যোগিনী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিতাবলির পাথুরে পাহাড়চূড়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থিত ছাদবিহীন চৌষট্টি যোগিনী মন্দির
ভারতের যোগিনী মন্দিরগুলির মানচিত্র

যোগিনী মন্দির বলতে ভারতে খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে খোলা আকাশের নিচে নির্মিত ছাদবিহীন যোগিনী-উপাসনালয়গুলিকে বোঝায়। এই যোগিনীরা হলেন যোগের অধিষ্ঠাত্রী হিন্দু তান্ত্রিক দেবী তথা পার্বতীর এক-একটি রূপভেদ। যোগিনী মন্দিরগুলি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের আগে গবেষকদের গোচরে আসেনি। বেশ কয়েকটি যোগিনী মন্দিরে চৌষট্টি জন যোগিনীর পূজাগার পাওয়া গিয়েছে বলে এগুলিকে চৌষট্টি যোগিনী মন্দির বা চৌসঠ যোগিনী মন্দির (হিন্দিতে চৌষট্টিকে চৌসঠ,[১] চৌঁসঠ বা চৌষঠী বলা হয়) নামে অভিহিত করা হয়। অন্য মন্দিরগুলিতে যোগিনী পূজার বিয়াল্লিশটি বা একাশিটি কুলুঙ্গি পাওয়া গিয়েছে, যা যোগিনীদের এক ভিন্ন দেবীমণ্ডলীর দ্যোতক। অবশ্য এই মন্দিরগুলিকেও ‘চৌষট্টি যোগিনী মন্দির’ নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, যে মন্দিরগুলিতে চৌষট্টি জন যোগিনী পূজিত হতেন, সেখানেও সর্বত্র একই দেবীদের নিয়ে চৌষট্টি জনের দেবীমণ্ডলীর ধারণা করা হয়নি।

যে যোগিনী মন্দিরগুলির অস্তিত্ব এখনও রয়েছে সেগুলির নকশা হয় বৃত্তাকার অথবা আয়তাকার। এই মন্দিরগুলি উত্তরমধ্য ভারতের উত্তরপ্রদেশমধ্যপ্রদেশ থেকে পূর্ব ভারতের ওডিশা রাজ্যের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে পুনরাবিষ্কৃত যোগিনী ভাস্কর্যগুলি হারিয়ে যাওয়া যোগিনী মন্দিরগুলির অবস্থানের সাক্ষ্য দেয়। এগুলি গড়ে উঠেছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তর পরিধি জুড়ে – উত্তরে দিল্লি, পশ্চিমে রাজস্থানের সীমা, পূর্বে বৃহত্তর বাংলা থেকে দক্ষিণে তামিলনাড়ু পর্যন্ত।

সাধারণ বিবরণ[সম্পাদনা]

যোগিনী[সম্পাদনা]

কপালপাত্রে (তান্ত্রিক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত নরকরোটি-নির্মিত পাত্র) খোদাই করা যোগিনীর চিত্র

নির্দিষ্ট সংখ্যায় যোগিনীদের দেবীমণ্ডলীর ধারণা করা হতে থাকে মোটামুটি খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী থেকে। এই ধরনের অধিকাংশ দেবীমণ্ডলীতে চৌষট্টি জন যোগিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। যোগিনীদের সাধারণ দেবী হিসেবে চিত্রিত করা হলেও এমন কথাও বলা হয়েছে যে তন্ত্রসাধিকা মানবীরাও এই দেবীদের সমকক্ষ হতে পারেন, এমনকি দেবীমূর্তিও ধারণ করতে পারেন। তান্ত্রিক বিশ্বাস অনুযায়ী, যোগিনীরা মানবী রূপে আবির্ভূত হয়ে দেবতা ও মানবের মধ্যে এক দ্ব্যর্থক ও অস্পষ্ট সীমারেখা সৃষ্টি করেন।[২] দেবী ও মানবী উভয় প্রকার যোগিনীরাই যূথবদ্ধ অবস্থায় থাকে। শৈব মতে, অষ্টমাতৃকার মণ্ডলীটি এই জাতীয় দেবীমণ্ডলীগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক যোগিনীই পশুপাখির রূপ ধারণে সক্ষম বলে মনে করা হয়। এই যোগিনীদের মূর্তিতে নারীশরীরের সঙ্গে জীবজন্তুর মস্তক দেখা যায়। তন্ত্রমতে যোগিনীরা স্ত্রী পশুতে রূপান্তরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং অন্য মানুষকেও পশুতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।[৩] ভৈরব কাল্টের সঙ্গে যুক্ত বলে যোগিনীমূর্তির হাতে কপালপাত্র ও অন্যান্য তান্ত্রিক প্রতীক দেখা যায় এবং তন্ত্রের বিবরণীতে শ্মশান বা অন্যান্য প্রান্তিক স্থানকে যোগিনীদের সাধনস্থল বলে উল্লেখ করা হয়। শক্তিশালী, অপরিচ্ছন্ন ও ভয়ংকরী এই যোগিনীদের গুহ্য তান্ত্রিক জ্ঞানের রক্ষয়িত্রী ও প্রদাত্রী মনে করা হয়। তন্ত্রে আরও বলা হয়েছে যে, যোগিনীরা সিদ্ধি নামে এক প্রকার অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী, যার অন্যতম হল উড়বার শক্তি।[৪] অনেক যোগিনীর আকার পাখির মতো, আবার অনেকে পক্ষীবাহন-বিশিষ্ট।[৫] পরবর্তীকালে তান্ত্রিক বৌদ্ধ শাস্ত্রে ডাকিনী নামে এক প্রকার দৈবী নারীসত্ত্বার ওড়ার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। ‘ডাকিনী’ নামটিকে প্রায়শই যোগিনী নামের সমার্থক বা পরিপূরক হিসেবে ধরা হয়।[৬] গবেষক শামান হেটলি লিখেছেন যে, যোগিনীর আদিরূপটি ছিল “স্বাধীন আকাশ-ভ্রমণকারিণী (খেচরী)”-র রূপ এবং ওড়ার এই ক্ষমতাটি “সিদ্ধি-যাঞ্ছাকারী সাধকের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি”।[৭]

যোগিনী-উপাসনার একটি শৈব কাল্ট বিকাশ লাভ করেছিল মোটামুটি ৭০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়কালে। ব্রহ্মযামল তন্ত্রে এটির উল্লেখ পাওয়া যায়।[৮] এই কাল্টের প্রথা অনুযায়ী, অ-যোগিনীরা স্বপ্নে বা অন্য দৈব উপায়ে যোগিনীদের পরামর্শ গ্রহণ করেন বলে মনে করা হত।[৮] এই কাল্টের প্রভাবেই খ্রিস্টীয় দশম থেকে সম্ভবত ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ নানা স্থানে অনেক প্রস্তরনির্মিত যোগিনী মন্দির স্থাপিত হয়।[৯]

পুনরাবিষ্কার[সম্পাদনা]

ভারতে এখনও বিদ্যমান চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরগুলি দেখা যায় ওডিশামধ্যপ্রদেশ রাজ্যে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম যে এই মন্দিরগুলি দর্শন করেছিলেন তার বিবরণ ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের নথিতে পাওয়া যায়। এরপর এই মন্দিরগুলি বিস্মৃতির আড়ালেই চলে গিয়েছিল। ১৯৮৬ সালে বিদ্যা দেহেজিয়া লেখেন যে, প্রত্যন্ত ও দুর্গম স্থানে অবস্থিত এই মন্দিরগুলিকে নিয়ে একশো বছর কোনও গবেষণার কাজ হয়নি বললেই চলে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে এই মন্দিরগুলির হদিশ না থাকায় চোর-ডাকাতের দল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এই সব মন্দিরগুলিতে প্রায়শই আনাগোনা করে। ভুবনেশ্বরের মন্দিরগুলির খুব কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও হীরাপুরের অধুনা সু-সংরক্ষিত চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরটি ১৯৫৩ সালের আগে পুনরাবিষ্কার করা যায়নি। দেহেজিয়া এই ঘটনাকে “বেশ আশ্চর্যজনক” বলে বর্ণনা করেন।[১০]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

যোগিনী মন্দিরের তথ্যচিত্রণ; এতে যোগিনীদের উড্ডীয়ন ক্ষমতার সঙ্গে মন্দির স্থাপত্যের যোগসূত্রের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।[৭]

যোগিনী মন্দিরগুলির নকশা সাধারণত বৃত্তাকারই হত। খোলা আকাশের নিচে নির্মিত ছাদবিহীন এই মন্দিরগুলি ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নিদর্শন। বৃত্তাকার দেওয়ালের কুলুঙ্গিগুলিতে যোগিনীদের মূর্তি স্থাপিত হত। কুলুঙ্গির সংখ্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৬৪। বিগ্রহগুলিতে দেখা যায়, যোগিনীর সুন্দর দেহের অধিকারিণী হলেও প্রায়শই জীবজন্তুর মস্তকবিশিষ্ট।[১০] যোগিনী মন্দির নির্মিত হত প্রধান মন্দির চত্বরের কিছুটা বাইরের অংশে এবং কোনও স্থানের সর্বোচ্চ বিন্দুতে।[১১]

যোগিনী মন্দিরগুলিতে যোগিনী-মূর্তিতত্ত্ব সর্বথা সমরূপ নয়; এমনকি চৌষট্টি যোগিনীর মণ্ডলীগুলিও সবর্ত্র একই যোগিনীমণ্ডলী নিয়ে গড়ে ওঠেনি। হীরাপুরের মন্দিরে সকল যোগিনীকে বাহন সহ দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখা যায়; কিন্তু রানিপুর-ঝরিয়ালের মন্দিরে যোগিনীরা সবাই নৃত্যরত; আবার ভেড়াঘাটের মন্দিরে দেখা যায় যোগিনীরা ললিতাসন অর্থাৎ রাজকীয় ভঙ্গিমায় উপবিষ্ট[১২] এবং শ্মশানঘাটে শবখাদক পিশাচ ও পচা মাংসভুক পশুর দ্বারা পরিবেষ্টিত।[১৩]

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

বিদ্যা দেহেজিয়া[১৪] ও পরে শামান হেটলি যোগিনী মন্দিরগুলির সঙ্গে তান্ত্রিক যোগিনীচক্রের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। যোগিনীচক্র হল “শিব/ভৈরব-পরিবেষ্টিত মন্ত্র-দেবীদের একটি মণ্ডল, যার প্রতিষ্ঠা… গুহ্য শৈব যোগিনী কাল্টের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্বরূপ।”[১৫] খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর সন্ত মৎস্যেন্দ্রনাথের রচনা হিসেবে কথিত কৌলজ্ঞাননিয়ম গ্রন্থের নবম অধ্যায়ে আটটি চক্রের বর্ণনা পাওয়া যায়। এই আট চক্রের এক-একটির প্রতীক হল এক-একটি অষ্টদল পদ্ম; এইভাবে মোট চৌষট্টিটি পাপড়ি চৌষট্টি যোগিনীর দ্যোতক।[১৬]

হেটলির মতে, তান্ত্রিক যোগিনীচক্রের পূজা মন্দির প্রতিষ্ঠারও দুই শতাব্দীকাল পূর্বে আরম্ভ হয়েছিল এবং শৈবশাস্ত্রে যোগিনীদের বিবরণের সঙ্গে ভাস্কর্যের আশ্চর্য মিল তন্ত্রোক্ত রীতিনীতিগুলির সঙ্গে যোগিনী মন্দিরগুলির প্রত্যক্ষ অবিচ্ছিন্ন যোগের ইঙ্গিতবাহী।[১৫]

ক্রিয়াকাণ্ড[সম্পাদনা]

হিন্দু তান্ত্রিক ক্রিয়াকাণ্ডগুলি ছিল গোপনীয়।[১৭] আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দে রচিত গ্রন্থগুলিতে গুহ্য আচার-অনুষ্ঠানগুলিকে প্রায়শই শ্মশানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। হিন্দু তন্ত্রসাধিকাদেরও যোগিনী বলা হয় এবং এই যোগিনীদের অতিলৌকিক যোগিনীদের প্রতিমূর্তি জ্ঞান করা হয়।[১৮][১৯]

ক্রিয়াকাণ্ডের মধ্যে যোগিনীমূর্তিগুলির প্রাণপ্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম। বর্তমান যুগে এই ক্রিয়াটি ক্ষেত্রবিশেষে এক দল পুরোহিত কর্তৃক তিন দিনের অনুষ্ঠান হিসেবে পালিত হয় এবং এই ক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত থাকে আনুষ্ঠানিক শুদ্ধিকরণ, চক্ষুর্দান, পূজা, রক্ষাকর্তা দেবতাদের আবাহন এবং একটি যোগিনী মণ্ডল ও চৌষট্টি জন যোগিনীর প্রতীক রূপে সুপারির একটি বিন্যাস সহ এক যোগিনী যন্ত্রের অঙ্কন। আদিতম যোগিনী-সংক্রান্ত ক্রিয়াকাণ্ডগুলি ছিল কাপালিক অন্তেষ্ট্যি-সম্বন্ধীয় আচার।[২০]

ভৈরবপ্রাদুর্ভাব গ্রন্থের বারাণসীমাহাত্ম্য অংশে বর্ণিত হয়েছে যে, বারাণসীর যোগিনী মন্দিরে নৃত্যগীত সহযোগে পূজানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পিটার বিশপ কর্তৃক সারসংক্ষেপ অনুযায়ী:

যে পুরুষেরা এখানে পূজার্চনা করে তাদের কিছুই বৃথা যায় না। যারা এখানে রাত্রিজাগরণ করে, নৃত্যগীতের মহোৎসব পালন করে এবং ঊষাকালে কুলযোগিনীর চক্র পূজা করে, তারা যোগিনীদের থেকে কৌলজ্ঞান অর্জন করে… বারাণসীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই স্থানে সকল যোগিনী প্রীত হন। দেবী বিকটা এখানে অবস্থান করেন, এটিই পবিত্রতম স্থান।[২১]

স্কন্দপুরাণের কাশীখণ্ড অংশে বারাণসীতে ছদ্মবেশে চৌষট্টি যোগিনীর আগমনের একটি পৌরাণিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।[২২] বলা হয়েছে যে, এই পূজা খুবই সরল, কারণ যোগিনীরা শুধু নিত্য ফল, ধূপ ও দীপের উপহার চান। শরৎকালে একটি প্রধান অনুষ্ঠানের কথাও বলা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের অঙ্গ যজ্ঞ, যোগিনীদের নামকীর্তন ও নৈবেদ্যাদি প্রদান। অন্যদিকে এও বলা হয়েছে যে, সকল বারাণসীবাসীর উচিত বসন্তকালে দোল উৎসবের দিন মন্দিরে পূজা দেওয়া।[২৩]

দেহেজিয়া লিখেছেন যে:

মনে হয়, কৌল চক্র সম্ভবত যোগিনী মন্দিরের চক্রের মধ্যেই গড়ে ওঠে। এখানে যোগিনীদের মৎস্য, মাংস, মুদ্রা, মদ্য ও মৈথুন সহযোগেও পূজা করা হত।[২৪]

হীরাপুর সহ কোনও কোনও যোগিনী মন্দিরে এখনও পূজার্চনা চলে।[২৫]

চৌষট্টি যোগিনী মন্দির[সম্পাদনা]

হীরাপুর[সম্পাদনা]

ওডিশায় ভুবনেশ্বর থেকে দশ মাইল দক্ষিণে খুরদা জেলায় হীরাপুরের চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরটি অবস্থিত। নবম শতাব্দীতে নির্মিত এই ছোটো মন্দিরটির ব্যাস মাত্র ২৫ ফুট।[২৬] এই মন্দিরে একটি ছোটো আয়তাকার বেদীকে ঘিরে বৃত্তাকারে ষাট জন যোগিনীর মূর্তি দেখা যায়। আয়তাকার বেদীতে সম্ভবত শিবের মূর্তি ছিল। বাইরে প্রসারিত একটি প্রবেশপথ দিয়ে বৃত্তটিতে পৌঁছানো যায়। তাই মন্দিরের নকশাটি শিবলিঙ্গের গৌরীপট্ট বা যোনিপীঠের ন্যায় দেখায়।[২৭][২৮] অন্তত আট জন যোগিনীকে বাহনের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যে বাহনগুলি রাশিচক্রের প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে একটি কাঁকড়া, বৃশ্চিকমাছ। এর থেকে অনুমিত হয় যে এগুলির সঙ্গে জ্যোতিষ বা পঞ্জিকার যোগ রয়েছে।[২৮]

গবেষক ইস্টভ্যান কেউল লিখেছেন যে, যোগিনী মূর্তিগুলি কালো ক্লোরাইট পাথরে নির্মিত, ৪০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ, স্তম্ভপীঠ বা বাহনের উপর বিভিন্ন ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান; অধিকাংশেরই “ক্ষীণ কটিদেশ, প্রসারিত নিতম্ব ও উন্নত ও সুডৌল স্তন সহ সুন্দর দেহ”, তবে কেশবিন্যাস ও অলংকার ভিন্ন ভিন্ন।[২৯] কেউল বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় মূর্তিটি তিন যোগিনী ও ভৈরবের প্রতীকস্বরূপ চারট উত্থিত লিঙ্গ।[২৯]

মন্দিরের বাইরের প্রাচীরে নয় জন গম্ভীরমুখ দেবীর মূর্তি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই মূর্তিগুলিকে নয় কাত্যায়নী মূর্তি বলে উল্লেখ করা হয়, যা যোগিনী মন্দিরের একটি প্রথাবিরুদ্ধ বৈশিষ্ট্য।[২৭] মন্দিরের প্রবেশ পথে দুই দ্বারপাল দেবতার মূর্তি দেখা যায়।[২৭] দ্বারপালদের কাছে আরও দু’টি মূর্তি সম্ভবত ভৈরবের মূর্তি।[২৯] গবেশক শ্যামান হেটলি মনে করেন যে, মন্দিরটি প্রস্তরে নির্মিত তান্ত্রিক মণ্ডলের মূর্ত প্রতিরূপ, এখানে শিবকে ঘিরে রয়েছেন অভ্যন্তরীণ বৃত্তের চার যোগিনী ও চার ভৈরব এবং বাইরের বৃত্তে রয়েছেন ষাট জন যোগিনী।[৩০]

রানিপুর-ঝরিয়াল, বালাঙ্গির[সম্পাদনা]

ওডিশার বালাঙ্গির জেলার তিতিলাগড়কান্তাবাঞ্ঝি শহরের কাছে রানিপুর-ঝরিয়ালের চৌষট্টি যোগিনীপীঠটি হল একটি বৃহত্তর ছাদবিহীন চৌষট্টি যোগিনী মন্দির। এই মন্দিরের বাষট্টিটি যোগিনী মূর্তি অক্ষত রয়েছে।[৩১] মন্দিরের কেন্দ্রে চারটি স্তম্ভযুক্ত একটি বেদীতে শিবের নৃত্যরত নটেশ্বর মূর্তি রয়েছে।[৩২] অতীতে সম্ভবত কেন্দ্রীয় বেদীটিতে শিবের সঙ্গে একই আকারের একটি চামুণ্ডামূর্তিও পূজিত হত।[৩২][৩৩]

রানিপুর-ঝরিয়ালের মন্দিরটিই প্রথম আবিষ্কৃত যোগিনী মন্দির। ১৮৫৩ সালে মেজর-জেনারেল জন ক্যাম্পবেল মন্দিরটির বর্ণনা দিয়েছিলেন।[৩৪]

খাজুরাহো[সম্পাদনা]

মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার ছাতারপুরের কাছে অবস্থিত খাজুরাহোর পশ্চিম মন্দিরগুচ্ছের দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত যোগিনী মন্দিরটি নবম অথবা দশম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। এটিই এই স্থানের প্রাচীনতম মন্দির। অন্যান্য যোগিনী মন্দির সাধারণত বৃত্তাকার হলেও এই মন্দিরটি আয়তাকার, কিন্তু অন্যান্য যোগিনী মন্দিরের মতোই এটিও ছাদবিহীন মন্দির।[৩৫][৩৬] এই মন্দিরে কোনও কেন্দ্রীয় বেদীর চিহ্ন পাওয়া যায় না; তাই প্রধান দেবতা, সে শিবই হোন বা শক্তি, সম্ভবত পূজিত হতেন প্রবেশপথের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত অন্যান্য কুলুঙ্গির তুলনায় বড়ো কুলুঙ্গিটিতে।[৩২] মন্দিরটিতে ৬৫টি পূজা-প্রকোষ্ঠ দেখা যায় (১০টি সামনে, প্রধান দেবতার কুলুঙ্গি সহ ১১টি পিছনে এবং দুই পাশে ২২টি করে)। প্রতিটি কুলুঙ্গিতে বর্গাকার গ্র্যানাইটের স্তম্ভ ও একটি সরদল পাথরের তৈরি দরজা দেখা যায় এবং প্রতিটিরই একটি করে মিনারযুক্ত ছাদ বিদ্যমান। ৩৫টি প্রকোষ্ঠ বর্তমানে অক্ষত রয়েছে। মন্দিরটি একটি ৫.৪ মিটার উঁচু বেদীর উপর অবস্থিত। ব্রহ্মাণী, মাহেশ্বরী ও হিংলাজ (মহিষমর্দিনী) দেবীর তিনটি উপবিষ্ট বিগ্রহ এই স্থান থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল; বর্তমানে এগুলি স্থানীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়।[৩৬]

মিতাওলি, মোরেনা[সম্পাদনা]

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ৩০ মাইল উত্তরে মোরেনা জেলার মিতাওলির যোগিনী মন্দিরটি হল একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত একটি সু-সংরক্ষিত মন্দির। এটির অপর নাম একাত্তরসো মহাদেব মন্দির। এই মন্দিরের কেন্দ্রভাগে শিবের উদ্দেশ্যে একটি মণ্ডপ নির্মিত হয়েছিল এবং সেটিকে ঘিরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থিত প্রাঙ্গনে ৬৫টি কুলুঙ্গি রয়েছে। বর্তমানে এই কুলুঙ্গিগুলিতে শিবের মূর্তি দেখা যায়। কিন্তু অতীতে এগুলিতে ৬৪ যোগিনী ও অপর এক দেবতার মূর্তি ছিল।[৩৭][৩৮]

এই ছাদবিহীন মন্দিরটি একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করা মাত্রই বৃত্তাকার প্রাচীরটির নিকট উপনীত হওয়া যায়। মন্দিরের বাইরে ছোটো ছোটো কুলুঙ্গি দেখা যায়। এগুলি একদা দুই পাশে নারীমূর্তি সহ মিথুনমূর্তি দ্বারা শোভিত ছিল। কিন্তু এগুলির অধিকাংশই এখন হয় হারিয়ে গিয়েছে অথবা অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় রয়েছে। মন্দিরের অভ্যন্তরভাগে ৬৪টির পরিবর্তে কেন ৬৫টি প্রকোষ্ঠ রয়েছে তা স্পষ্ট নয়; দেহেজিয়ার মতে মন্দিরের কেন্দ্রের মণ্ডপটি যেমন শিবের তেমন অতিরিক্ত প্রকোষ্ঠটি শিবের পত্নী পার্বতীর, এইভাবেই শিব-পার্বতীকে ঘিরে ছিলেন চৌষট্টি জন যোগিনী। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমেই খাজুরাহোর ৬৫তম প্রকোষ্ঠটির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যেখানেও সম্ভবত শিবের একটি কেন্দ্রীয় পূজাগার স্থাপিত হয়েছিল।[৩৯]

একাশি যোগিনী মন্দির[সম্পাদনা]

ভেড়াঘাট, জব্বলপুর[সম্পাদনা]

মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলায় জব্বলপুরের কাছে ভেড়াঘাটে দশম শতাব্দীতে নির্মিত যোগিনী মন্দিরটি আসলে একাশি যোগিনী মন্দির। বৃত্তাকার যোগিনী মন্দিরগুলির মধ্যে এটিই বৃহত্তম। এর ব্যাস প্রায় ১২৫ ফুট।[৪০][৪১][৪২][৪৩] ভেড়াঘাটের মন্দিরটিকে হেটলি “সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর ও সম্ভবত সর্বাপেক্ষা অধিক পরিচিত যোগিনী মন্দির” বলে উল্লেখ করেছেন।[৪৪] মন্দিরটির বৃত্তাকার দেওয়ালের অভ্যন্তরভাগে একাশি যোগিনীর প্রকোষ্ঠ সহ একটি ছাউনি-দেওয়া বারান্দা রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গনের কেন্দ্রে পরবর্তীকালে একটি বেদী নির্মিত হয়েছিল।[৪৪] একাশিটি মূর্তির মধ্যে পূর্ববর্তী যুগে নির্মিত আটটি মাতৃকামূর্তিও রয়েছে।[৪৪][৪৫]

বিয়াল্লিশ যোগিনী মন্দির[সম্পাদনা]

দুদাহি[সম্পাদনা]

উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরের কাছে দুদাহির মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে আখাড়া নামে পরিচিত। এটি বর্তমানে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। বৃত্তাকার এই মন্দিরটিতে বিয়াল্লিশ জন যোগিনীর জন্য কুলুঙ্গি ছিল। মন্দিরবৃত্তটির ব্যাস ৫০ ফুট।[৪৬][৪০]

বাদোহ[সম্পাদনা]

গদরমল মাতৃকা মন্দির, বাদোহ, মধ্যপ্রদেশ, এই মন্দিরে বিয়াল্লিশ যোগিনীর কুলুঙ্গি রয়েছে

দুদাহি থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার বাদোহতে গদরমল মাতৃকা মন্দির অবস্থিত। এটি আরেকটি ৪২-কুলুঙ্গিবিশিষ্ট যোগিনী মন্দির। যে অল্প কয়েকটি আয়তাকার যোগিনী মন্দির পাওয়া গিয়েছে, এটি তার অন্যতম। এখান থেকে একদা মন্দির বেদীর খাঁজে বসানো আঠারো ভগ্ন দেবীমূর্তি পাওয়া গিয়েছে। এগুলির কোমরের নিচের অংশই বর্তমানে রক্ষিত। কয়েকটি জৈন মন্দিরের পাশে অবস্থিত এই মন্দিরটিতে একটি আয়তাকার পূজাবেদী এবং একটি দীর্ঘ ও প্রকাণ্ড শিখর দেখা যায়। বিদ্যা দেহেজিয়া লিখেছেন যে, এই যোগিনী মন্দিরটি অতীতে নিশ্চয় ছাদবিহীন ছিল।[৪৬][৪০][৪৭]

দু’টি বিয়াল্লিশ যোগিনী মন্দির সম্ভবত নির্মিত হয়েছিল ৯৫০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে।[৪৬]

হারিয়ে যাওয়া মন্দির[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি যোগিনী মন্দির হয় ইচ্ছাকৃত ধ্বংসকার্যের ফলে অথবা নির্মাণ সামগ্রী লুণ্ঠনের দলে এখন হারিয়ে গিয়েছে।

লোখারি[সম্পাদনা]

উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার লোখারিতে একটি পাহাড়চূড়ায় সম্ভবত দশম শতাব্দীর গোড়ার দিকে একটি যোগিনী মন্দির নির্মিত হয়েছিল। এখানকার দেবত্বরোপিত কুড়িটি মূর্তির কথা নথিবদ্ধ রয়েছে। এই মূর্তিগুলির মাথা ঘোড়া, গোরু, খরগোশ, সাপ, মোষ, ছাগল, ভাল্লুক ও হরিণের মতো নানা জীবজন্তুর। দেহেজিয়া এগুলিকে বিশেষভাবে শিল্পগুণসম্পন্ন বলে নয় বলে আশ্চর্যজনক বলেই বর্ণনা করেন।[৪৮][৪৯]

নরেশ্বর[সম্পাদনা]

দশম শতাব্দীতে নির্মিত কুড়িটি মূর্তির আরেকটি গুচ্ছ এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে যত্নহীনভাবে খোদিত কয়েকটি অভিলেখ উদ্ধার করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ্বের নরেশ্বর থেকে। এই স্থানটিতে এখনও প্রায় কুড়িটি ছোটো শৈব মন্দির অবস্থিত। উদ্ধার করা মূর্তি ও অভিলেখগুলি বর্তমানে রক্ষিত আছে প্রায় পনেরো মাইল দূরে গোয়ালিয়র জাদুঘরে[৫০]

হিংলাজগড়[সম্পাদনা]

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান রাজ্যের সীমানায় অবস্থিত হিংলাজগড়ের ভাস্কর্যগুলিকে গান্ধীসাগর জলাধার নির্মাণের জন্য অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা মূর্তিগুলির মধ্যে যোগিনীমূর্তির অনেক খণ্ডাংশ থাকায় দেহেজিয়া মনে করেন যে, হিংলাজগড়ে অতীতে একটি যোগিনী মন্দির ছিল।[৫১][৫২][ক]

রিখিয়ান[সম্পাদনা]

খাজুরাহো থেকে প্রায় ১৫০ মাইল উত্তরে উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় যমুনা নদীর দক্ষিণ তীরে রিখিয়ান উপত্যকায় যে ধ্বংসাবশেষটি পাওয়া গিয়েছে, সেটিকে একটি আয়তাকার চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে হয়। এই মন্দিরটি মিতাওলির মতো একক যোগিনী মন্দির নয়, বরং অন্যান্য মন্দিরের একটি চত্বরের অংশ। ১৯০৯ সালে যখন এই স্থানটির আলোকচিত্র গৃহীত হয় তখন এখানে দশটি ফলক পাওয়া যায়, যেগুলির প্রতিটিতে চার জন করে যোগিনীর চিত্র খোদিত ছিল। দেহেজিয়ার মতে, ৪-এর গুণিতক ইঙ্গিত করে যে এখানে ৬৪ জন যোগিনীর পূজা হত। এদিকে এই ফলকগুলির ঋজুতা মন্দিরটির আয়তাকার নকশার ইঙ্গিতবাহী (খাজুরাহোর মন্দিরটির মতো)। দশটি ফলকের মধ্যে সাতটি বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়ে যায়, অবশিট তিনটি ফলককে নিরাপত্তার খাতিরে নিকটবর্তী গাঢোয়া দুর্গে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ফলকগুলিতে যোগিনীদের সাদামাটা প্রেক্ষাপটে কোনও পার্শ্বচর ছাড়াই চিত্রিত করা হয়েছিল। যোগিনীরা এখানে ললিতাসনে একটি পা বাহনের উপর রেখে উপবিষ্ট। মূর্তিগুলির বৈশিষ্ট্য “ভারী স্তন, চওড়া কোমর ও স্ফীত উদর”।[৫৪] একটি মূর্তিতে দেখা যায়, যোগিনীর মাথাটি ঘোড়ার মতো, হাতে একটি শবদেহ, ছিন্ন মুণ্ড, গদা ও ঘণ্টা ধরে রয়েছেন। তাই এটি সম্ভবত হয়াননার মূর্তি। এই মূর্তিটিতে ও অন্যান্য যোগিনীদের মূর্তিতে শবদেহ দেখে মনে করা হয় মন্দিরটির সঙ্গে শবদেহ-সংক্রান্ত ক্রিয়াকাণ্ডের কোনও যোগ ছিল।[৫৪] ১৯০৯ সালে তিনটি ত্রি-মাতৃকা ফলকেরও আলোকচিত্র গৃহীত হয়েছিল; দেহেজিয়া মনে মরেন যে এগুলি গণেশ সহ অষ্ট-মাতৃকার একটি আয়তাকার মন্দিরের অংশ।[৫৪] রিখিয়ান থেকে প্রাপ্ত একটি সু-সংরক্ষিত চার-যোগিনী ফলক রক্ষিত আছে ডেনভার আর্ট মিউজিয়ামে[৫৪]

শহডোল[সম্পাদনা]

কাবেরীপক্কম থেকে পুনরুদ্ধার করা দশম শতাব্দীর একটি যোগিনীমূর্তি, অধুনা আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে রক্ষিত। এই মূর্তিতে যোগিনীর হাতে কপালপাত্র দেখা যায়।

মধ্যপ্রদেশের শহডোল জেলা (প্রাচীন নাম সহস-দোল্লক) থেকে প্রাপ্ত যোগিনীমূর্তিগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে খাজুরাহোর কাছে ধুবেলা জাদুঘর, কলকাতার ভারতীয় সংগ্রহালয় এবং শাহদোল জেলারই অন্তরা ও পাঁচগাঁওয়ের গ্রামীণ মন্দিরগুলিতে। এই মূর্তিগুলিকে আনুষ্ঠানিক ললিতাসনের ভঙ্গিতে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা যায় এবং এগুলি মাথার পিছনের চালচিত্রে বিভিন্ন উড়ন্ত সত্ত্বার ছবি দেখা যায়।[৫৫]

কাঞ্চীপুরম বা কাবেরীপক্কম[সম্পাদনা]

দেহেজিয়া অধুনা তামিলনাড়ু রাজ্য থেকে পুনরুদ্ধার করা যোগিনী ভাস্কর্যগুলির ছবি প্রকাশ করেন এবং সেগুলি নিয়ে আলোচনা করেন। চোল যুগে (আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ) নির্মিত এই ভাস্কর্যগুলির[৫৬] একটি বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত;[৫৭] অন্যগুলি রক্ষিত আছে মাদ্রাজ জাদুঘর, ব্রুকলিন মিউজিয়াম, মিনেয়াপোলিস ইনস্টিটিউট অফ আর্টস, ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অফ আর্টসরয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত যোগিনীমূর্তিটি কাঞ্চীপুরম থেকে প্রাপ্ত বলে উল্লিখিত হয়েছে; তবে সংগ্রহের সঠিক স্থানটি জানা যায় না। তবে একই শৈলীর অনেকগুলি ভাস্কর্য কাবেরীপক্কমের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। আপাতভাবে মনে করা হয়, ভাস্কর্যগুলি নিকটবর্তী মন্দিরগুলি থেকেই এসেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত মূর্তিটি যোগিনীদের একটি বৃহৎ মণ্ডলীর অংশ।[৫৭][৫৬]

বৃহত্তর বাংলা[সম্পাদনা]

অভিলেখ ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, বৃহত্তর বাংলায় বেশ কয়েকটি যোগিনী মন্দির নির্মিত হয়েছিল।[৫৮] দেহেজিয়া লিখেছেন যে, “[তান্ত্রিক চক্রের পূজা] কৌল চক্রপূজা-সংক্রান্ত গ্রন্থগুলিতে এমন সব মাছের কথা উল্লিখিত হয়েছে যা কেবলমাত্র বাংলার জলাশয়গুলিতেই পাওয়া যায়; এর থেকে পরোক্ষভাবে এই সকল ক্রিয়ার বঙ্গীয় উৎসটি প্রমাণিত হয়”। তিনি এও বলেছেন যে, “যোগিনীদের তালিকা-সম্বলিত অধিকাংশ গ্রন্থই বাংলা অঞ্চলে রচিত হয়েছিল”।[৫৯]

বারাণসী[সম্পাদনা]

বারাণসীতে গঙ্গার তীরে চৌষট্টি ঘাটের (একেবারে বাঁদিকে) শ্মশান ঘাট

ভৈরবপ্রাদুর্ভাব গ্রন্থের অন্তর্গত বারাণসীমাহাত্ম্য সহ খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর গ্রন্থগুলিতে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, একাদশ শতাব্দীতে বারাণসীতে (নামান্তরে কাশীতে) একটি বৃত্তাকার ছাদবিহীন যোগিনী মন্দির ছিল। শহরে যোগিনী-সংক্রান্ত একাধিক স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। চৌষট্টি ঘাট শ্মশানের ঠিক উপরে চৌষট্টি দেবী মন্দিরটি অবস্থিত। শাস্ত্রে এই মন্দিরটির উল্লেখ না থাকলেও আধুনিক কালে ভক্তেরা এখানে সমবেত হন। কাশীখণ্ড অংশে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী দোলের দিন এই মন্দিরে বিশেষ ভক্ত-সমাগম ঘটে।[৫][৬০]

দিল্লি[সম্পাদনা]

কথিত আছে যে, দক্ষিণ দিল্লি জেলার মহরৌলিতে একটি যোগিনী মন্দির নির্মিত হয়েছিল। প্রচলিত বিশ্বাসে এই মন্দিরটি হল সেখানকার যোগমায়া মন্দির। তবে এই বিষয়ে কোনোও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। মহাভারতে বর্ণিত সাম্রাজ্যের রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থের বাইরের এলাকাটিকে বলা হত যোগিনীপুর (যোগিনীর নগর)। এই ইন্দ্রপ্রস্থকেই অধুনা দিল্লি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।[৬১]

প্রভাব[সম্পাদনা]

সাধারণের বিশ্বাস, ভারতের সংসদ ভবনের স্থাপত্য মিতাওলির যোগিনী মন্দিরের বৃত্তাকার নকশাটি থেকে অনুপ্রাণিত; যদিও এই মতের পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।[৬২][৬৩] ১৯১২-১৯১৩ সালে ব্রিটিশ স্থপতি স্যার এডউইন লুটিয়েনস ও স্যার হারবার্ট বেকার এই ভবনটির নকশা প্রস্তুত করেন এবং ভবন নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয় ১৯২৭ সালে।[৬৪]

বৃষাননা যোগিনীর মূর্তিটি চুরির পর ফ্রান্সে অবৈধভাবে পাচার করা হয়; পরে এটিকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।[৬৫]

উত্তরপ্রদেশের একটি জাদুঘর থেকে দশম শতাব্দীতে নির্মিত বৃষাননা যোগিনীর মূর্তিটি চুরি করে অবৈধভাবে ফ্রান্সে পাচার করা হয়। সেখানে দেহেজিয়ার গ্রন্থে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে মূর্তিটিকে চিহ্নিত করা হয় এবং সংগ্রাহক রবার্ট শ্রিম্ফ দিল্লির জাতীয় সংগ্রহালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০০৮ সালে শ্রিম্ফের বিধবা পত্নী মূর্তিটি ভারতকে দান করেন এবং ২০১৩ সালে এটিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ডেকান হেরাল্ড মূর্তিটিকে “দুর্মূল্য” বলে বর্ণনা করে এবং জাতীয় সংগ্রহালয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে মূর্তিটির প্রত্যাবর্তন উদ্যাপন করা হয়। উক্ত সংবাদপত্রেই বলা হয় যে, যোগিনী মন্দিরগুলির প্রত্যন্ত বিচ্ছিন্ন অবস্থানই এই বিগ্রহগুলিকে প্রত্নবস্তু চোরাচালানকারীদের কাছে সহজলভ্য করে দিচ্ছে।[৬৫]

পদ্মা কৈমল একটি ভ্রমণ গ্রন্থে লিখেছিলেন কীভাবে যোগিনীমূর্তিগুলিকে পূজিত দেববিগ্রহের বদলে শিল্পদ্রব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যাতে সেগুলি চুরির পর সহজে পাশ্চাত্য জগতে অবৈধভাবে পাচার করা সম্ভব হয়।[৬৬][৬৭]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. দ্য যোগিনী টেম্পলস অফ ইন্ডিয়া গ্রন্থের রচয়িতা স্টেলা ডুপুইস[৫২] নিজের ওয়েবসাইটে হিংলাজগড়ের যোগিনীদের এক গুচ্ছ ছবি দিয়েছেন।[৫৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "chausath"EngHindi.com। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২০ 
  2. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১২-১৩।
  3. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১৩-১৪।
  4. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১৬-১৭।
  5. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১৪।
  6. হেটলি ২০০৭, পৃ. ৫৯।
  7. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১৭।
  8. হেটলি ২০০৭, পৃ. চার।
  9. হেটলি ২০০৭, পৃ. ২১।
  10. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. নয়।
  11. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৪৫।
  12. চৌধুরী, জনমেজয়। অরিজিন অফ তান্ত্রিকিজম অ্যান্ড সিক্সটি-ফোর যোগিনী কাল্ট ইন ওড়িশা, ওড়িশা রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত, অক্টোবর ২০০৪ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ মে ২০১০ তারিখে
  13. হোয়াইট ২০০৬, পৃ. ১৩৭।
  14. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৮৫-১৮৬।
  15. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৭-১১৮।
  16. "চক্রজ অ্যান্ড দ্য ৬৪ যোগিনীজ"শিবশক্তি। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২০ 
  17. দাস ২০১৯, পৃ. ১১।
  18. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৬৭।
  19. রায় ২০১৫
  20. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৭০-৩৭৫।
  21. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৭৮।
  22. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৮০–৩৮৩, ৩৯৯।
  23. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৮২-৩৮৩।
  24. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ৬২।
  25. উইলিস, মাইকেল (২০০৯)। দি আর্কিওলজি অফ হিন্দু রিচুয়াল: টেম্পলস অ্যান্ড দি এসট্যাবলিশমেন্ট অফ দ্য গডস। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ৯৪। আইএসবিএন 978-0-521-51874-1Hirapur (District Khurda, Orissa) Yogini temple, eleventh century. Goddess under active worship. (অনুবাদ: হীরাপুর (খুরদা জেলা, ওড়িশা) যোগিনী মন্দির, একাদশ শতাব্দী। দেবীর এখনও পূজার্চনা চলে।) 
  26. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১০।
  27. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১২।
  28. টমসেন, মার্গরিট (মার্চ ১৯৮০)। "নিউমেরিক্যাল সিম্বলিজম অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন ইন সাম টেম্পলস অফ দ্য ৬৪ যোগিনীজ"। আর্ট অ্যান্ড আর্কিওলজি রিসার্চ পেপার: ৫৩–৫৬। 
  29. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৬৭–৩৬৯।
  30. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৩।
  31. পটেল, সি. বি. মনুমেন্টার এফ্লোরেসেন্স অফ রানিপুর-ঝরিয়াল, ওড়িশা রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত, অগস্ট ২০০৪, পৃ. ৪১-৪৪ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে
  32. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৪।
  33. ডোনাল্ডসন ২০০২, পৃ. ৬৭০।
  34. পান্ডা, শশাঙ্ক এস. (ডিসেম্বর ২০০৫)। "আর্কিওলজিক্যাল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড এক্সক্যাভেশন ইন ওয়েস্টার্ন ওড়িশা" (PDF)। ওড়িশা রিভিউ। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০ 
  35. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৪-১১৫।
  36. "অ্যালফাবেটিক্যাল লিস্ট অফ মন্যুমেন্টস – মধ্য প্রদেশ"। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ, ভোপাল সার্কেল। ২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  37. মিউজিয়ামস (২০০১)। পুরাতন, খণ্ড ১২। পুরাতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ, মধ্যপ্রদেশ। 
  38. "একাত্তরসো মহাদেব মন্দির"। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০ 
  39. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১২২-১২৪।
  40. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১১।
  41. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১০, ১২৫-১৪০।
  42. জব্বলপুর জেলা সরকারি ওয়েবসাইট – আমাদের সম্পর্কে ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ আগস্ট ২০০৭ তারিখে
  43. চৌষট্টি যোগিনী মন্দির – স্থানের নকশা, আলোকচিত্র ও দেবীদের বিষদ বিবরণ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ এপ্রিল ২০১০ তারিখে
  44. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৫-১১৬।
  45. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১২৫-১২৭।
  46. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৪১–১৪৫।
  47. "গদরমল মন্দির"। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  48. হেটলি ২০০৭, পৃ. ১১৭।
  49. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৫৬–১৮৪।
  50. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৪৫–১৫৩।
  51. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৫৩-১৫৫।
  52. ডুপুইস ২০০৮
  53. ডুপুইস, স্টেলা (১৫ মার্চ ২০১৭)। "প্রোটেক্টিভ যোগিনীজ অ্যান্ড গডেসেস ডেস্ট্রয়ারস অফ ডেমনস। সিনক্রেটিজম বিটুইন হিংলাজ মাতা অ্যান্ড মহিষাসুরমর্দিনী"। স্টেলা ডুপুইস। ২১ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২০ 
  54. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১১৮–১২১।
  55. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৬৩-১৭৪।
  56. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ১৭৭–১৮২।
  57. "ফিগার, মিউজিয়াম নাম্বার ১৯৫৫, ১০১৮.২"ব্রিটিশ মিউজিয়াম। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২০Figure of a mother goddess (matrika) carrying a skull topped staff and skull cup. Made of stone (granite). (অনুবাদ: করোটিশীর্ষ-বিশিষ্ট দণ্ড ও কপালপাত্র হাতে মাতৃকা মূর্তি। প্রস্তরনির্মিত (গ্র্যানাইট)) 
  58. হেটলি ২০১৪, পৃ. ১৯৬।
  59. দেহেজিয়া ১৯৮৬, পৃ. ৭৯।
  60. কেউল ২০১২, পৃ. ৩৬৬–৪০২।
  61. "দ্য মিস্টিক অফ মহরৌলি"দ্য হিন্দু। ১ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২০ 
  62. দে, মণিদীপা (১১ মে ২০১৯)। "টেম্পলস হুইচ ইনসপায়ার্ড ডিজাইন অফ ইন্ডিয়ান পার্লামেন্ট: মধ্যপ্রদেশ'স চৌষট যোগিনী মন্দির"ফাইনানশিয়াল এক্সপ্রেস (ভারত)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০ 
  63. "গভর্নমেন্ট শুড হ্যাভ কনফিডেন্স ইন দিস হাউস"দ্য হিন্দু। ৯ আগস্ট ২০১২। ২০ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  64. ঘোষাল, জয়ন্ত (২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "সংসদ ভবন টু বি রিভ্যাম্পড; অল এমপিজ টি গেট সেপারেট অফিসেস"। ইন্ডিয়া টিভি। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০ 
  65. ভৌমিক, অনির্বান (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "১০থ-সেঞ্চুরি যোগিনী স্কাল্পচার রিটার্নস টু ইন্ডিয়া"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২০ 
  66. কৈমল ২০১২, পৃ. ১এফএফ।
  67. কিম, জিনাহ্ (অক্টোবর ২০১৩)। "কিম অন কৈমল, 'স্ক্যাটার্ড গডেসেস: ট্রাভেলস উইথ দ্য যোগিনীজ'"হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২০ 

উল্লেখপঞ্জি[সম্পাদনা]