আমিন খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আমিন খান
Amin-khan.jpg
আমিন খান
জন্ম
আমিনুল ইসলাম খান স্বপন

(1972-12-24) ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বয়স ৪৬)
খুলনা, বাংলাদেশ
বাসস্থানঢাকা
জাতীয়তাবাংলাদেশি
পেশাচিত্রনায়ক
কার্যকাল১৯৯০–বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কর্ম
দুই ভাইয়ে যুদ্ধ,লাল দরিয়া,ও আমার দেশের মাটি, হৃদয়ের বন্ধন, হৃদয় আমার, তোমার আমার প্রেম প্রভৃতি
উচ্চতা৬ ফু ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মি)
দাম্পত্য সঙ্গীস্নিগ্ধা খান
আত্মীয়আমিত হাসান

আমিন খান (জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২) সালে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানা অন্তর্ভুক্ত মৌতলা ইউনিয়নের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। শৈশব থেকেই ছিলেন নজরকারা সুদর্শন চেহারার অধিকারী। একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে তিনি সমাধিক পরিচিতি লাভ করলেও তার আরও একটি পরিচয় ওয়ালটন কোম্পানির ডাইরেক্টর হিসেবে। নব্বইয়ের দশকে এফডিসির “নতুন মুখের সন্ধানে” প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন এই গুনি মানুষটি এবং স্বকীয় ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হন খুব অল্প সময়ের ব্যাবধানে। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, স্বপ্নের নায়ক, বীর সন্তান, বাংলার কমান্ডো, হৃদয় আমার , হীরা চুনি পান্না, পিতার আসন, হৃদয়ের বন্ধন ইত্যাদি। চলচ্চিত্র জীবনে এখন পর্যন্ত তিনি ১৬০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালে প্রথম তিনি “অবুঝ দুটি মন” চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। স্বপ্নের নায়ক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় কিছুটা কমিয়ে দিলেও নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করছেন তিনি।[১] ২০১৬ সালে তিনি সর্বশেষ “এক জবানের জমিদার হেরে গেলেন এবার” নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।[২] ক্যারিয়ারক্যারিয়ারের ১ম সিনেমা অবুঝ দুটি মন ও ২য় সিনেমা দুনিয়ার বাদশাহ সুপারহিট ব্যবসা করলে আমিন খানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, এ দুই সিনেমায় তার নায়িকা ছিল চাঁদনী ও শাবনূর। অ্যাকশন সিনেমায় সফল হওয়ায় নির্মাতারা রোমাণ্টিক সিনেমার পাশাপাশি অ্যাকশন সিনেমায়ও তাকে চুক্তিবদ্ধ করাতে থাকেন। ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে রোমাণ্টিক নায়ক হিসেবে সালমান, সানীর পাশাপাশি আমিন খানও নিজেকে চেনাতে সক্ষম হন। যার প্রমাণ হৃদয় আমার, জনম জনমের মত ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয় সিনেমা। এছাড়া, বন্ধু সালমান শাহ এর অসমাপ্ত সিনেমা স্বপ্নের নায়কে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৮/৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তোমার আমার প্রেম,সাগরিকা, লাভ ইন থাইল্যান্ড সিনেমাগুলোও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অপরদিকে অ্যাকশন নায়ক হিসেবে বীর সন্তান, বাংলার কমান্ডো, শয়তান মানুষ, জনতার বাদশাহ, বিশ্বনেত্রী, এ সিনেমাগুলোও তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের ব্যবসা সফল ও আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।২০০০-০৬ সাল আমিন খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফলতার বছর। এ সময়ে মান্নার পাশাপাশি একমাত্র আমিন খানই অ্যাকশনধর্মী সামাজিক ঘরানার সিনেমাগুলোয় সবচেয়ে বেশি সফল ও চাহিদাসম্পন্ননায়ক ছিলেন। এ বছরগুলোতে আমিন খান অভিনীত প্রায় ৯০টি সিনেমা মুক্তি পায়। যার মধ্যে মুখোমুখি, নয়া কসাই, ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, টোকাই থেকে হিরো, হীরা চুনি পান্না, জীবনের গ্যারাণ্টি নাই, মাস্তান নাম্বার ওয়ান, মাঝির ছেলে ব্যারিষ্টার, পিতার আসনসহ অনেক সিনেমা সুপারহিট ব্যবসা সফল হয়। এছাড়া আজ গায়ে হলুদ, জ্যান্ত কবর, তোমার জন্য ভালোবাসা, কাটা রাইফেল, হৃদয়ের বন্ধন, বিপদজনক, কঠিন বাস্তব, পুলিশ অফিসার, লাল দরিয়া, স্ত্রীর মর্যাদা, ঠেকাও মাস্তান, স্ত্রী কেন শত্রু, দোস্ত আমার সিনেমাগুলোও উল্লেখযোগ্য।২০০৭ ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে বধূবরণ, জীবনের চেয়ে দামী, চাকরের প্রেম, জমিদার বাড়ীর মেয়ে, সমাধি, স্বামী আমার বেহেশত, মা বড় না বউ বড়, পৃথিবী টাকার গোলাম, আমার স্বপ্ন আমার অহংকার, গরীবের মন অনেক বড়, ও আমার দেশের মাটি, মায়ের চোখ, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু সিনেমাগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায়।আমিন খান অভিনীত ঐতিহাসিক জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা "দুদু মিয়া" বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায়রয়েছে। এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নওশীন।টিভি অভিনেতা হিসেবেও আমিন খান যথেষ্ট সুপরিচিত। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে টিভি নাটকে অভিনয়ের দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১২ সাল থেকে বেশ কিছু টিভি নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করছেন। ভূ-চিত্র (বিন্দু), মন আমার (নওশীন), তুমি মানে তোমার চলে যাওয়া (অপর্ণা), ওশেন ব্লু (শশী), জামাই ধরা (মেহজাবিন), নিষ্কৃতি (অহনা), ডিসকাউণ্ট ইমরান (বাঁধন), সময়ের ভালোবাসা অসময়ে কেন বাসো (নওশীন), মন দরিয়ার মাঝি (প্রসূনআজাদ), লাভ স্পিড (পপি) অন্যতম।আমিন খান অভিনীত সিনেমাগুলোর জনপ্রিয় কিছু গানঃ১। তুমি আমার হৃদয়ে যদি থাকো, একদিন জানি কাছে আসবে-হৃদয় আমার২। চোখ যে মনের কথা বলে, চোখে চোখ রাখা শুধু নয়-আজ গায়ে হলুদ৩। তোমার আমার প্রেম এক জনমের নয়-আম্মাজান৪। আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তোমাকে ফিরে আসতে হবে-জনম জনম৫। বাজেরে বাজে শত জনমের প্রেম বাঁশি হয়ে বাজে-তোমার জন্য ভালোবাসা৬। পৃথিবীতে ভালোবেসে সুরে সুরে কাছে এসে কত যে আপন হয়েছো-হৃদয় আমার৭। আমায় দুনিয়া থেকে চুরি করে তোমার বুকের ভেতর রাখো ধরে-মুখোমুখি৮। তুমি আমার ভালোবাসা তুমি হৃদয়ের বন্ধন-হৃদয়ের বন্ধন৯। হৃদয়ের মাঝে তুমি আছো কভু এ বুকের মাঝে কেন পায় না-সাগরিকা১০। বিধি তুমি বলে দাও আমি কার-ফুলে নেবো না অশ্রু নেবো।১১। কখনো কি আয়নাতে মুখ দেখোনা হায়, তুমি কত সুন্দর সে কি- তোমার আমার প্রেম১২। প্রেমের মোবাইল ফোনে কথা হয় মনে মনে, দেখা হয় নির্জনে-কাল্লু মামা১৩। ও অন্তরে অন্তরে আছো তুমি বন্ধুরে থাকবে সারাটি জীবন-স্পর্ধা১৪। মানুষ পথিক বেশে ঘুরছে দেশে দেশে, একটু ছায়াতলে থমকে দাঁড়াও-তোমার আমার প্রেম১৫। আমার আশার বাসা বাইন্দা দিও চাঁন্দের জোস্না দিয়া-আমার স্বপ্ন আমার অহংকারআমিন খান সমসাময়িক শাবনাজ, শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, চম্পা, শিল্পী, ঋতুপর্ণা, শাহনাজ, একা,সিমলা, মনিকা বেদী, সাহারা, নিপুণ, অপু বিশ্বাসসহ সব নায়িকাদের সাথে কাজ করেছেন।তার সর্বোচ্চ সিনেমার পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর, যার পরিচালনায় ১০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এছাড়া, এফআই মানিকের ৭টি ও মালেক আফসারীর ৪টি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন।পরিবার১৯৯৮ সালে আমিন খান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী স্নিগ্ধা খান। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্ত্রী-দুই ছেলে নিয়ে তিনি উত্তরায় থাকেন।বর্তমানে সিনেমায় অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আইকন এণ্টারটেইনমেণ্টথেকে সিনেমা প্রযোজনা করার আগ্রহ আছে তার। তবে ভক্তকূলের একান্ত চাওয়া প্রিয় নায়ক আবারো সিনেমায় নিয়মিত হোক। কেননা, সিনেমার যেকোন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সকল প্রকার যোগ্যতা ও নায়কোচিত লুক এখনো তার মাঝে বিদ্যমান। তাই পরিচালক-প্রযোজকদের উচিত তার সদ্ব্যবহার করা।/ref>https://mbasic.facebook.com/groups/193567077436347?_e_pi_=7%2CPAGE_ID10%2C4820698646]</ref>

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]