মহাপ্রলয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মহাপ্রলয় (সংস্কৃত: महाप्रलय) বা প্রলয় হলো হিন্দু সৃষ্টিতত্ত্বে লয়ের জন্য কল্প বা অয়নীক শব্দ। মহাপ্রলয় হল কল্পের শেষে মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি, যখন সমস্ত লোকব্রহ্মা সহ তাদের মধ্যে থাকা সমস্ত কিছু অদৃশ্য হয়ে যায়।[১] প্রলয় সময়কাল নির্দিষ্ট করে যে সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট অনুসারে অ-ক্রিয়াকলাপ পরিস্থিতি বজায় থাকে। মহাপ্রলয় শব্দটি "মহালয়" এর জন্য।[২][৩] প্রতিটি প্রলয়ের সময়, নীচের দশটি লোক ধ্বংস হয়ে যায়,[৪] যখন সত্য-লোক, তপ-লোক, জন-লোক ও মহর-লোক নামক উচ্চতর চারটি লোক সংরক্ষিত হয়। প্রতিটি মহাপ্রলয়ের সময়, সমস্ত ১৪টি লোক ধ্বংস হয়ে যায়।[৩]

সাংখ্য দর্শনে, প্রলয় মানে "অ-অস্তিত্ব", যখন তিনটি গুণ (পদার্থের নীতি) নিখুঁত ভারসাম্যে থাকে তখন বস্তুর একটি অবস্থা অর্জিত হয়। প্রলয় শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে যার অর্থ "লয়" বা "পুনর্শোষণ, ধ্বংস, বিনাশ বা মৃত্যু"।

বিবরণ[সম্পাদনা]

প্রলয় বা মহাপ্রলয় সম্পর্কে শিবপুরাণ ২.১.৬-এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে,

মহালয় হওয়ার সময় যখন পৃথিবীর সমস্ত ভ্রাম্যমাণ এবং স্থির বস্তুগুলি দ্রবীভূত হয় তখন সূর্য, গ্রহ এবং নক্ষত্র ছাড়া সবকিছুই অন্ধকারে ঢেকে যায়। চাঁদ নেই। দিন ও রাত সীমাবদ্ধ করা হয় না। আগুন নেই, বাতাস নেই, পৃথিবী নেই এবং জল নেই। কোন অব্যক্ত আদিম সত্তা নেই। সমগ্র আকাশ সম্পূর্ণ শূন্য, সমস্ত তেজস উপাদান বর্জিত। ধর্ম বা অধর্ম নেই, শব্দ নেই, স্পর্শ নেই। গন্ধ ও রঙ প্রকাশ হয় না। স্বাদ নেই।কেতনের মুখ সীমাবদ্ধ করা হয়নি। এইভাবে যখন এমন গভীর অন্ধকার থাকে যাকে সূঁচ দিয়ে ছিদ্র করা যায় না এবং বেদে ‘অস্তিত্ব ও ব্রহ্ম’ হিসাবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা একাই উপস্থিত।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mahāpralaya, www.encyclopedia.com (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ, ১,৩,২০২২
  2. Rajarajan, R. K. K. (২০২০)। "Water, Source of 'Genesis' and the End Macro and Micro Viṣṇu in the Hymns of the Āḻvārs"The Medieval History Journal23 (2): 296–331। আইএসএসএন 0971-9458এসটুসিআইডি 227240912ডিওআই:10.1177/0971945820956583 
  3. The Shiva Purana, Section 2.1, Chapter 6 (4-7) - Description of the nature of Mahāpralaya and the origin of Viṣṇu, www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষা), সংগ্রহের তারিখ, ১,৩,২০২২; Quite: 4. At the time of Great Dissolution when all the mobile and immobile objects of the world are dissolved everything gets enveloped in darkness, without the sun, planets and stars. 5. There is no moon. The day and the night are not demarcated. There is no fire, no wind, no earth and no water. There is no unmanifest primordial being. The whole firmament is one complete void, devoid of all Tejas elements. 6. There is no Dharma or Adharma, no sound, no touch. Smell and colour are not manifest. There is no taste. The face of the quarters is not demarcated. 7. Thus when there is pitch darkness that cannot be pierced with a needle and what is mentioned in the Vedas as “The Existent and the Brahman” is alone present.
  4. B. K. Chaturvedi (২০০৪)। Shiv Purana। Diamond Pocket Books। পৃষ্ঠা 124। আইএসবিএন 8171827217