সেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউলারের ডায়াগ্রাম অনুযায়ী বহুভুজের একটি সেট

সেট (Set) হলো বাস্তব বা চিন্তাজগতের সু-সংজ্ঞায়িত বস্তুর সমাবেশ। অন্যভাবে, বাস্তব বা চিন্তা জগতের বস্তুর যেকোনো সুনির্ধারিত সংগ্রহকে সেট বলে।

কোনো সেট গঠন করতে হলে যে শর্ত পূরণ করতে হয়, তা হলো যে কোনো বস্তু সেটটির সদস্য কি না তা কোনো দ্ব্যর্থতা ছাড়া নিরূপণ করা যাবে।

জার্মান গণিতবিদ জর্জ ক্যান্টর (১৮৪৫–১৯১৮) সেট সর্ম্পকে প্রথম ধারণা ব্যাখ্যা করেন। তিনি অসীম সেটের ধারণা প্রদান করেন।[১]

এখানে হলো সেট। হলো সেটের উপাদান।

সেটের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেট হবার জন্য দুটো শর্ত পালন করতে হয়। শর্ত দুটি হচ্ছে–

  • সুনির্দিষ্টতা হওয়া: প্রথমে সেট হবার জন্য উপাদানগুলো সুনির্দিষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ উপাদানগুলোর মাঝে কোনো না কোনো মিল থাকতে হবে। উক্ত উদাহরণে, ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষর।
  • সু-সংজ্ঞায়িত হওয়া: সেটের সংজ্ঞায় এমন কোনো বর্ণনা ব্যবহার করা যাবে না যা নিয়ে কোনো প্রকার মতভেদ থাকতে পারে।

সেটের উপাদান[সম্পাদনা]

যেসকল বস্তু নিয়ে সেট গঠিত, তাদেরকে ঐ সেটের উপাদান বা সদস্য বলা হয়। সেটের প্রত্যেক বস্তু বা সদস্যকে সেটের উপাদান (elements of set) বলা হয়। সেটের উপাদানগুলোকে সাধারণত কমা (,) দ্বারা আলাদা করা হয়। সেট প্রকাশের জন্য ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর (যেমন- A,B,C.....X, Y, Z) ব্যবহার করা হয়। সেট প্রকাশের জন্য সবসময় দ্বিতীয় বন্ধনী () ব্যবহার করা। কোনো সেটের উপাদানকে ‘’ (Belongs to) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আর সেটের উপাদান নয় বুঝাতে ‘’ (Not belongs to) ব্যবহার করা হয়।

সেটের প্রকাশের পদ্ধতি[সম্পাদনা]

সেটকে সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়:

  • তালিকা পদ্ধতি (Roster Method বা Tabular Method)
  • সেট গঠন পদ্ধতি (Set Builder Method বা Rule Method)

তালিকা পদ্ধতি[সম্পাদনা]

তালিকা পদ্ধতিতে প্রকাশের জন্য দ্বিতীয় বন্ধনী ব্যবহার করা হয়। বন্ধনীর অভ্যন্তরে উপাদানগুলোকে আলাদা ভাবে লিখা হয়। উদাহরণ:

সেট গঠন পদ্ধতি[সম্পাদনা]

সেট গঠন পদ্ধতিতে উপাদানগুলোর মধ্যে মিলসমূহ বন্ধনীর অভ্যন্তরে প্রকাশ করা হয়। এখানেই সু-সংজ্ঞায়িত হওয়ার বৈশিষ্ট্য লুকায়িত। পূর্বে প্রকাশিত সেটকে সেট গঠন পদ্ধতিতে প্রকাশের জন্য উপাদানগুলোর মধ্যে মিল দ্বারা লেখা হয়। অর্থাৎ, সকল উপাদান সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। উপাদান নির্ণয়ে জন্য সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে। এক্ষেত্রে লিখার নিয়ম হলো: A= {x:x একটি ইংরেজি স্বরবর্ণ}, উচ্চারণ করা হয়: x যেন x একটি ইংরেজি স্বরবর্ণ।

সসীম সেট[সম্পাদনা]

সেটের উপাদান সংখ্যা যদি নির্দিষ্ট হয় তবে তাকে সসীম সেট বলে। যেমন: । এটা সসীম সেট, কারণ এর উপাদান ৪ টি যা নির্দিষ্ট।

অসীম সেট[সম্পাদনা]

যে সেটের উপাদান সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যায় না, তাকে অসীম সেট বলে। যেমন: A = {x:x সকল বিজোড় সংখ্যার সেট}, সকল স্বাভাবিক সংখ্যার সেট = {1, 2, 3, 4, 5, 6.....}।


সার্বিক সেট[সম্পাদনা]

সাধারণত সেটের বীজগণিতে এমন একটি সেট ধরে নেওয়া হয় যাতে আলোচ্য সেটগুলোর সব সদস্য অন্তর্ভুক্ত। এই সেটটিকে বলা হয় সার্বিক সেট। পৃথিবীর সকল সেটই সার্বিক সেটের উপসেট। উদাহরণস্বরূপ, সেট, এবং সার্বিক সেট। তাহলে, প্রথমোক্ত সেটটি হবে শেষোক্ত সেটটির উপসেট।

ছেদ সেট[সম্পাদনা]

এবং এর ছেদ সেট হলো এমন একটি সেট যা শুধুমাত্র এবং এর সাধারণ সদস্যদের নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ কোনো বস্তু এর সেটটির সদস্য যদি এবং কেবল যদি তা এবং উভয়ের সদস্য হয়।

   
   

সেট তত্ত্ব[সম্পাদনা]

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. নবম-দশম শ্রেণির গণিত পাঠ্যপুস্তক (অধ্যায় ২, সেট ও ফাংশন, পৃষ্ঠা নং ২১)। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), বাংলাদেশ। ২০১৮। পৃষ্ঠা ৩৫৬। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]