সম্মতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সাধারণ অর্থে সম্মতি শব্দটি কোন একজনের প্রস্তাব বা মতের সাথে একমত পোষণ করাকে বোঝানো হয়।[১] তবে বিভিন্ন বিষয় ও প্রেক্ষাপভেদে সম্মতি শব্দের অর্থ ভিন্ন অর্থ হতে পারে। আইন, চিকিৎসা এবং যৌন সম্পর্ক- ইত্যাদি বিষয়ভেদে সম্মতি শব্দের ব্যবহার ভিন্ন। সম্মতির বিভন্ন প্রকারভেদের মাঝে রয়েছে- পরোক্ষ সম্মতি, প্রত্যক্ষ সম্মতি, জ্ঞাত সম্মতি এবং সাধারণ সম্মতি। আইনত, মানসিক পরিপক্কতা ও সুস্থতা সম্মতি প্রদানের অন্যতম শর্ত। দেশ ও রাষ্ট্রভেদে সম্মতি প্রদানের আইনগত বয়স ভিন্ন হয়ে থাকে। 

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

  • পরোক্ষ সম্মতি ব্যক্তির আচরণ কিংবা কার্যক্রম দিয়ে ফুটে উঠে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একজনের নিশ্চুপ থাকা কিংবা কোন প্রতিবাদ না করা দিয়ে প্রায়ঃশই মৌন সম্মতি বা পরোক্ষ সম্মতিকে ইঙ্গিত করে। উদাহরণ হিসেবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে চলা সেই নিয়মকানুনের প্রতি শিক্ষার্থীদের পরোক্ষ বা মৌন সম্মতি।
  • প্রত্যক্ষ সম্মতি পরিষ্কার ভাবে মুখ ফুটে বলা হয় কিংবা দলিলে লিখে প্রকাশ করা হয়। এতে ভুল বোঝার কোন অবকাশ নেই। কোন ক্ষেত্রে মৌনভাবে শারিরীক অংগভঙ্গির মাধ্যমেও অলিখিতভাবে প্রত্যক্ষ সম্মতি প্রয়োগ সম্ভ। যেমনঃ মাথা নেড়ে সম্মতি জ্ঞাপন। অলিখিত প্রত্যক্ষ সম্মতি কোন ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রমাণ ছাড়া গৃহীত হলে ব্যক্তি পরবর্তীতে তা অস্বীকার করতে পারেন।  
  • জ্ঞাত সম্মতি চিকিৎসাক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত। একজন রোগী সবকিছু জেনে বুঝে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ফলাফল মাথায় রেখেই চিকিৎসার জন্য সম্মতি প্রদান করেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই সম্মতির ব্যবহার হয়। 
  • সাধারণ সম্মতি সাধারণত অন্যান্য সকল দল একটি নির্দিষ্ট নতুন দলকে দিয়ে থাকে। 
  • একজন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বা অপারগতায় আরেকজন তার হয়ে সম্মতি প্রদান করাকেবিকল্প সম্মতি বলে।[২]

বাংলাদেশে এইজ অব কনসেন্ট[সম্পাদনা]

এইজ অব কনসেন্ট মূলত যৌন মিলনে সম্মতি প্রদানের ন্যূনতম বয়সকে বোঝায়। আইনগতভাবে যৌন মিলনে সম্মতির ন্যূনতম বয়স দেশ, কাল ও সমাজ ভেদে ভিন্ন।[৩] শিশু ধর্ষণ ও শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে একবিংশ শতাব্দীতে প্রায় সকল আধুনিক দেশেই এইজ অব কনসেন্ট নির্ধারিত আছে।[৪]

যৌন মিলনে সম্মতি যেকোন যৌন সম্পর্কে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেকোন ধরনের যৌন কার্যক্রম সম্মতি ব্যাতিরকে যৌন অপরাধ ক্ষেত্রেবিশেষে ধর্ষণ বলে গণ্য হয়।[৫] ১৯৮০ সালের শেষের দিকে লুইস পিনেউ যৌন সম্মতির ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রাধান্যতায় জোর দেন। তিনি সর্বোপ্রথম "হ্যাঁ অর্থ হ্যাঁ এবং না অর্থ না" মডেলের প্রবর্তন ঘটান।.[৬]

বাংলাদেশের আইনে "এইজ অব কনসেন্ট" সুস্পষ্টতভাবে উল্লেখ নেই। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২ (ট) ধারায় শিশুর সংজ্ঞায় ““শিশু” অর্থ অনধিক ষোল (১৬) বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি” উল্লেখ করা হয়েছে।[৭] আবার, ভিন্ন একটি আইনে (বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭) [৮]

“শিশু” শব্দটির বদলে ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে যে,
 ““অপ্রাপ্ত বয়স্ক” অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী” এবং ““প্রাপ্ত বয়স্ক” অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো নারী”। অন্যদিকে শিশু আইন ২০১৩ এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী “অনুর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বৎসর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে”

একই আইন অনুসারে, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়েস ২১ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর। অবশ্য বিশেষ ক্ষেত্রে কমবয়েসী শিশুর বিবাহকে আইনত স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

““বাল্যবিবাহ” অর্থ এইরূপ বিবাহ যাহার কোন এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক”। অর্থাৎ সাধারণভাবে বিয়ের ন্যুনতম বয়স- পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর। কিন্তু নতুন এই আইনটিতে বিশেষ বিধান নামে একটি ধারা (ধারা ১৯) যুক্ত করে আরো কমবয়সী শিশুদের বিয়ের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। ধারা ১৯ অনুযায়ীঃ “এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না”।

এহেন আইনী ভিন্নতার জন্য, বাংলাদেশে এইজ অব কনসেন্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ১৬ বছর কিন্তু নতুন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭[৮] অনুযায়ী, বিশেষক্ষেত্রে ১৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে বিবাহ করা ও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করায় কোন আইনী বাঁধা নেই।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Home : Oxford English Dictionary"www.oed.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৪ 
  2. Garner, Bryan (২০১১)। Black's Law Dictionary। West Publishing Co.। পৃষ্ঠা 726। 
  3. Waites, Matthew (২০০৫)। The Age of Consent: Young People, Sexuality and Citizenship। Palgrave Macmillan। আইএসবিএন 1-4039-2173-3ওসিএলসি 238887395 
  4. "DIRECTIVE 2011/92/EU OF THE EUROPEAN PARLIAMENT AND OF THE COUNCIL of 13 December 2011 on combating the sexual abuse and sexual exploitation of children and child pornography, and replacing Council Framework Decision 2004/68/JHA"। Official Journal of the European Union। ১৩ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৫ 
  5. Beres. A, Melanie (১৮ জানুয়ারি ২০০৭)। "'Spontaneous' Sexual Consent: An Analysis of Sexual Consent Literature"। Feminism & Psychology17 (93): 93। doi:10.1177/0959353507072914 
  6. Pineau, Lois (১৯৮৯)। "'Date Rape: A Feminist Analysis'"। Law and Philosophy8 (217)। 
  7. "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০০"। Legislative and Parliamentary Affairs Division Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs। ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭  line feed character in |প্রকাশক= at position 47 (সাহায্য)
  8. "বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭, ১১ মার্চ, ২০১৭"। Legislative and Parliamentary Affairs Division Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs। ১১ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭  line feed character in |প্রকাশক= at position 47 (সাহায্য)