কনৌজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কনৌজ
कन्नौज
Cannodge
মহানগর
নাম: ভারতের সুগন্ধী রাজধানী; প্রাচ্যের গ্রেসি
কনৌজ উত্তর প্রদেশ-এ অবস্থিত
কনৌজ
কনৌজ
স্থানাঙ্ক: ২৭°০৪′ উত্তর ৭৯°৫৫′ পূর্ব / ২৭.০৭° উত্তর ৭৯.৯২° পূর্ব / 27.07; 79.92স্থানাঙ্ক: ২৭°০৪′ উত্তর ৭৯°৫৫′ পূর্ব / ২৭.০৭° উত্তর ৭৯.৯২° পূর্ব / 27.07; 79.92
দেশ ভারত
রাজ্যউত্তরপ্রদেশ
জেলাকনৌজ
উচ্চতা১৩৯ মিটার (৪৫৬ ফুট)
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট১৬,৫৬,৬১৬
ভাষা
 • সরকারিহিন্দি
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
ওয়েবসাইটwww.kannauj.nic.in

কনৌজ বা কন্নৌজ (হিন্দি: कन्नौज, উর্দু: قنوج; পূর্বতন ইংরেজি বানান: Cannodge) হল ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের কনৌজ জেলার একটি মহানগর, প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয় ও একটি নগর পালিকা পরিষদ। এই শহরের নামটি ধ্রুপদি সংস্কৃত নাম কান্যকুব্জ (কুব্জা রমণীগণের নগরী) নামটির আধুনিক রূপ।[১] মিহির ভোজের রাজত্বকালে এই শহরটি মহোদয় নামেও পরিচিত ছিল। কনৌজ একটি প্রাচীন শহর। প্রাচীনকালে এটি হর্ষবর্ধনের সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। কথিত আছে, কান্যকুব্জ ব্রাহ্মণদের আদি নিবাস ছিল কনৌজ। কনৌজ সুগন্ধী উৎপাদন এবং তামাক, সুগন্ধী ও গোপাল জলের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হিন্দি ভাষার একটি স্বতন্ত্র উপভাষার নাম কনৌজি। এই উপভাষাটির দুটি মান রয়েছে।

কনৌজ ত্রিভূজ[সম্পাদনা]

খ্রিস্টীয় ৮ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে কনৌজ ছিল গুর্জর-প্রতিহার, পালরাষ্ট্রকূট নামে পরিচিত তিনটি শক্তিশালী রাজবংশের মধ্যে সংঘর্ষের প্রধান কেন্দ্র। অনেক ইতিহাসবিদ তিন রাজবংশের মধ্যে এই সংঘর্ষকে ত্রিপাক্ষিক সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[২][৩]

কনৌজ ত্রিভূজ ছিল তিনটি সাম্রাজ্যের লক্ষ্যস্থল: দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট, মালবের গুর্জর-প্রতিহার এবং বাংলার পাল সাম্রাজ্য

কনৌজকে কেন্দ্র করে তিনটি সাম্রাজ্যের মধ্যে ঘোরতর সংঘাত চলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুর্জর-প্রতিহারেরাই এই শহরটি নিজ অধিকারে রাখতে সক্ষম হয়।[২] গুর্জর-প্রতিহারেরা অবন্তী (উজ্জয়িনী-ভিত্তিক) থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তাদের রাজ্যসীমার দক্ষিণ দিকে ছিল রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্য এবং পূর্ব দিকে ছিল পাল সাম্রাজ্য। গুর্জর-প্রতিহার শাসক বৎসরাজার হাতে ইন্দ্রায়ুধের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক সংঘাতের সূচনা ঘটে।[২] পাল সম্রাট ধর্মপালও কনৌজে নিয়ন্ত্রণ স্থাপনে আগ্রহী ছিলেন। এর ফলে বৎসরাজা ও ধর্মপালের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। যদিও ধর্মপাল এই যুদ্ধে পরাজিত হন।[৪] এই অস্থির অবস্থার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রকূট শাসক ধ্রুব উত্তর দিকে ধাবিত হন। তিনি বৎসরাজাকে পরাজিত করে কনৌজ দখল করেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ভারতীয় শাসকদের মধ্যে তিনিই ভারতের উত্তর দিকে সর্বাধিক অগ্রসর হতে পেরেছিলেন।[৩][৫]

ধ্রুব দক্ষিণ ভারতে ফিরে গেলে ধর্মপাল কিছুকাল কনৌজ নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। উত্তর ভারতের দুই রাজবংশের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে। পাল নিযুক্ত শাসক চক্রায়ুধকে প্রতিহার শাসক দ্বিতীয় নাগভট্ট পরাজিত করেন এবং কনৌজে পুনরায় গুর্জর-প্রতিহার আধিপত্য স্থাপিত হয়। ধর্মপাল কনৌজ দখল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুঙ্গেরের যুদ্ধে গুর্জর-প্রতিহার বাহিনীর হাতে বিশ্রীভাবে পরাজিত হন।[২] এর কিছুকাল পরেই যদিও দ্বিতীয় নাগভট্ট উত্তর ভারত-আক্রমণকারী রাষ্ট্রকূট শাসক তৃতীয় গোবিন্দের হাতে পরাজিত হন। একটি উৎকীর্ণ লিপি থেকে জানা যায় যে, চক্রায়ুধ ও ধর্মপাল তৃতীয় গোবিন্দকে গুর্জর-প্রতিহারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও তারা দুজনেই তৃতীয় গোবিন্দের সহানুভূতি অর্জনের জন্য তার বশ্যতা স্বীকার করেন। পরাজয়ের পর কিছুকালের জন্য প্রতিহার শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল। ধর্মপালের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় নাগভট্ট কনৌজ পুনরায় দখল করেন এবং এটিকে গুর্জর-প্রতিহার সাম্রাজ্যের রাজধানী ঘোষণা করেন। এই সময় রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল। তাই তারা কনৌজের দিকে নজর দেননি। পালেরাও আর কনৌজের দিকে তাকাননি।[২] তাই কনৌজ দখল করে গুর্জর-প্রতিহার সাম্রাজ্যই উত্তর ভারতের সর্বাধিক ক্ষমতাধর সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।[২]

১০১৮ সালে গজনির মামুদ কনৌজ দখল করেন। ১০৯০ সালে চন্দ্রদেব গহদবল রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তার পৌত্র গোবিন্দচন্দ্র “কনৌজকে অতুলনীয় গৌরবশালী করে তোলেন”। মুহাম্মদ ঘোরি এই শহরের দিকে অগ্রসর হন এবং ১১৯৩ সালে জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন। “কনৌজ সাম্রাজ্যের গৌরব” পরিসমাপ্ত হয় ইলতুতমিসের বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে।[৬]:২১, ৩২–৩৩

ভূগোল[সম্পাদনা]

কনৌজ শহরটি ২৭°০৪′ উত্তর ৭৯°৫৫′ পূর্ব / ২৭.০৭° উত্তর ৭৯.৯২° পূর্ব / 27.07; 79.92 অক্ষ-দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।[৭] সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই শহরের গড় উচ্চতা ১৩৯ মিটার (৪৫৬ ফুট)।

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে,[৮] কনৌজ শহরের জনসংখ্যা ৭১,৫৩০। শহরের জনসংখ্যার ৫৩% পুরুষ ও ৪৭% মহিলা। কনৌজের গড় সাক্ষরতার হার ৫৮%, যা জাতীয় গড়ের (৫৯.৫%) তুলনায় কম। পুরুষ সাক্ষরতার হার ৬৪% ও নারী সাক্ষরতার হার ৫২%। কনৌজের জনসংখ্যার ১৫% অংশের বয়স ৬ বছরের কম।

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

ভগিনী নগরী[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rama Shankar Tripathi (১৯৮৯)। History of Kanauj: To the Moslem Conquest। Motilal Banarsidass Publ। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪০৪-৩, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪০৪-৩ 
  2. Pratiyogita Darpan। Upkar Prakashan। পৃষ্ঠা 9। 
  3. R.C. Majumdar (১৯৯৪)। Ancient India। Motilal Banarsidass Publ.। পৃষ্ঠা 282–285। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪৩৬-৪, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪৩৬-৪ 
  4. Kumar Sundram (২০০৭)। Compendium General Knowledge। Upkar Prakashan। পৃষ্ঠা 195। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৪৮২-১৮১-২, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৪৮২-১৮১-২ 
  5. Pratiyogita Darpan। Upkar Prakashan। 
  6. Sen, S.N., 2013, A Textbook of Medieval Indian History, Delhi: Primus Books, আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৮০৬০৭৩৪৪
  7. Falling Rain Genomics, Inc – Kannauj
  8. "Census of India 2001: Data from the 2001 Census, including cities, villages and towns (Provisional)"। Census Commission of India। ২০০৪-০৬-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১১-০১ 
  9. http://www.tornosindia.com/in-the-offing-perfume-park-museum-and-twin-cit/
  10. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৬ 
  11. http://m.navbharattimes.indiatimes.com/business/business-news/kannauj-grasse-will-sign-the-twin-city-agreement/articleshow/47413270.cms

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]