাই কে উৎখাত করে কেন্দ্রীয় ভারতকে হস্তগত করেন। পুরাণে তাই তাকে সকল ক্ষত্রিয় সংহার কারকসমগ্র পৃথিবী তাঁর একক শসনাধীন থাকায় সার্বভৌম শাসক হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে।[৬৭]

মহাভারত অনুসারে কল্কি অবতারের আগমনে কলি যুগের সমাপ্তি ঘটবে ও আবার সত্য যুগ আরম্ভ হবে।[৬৮]

আধুনিক তত্ত্ব[সম্পাদনা]

আধুনিক সময়ে যুগ চক্রে, যুগের দৈর্ঘ্য, সংখ্যা ও ক্রম সম্পর্কিত নতুন তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

স্বামী শ্রী ইউকতেশ্বর গিরি,[৬৯] রেনে গুয়েন,[৭০] ও আলেন ড্যানিয়েল[৭১] এরা সকলেই চারটি যুগ ও এদের ৪: ৪: ২: ১ অনুপাত এবং যুগের ধর্ম মেনে নিয়েছেন। কিন্তু, যুগের দৈর্ঘ্যের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

ইউকতেশ্বর গিরির যুগ চক্র
যুগ শুরু (– শেষ) দৈর্ঘ্য
অবতরণ (১২,০০০ বছর):
সত্য যুগ ১১,৫০১ খৃষ্টপূর্ব ৪,৮০০
ত্রেতা যুগ ৬৭০১ খৃষ্টপূর্ব ৩,৬০০
দ্বাপর যুগ ৩১০১ খৃষ্টপূর্ব ২,৪০০
কলি যুগ ৭০১ খৃষ্টপূর্ব ১,২০০
আরোহী (১২,০০০ বছর):
কলি যুগ ৪৯৯ খৃষ্টাব্দ ১,২০০
দ্বাপর যুগ* ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দ ২,৪০০
ত্রেতা যুগ ৪০৯৯ খৃষ্টাব্দ ৩,৬০০
সত্য যুগ ৭৬৯৯ খৃষ্টাব্দ – ১২,৪৯৯ খৃষ্টাব্দ ৪,৮০০
বছর: ২৪,০০০
(*) বর্তমান. [৭২][৭৩][৭৪]
রেনে গুয়েনের যুগ চক্র
যুগ শুরু (– শেষ) দৈর্ঘ্য
সত্য যুগ ৬২,৮০১ খৃষ্টপূর্ব ২৫,৯২০
ত্রেতা যুগ ৩৬,৮৮১ খৃষ্টপূর্ব ১৯,৪৪০
দ্বাপর যুগ ১৭,৪৪১ খৃষ্টপূর্ব ১২,৯৬০
কলি যুগ ৪৪৮১ খৃষ্টপূর্ব – ১৯৯৯ খৃষ্টাব্দ ৬,৪৮০
বছর: ৬৪,৮০০
বর্তমান: কলি যুগ [১৯৯৯ খৃষ্টাব্দ  – ২৭,৯১৯ খৃষ্টাব্দ] [টীকা ৩][৭৫][৭৬][৭৭]
আলেন ড্যানিয়েলের যুগ চক্র
যুগ শুরু (– শেষ) দৈর্ঘ্য
সত্য যুগ ৫৮,০৪২ খৃষ্টপূর্ব ২৪,১৯৫
ত্রেতা যুগ ৩৩,৪৮৪ খৃষ্টপূর্ব ১৮,১৪৬
দ্বাপর যুগ ১৫,৭০৩ খৃষ্টপূর্ব ১২,০৯৭
কলি যুগ* ৩৬০৬ খৃষ্টপূর্ব – ২৪৪২ খৃষ্টাব্দ ৬,০৪৮.৭২
বছর: ৬০,৪৮৭
(*) বর্তমান. [৭৮][৭৯]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Each Kali-yuga-sandhi lasts for 36,000 solar (100 divine) years:
    * Sandhya: 3102 BCE – 32,899 CE
    * Sandhyamsa: 392,899 CE – 428,899 CE
  2. Chapter 224 (CCXXIV) in some sources: Mahabharata 12.224.
  3. René Guénon's Yuga Cycle table: the calculated dates are based on the 1949 publication by Gaston Georgel, Les Quatre Ages de L’Humanité (The Four Ages of Humanity), and an early 1980s publication by Jean Robin.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Godwin, Joscelyn (২০১১)। Atlantis and the Cycles of Time: Prophecies, Traditions, and Occult RevelationsInner Traditions। পৃষ্ঠা ৩০০–৩০১। আইএসবিএন 9781594778575 
  2. Gupta, Dr. S. V. (২০১০)। "Ch. 1.2.4 Time Measurements"। Hull, Prof. Robert; Osgood, Jr., Prof. Richard M.; Parisi, Prof. Jurgen; Warlimont, Prof. Hans। Units of Measurement: Past, Present and Future. International System of Units। Springer Series in Materials Science: 122। Springer। পৃষ্ঠা ৬–৮। আইএসবিএন 9783642007378Paraphrased: Deva day equals solar year. Deva lifespan (36,000 solar years) equals 100 360-day years, each 12 months. Mahayuga equals 12,000 Deva (divine) years (4,320,000 solar years), and is divided into 10 charnas consisting of four Yugas: Satya Yuga (4 charnas of 1,728,000 solar years), Treta Yuga (3 charnas of 1,296,000 solar years), Dvapara Yuga (2 charnas of 864,000 solar years), and Kali Yuga (1 charna of 432,000 solar years). Manvantara equals 71 Mahayugas (306,720,000 solar years). Kalpa (day of Brahma) equals an Adi Sandhya, 14 Manvantaras, and 14 Sandhya Kalas, where 1st Manvantara preceded by Adi Sandhya and each Manvantara followed by Sandhya Kala, each Sandhya lasting same duration as Satya yuga (1,728,000 solar years), during which the entire earth is submerged in water. Day of Brahma equals 1,000 Mahayugas, the same length for a night of Brahma (Bhagavad-gita 8.17). Brahma lifespan (311.04 trillion solar years) equals 100 360-day years, each 12 months. Parardha is 50 Brahma years and we are in the 2nd half of his life. After 100 years of Brahma, the universe starts with a new Brahma. We are currently in the 28th Kali yuga of the first day of the 51st year of the second Parardha in the reign of the 7th (Vaivasvata) Manu. This is the 51st year of the present Brahma and so about 155 trillion years have elapsed. The current Kali Yuga (Iron Age) began at midnight on 17/18 February 3102 BC in the proleptic Julian calendar. 
  3. Merriam-Webster (১৯৯৯)। "Merriam-Webster's Encyclopedia of World Religions"বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজনDoniger, Wendy; Hawley, John Stratton। Merriam-WebsterMerriam-Webster, Incorporated। পৃষ্ঠা 445 (Hinduism), 1159 (Yuga)আইএসবিএন 0877790442
    * HINDUISM: Myths of time and eternity: ... Each yuga is preceded by an intermediate "dawn" and "dusk". The Krita yuga lasts 4,000 god-years, with a dawn and dusk of 400 god-years each, or a total of 4,800 god-years; Treta a total of 3,600 god-years; Dvapara 2,400 god-years; and Kali (the current yuga) 1,200 god-years. A mahayuga thus lasts 12,000 god-years ... Since each god-year lasts 360 human years, a mahayuga is 4,320,000 years long in human time. Two thousand mahayugas form one kalpa (eon) [and pralaya], which is itself but one day in the life of Brahma, whose full life lasts 100 years; the present is the midpoint of his life. Each kalpa is followed by an equally long period of abeyance (pralaya), in which the universe is asleep. Seemingly the universe will come to an end at the end of Brahma's life, but Brahmas too are innumerable, and a new universe is reborn with each new Brahma.
    * YUGA: each yuga is progressively shorter than the preceding one, corresponding to a decline in the moral and physical state of humanity. Four such yugas (called ... after throws of an Indian game of dice) make up a mahayuga ("great yuga") ... The first yuga (Krita) was an age of perfection, lasting 1,728,000 years. The fourth and most degenerate yuga (Kali) began in 3102 BCE and will last 432,000 years. At the close of the Kali yuga, the world will be destroyed by fire and flood, to be re-created as the cycle resumes. In a partially competing vision of time, Vishnu's 10th and final AVATAR, KALKI, is described as bringing the present cosmic cycle to a close by destroying the evil forces that rule the Kali yuga and ushering in an immediate return to the idyllic Krita yuga.
     
  4. Matchett, Freda; Yano, Michio (২০০৩)। "Part II, Ch. 6: The Puranas / Part III, Ch. 18: Calendar, Astrology, and Astronomy"Flood, GavinThe Blackwell Companion to HinduismBlackwell Publishing। পৃষ্ঠা 139–140, 390। আইএসবিএন 0631215352 
  5. Godwin 2011, পৃ. 301: The Hindu astronomers agree that the [Dvapara Yuga ended and] Kali Yuga began at midnight between February 17 and 18, 3102 BCE. Consequently [Kali Yuga] is due to end about 427,000 CE, whereupon a new Golden Age will dawn.
  6. Burgess 1935, পৃ. ix (Introduction): Calculated date of 2163102 B.C. for "the end of the Golden Age (Krta yuga)", the start of Treta yuga, mentioned in Surya Siddhanta 1.57.
  7. Dutt, Manmatha Nath (১৯০৩)। "Ch. 231 (CCXXXI)"A Prose English Translation of The Mahabharata (Translated Literally from the Original Sanskrit text)। Book 12 (Shanti Parva)। Calcutta: Elysium Press। পৃষ্ঠা ৩৫১ (12.231.17, 19–21, 29)। 
  8. Bühler, G. (১৮৮৬)। "Ch. 1, The Creation"Müller, F. MaxThe Laws of Manu: translated with extracts from seven commentariesSacred Books of the EastXXVOxford University Press। পৃষ্ঠা ২০ (১.৬৭–৭১)। 
  9. Burgess, Rev. Ebenezer (১৯৩৫)। "Ch. 1: Of the Mean Motions of the Planets."। Gangooly, Phanindralal। Translation of the Surya-Siddhanta, A Text-Book of Hindu Astronomy; With notes and an appendixUniversity of Calcutta। পৃষ্ঠা ৭–৯ (১.১৩–১৭)। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৫, ২০২১ 
  10. Surya Siddhanta, Chapter 1 verses 15-16
  11. মনুসংহিতা ১ম অধ্যায় ৮১শ্লোক
  12. Garuda Purana (1.86.10–11)
  13. Satapatha Brahmana, I.8.1
  14. Mahabharata, III.185
  15. Bhagavata Purana, VIII.24
  16. Through her he generated this race, which is this race of Manu’: Satapatha Brahmana, I.8.1.10
  17. Visnu Purana, IV.5
  18. Visnu Purana, IV.6
  19. Rigveda, X.95
  20. Visnu Purana, IV.7
  21. Mahabharata, V.9-18
  22. Mahabharata, I.76-93
  23. Visnu Purana, IV.10
  24. Mahabharata, III.126
  25. Visnu Purana, IV.2
  26. Visnu Purana, IV.18
  27. Mahabharata, I.178
  28. Mahabharata, III.115
  29. Vayu Purana, 88.78-116
  30. Ramayana, I.51-56
  31. Ramayana, I.57-60
  32. Aitareya Brahmana, VII.15-18
  33. Ramayana, I.61-62
  34. Mahabharata, XIII.3
  35. Aitareya Brahmana, VII.18
  36. Ramayana, I.65
  37. Mahabharata, III.115-117
  38. Visnu Purana, IV.3
  39. Mahabharata, XIII.30
  40. Ramayana, I.38-41
  41. মনুসংহিতা ১ম অধ্যায়, ৮২শ্লোক
  42. Ramayana, I.42-44
  43. Mahabharata, III.50-78
  44. Mahabharata, I.62-69
  45. Vishnu Purana, IV.19
  46. Rigveda, I.112.14; I.116.18
  47. Ramayana, I.48
  48. Raghuvaṃśa of Kālidāsa - Edited with extracts & Notes etc by Narayan Ram Acharya Kavyatirtha, Chaukhambha Publishers, Varanasi, 2nd ed (2002)
  49. Rigveda, VII.18;VII.83
  50. Witzel, Michael. The Development of the Vedic Canon and its Schools: The Social and Political Milieu. Inside the Texts, Beyond the Texts. Harvard Oriental Series (1997)
  51. Mahabharata, I.173-175
  52. Visnu Purana, V
  53. Brihaddevata, vii,155-7, viii.1-9
  54. Mahabharata, XIX
  55. "yuga"ডিকশনারী.কম। র‍্যান্ডম হাউজ। 
  56. "kali yuga"ডিকশনারী.কম। র‍্যান্ডম হাউজ। 
  57. Smith, John D. (2009). The Mahābhārata: an abridged translation. Penguin Classics (আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭০-০৮৪১৫-৯), p. ২০০
  58. মনুসংহিতা ১ম অধ্যায় ৮২-৮৪
  59. J. L. Brockington (1998)। The Sanskrit Epics। BRILL Academic। পৃষ্ঠা ২৮৭–২৮৮, টীকা ১২৬-১২৭।
  60. Dalal, Rosen (2014)। Hinduism: An aAlphabetical guide। Penguin। পৃষ্ঠা ১৮৮।
  61. Mahabharata, I.40-43
  62. Mahabharata, I.49-53
  63. Mahabharata, I.13-39
  64. Mahabharata, I.54-58
  65. Mahabharata, I.60
  66. Visnu Purana, IV.21
  67. Visnu Purana, IV.23-24
  68. Vyasa, Krishna-Dwaipayana. "SECTION CLXXXIX". The Mahabharata of Krishna-Dwaipayana Vyasa. Translated by Mohan Ganguli, Kisari. pp. 390–391. And when those terrible times will be over, the creation will begin anew. … the Krita age will begin again. … And commissioned by Time, a Brahmana of the name of Kalki will take his birth. And he will glorify Vishnu and possess great energy, great intelligence, and great prowess. … And he will restore order and peace in this world crowded with creatures and contradictory in its course. … And he will be the Destroyer of all, and will inaugurate a new Yuga.
  69. Yukteswar, Swami Sri (১৯৯০) [1st ed. 1894]। The Holy Science [Kaivalya Darsanam]। Self-Realization Fellowship। পৃষ্ঠা ৭–১৭। আইএসবিএন 0876120516 
  70. Guénon, René (২০০১) [1st ed. 1970]। Fohr, Samuel D., সম্পাদক। Traditional Forms & Cosmic Cycles [Formes Traditionnelles et Cycles Cosmiques]। Fohr, Henry D. কর্তৃক অনূদিত। Sophia Perennis। পৃষ্ঠা ৫–৮। আইএসবিএন 0900588179 
  71. Daniélou, Alain (১৯৮৭) [1st ed. 1985]। While the Gods Play: Shaiva Oracles and Predictions on the Cycles of History and the Destiny of Mankind [La Fantaisie des Dieux et L'Aventure Humaine]। Bailey, Barbara; Baker, Michael কর্তৃক অনূদিত। Inner Traditions International। পৃষ্ঠা ১৯৩–১৯৮। আইএসবিএন 0892811153 
  72. Yukteswar 1990, পৃ. ১৫–১৭।
  73. Godwin 2011, পৃ. ৩৩১–৩৩২।
  74. Yukteswar 1990, পৃ. ৯–১৩।
  75. Godwin 2011, পৃ. 305–306।
  76. Godwin 2011, পৃ. 306–307।
  77. "Timeline of Cycles by René Guénon and Gaston Georgel"Sufi Path of Love। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২০ 
  78. Godwin 2011, পৃ. 309: Daniélou said his figures are accurate to within fifty years.
  79. Godwin 2011, পৃ. 307–310।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]