মহাভারতের চরিত্র তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মহাভারতের প্রধান চরিত্রসমূহ।

মহাভারত প্রাচীন ভারতের দুইটি মহাকাব্যের মধ্যে একটি। মহাকাব্যটি সাংস্কৃত ভাষায় লিখিত। মহর্ষি বেদব্যাস সংস্কৃত ভাষায় মহাকাব্যটি রচনা করেন। মহাভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হল, শ্রীকৃষ্ণ; পান্ডবদের পাঁচ পুত্র, যুধিষ্ঠীর; ভীম; অর্জুন; নকুল; আর সহদেব, সাথে তাদের স্ত্রী ধ্রুপদী; কৌরবদের জ্যেষ্ঠ্য ভ্রাতা দুর্যোধনের নেতৃত্বে তার একশত ভ্রাতা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে কর্ণ, ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, শকুনি, ধৃতরাষ্ট্র, গান্ধারী, অভিমন্যু, কুন্তি এবং উত্তরা। নিম্ন বর্ণিত তালিকাটিতে মাহভারতের সব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। এর বেশ কিছু চরিত্র, মহাভারত সম্বন্ধীয় আঞ্চলিক লোকগাঁথা থেকেও পাওয়া গেছে।[note ১]

[সম্পাদনা]

অভিমন্যু[সম্পাদনা]

অভিমন্যু ছিলেন অর্জুন-সুভদ্রার পুত্র, দেবরাজ ইন্দ্রের পৌত্র এবং কৃষ্ণের ভগিনেয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ত্রয়োদশ দিবসে তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়।

অধিরথ[সম্পাদনা]

অধিরথ ছিলেন কর্ণের পালক পিতা এবং মহাবীর ভীষ্মের সারথী। তার স্ত্রীর নাম ছিল রাধা। [১]

অম্বা[সম্পাদনা]

অম্বা ছিলেন কাশীরাজের জ্যেষ্ঠ্য কন্যা। তার অপর দুই বোনের নাম অম্বালিকা ও অম্বিকা। ভীষ্ম, তাকে সয়ম্বর সভা থেকে তার আরো দুই বোনের সাথে নিজের ভ্রাতাদের সাথে বিয়ে দেবার জন্য ছিনিয়ে নিয়ে আসেন।

অগ্নি[সম্পাদনা]

আগুনের দেবতার নাম অগ্নি। [২] বাণ পর্বে ঋষি মার্কন্ড অগ্নি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। খান্ডব পর্বে অগ্নি কৃষ্ণের ছদ্মবেশ।

অশ্বত্থামা[সম্পাদনা]

অশ্বত্থামা ছিলেন গুরু দ্রোণের পুত্র এবং ভরদ্দাজ মুণির দৌহিত্র। তিনি নারায়নাস্ত্র ব্যবহার করতেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অশ্বত্থামা কৌরবদের হয়ে যুদ্ধ করেন। কর্ণের মৃত্যুর পর অশ্বত্থামাকে কৌরবদের সেনাপতি নিয়োগ করা হয়। রাতের অন্ধকারে পান্ডব শিবির আক্রমন করে অশ্বত্থামা অর্জুনের পাঁচ ঘুমন্ত পুত্র, শিখন্ডী ও আরো পান্ডব বীরদের হত্যা করেছিলেন। এই কাপুরুষিত কাজের জন্য শ্রীকৃষ্ণ অশ্বত্থামার বীরত্বের প্রতীক, তার মাথার মনি কেড়ে নেন এবং তাকে অমরত্বের অভিশাপ দেন। [৩]

অর্জুন[সম্পাদনা]

Vāsudeva-কৃষ্ণ দন্ডায়মান অবস্থায় অর্জুনের নিকট ভগবত গীতা বর্ণনা করছেন।

অর্জুন ছিলেন তৃতীয় পান্ডব। তার মার নাম কুন্তি। মন্ত্রবলে দেবরাজ ইন্দ্রের ইচ্ছায় তার জন্ম। তিনি দ্রোণাচার্য এর কাছে ধনুবিদ্যা শিক্ষা লাভ করেন 'অর্জুন' শব্দের অর্থ 'উজ্জ্বল', 'জাজ্বল্যমান', অথবা 'রূপালি'।[৪] পার্থ এবং ধনঞ্জয় নামেও তিনি পরিচিত। মহাভারতে তাকে একজন অব্যর্থ ধনুর্বিদ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দুদের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ গীতা অর্জুনকে দেয়া শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ সমূহের সংকলন। তিনি দ্রৌপদী, উলূপী, চিত্রাঙ্গদা, সুভদ্রাকে বিয়ে করেন। অর্জুন কৃপা, কর্ণ ও দ্রোণকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। ভিষ্মকেও তিনি শরবিদ্ধ করেন।

অম্বালিকা[সম্পাদনা]

অম্বালিকা হলেন কাশীরাজের কনিষ্ঠা কন্যা। তিনি রাজা বিচিত্রবীর্যের দ্বিতীয়া স্ত্রী এবং পাণ্ডুর জননী। বিবাহের সাত বৎসর পর বিচিত্রবীর্য নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে বংশ রক্ষার জন্য অম্বালিকা ঋষি বেদব্যাসের সাথে সহবাস করেন। এই বেদব্যাস ছিলেন সত্যবতীর কুমারী অবস্থার পুত্র।[৫]

অগ্নিবেশ[সম্পাদনা]

অগ্নিবেশ হলেন একজন ঐতিহাসিক, ঋষি ও আয়ুর্বেদ এর প্রাচীদ লেখকদের মধ্যে অন্যতম।[৬] তিনি পুনর্বসু আত্রেয়র শিষ্য ছিলেন। মহাভারত-এর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দ্রোণ ও দ্রুপদ এঁরই অধীনে শিক্ষালাভ করেছিলেন।[৭]

[সম্পাদনা]

ইন্দ্র[সম্পাদনা]

দেবতাদের রাজা, কাশ্যপ ও অদিতির পুত্র, অর্জুনের পিতা। মহাভারতে বেশ কয়েকবার ইন্দ্রের আবির্ভাব ঘটেছে।

[সম্পাদনা]

উত্তরা[সম্পাদনা]

উত্তরা, মৎসদেশের রাজা বিরাটের কন্যা এবং তিনি অর্জুন ও সুভদ্রার পুত্র অভিমন্যুর পত্নী। তাঁর মাতার নাম সুদেষ্ণা; রাজকুমার উত্তর তাঁর ভ্রাতা এবং কিচক তার মাতুল ছিলেন৷[৮][৯][১০]

উলুপী[সম্পাদনা]

অর্জুন ও উলূপী

উলুপী অর্জুনের দ্বিতীয়া স্ত্রী। বিষ্ণু পুরাণ এবং ভাগবত পুরাণে এই চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।

উতঙ্ক[সম্পাদনা]

উতঙ্ক হলেন মরুপ্রদেশে বসবাসরত এক ঋষি। তার গুরু মহর্ষি গৌতমের দক্ষিনা হিসাবে গুরুপত্নীর জন্য মূল্যবান কুন্ড আনতে গিয়ে তিনি পাতালপুরীতে অভিযান করেন।

উদ্ধব[সম্পাদনা]

উদ্ধব ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের বান্ধব। কৃষ্ণ তাকে প্ৰত্যক্ষভাবে যোগনববিধা ভক্তি শিক্ষা প্ৰদান করেছেন।

উগ্রসেন[সম্পাদনা]

উগ্রসেন ছিলেন মথুরার রাজা। তিনি তার নিজ পুত্র কংস কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত হবার পর, তার কন্যা দেবকী ও জামাতা বাসুদেবের সাথে কারাগারে অন্তরীন হন।

উর্বশী[সম্পাদনা]

অর্জুন উর্বশীর প্রেম প্রত্যাখ্যান করছেন, বি পি ব্যানার্জীর আঁকা ছবি।

উর্বশী ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রের সভার এক অস্পরা। তিনি রূপে সকল অস্পরাদের মধ্যে সেরা ছিলেন। অর্জুন স্বর্গে ইন্দ্রের সাথে দেখা করতে গেলে উর্বশী তাকে প্রেম নিবেদন করেন। অর্জুন তাতে সাড়া না দিয়ে তাকে মাতৃবৎ জ্ঞান করেন। এতে উর্বশী রেগে গিয়ে তাকে নপুংশকে পরিনত হবার অভিশাপ দেন।

[সম্পাদনা]

কৃষ্ণ[সম্পাদনা]

ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার। অর্জুনের সারথী ও পরামর্শদাতা। তার পিতার নাম বাসুদেব, মাতার নাম দেবকী।

কর্ণ[সম্পাদনা]

কর্ণের প্রকৃত নাম বসুসেন। তিনি অঙ্গের রাজা ছিলেন। কৌরবদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। মহাভারতে বর্ণিত বীর যোদ্ধাদের একজন। তিনি অর্জুন ব্যাতিত আর সকল পান্ডবদের পরাজিত করেছিলেন।[১১] কর্ণের পিতা ছিলেন সূর্যদেব তার মাতার নাম কুন্তী। পান্ডবদের ভাই হওয়ার সত্বেও তিনি ছিলেন রাজকুমার দুর্যোধনের ঘনিষ্ঠতম মিত্র। যার ফলে তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের হয়ে যুদ্ধ করেন।

কচ[সম্পাদনা]

মহাভারতের আদি পর্বে কচের পরিচয় পাওয়া যায়। কচ বৃহস্পতির পুত্র। মৃতসন্জিবনী মন্ত্র শিক্ষা করার জন্য দেবতরা তাকে শুক্রাচার্য়্যের আশ্রমে প্রেরণ করেছিলেন।

কীচক[সম্পাদনা]

মৎস্যরাজ বিরাটের সেনাপতি ও শ্যালক। রাণীর সুদেষ্ণার ছোট ভাই। [১২] পান্ডবরা অজ্ঞাতবাসে থাকার সময়ে কীচক দ্রৌপদীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। ভীমের হাতে উৎকটভাবে তার মৃত্যু হয়।

[সম্পাদনা]

গান্ধারী[সম্পাদনা]

গান্ধারী হলেন গান্ধাররাজ সুবলের কন্যা, দুর্যোধনের মাতা এবং শকুনির বোন।

গঙ্গা[সম্পাদনা]

গঙ্গা তাঁর পুত্র দেবব্রতকে তার পিতা রাজা শান্তনুর কাছে প্রদান করছে।, রবি ভার্মার ছবি

গঙ্গা হলেন নদীরূপে এক দেবী। রাজা শান্তুনুর স্ত্রী এবং ভীষ্মের মাতা।

গনেশ[সম্পাদনা]

গণেশ হচ্ছেন প্রারম্ভের দেবতা। শীবপার্বতীর পুত্র। মহাভরতের লেখক বেদব্যাস গনেশকে এই মহাকাব্যের লিখিত রূপ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। [note ২]

[সম্পাদনা]

ঘটৎকোচ[সম্পাদনা]

ঘটৎকোচ হস্তিনাপুরের রাজা পান্ডুর দ্বিতীয় পুত্র ভীমের রাক্ষসী স্ত্রী হিড়িম্বার পুত্র। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি পান্ডবদের পক্ষে লড়াই করেন। এবং কর্ণের হাতে নিহত হন।

[সম্পাদনা]

পরিক্ষিৎ[সম্পাদনা]

পরীক্ষিৎ অভ্যিমন্যুর পুত্র, অর্জুনের পৌত্র। মায়ের গর্ভে থাকার সময় অশ্বত্থামার ছোড়া অস্ত্রের আঘাতে সে মারা যায়। কৃষ্ণ তাকে জীবনদান করেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অনেক বছর পর, পান্ডবরা স্বর্গে গমন করার পর তিনি রাজা হন।

পান্ডু[সম্পাদনা]

পান্ডু হস্তিনাপুরের রাজা। বিচিত্রবীর্য় এবং অম্বালিকার পুত্র। একবার মৃগয়ার সময়ে তিনি ভুলবশত দুটি মিলনরত হরিণকে সরবিদ্ধ করেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল ঋষি কিন্দম ও তার স্ত্রী। কিন্দম অভিশাপ দেন যে পাণ্ডুও স্ত্রীর সাথে মিলিত হবার সময় একইভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।[১৩]

[সম্পাদনা]

বিদুর[সম্পাদনা]

মহাভারতের প্রধান চরিত্রগুলির অন্যতম। বিদ্যুৎ ছিলেন হস্তিনাপুরের মন্ত্রী এবং পাণ্ডব ও কৌরবদের খুল্লতাত।

বায়ু[সম্পাদনা]

বায়ু ছিলেন বাতাসের দেবতা। কাশ্যব ও অদিতির পুত্র। তার আশীর্বাদে কুন্তির গর্ভে হনুমান এবং ভীমের জন্ম হয়। কুন্তীর স্বামী অভিশাপের ফলে সন্তানের পিতা হতে অপরাগ হওয়ায় মন্ত্রবলে বায়ুর কাছ থেকে দ্বিতীয়বার কুন্তী সন্তান লাভ করেন।

বিরাট[সম্পাদনা]

বিরাট ছিলেন মৎসদেশের রাজা। মহাভারতের যুদ্ধে তিনি পান্ডবদের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। পান্ডবরা আজ্ঞাতবাসের সময়ে তার রাজপ্রাসাদেই অবস্থান করছিল।

বলরাম[সম্পাদনা]

বলরাম হলেন কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা। তাঁর অন্য নামগুলো হল, বলদেব, বলভদ্র ও হলায়ুধ। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বলরাম কোনও পক্ষেই যুদ্ধ করেননি। ভীম এবং দুর্যোধন দুজনেই বলরামের শিষ্য।

বিচিত্রবীর্য[সম্পাদনা]

বিচিত্রবীর্য ছিলেন রাজা শান্তনুসত্যবতীর কনিষ্ঠপুত্র। চিত্রাঙ্গদের মৃত্যুর পর তিনি হস্তিনাপুরের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। [১৪][১৫][১৬][১৭]

বাসুকী[সম্পাদনা]

বাসুকী হলেন সর্প বা নাগরাজ। তিনি কশ্যপ ও তার স্ত্রী কদ্রুর পুত্র। মনসা তার বোন। বাসুকী শিবের গলা জড়িয়ে থাকেন। সমুদ্র মন্থনের সময় বাসুকীকে রজ্জু হিসাবে ব্যাবহার করা হয়েছিল।[১৮][১৯]

বৃহন্নলা[সম্পাদনা]

অজ্ঞাতবাসের সময় অর্জুন বৃহন্নলা নামে পরিচিত ছিলেন। এ সময়ে রাজকুমারী উত্তারাকে তিনি নৃত্যগীত শিখাতেন।

ব্যাস[সম্পাদনা]

কর্ণাটকের মুরুদেশ্বর মন্দিরে (ভারত) রূপায়িত ব্যাস ও গণেশের মহাভারত রচনা

কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বা বেদব্যাস বা সংক্ষেপে ব্যাস একজন ঋষি ও মহাভারতের রচয়িতা। তিনি এই মহাকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রও বটে। তিনি হিন্দু ধর্মের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ বেদের ব্যাবহারিক বিন্যাস করেছিলেন।

বকাসুর[সম্পাদনা]

বকাসুর একজন রাক্ষস, যে ভীমের হাতে নিহত হয়।

[সম্পাদনা]

তিলোত্তমা[সম্পাদনা]

তিলোত্তমা এতজন অপ্সরা। ব্রহ্মার অনুরোধে বিশ্বকর্মা সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদানসমূহের সমন্বয়ে তাকে সৃষ্ট করেছিলেন। দেবর্ষি নারদ পাণ্ডব ভাইদের অপ্সরা তিলোত্তমের কারণে সুন্দ ও উপাসুন্দ ভাতৃদ্বয়ের ধ্বংসের কাহিনি বর্ণনা করেছিলেন;[২০][২১] এবং তাদের এই বলে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তাদের যৌথস্ত্রী দ্রৌপদী একই ভাবে তাদের মধ্যেকার বিবাদের কারণ হতে পারে।[২২]

তপতী[সম্পাদনা]

তপতী হলেন নদীর দেবী। সূর্য় ও ছায়াদেবীর কন্যা। শ্যামবর্ণকে বিয়ে করার পর কুরু নামে তাদের এক সন্তানের জন্ম হয়। [২৩]

তক্ষক[সম্পাদনা]

তক্ষক ছিলেন নাগদের রাজা। তিনি তক্ষশীলায় বাস করতেন। মহাভারত ছাড়াও চৈনিক ও জাপানী পৌরনিক কাহিনিতে তক্ষকের চরিত্রটিকে দেখতে পাওয়া যা।[২৪]

[সম্পাদনা]

দুঃশলা[সম্পাদনা]

দুঃশলা ধৃতরাষ্ট্রের একমাত্র কন্যা এবং কৌরবদের একমাত্র বোন।

দুঃশাসন[সম্পাদনা]

দুঃশাসন ছিলেন অন্ধরাজ ধৃতরাষ্ট্র ও রাণী গান্ধারীর দ্বিতীয় পুত্র এবং দুর্যোধনের ছোট ভাই। পাশা খেলায় পান্ডবদের পরাজয় হলে, দুঃশাসন দ্রৌপদীকে তার অন্তঃপুর থেকে কেশ আকর্ষণ করে সভায় নিয়ে আসেন। পরে কর্ণের আদেশে [২৫][২৬] তাকে বিবস্ত্রা করার চেষ্টা করেন।

দুর্বাসা[সম্পাদনা]

ঋষি দুর্বাসার শকুন্তলাকে অভিশাপ

দুর্বাসা ছিলেন একজন ঋষি। পিতা অত্রি এবং মাতা অনসূয়ার পুত্র। দুর্বাসা মুনি তার প্রবল ক্রোধের জন্য পরিচিত। দুর্বাসা নামের অর্থ, যার সাথে বাস করা যায় না।

দ্রৌপদী[সম্পাদনা]

দ্রৌপদী ও দুঃশাসন দৃশ্য

দ্রৌপদী ছিলেন পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী এবং মহাভারতের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।

[সম্পাদনা]

নকুল[সম্পাদনা]

নকুল পান্ডবদের পাঁচ ভাইদের মধ্যে চতুর্থ এবং সহদেব তথা পঞ্চম পান্ডবের জমজ ভাই। পান্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদ্রীর গর্ভে তাদের জন্ম। নকুল তলোয়ার চালনায় অত্যান্ত সিদ্ধহস্ত ছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আঠারতম দিনে তিনি কর্ণের তিন পুত্রকে পরাজিত ও হত করেছিলেন।

[সম্পাদনা]

শাল্ব[সম্পাদনা]

শাল্ব ছিলেন শাল্বদেশের রাজা। কাশিরাজের কন্যা অম্বিকা তাকে ভালবাসতেন। সয়ংবর সভায় অম্বার তাকেই বর হিসাবে গ্রহনের অভিপ্রায় ছিল। কিন্তু ভীষ্ম তার ভাইদের জন্য তাকে হরন করে নিয়ে আসেন। পরে তাদের প্রণয়ের কথা জানতে পেরে তিনি অম্বাকে শাল্বরাজের কাছে প্রেরণ করলেও শাল্ব তাকে আর গ্রহন করেননি। তিনি একজন দক্ষ বল্লমযোদ্ধা ছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তিনি কৌরবদের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধের শেষ দিনে শাল্ব যুধিষ্ঠিরের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

শঙ্খ[সম্পাদনা]

বিরাটরাজের তৃতীয় পুত্র। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি পান্ডবদের পক্ষে ছিলেন। ভীষ্মের হাতে তিনি নিহত হন।

শর্মিষ্ঠা[সম্পাদনা]

শর্মিষ্ঠা একজন অসূর রাজকন্যা।

শ্রুতসেন[সম্পাদনা]

সহদেব ও দ্রৌপদির পুত্র।

[সম্পাদনা]

সঞ্জয়[সম্পাদনা]

সঞ্জয় ছিলেন মহাভারতে বর্ণিত রাজা ধৃতরাষ্ট্রের রথের সারথি এবং ব্যাসদেব-এর শিষ্য। যুদ্ধের স্থান থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেও অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রকে তিনি যুদ্ধের সব বিবরণ দিয়েছিলেন।

সহদেব[সম্পাদনা]

সহদেব পঞ্চ পান্ডবদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ পান্ডব এবং নকুলের জমজ ভাই। মাদ্রীর গর্ভে তার জন্ম। নকুলের মতো তিনি তলোয়ার বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আঠারতম দিনে সহদেব শকুনিকে পরাজিত ও হত্যা করেছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পিছনে শকুনির ব্যাপক ভূমিকা ছিল।

সত্যবতী[সম্পাদনা]

সত্যবতী ছিলেন রাজা শান্তনুর স্ত্রী। চিত্রাঙ্গদা ও বিচিত্রবির্য়ের মাতা। তিনি কৃষ্ণদৈপায়ন বেদব্যাসেরও মাতা।

সুবল[সম্পাদনা]

গান্ধারি ও শকুনির পিতা।

সুভদ্রা[সম্পাদনা]

সুভদ্রা ছিলেন কৃষ্ণ ও বলরামের ভগিনী।

সুদক্ষিণ[সম্পাদনা]

কম্বোজের রাজা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন।

[সম্পাদনা]

ভরত[সম্পাদনা]

মহাভারতের আদিপর্ব অনুসারে, ভরত রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র।

ভীষ্ম[সম্পাদনা]

শান্তনু গঙ্গাকে ভীষ্মকে বিসর্জন দিতে নিষেধ করছেন

ভীষ্ম ছিলেন কুরু বংশের রাজা শান্তনু এবং গঙ্গা দেবীর অষ্টম পুত্র। তার প্রকৃত নাম দেবব্রত। বৈমাত্রেয় ভাইদের ব্বংশধরদের জন্য সিংহাসন নিশ্চিত করার নিমিত্তে তিনি আজীবন চিরকুমার থাকার প্রতীজ্ঞা করার কারনে তাকে ভীষ্ম নামে ডাকা হয়। মহাভারতে তিনি পান্ডব ও কৌরব উভয় পক্ষের পিতামহ ভীষ্ম হিসাবে উল্লেখিত হয়েছেন। [২৭] তিনি মহাভারতের একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। পান্ডব এবং কৌরব, উভয় বংশের পিতামহ বলে ইনি পিতামহ ভীষ্ম নামেও পরিচিত।[২৮]

ভীম[সম্পাদনা]

পঞ্চ পাণ্ডব ভ্রাতাদের মধ্যে ভীম দ্বিতীয়। দুর্বাষা মুনির দেয়া বরের মাধ্যমে বায়ু দেবকে আহ্বান করে ভীমের জন্ম হয়। ভীম বিশাল দেহ ও প্রবল শক্তির অধিকারী ছিলেন।

[সম্পাদনা]

মেনকা[সম্পাদনা]

মেনকা, বিশ্বামিত্র এবং শিশু শকুন্তলা

মেনকা ছিলেন স্বর্গের একজন অপরূপা অপ্সরা। বিশ্বামিত্রার ধ্যান ভঙ্গের জন্য ইন্দ্র তাকে প্রেরণ করেছিলেন। বিশ্বামিত্রা তার প্রেমে পরেন এবং তার সাথে মিলিত হন। শকুন্তলা নাতে তাদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

[সম্পাদনা]

জনমেজয়[সম্পাদনা]

জনমেজয় ছিলেন রাজা পরীক্ষিত ও রাণী মদ্রবতীর পুত্র, অভিমন্যুর পৌত্র এবং অর্জুনের প্রপৌত্র।

জরাসন্ধ[সম্পাদনা]

জরাসন্ধ মগধের রাজা ছিলেন। কৃষ্ণের পরামর্শে ভীম জরাসন্ধের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধে জরাসন্ধ হেরে যায়। ভীম তাকে হত্যা করে।

[সম্পাদনা]

যুধিষ্ঠির[সম্পাদনা]

যুধিষ্ঠির ছিলেন জেষ্ঠ পান্ডব। যার নামের অর্থ হল, যুদ্ধে যার বুদ্ধি স্থীর। ধর্মদেবের ঔরসে মাতা কুন্তীর গর্ভে তার জন্ম। কুন্তীর স্বামী পান্ডুর প্রতি এক মুনির অভিশাপ থাকায় তিনি স্ত্রী সংগম করতে পারতেন না বিধায় তার দুই পত্নী কুন্তী এবং মাদ্রী দেবতাদের নিকট থেকে পাঁচ সন্তাদের জননী হন। যাদেরকে একত্রে পঞ্চপান্ডব বলা হয়। যুধিষ্ঠির এই পঞ্চপান্ডবদের মধ্যে প্রথম পান্ডব। মহাভরতে তার চরিত্রটি অত্যান্ত ধর্মপরায়ন ও সত্যবাদী রূপে বর্ণিত হয়েছে।

[সম্পাদনা]

হনুমান[সম্পাদনা]

ভীম হনুমানের লেজ উত্তলনের চেষ্টা করছেন।

রামায়নের মতো মহাভারতে হনুমান খুব গুরুত্বপূর্ণ কোন চরিত্র নয়। পান্ডবদের নির্বাসনের সময় তার আবির্ভাব ঘটে। হনুমান ভীমকে পরীক্ষা করার জন্য একটি সাধারন বানরের বেশে তাঁর সামানে হাজির হন এবং নিজের লেজ তুলে ধরতে বলেন। ভীম তার সরব শক্তি দিয়েও হনুমানের লেজ তুলে ধরতে পারেননি। পরে ভীম হনুমানকে চিনতে পেরে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। হনুমান ভীমকে কিছু সময় যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা দিয়েছিলেন।[২৯]

হিড়িম্বা[সম্পাদনা]

হিড়িম্বা একজন রাক্ষস কন্যা, হিড়িম্বির ভগিনী এবং ভীমের স্ত্রী। জতুগৃহ থেকে পলায়নের সময় বনের মধ্যে ভীমের সাথে হিড়িম্বার পরিচয় ও প্রনয় হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Adhiratha"en.krishnakosh.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২৮ 
  2. Mythology, An Illustrated Encyclopedia of the Principal Myths and Religions of the World, by Richard Cavendish আইএসবিএন ১-৮৪০৫৬-০৭০-৩, 1998
  3. যুদ্ধশেষ
  4. Maharishi Mahesh Yogi on the Bhagavad-Gita, a New Translation and Commentary, Chapter 1-6. Penguin Books, 1969, p 31 (v 4)
  5. "The Mahabharata, Book 1: Adi Parva: Sambhava Parva: Section CV" 
  6. Dowson, John (১৯৮৪) [1879]। A Classical Dictionary of Hindu Mythology, and Religion, Geography, History। Calcutta: Rupa & Co.। পৃষ্ঠা 8। 
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০১৭ 
  8. ড° সত্যেন্দ্ৰনাথ শৰ্মা। মহাভারতের চরিত্ৰাবলী। বীণা লাইব্ৰেরি (প্ৰথম প্রকাশ : জুলাই ১৯৯৬)। পৃষ্ঠা ৩৯। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০ 
  9. হেমচন্দ্র বরুয়া। উত্তরা (গ্ৰন্থ=হেমকোষ) 
  10. "Uttara"bharatdiscovery.org। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০ 
  11. Ganguli, Kisari Mohan। The Mahabharata, Book 7: Drona Parva। Netlancers Inc, 2014। 
  12. SRIKRISHNA The Lord Of The Universe By SHIVAJI SAWANTআইএসবিএন 9789386888242। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  13. Ramankutty, P.V. (১৯৯৯)। Curse as a motif in the Mahābhārata (1. সংস্করণ)। Delhi: Nag Publishers। আইএসবিএন 9788170814320 
  14. Mahabharata of Krishna-Dwaipayana Vyasa.। Teddington, Middlesex: The Echo Library। ২০০৮। আইএসবিএন 9781406870459 
  15. Menon, [translated by] Ramesh (২০০৬)। The Mahabharata : a modern rendering। New York: iUniverse, Inc.। আইএসবিএন 9780595401871 
  16. রাজশেখর বসু: মহাভারত সারানুবাদ
  17. পৌরাণিক অভিধান - সুধীরচন্দ্র সরকার
  18. কালের কণ্ঠ প্রতিবেদন[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  19. "হিন্দু পূরাণে বাসুকির কাহিনী"। ৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৪ 
  20. রমন ১৯৩৮, পৃ. ১১৯।
  21. আয়ার ২০১৮
  22. বুইটানেন ১৯৭৩, পৃ. ৩৯২।
  23. Hewitt, J. F.। History and Chronology of the Myth-Making Age (ইংরেজি ভাষায়)। Рипол Классик। আইএসবিএন 9781143716454 
  24. "Eight great dragon kings - Tibetan Buddhist Encyclopedia" 
  25. http://www.sacred-texts.com/hin/m02/m02067.htm |title=The Mahabharata, Book 2: Sabha Parva: Section LXII |publisher=Sacred-texts.com
  26. https://archive.org/stream/mahabharata_nk/mahabharata_nilakanthas_commentary#page/n403/mode/2up
  27. [১]
  28. Manish Verma (২০০০)। Fasts and Festivals of India। Diamond Pocket Books (P) Ltd.। পৃষ্ঠা 73–। আইএসবিএন 978-81-7182-076-4। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১২ 
  29. Chandrakant, Kamala (১৯৮০)। Bheema and Hanuman। India: Amar Chitra Katha। পৃষ্ঠা 1–32। 


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "note" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="note"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি