বিষয়বস্তুতে চলুন

জুলিয়াস সিজার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউলিউস কায়সার
জুলিয়াস সিজারের একটি মার্বেল ভাস্কর্য, যা টাসকুলাম আবক্ষ মূর্তি নামে পরিচিত
টাসকুলাম আবক্ষ মূর্তিতে কায়সারের প্রতিকৃতি
জন্ম১২ বা ১৩ জুলাই ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ[]
মৃত্যু১৫ মার্চ ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (বয়স ৫৫)
মৃত্যুর কারণগুপ্তহত্যা (ছুরিকাঘাত)
পেশা
  • রাজনীতিবিদ
  • সেনা কর্মকর্তা
  • লেখক
উল্লেখযোগ্য কর্ম
অফিস
পন্তিফেক্স মাক্সিমুস ৬৪–৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
কনসাল ৫৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
প্রোকনসাল (গল, ইলিরিকাম) ৫৮–৪৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
একনায়ক ৪৯–৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
কনসাল ৪৮, ৪৬–৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ডিক্টেটর পার্পেচুও ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ[]
দাম্পত্য সঙ্গী
কসুতিয়া (বিতর্কিত)
কর্নেলিয়া বি. ৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ; মৃ. ৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
পম্পেইয়া বি. ৬৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ; বিচ্ছেদ ৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
কালপুর্নিয়া বি. ৫৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
সঙ্গীক্লিওপেট্রা
সন্তান
পিতা-মাতা
পুরস্কারসিভিক ক্রাউন
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্যরোমান প্রজাতন্ত্র
শাখারোমান সেনাবাহিনী
কাজের মেয়াদ৮১–৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
কমান্ড১৩তম লিজিওন
যুদ্ধ ...(দেখুন জুলিয়াস সিজারের সামরিক অভিযান)

গাইউস ইউলিউস কায়সার (লাতিন: Gāius Jūlius Caesar, উচ্চারণ [ˈɡaːiʊs helper]; ১২ বা ১৩ই জুলাই ১০০ খ্রী.পূ. – ১৫ই মার্চ ৪৪ খ্রী.পূ.) ছিলেন একজন রোমান সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক। প্রথম ট্রাইউমভিরেটের সদস্য হিসেবে সিজার গ্যালিক যুদ্ধে রোমান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তিনি একটি গৃহযুদ্ধে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পম্পেইকে পরাজিত করেন। তিনি ৪৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রোমান প্রজাতন্ত্রের পতন এবং রোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিজার, ক্রাসুস এবং পম্পেই মিলে প্রথম ট্রাইউমভিরেট গঠন করেন। এটি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট, যা কয়েক বছর ধরে রোমান রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। রোমান সিনেটের অনেকেই তাঁদের এই ক্ষমতা দখলের চেষ্টার বিরোধিতা করেন, যাদের মধ্যে কেটো দ্য ইয়াংগার এবং সিসারো অন্যতম। গ্যালিক যুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে সিজার রোমান প্রজাতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী রাজনীতিবিদে পরিণত হন। এই যুদ্ধগুলোর ফলে রোমান ভূখণ্ড ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছিল। এ সময় তিনি ব্রিটেনে অভিযান চালান এবং রাইন নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করেন। তাঁর এসব সাফল্য এবং অভিজ্ঞ সেনাবাহিনীর সমর্থন পম্পেইয়ের মর্যাদাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকি সৃষ্টি করে। এর ফলে তাঁদের মধ্যকার জোটটি ভেঙে যায়। ৪৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের জানুয়ারিতে সিজার রুবিকন অতিক্রম করেন এবং একটি সেনাবাহিনী নিয়ে রোমের দিকে অগ্রসর হয়ে সিনেটের আদেশ প্রকাশ্যে অমান্য করেন। এর ফলে সিজারের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেন এবং ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হন।

শাসনভার গ্রহণ করার পর সিজার ব্যাপক সংস্কার ও নির্মাণ কর্মসূচি শুরু করেন। তিনি জুলীয় বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন, বিনামূল্যে শস্য বিতরণ সীমিত করেন এবং তাঁর অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সৈন্যদের জন্য নতুন উপনিবেশে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের শুরুতে তাঁকে "আজীবন একনায়ক" (dictator perpetuo) ঘোষণা করা হয়। তার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের ওপর একাধিপত্য দেখে সিনেটরদের মনে ভয় জাগে যে তিনি হয়তো নিজেকে রাজা ঘোষণা করতে পারেন। এই আশঙ্কায় ব্রুটাসক্যাসিয়াসের নেতৃত্বে একদল সিনেটর ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মার্চের ইদেরসে (১৫ই মার্চ) সিজারকে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর রোমে পুনরায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক শাসন আর কখনোই পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সিজারের বোনের নাতি ও তার দত্তক পুত্র অক্টাভিয়ান (যিনি পরবর্তীতে অগাস্টাস নামে পরিচিত হন) তেরো বছর পর তার বিরোধীদের পরাজিত করে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভ করেন। অক্টাভিয়ান এরপর নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন এবং রোমান প্রজাতন্ত্রকে রোমান সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেন। সিজার একজন দক্ষ লেখক ও ইতিহাসবিদও ছিলেন। তার জীবন সম্পর্কে বেশিরভাগ তথ্যই তার সামরিক অভিযানের নিজস্ব বিবরণী থেকে জানা যায়। অন্যান্য উৎসের মধ্যে রয়েছে সিসেরোর চিঠি ও বক্তৃতা এবং সাল্লুস্ত, সুটোনিয়াসপ্লুটার্কের ঐতিহাসিক লেখালেখি। অনেক ইতিহাসবিদ সিজারকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা সামরিক সেনাপতি হিসেবে বিবেচনা করেন।[] তার কোগনোমেন (পারিবারিক নাম বা তৃতীয় নাম) পরবর্তীতে "সম্রাটের" প্রতিশব্দ হিসেবে গৃহীত হয়। "সিজার" উপাধিটি রোমান সাম্রাজ্যজুড়ে ব্যবহৃত হতো এবং এটি থেকেই পরবর্তীতে কাইজারজারের মতো আধুনিক উপাধিগুলোর উদ্ভব হয়েছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Badian 2009, পৃ. 16
  2. All offices and years thereof from Broughton 1952, পৃ. 574.
  3. Tucker, Spencer (২০১০)। Battles That Changed History: An Encyclopedia of World Conflict। ABC-CLIO। পৃ. ৬৮আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯৮৮৪-৪৩০-৬

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]