আজাদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্বাধীনতা আলোকিত করছে বিশ্বকে (স্ট্যাচু অব লিবার্টি নামে পরিচিত) স্বাধীনতার শৈল্পিক রূপ হিসাবে ১৮৮৬ সালে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দিয়েছিল।

বিস্তৃত অর্থে, আজাদী বা স্বাধীনতা হলো একজন ব্যক্তির যেমন ইচ্ছা তেমন করার ক্ষমতা।[১] আধুনিক রাজনীতিতে, স্বাধীনতা হলো সমাজের অভ্যন্তরে কারো জীবনযাপন, আচরণ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর কর্তৃত্বের দ্বারা চাপানো নিপীড়ন মূলক বিধিনিষেধ থেকে সত্ত্বার মুক্তি বা আজাদী।[২][৩][৪] দর্শনশাস্ত্রে, স্বাধীনতা নির্ধারণবাদের বিপরীতে স্বাধীন ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত।[৫] ধর্মতত্ত্ব অনুসারে স্বাধীনতা হলো "পাপ, আধ্যাত্মিক বশ্যতা, [বা] পার্থিব বন্ধন" এর প্রভাব থেকে মুক্তি।[৬]

কখনও কখনও "স্বাধীনতা" ও "মুক্তি" শব্দদ্বয় আলাদা অর্থে ব্যবহার করা হয়। মুক্তি বলতে, ব্যক্তির ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুসারে তার কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়। "স্বাধীনতা" শব্দটি ব্যবহার করে বোঝানো হয়, আজাদীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকারকে বিবেচনা করে স্বেচ্ছাচারিতাকে সংযত রাখা। এই অর্থে, স্বাধীনতার চর্চা সামর্থ্যের অধীন এবং অন্যের অধিকার দ্বারা সীমাবদ্ধ।[৭] সুতরাং, আজাদী, আইনের শাসনের অধীনে অন্য কাউকে তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করে স্বাধীনতার দায়িত্বশীল ব্যবহারকে নির্দেশ করে। স্বাধীনতা আরও বিস্তৃত এই অর্থে যে, এটি সংযমের অভাব বা নিজের কামনা পূরণের সীমাহীন সামর্থ্যকে প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির হত্যার মুক্ততা থাকতে পারে, তবে হত্যার স্বাধীনতা থাকতে পারে না, কারণ এক্ষেত্রে তা অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। এক ধরণের শাস্তি হিসেবে ব্যক্তির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হতে পারে। অনেক দেশে অপরাধমূলক কাজে দোষী সাব্যস্ত হলে মানুষ তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

"জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের সাধনা"[৮] বা "স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব"-এর[৯] মতো স্লোগানগুলিতে "স্বাধীনতা" শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।

দর্শন[সম্পাদনা]

আদিকাল থেকে দার্শনিকরা স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে বিবেচনা করেছেন। রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস (১২১-১৮০ খ্রিষ্টাব্দ) লিখেছেন:

এমন একটি বিধিবদ্ধ সমাজ যেখানে সকলের জন্য সমান আইন বিদ্যমান, যে বিধিবদ্ধ সমাজে সমান অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার সমতা প্রচলিত এবং একটি রাজতান্ত্রিক সরকারের ধারণা, যা শাসিতের স্বাধীনতার প্রতি সর্বাধিক শ্রদ্ধাশীল।[১০]

টমাস হব্‌স (১৫৮৮–১৬৭৯) এর মতে:

একজন স্বাধীন মানুষ হচ্ছেন তিনি, যিনি তার শক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে যা করতে সক্ষম সেগুলি করেন এবং তিনি যা করতে চান তা করতে তাকে বাধা দেয়া হয় না।

— লেভিয়াথন, দ্বিতীয় অংশ, অধ্যায় XXI.

জন লক (১৬৩২-১৭০৪) স্বাধীনতার এই সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে হবস্‌ এর নাম উল্লেখ করেন নি, তবে তিনি স্বাধীনতা সম্পর্কে একই ধারণা পোষণকারী স্যার রবার্ট ফিল্মারকে আক্রমণ করেছেন। লক-এর মতে:

প্রকৃতিক জগতে, স্বাধীনতা হলো পৃথিবীর যেকোনো উচ্চতর শক্তি থেকে মুক্ত থাকা। মানুষ অন্যদের ইচ্ছা বা কর্তৃত্বের অধীন নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে শুধুমাত্র প্রকৃতির নিয়ম কানুন বিদ্যমান। রাজনৈতিক সমাজে, স্বাধীনতা হলো জনগণের সম্মতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আইন প্রণয়নকারী ক্ষমতা ব্যতীত অন্য কিছুর অধীনে না থাকা। তাদের নিজস্ব আইন প্রণয়নকারী ক্ষমতার ওপর আনীত বিশ্বাস অনুযায়ী প্রণীত আইন ব্যতীত কোন ইচ্ছা বা আইনি নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য থেকে মানুষ মুক্ত। ফলে, স্বাধীনতা স্যার রবার্ট ফিল্মার যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন তেমন নয়: 'যা সে পছন্দ করে তাই করার, সে যেভাবে থাকতে চায় সেভাবেই থাকার এবং কোন আইন দ্বারা আবদ্ধ না হওয়ার স্বাধীনতা।' স্বাধীনতা প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক সমাজ উভয়ের আইন দ্বারাই সীমাবদ্ধ। প্রকৃতির স্বাধীনতা হলো প্রকৃতির নিয়ম কানুন ছাড়া অন্য যে কোন নিয়ন্ত্রণের অধীনে না থাকা। সরকারের অধীনে জনগণের স্বাধীনতা হলো সমাজের সবার জন্য প্রচলিত এবং এতে প্রতিষ্ঠিত আইন প্রণয়নকারী ক্ষমতা দ্বারা প্রচলিত আইন ছাড়া অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণের অধীনে না থাকা। ব্যক্তির অধিকার বা স্বাধীনতা আছে (১) আইন নিষিদ্ধ করে না এমন যেকোনো কিছুতে তার নিজের ইচ্ছা অনুসরণ করার এবং (২) অন্যের অস্থিতিশীল, অনিশ্চিত, অজ্ঞাত এবং যদচ্ছ ইচ্ছার অধীন না থাকার।[১১]

জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩) তার লিখিত অন লিবার্টি প্রবন্ধে সর্বপ্রথম, কাজ করার স্বাধীনতা এবং বলপ্রয়োগের অনুপস্থিতির ভিত্তিতে স্বাধীনতা হিসেবে স্বাধীনতা ভিন্নতা উপস্থাপন করেন।[১২] ইসায়া বার্লিন, তার গ্রন্থ টু কন্সেপ্টস অফ লিবার্টি তে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যকে স্বাধীনতার দুটি বিপরীত ধারণার মধ্যে পার্থক্য হিসেবে ফ্রেমবন্দি করেছেন: ইতিবাচক স্বাধীনতা এবং নেতিবাচক স্বাধীনতা। নেতিবাচক স্বাধীনতা, একটি নেতিবাচক অবস্থার কথা বলে যেখানে একজন ব্যক্তি অত্যাচার এবং কর্তৃত্বের স্বেচ্ছাচারি অনুশীলন থেকে সুরক্ষিত। আর অন্যদিকে, ইতিবাচক স্বাধীনতা আসে আত্ম-আধিপত্য, অভ্যন্তরীণ বাধ্যবাধকতা,যেমন দুর্বলতা এবং ভয় থেকে।[১৩]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ম্যাগনা কার্টা (প্রাথমিকভাবে স্বাধীনতার সনদ নামে পরিচিত), ১২১৫।
উনিশ শতকে রাজা জন এর ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরের একটি কল্পিত চিত্র।

রাজনৈতিক স্বাধীনতার আধুনিক ধারণা স্বাধীনতা এবং দাসত্বের গ্রিক ধারণা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।[১৪] গ্রীকদের কাছে, স্বাধীনতার মানে ছিল, কোন মনিব না থাকা অর্থাৎ মনিবের অধীনতা থেকে মুক্ত থাকা (ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন)।[১৫][১৬] এটাই ছিল গ্রিক স্বাধীনতার মূল ধারণা। এটি গণতন্ত্রের ধারণার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যেমনটা অ্যারিস্টটল বলেছেন:

তাহলে, এটা স্বাধীনতার একটি বৈশিষ্ট্য যা সকল গণতন্ত্রীরা তাদের রাষ্ট্রের নীতি বলে গণ্য করে। এর আরেকটি নীতি হচ্ছে তোমার যেমন খুশি তেমনভাবে জীবনযাপন করবে। কারণ এটা স্বাধীন ব্যক্তির একটি বৈশিষ্ট্য, যেহেতু, অপর পক্ষে দাসত্বের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করতে না পারা। এটি গণতন্ত্রের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য, এর ভিত্তিতেই যথাসম্ভব শাসিত না হওয়া কিংবা হলেও পর্যায়ক্রমে শাসিত হওয়ার নীতিটিকে প্রকাশ করা হয়। আর স্বাধীনতার এই উপাদান সমতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।[১৭]

এটি শুধুমাত্র স্বাধীন ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাথেন্সে, নারীরা ভোট দিতে বা ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারতো না এবং আইনগত এবং সামাজিকভাবে তারা একজন পুরুষ আত্মীয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল।[১৮]

পারস্য সাম্রাজ্যের জনগণ কিছু মাত্রার স্বাধীনতা উপভোগ করতো। সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকদের সমান অধিকার ছিল এবং ধর্মের বিষয়েও সকলের স্বাধীনতা ছিল। সেখানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ছিল এবং এসময় দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছিল (৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। পারস্যের সকল রাজার প্রাসাদ, এমন এক যুগে বেতনপ্রাপ্ত শ্রমিকদের দ্বারা নির্মিত হয়, যখন সাধারণত ক্রীতদাসদের দ্বারা এধরণের কাজ করানো হতো।[১৯]

প্রাচীন ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যে, সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকের স্বাধীনতা, সহিষ্ণুতা এবং সমতার কিছু অধিকার ছিল। সমতার ভিত্তিতে সহিষ্ণুতার নিদর্শন সম্রাট অশোকের অনুশাসনে পাওয়া যায়, যা সরকারী নীতিতে সহনশীলতার গুরুত্বের উপর জোর দেয়। যুদ্ধবন্দীদের হত্যা বা বন্দী করার বিষয়েও এতে নিন্দা করা হয়েছে।[২০] মৌর্য সাম্রাজ্যে দাসপ্রথাও অস্তিত্বহীন ছিল বলে ধারণা করা হয়।[২১] তবে, হারমান কুলকে এবং ডায়েটমার রথারমুন্ডের মতে, "শুরু থেকেই অশোকের আদেশ বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে।"[২২]

এছাড়াও রোমান আইন, এমনকি রোমান সম্রাটদের শাসনামলেও কিছু সীমিত স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে। তবে, এই স্বাধীনতা শুধুমাত্র রোমান নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। রোমান আইনের অধীনে মধ্যযুগে অনেক স্বাধীনতাই টিকে ছিল, কিন্তু শুধুমাত্র অভিজাতদের জন্য, সাধারণ মানুষ সেগুলো খুব কমই উপভোগ করেছে। তবে, অবিচ্ছেদ্য এবং সার্বজনীন স্বাধীনতার ধারণার জন্য আলোকিত যুগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

সামাজিক চুক্তি[সম্পাদনা]

ফ্রেঞ্চ লিবার্টি. ব্রিটিশ স্লেভারি (১৭৯২), জেমস গিলরে-এর অঙ্কিত ব্যঙ্গচিত্র।

মুলত টমাস হব্‌স, জন লক এবং জঁ-জাক রুসো দ্বারা প্রণীত (যদিও প্লেটোর রিপাবলিক গ্রন্থে প্রথম প্রস্তাবিত), সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব, সর্বপ্রথম, বিশেষত সার্বভৌমত্ব এবং প্রাকৃতিক অধিকারের ধারণার মাধ্যমে, অধিকারের একটি রাজনৈতিক শ্রেণীবিভাগ প্রদান করে। আলোকিত যুগের চিন্তাবিদরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, আইন স্বর্গীয় এবং মানবিক উভয় কর্মকান্ডই নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাজার ক্ষমতা আইনকে শক্তি দেয়নি বরং আইনই রাজাকে তার ক্ষমতা দিয়েছে। আইনের এই ধারণা মনটেস্কিউ এর চিন্তায় আরো পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। পরিবারের বদলে ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে আইনের ধারণা সামনে আসে এবং এর সাথে আসে মৌলিক বাস্তবতা হিসেবে ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর ক্রমবর্ধমান আলোকপাত, যা "প্রকৃতি এবং প্রকৃতির ঈশ্বর" কর্তৃক প্রদত্ত ও যা আদর্শ অবস্থায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সার্বজনীন।

অন লিবার্টি গ্রন্থে, জন স্টুয়ার্ট মিল সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছেন "...ক্ষমতার প্রকৃতি এবং সীমা যা ব্যক্তির উপর সমাজ কর্তৃক বৈধভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে," এবং এইভাবে, তিনি স্বাধীনতা এবং কর্তৃত্বের মধ্যে একটি সহজাত এবং নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা উল্লেখ করেছেন। এর ফলে, প্রশ্ন উত্থাপিত হয় "কিভাবে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় করা যায়"।[২৩]

রাজনৈতিক স্বাধীনতার উৎপত্তি[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ড (১৭০৭ সালের ইউনিয়ন আইন অনুসারে, গ্রেট ব্রিটেন) ব্যক্তি স্বাধীনতার ধারণার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।

১০৬৬ সালে তার রাজ্যাভিষেক প্রথম উইলিয়াম, লন্ডন স্বাধীনতার সনদ (চার্টার অফ লিবার্টিস) অনুমোদন করেন, যা সিটি অব লন্ডনের "স্যাক্সন" স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

১১০০ সালে স্বাধীনতা সনদ পাস করা হয়, যা অভিজাতগণ, চার্চের কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিদের কিছু স্বাধীনতা নির্ধারণ করে।

১১৬৬ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় হেনরি, অ্যাসাইজ অফ ক্লারেনডন আইন পাশ করে ইংরেজ আইনের রূপান্তর ঘটান। এই আইন, জুরি দ্বারা বিচারের পদ্ধতির অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে এবং লড়াই দ্বারা বিচারের ধারা বিলোপের পথ প্রশস্ত করে।[২৪]

১১৮৭−১১৮৯ সালের মধ্যে রাজা দ্বিতীয় হেনরির জন্য লিখিত একটি গ্রন্থে, স্বাধীনতা ও অধীনতার বিশুদ্ধ সংজ্ঞা রয়েছে:

স্বাধীনতা হলো, অধিকার বা ক্ষমতা দ্বারা ব্যক্তির জন্য যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা ব্যতীত তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি যা করতে চায় তা করার প্রাকৃতিক অনুষদ। অন্যদিকে অধীনতাকে এর বিপরীত বলা যেতে পারে, যেন কোন ব্যক্তিকে কিছু করার বা না করার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে হবে।[২৫]

১২১৫ সালে ম্যাগনা কার্টা প্রণয়ন করা হয়। এটি প্রথমে ইংল্যান্ড, তারপর গ্রেট ব্রিটেন এবং পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনতার অগ্রদূতে পরিণত হয়।[২৬] ১৬২৮ সালে ইংরেজ সংসদ অধিকারের পিটিশন (পিটিশন অফ রাইটস) পাস করে যা কিছু বিষয়ের সুনির্দিষ্ট স্বাধীনতা নির্ধারণ করে।

১৬৭৯ সালে ইংরেজ সংসদ হেবিয়াস কর্পাস আইন পাস করে যা অবৈধ কারাদণ্ড নিষিদ্ধ করে।

১৬৮৯ সালে অধিকার বিল (বিল অফ রাইটস) "সংসদে বাক স্বাধীনতা" মঞ্জুর করে এবং ইংল্যান্ডে বিদ্যমান বিভিন্ন নাগরিক অধিকার শক্তিশালী করে। এছাড়াও এর সমতুল্য স্কটিশ আইন ক্লেইম অফ রাইট পাস করা হয়।[২৭]

১৭৭২ সালে সমারসেট বনাম স্টুয়ার্ট মামলায়, ইংল্যান্ড এবং ওয়েল্‌স্‌ এর সাধারণ আইন এর সাথে দাসপ্রথা অসঙ্গতিপূর্ণ বলে রায় দেওয়া হয়।

১৮৫৯ সালে দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল, অন লিবার্টি শিরোনামের একটি প্রবন্ধে, সহনশীলতা এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের পক্ষে যুক্তি দেন।[২৮][২৯]

১৯৫৮ সালে ইসাইয়া বার্লিন স্বাধীনতার দুটি ধারণা "নেতিবাচক স্বাধীনতা" ও "ইতিবাচক স্বাধীনতা" এর কথা বলেন। প্রথমটিকে তিনি একটি বাধা হিসেবে আর পরেরটিকে আত্ম-আধিপত্য এবং স্বাধীনতার ধারণার অগ্রণী হিসেবে চিহ্নিত করেন।[৩০]

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের একটি আইনি কাঠামো যোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু বাধাপ্রাপ্ত হন। (পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর হয়, যা অধিকাংশ ঘোষণাকে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করেছে)।[৩১]

যুক্তরাষ্ট্র[সম্পাদনা]

১৭৭৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, সকল মানুষের "জীবন, স্বাধীনতা, এবং সুখ অনুসন্ধান" বিষয়ে প্রাকৃতিক অধিকার আছে। কিন্তু স্বাধীনতার এই ঘোষণা শুরু থেকেই কৃষ্ণাঙ্গ দাসত্বের বৈধ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ দ্বারা সমস্যাসঙ্কুল ছিল। ক্রীতদাস মালিকরা যুক্তি দেখান যে, সম্পত্তির বিষয়ে তাদের স্বাধীনতা রয়েছে আর তাদের ক্রীতদাসেরা তাদের সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত এবং শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির স্বীকৃতি ব্যতীত কৃষ্ণাঙ্গদের কোন অধিকার প্রযোজ্য নয়। ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড মামলার রায়ে, সুপ্রিম কোর্ট এই নীতি বহাল রাখে। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৬ সালে মার্কিন সংবিধান সংশোধন করে কৃষ্ণাঙ্গদের এবং ১৯২০ সালে এসে নারীদের স্বাধীনতার অধিকার প্রদান করা হয়।[৩২]

অর্ধ ডলারের মুদ্রায় স্বাধীনতার রুপায়ণ।

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করার জন্য স্বাধীনতার ধারণা আরো প্রসারিত করা হয়। গ্রিসওয়াল্ড বনাম কানেক্টিকাট মামলার রায়ে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উইলিয়াম ও. ডগলাস যুক্তি দেখান যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কিত স্বাধীনতা, যেমন বিয়ে, স্বাধীনতার শ্রেণিবিন্যাসে একটি অনন্য প্রাধান্য ধারণ করে।[৩৩] জ্যাকব এম অ্যাপ্পেল এই নীতির সারসংক্ষেপ করেছেন:

আমি কৃতজ্ঞ যে প্রবাদপ্রতীম পাবলিক স্কোয়ারে আমার অধিকার আছে – কিন্তু, কার্যকরভাবে আমার সবচেয়ে কামনীয় অধিকার হচ্ছে, আমার শয়নকক্ষ এবং হাসপাতাল এবং ডেথ চেম্বারে আমি যার অধিকারী। অধিকাংশ মানুষ কংগ্রেসের কাছে আবেদন করার চেয়ে তাদের নিজেদের শরীর নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন।[৩৪]

আধুনিক আমেরিকায়, কিভাবে স্বাধীনতা রপ্ত করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে। উদারপন্থীরা সাম্যকে স্বাধীনতার একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে দেখে। প্রগতিশীলরা ব্যবসায়িক একচেটিয়া আধিপত্য থেকে মুক্তির অপরিহার্যতার উপর জোর দেয়। স্বাধীনতাবাদীরা ভিন্নমত পোষণ করে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সর্বোত্তম হিসেবে দেখে।[৩৫] টি পার্টি আন্দোলনের সদস্যরা অসংজ্ঞায়িত "বৃহৎ সরকার" কে স্বাধীনতার শত্রু হিসেবে দেখে।[৩৬][৩৭]

ফ্রান্স[সম্পাদনা]

ফ্রান্স, ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের বিদ্রোহ সমর্থন করে এবং "স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব" এই স্লোগান নিয়ে ১৭৮৯ সালে, তাদের নিজস্ব রাজতন্ত্র উৎখাত করে। কিন্তু এর ফলে পরবর্তীতে যে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরী হয়, তা অনেক মানুষের মনে স্বাধীনতার ধারণা সম্পর্কে তিক্ততা তৈরী করে। এডমান্ড বার্ক, যাকে রক্ষণশীলতার অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, লিখেছেন: "ফরাসিরা নিজেদেরকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত বিদ্যমান ধ্বংসের সর্বোত্তম স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।"[৩৮]

মতাদর্শ[সম্পাদনা]

উদারনীতিবাদ[সম্পাদনা]

কনসাইস অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ পলিটিক্স অনুসারে উদারনীতিবাদ হলো "এই বিশ্বাস যে ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণ এবং পছন্দের স্বাধীনতা সর্বাধিক কার্যকারী করণ রাজনীতির উদ্দেশ্য "। তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কীভাবে এই লক্ষ্যগুলি অর্জন করতে হয় সে সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ রয়েছে। স্বাধীনতার প্রতিটি আলোচনা তিনটি মূল উপাদানের উপর নির্ভর করে: স্বাধীন কে , স্বাধীন ব্যক্তি কী করতে পারে এবং কী তাদের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে।[৩৯] জন গ্রে যুক্তি দেখান যে, উদারনীতিবাদের মূল বিশ্বাস হচ্ছে সহনশীলতা। উদারপন্থীরা অন্যদেরকে যা চায় তাই করার অনুমতি দেয়, নিজেদেরও সেই স্বাধীনতা থাকার বিনিময়ে। মুক্তির এই ধারণাটি যতটা না রাজনৈতিক তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত।[৪০] উইলিয়াম সাফিরে উল্লেখ করেছেন যে উদারনীতিবাদ ডানপন্থী এবং বামপন্থী উভয়ের দ্বারাই আক্রমণের স্বীকার হয়েছে: ডানপন্থীরা আক্রমণ করেছে গর্ভপাত, সমকামিতা এবং নাস্তিকতার মতো চর্চাগুলো অনুশীলনের অধিকার রক্ষার জন্য এবং বামপন্থীরা আক্রমণ করেছে মুক্ত বাজারের পক্ষে অবস্থান এবং ব্যক্তিকে সমষ্টির ঊর্ধ্বে স্থান দেবার জন্য।[৪১]

স্বাধীনতাবাদ[সম্পাদনা]

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, স্বাধীনতাবাদীরা স্বাধীনতাকে তাদের মূল রাজনৈতিক আচার হিসেবে বিবেচনা করে।[৪২] স্বাধীনতা বাস্তবায়নে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে কোন সরকারী চাপের বিরোধিতা করা ও ব্যক্তিকে একে অপরকে নিগৃহীত করা থেকে বিরত রাখা।[৪৩]

রিপাবলিকান স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক কুয়েন্টিন স্কিনার[৪৪][৪৫] বা দার্শনিক ফিলিপ পেটিট[৪৬] এর মতো রিপাবলিকান তাত্ত্বিকদের মতে, একজনের স্বাধীনতাকে তার কর্মে হস্তক্ষেপের অনুপস্থিতি হিসেবে নয়, বরং আধিপত্যের অভাব হিসেবে দেখা উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, যা রোমান ডাইজেস্ট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, একজন স্বাধীন মানুষ অর্থ হলো, যে অন্যের ইচ্ছার অধীন না থাকে অর্থাৎ অন্যের কর্তৃত্বে না থাকে। তারা এ বিষয়ে মাকিয়াভেল্লিকে উদ্ধৃত করে, যিনি দাবি করেছেন যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করতে হলে অবশ্যই একটি স্বাধীন স্বশাসিত সুশীল সংগঠন, একটি প্রজাতন্ত্রের সদস্য হতে হবে।

সমাজতন্ত্র[সম্পাদনা]

সমাজতান্ত্রিকরা স্বাধীনতাকে একটি বিশুদ্ধ বিমূর্ত আদর্শের বিপরীতে একটি সুদৃঢ় পরিস্থিতি হিসেবে দেখে। স্বাধীনতা এমন এক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি জোরপূর্বক কোনো সামাজিক সম্পর্ক, বিশেষত একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ব্যবস্থার অধীনে বেঁচে থাকার জন্য যাদের সাথে সে যুক্ত হতে বাধ্য, তার থেকে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়েই তার সৃজনশীল স্বার্থ অনুসরণ করতে সক্ষম। ফলে, স্বাধীনতার জন্য বস্তুগত অর্থনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি স্বাধীনতাকে সম্ভব করে তোলার মত সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।[৪৭]

স্বাধীনতার সমাজতান্ত্রিক ধারণা সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিত্বের সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কার্ল মার্ক্সের বিচ্ছিন্ন শ্রমের ধারণা থেকে প্রভাবিত হয়ে, সমাজতান্ত্রিকরা স্বাধীনতা বলতে সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত থাকার স্বাধীনতাকে নির্দেশ করে, যেখানে "বিচ্ছিন্ন শ্রম" বলতে বোঝায়, যে কাজ করতে ব্যক্তি বাধ্য হয় এবং অ-বিচ্ছিন্ন কাজ বলতে বোঝায় যে কাজ ব্যক্তি তার নিজস্ব সৃজনশীল ইচ্ছা অনুসরণে করে।[৪৮]

মার্কসবাদ[সম্পাদনা]

কার্ল মার্ক্সের মতে, অর্থপূর্ণ স্বাধীনতা শুধুমাত্র একটি কমিউনিস্ট সমাজে, অতিপ্রাচুর্য এবং মুক্ত প্রবেশাধিকার লাভের পরেই পাওয়া সম্ভব। এই ধরনের সামাজিক ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন শ্রমের প্রয়োজনীয়তা দূর করবে এবং ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব সৃজনশীল স্বার্থ অনুসরণ করতে সক্ষম করবে, যার ফলে তারা তাদের তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা সর্বোচ্চরূপে বিকশিত করতে পারবে। এর পাশাপাশি মার্ক্স, মার্কসবাদ এবং কমিউনিজমের ক্ষমতার উপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, তা প্রত্যেক ব্যক্তির "স্বাধীনতার জগৎ" সম্প্রসারণের জন্য কর্মদিবসের গড় দৈর্ঘ্য হ্রাস করতে সক্ষম।[৪৯][৫০] ফলে কমিউনিস্ট সমাজ ও মানব স্বাধীনতা সম্পর্কে মার্ক্সের ধারণাটি আমূল ব্যক্তিত্ববাদী।[৫১]

নৈরাজ্যবাদ[সম্পাদনা]

যদিও অনেক নৈরাজ্যবাদী স্বাধীনতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখে, তবুও সকলেই কর্তৃত্বের বিরোধিতা করে, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব, পুঁজিবাদ এবং জাতীয়তাবাদ[৫২] রাশিয়ার বিপ্লবী নৈরাজ্যবাদী মিখাইল বাকুনিনের জন্য, স্বাধীনতা একটি বিমূর্ত আদর্শ নয় বরং অন্যদের সমান স্বাধীনতার উপর ভিত্তি করে একটি সুদৃঢ় বাস্তবতা। ইতিবাচক অর্থে, স্বাধীনতা "শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং বস্তুগত সমৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের সকল অনুষদ এবং ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ।" স্বাধীনতার এরূপ ধারণা "বিশিষ্টভাবে সামাজিক, কারণ এটি শুধুমাত্র সমাজে উপলব্ধ ", বিচ্ছিন্নতায় নয়। নেতিবাচক অর্থে, স্বাধীনতা হচ্ছে "সকল ঐশ্বরিক, সমষ্টিগত এবং স্বতন্ত্র কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যক্তির বিদ্রোহ"।[৫৩]

সাংস্কৃতিক পূর্বশর্ত[সম্পাদনা]

কিছু লেখকের মতে একটি ন্যায়নিষ্ঠ সংস্কৃতি, স্বাধীনতার অপরিহার্য পূর্বশর্ত। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছেন, "শুধুমাত্র একটি সৎ জাতিই স্বাধীনতা লাভে সক্ষম। জাতি যখন দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দুশ্চরিত্র হয়ে ওঠে, তখন তাদের নিয়ন্ত্রণকারীর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি।"[৫৪] ম্যাডিসন একই সুরে বলেছেন: "কোনো সরকার জনগণের মধ্যে কোন সদ্গুণ ছাড়াই স্বাধীনতা বা সুখ নিশ্চিত করতে পারবে, তা ধারণা করা একটি অলীক চিন্তা।"[৫৫] জন অ্যাডামস স্বীকার করেছেন: "আমাদের সংবিধান শুধুমাত্র একটি নৈতিক এবং ধর্মবিশ্বাসী জনগণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি অন্য যে কোন ধরণের জনগণের সরকারের জন্য পরিপূর্ণভাবে অনুপযুক্ত।"[৫৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Merriam-Webster Dictionary, 2005, Merriam-Webster, Inc., আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৭৭৭৯-৬৩৬-৭.
  2. "liberty | Definition of liberty in English by Lexico Dictionaries"Lexico Dictionaries | English। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২২ 
  3. "liberty"Oxford English DictionaryFreedom from arbitrary, despotic, or autocratic control; independence, esp. from a foreign power, monarchy, or dictatorship. 
  4. Oxford English Dictionary, liberty: "Chiefly in plural. Each of those social and political freedoms which are considered to be the entitlement of all members of a community; a civil liberty."
  5. Oxford English Dictionary, liberty: "The fact of not being controlled by or subject to fate; freedom of will."
  6. Oxford English Dictionary, liberty: "Freedom from the bondage or dominating influence of sin, spiritual servitude, worldly ties."
  7. Mill, J. S. (1869), "Chapter I: Introductory", On Liberty.
  8. The Declaration of Independence, The World Almanac, 2016, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬০০৫৭-২০১-২.
  9. "Liberty, Equality, Fraternity – France in the United States / Embassy of France in Washington, DC" 
  10. Marcus Aurelius, Emperor of Rome (১৯৯৭)। Meditations। Robin Hard। Ware, Hertfordshire: Wordsworth। আইএসবিএন 1-85326-486-5ওসিএলসি 38313529 
  11. Two Treatises on Government: A Translation into Modern English, ISR, 2009, p. 76
  12. Westbrooks, Logan Hart (2008) "Personal Freedom" p. 134 In Owens, William (compiler) (2008) Freedom: Keys to Freedom from Twenty-one National Leaders Main Street Publications, Memphis, Tennessee, pp. 3–38, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৮০১১৫২-০-৮
  13. Metaphilosoph: Motives for Philosophizing Debunking and Wittgenstein's Philosophical Investigations. Kelly Dean Jolley. pp. ২৬২–৭০
  14. Rodriguez, Junius P (২০০৭)। The Historical Encyclopedia of World Slavery: A–K, Vol. II, L–Z 
  15. Mogens Herman Hansen, 2010, Democratic Freedom and the Concept of Freedom in Plato and Aristotle
  16. Baldissone, Riccardo (২০১৮)। Farewell to freedom : a western genealogy of liberty। London: University of Westminster Press। আইএসবিএন 978-1-911534-61-7ওসিএলসি 1051782805 
  17. Aristotle, Politics 6.2
  18. Mikalson, Jon D. (২০১০)। Ancient Greek religion (2nd ed সংস্করণ)। Chichester, West Sussex, U.K.: Wiley-Blackwell। আইএসবিএন 978-1-4443-5819-3ওসিএলসি 778339226 
  19. Robertson, A. H. (১৯৯৬)। Human rights in the world : an introduction to the study of the international protection of human rights। J. G. Merrills (4th ed সংস্করণ)। Manchester [England]: Manchester University Press। আইএসবিএন 0-7190-4922-9ওসিএলসি 37261147 
  20. Sen, Amartya Kumar (১৯৯৭)। Human rights and Asian values। Carnegie Council on Ethics and International Relations। New York: Carnegie Council on Ethics and International Affairs। আইএসবিএন 0-87641-151-0ওসিএলসি 38309616 
  21. Arrian, Indica:

    "This also is remarkable in India, that all Indians are free, and no Indian at all is a slave. In this the Indians agree with the Lacedaemonians. Yet the Lacedaemonians have Helots for slaves, who perform the duties of slaves; but the Indians have no slaves at all, much less is any Indian a slave."

  22. Kulke, Hermann (২০০৪)। A history of India। Dietmar Rothermund (4th ed সংস্করণ)। New York: Routledge। আইএসবিএন 0-203-39126-8ওসিএলসি 57054139 
  23. "I. Introductory. Mill, John Stuart. 1869. On Liberty"www.bartleby.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  24. "BBC - History - British History in depth: Common Law - Henry II and the Birth of a State"www.bbc.co.uk (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  25. Bracton, Henry de (১৮৭৮)। Henrici de Bracton De legibus et consuetudinibus Angliæ: Libri quinque in varios tractatus distincti. Ad diversorum et vetustissimorum codicum collationem typis vulgati (ইংরেজি ভাষায়)। Longman & Company। 
  26. Danziger, Danny (২০০৩)। 1215 : the year of Magna Carta। John Gillingham। London: Hodder & Stoughton। আইএসবিএন 0-340-82474-3ওসিএলসি 52056471 
  27. Ainsley, Rob। "Taking Liberties - British Library - home"www.bl.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  28. John Stuart Mill (১৮৫৯)। On Liberty (English ভাষায়)। Harvard University। J.W. Parker and Son। 
  29. Mill, John Stuart (১৮৬৪)। On liberty। Lincoln Financial Foundation Collection। London : Longman, Green, Longman, Roberts & Green। 
  30. Carter, Ian (২০১৯)। Zalta, Edward N., সম্পাদক। The Stanford Encyclopedia of Philosophy (Winter 2019 সংস্করণ)। Metaphysics Research Lab, Stanford University। 
  31. "Universal Declaration of Human Rights"The British Library। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  32. The Constitution of the United States of America, The World Almanac and book of facts (2012), pp. 485–86, Amendment XIV "Citizenship Rights not to be abridged.", Amendment XV "Race no bar to voting rights.", Amendment XIX, "Giving nationwide suffrage to women.". World Almanac Books। Sarah Janssen। New York: World Almanac Books। ২০১২। আইএসবিএন 978-1-60057-147-3ওসিএলসি 711051167 
  33. Griswold v. Connecticut. 381 U.S. 479 (1965) Decided June 7, 1965
  34. Appel, Jacob M. (২০০৯-০৭-২১)। "A Culture of Liberty"HuffPost (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৪ 
  35. The concise Oxford dictionary of politics। Iain McLean, Alistair McMillan (3rd ed সংস্করণ)। Oxford: Oxford University Press। ২০০৯। আইএসবিএন 978-0-19-920780-0ওসিএলসি 173498589 
  36. The concise Oxford dictionary of politics। Iain McLean, Alistair McMillan (3rd ed সংস্করণ)। Oxford: Oxford University Press। ২০০৯। আইএসবিএন 978-0-19-920780-0ওসিএলসি 173498589 
  37. Capitol Reader (২১ জুন ২০১৩)। Summary of Give Us Liberty: A Tea Party Manifesto – Dick Armey and Matt Kibbe। Primento। পৃষ্ঠা 9–10। আইএসবিএন 978-2-511-00084-7 
    Haidt, Jonathan (১৬ অক্টোবর ২০১০)। "What the Tea Partiers Really Want"Wall Street Journal। Dow Jones & Company, Inc। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৫ 
    Ronald P. Formisano (২০১২)। The Tea Party: A Brief Historyবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। JHU Press। পৃষ্ঠা 72আইএসবিএন 978-1-4214-0596-4 
  38. Burke, Edmund (২০০১)। Reflections on the Revolution in France। J. C. D. Clark। Stanford, Calif.: Stanford University Press। আইএসবিএন 0-8047-4205-7ওসিএলসি 44794946 
  39. Concise Oxford Dictionary of Politics, Oxford University Press, 2009, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২০৫১৬-৫.
  40. John Gray, Two Faces of Liberalism, The New Press, 1990, আইএসবিএন ১-৫৬৫৮৪-৫৮৯-৭.
  41. William Safire, Safire's Political Dictionary, "Liberalism takes criticism from both the right and the left,...", p. 388, Oxford University Press, 2008, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩৪৩৩৪-২.
  42. "libertarianism | Definition, Doctrines, History, & Facts"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  43. David Kelley, "Life, liberty, and property." Social Philosophy and Policy (১৯৮৪) 1#2 pp. ১০৮–১৮।
  44. Republicanism : a shared European heritage। Martin van Gelderen, Quentin Skinner। Cambridge, UK: Cambridge University Press। ২০০২। আইএসবিএন 0-521-80203-2ওসিএলসি 48248997 
  45. Republicanism : a shared European heritage। Martin van Gelderen, Quentin Skinner। Cambridge: Cambridge University Press। ২০০২। আইএসবিএন 0-511-05709-1ওসিএলসি 276937169 
  46. Philip Pettit, Republicanism: a theory of freedom and government, ১৯৯৭।
  47. Bhargava, Rajeev (2008). Political Theory: An Introduction. Pearson Education India. p. 255. Genuine freedom as Marx described it, would become possible only when life activity was no longer constrained by the requirements of production or by the limitations of material scarcity…Thus, in the socialist view, freedom is not an abstract ideal but a concrete situation that ensues only when certain conditions of interaction between man and nature (material conditions), and man and other men (social relations) are fulfilled.
  48. Goodwin, Barbara (2007). Using Political Ideas. Wiley. pp. 107–09. ISBN 978-0-470-02552-9. Socialists consider the pleasures of creation equal, if not superior, to those of acquisition and consumption, hence the importance of work in socialist society. Whereas the capitalist/Calvinist work ethic applauds the moral virtue of hard work, idealistic socialists emphasize the joy. This vision of 'creative man', Homo Faber, has consequences for their view of freedom...Socialist freedom is the freedom to unfold and develop one's potential, especially through unalienated work.
  49. Wood, John Cunningham (১৯৯৬)। Karl Marx's Economics: Critical Assessments I। Routledge। পৃষ্ঠা 248–49। আইএসবিএন 978-0-415-08714-8Affluence and increased provision of free goods would reduce alienation in the work process and, in combination with (1), the alienation of man's 'species-life'. Greater leisure would create opportunities for creative and artistic activity outside of work. 
  50. Peffer, Rodney G. (২০১৪)। Marxism, Morality, and Social Justice। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 978-0-691-60888-4Marx believed the reduction of necessary labor time to be, evaluatively speaking, an absolute necessity. He claims that real wealth is the developed productive force of all individuals. It is no longer the labor time but the disposable time that is the measure of wealth. 
  51. Karl Marx on Equality, by Woods, Allen. http://philosophy.fas.nyu.edu/docs/IO/19808/Allen-Wood-Marx-on-Equality.pdf: "A society that has transcended class antagonisms, therefore, would not be one in which some truly universal interest at last reigns, to which individual interests must be sacrificed. It would instead be a society in which individuals freely act as the truly human individuals they are. Marx's radical communism was, in this way, also radically individualistic."
  52. The Routledge companion to social and political philosophy। Gerald F. Gaus, Fred D'Agostino। New York: Routledge। ২০১৩। আইএসবিএন 978-0-415-87456-4ওসিএলসি 707965867 
  53. "Works of Mikhail Bakunin 1871"www.marxists.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৩ 
  54. The Writings of Benjamin Franklin 569 (Albert H. Smyth ed., 1970).
  55. The Writings of James Madison 223 (Gaillard Hunt ed., 1904).
  56. John R. Howe, Jr., The Changing Political Thought of John Adams 165 (1966) (quoting from John Adams' "Reply to the Massachusetts Militia," Oct. 11, 1789).

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • উইকিমিডিয়া কমন্সে আজাদী সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন