অপ্সরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রাপ্ত ১২শ শতকের অপ্সরার বেলেপাথর মূর্তি।

অপ্সরা হলো হিন্দু এবং বৌদ্ধ পুরাণ অনুসারে মেঘ এবং জল থেকে উদ্ভুদ্ধ নারী আত্মা।

একজন অপ্সরা (সংস্কৃত: अप्सराः apsarāḥ, বহুবচন अप्सरसः apsarasaḥ, stem apsaras-, a feminine consonant stem, អប្សរា), এছাড়াও খেমের অনুসারে বিদ্যাধারী (ទេពអប្សរ), Accharā (পালি) বা A Bố Sa La Tư (ভিয়েতনামি), বিদ্যাধারী (ইন্দোনেশীয় এবং মালয়), Biraddali (Tausug), হপ্সরী বা Widodari (জাভানীয়) এবং অপ্সন (থাই: อัปสร) হিসাবে পরিচিত। "অপ্সরা" শব্দের ইংরেজি অনুবাদ "জলপরী," "স্বর্গীয় জলপরী," এবং "স্বর্গীয় কুমারী" অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

সংস্কৃত শব্দ অপ্ ( বাংলা অর্থ জল বা পানি) হতে এদের উৎপত্তি তাই এদের অপ্সরা বলা হয়। এরা নাচে-গানে পারদর্শী ছিলেন। এই কারণেই এদের ইন্দ্রের সভা গায়িকা ও নর্তকী হিসেবে দেখা যায়। অপ্সরাদের অধিপতি ছিলেন কামদেব। অপ্সরাদের সংখ্যা মোটামুটি ৬০ কোটি।

দেবাসুরের সমুদ্র মন্থনের সময়ে এরা সমুদ্রের ভিতর থেকে অসংখ্য নারীর সথে উঠে আসেন। কিন্তু কোন দেবদানবই তাদের গ্রহণ করতে রাজী হয় নি, তাই তারা সাধারণ নারী হিসেবেই গণ্য হতে থাকেন। এছাড়াও মনুসংহিতায় তাদের জন্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে - সাতজন মনুর সৃষ্টি তারা।(মনুসংহিতা)

ঋগ্বেদ অণুযায়ী অপ্সরা হলেন গন্ধর্বের স্ত্রী। বেদে একমাত্র উর্বশীর নামেরই উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালের অন্যান্য পৌরাণিক গল্পে ইন্দ্রের সভানর্তকীদের সবাইকেই অপ্সরা বলা হয়েছে। দু’ধরনের অপ্সরা আছেন— লৌকিক এবং দৈবিক।

অপ্সরাদের সৌন্দর্য ও যৌন আবেদনের কথা সব সময়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। অপ্সরারা মায়ারূপীনী, সেইজন্য নিজেদের দেহের পরিবর্তন করতে পারতো। অথর্ববেদে আছে, এরা পাশা খেলতে খুব ভালোবাসতো এবং পাশা খেলায় খুব পারদর্শী ছিল।(অথর্ববেদ)

কম্বোডিয়ার একটি বিখ্যাত নৃত্যকলা রয়েছে যা পশ্চিমে ‘অপ্সরা ডান্স’ নামে পরিচিত। চিনের বিখ্যাত বৌদ্ধ গুহাগুলি যেমন মোগাও কেভ, ইউলিন কেভ, ইয়ুংগাং এবং লংমেন গ্রোটোস ইত্যাদির গুহাচিত্রে বহু অপ্সরা অঙ্কিত রয়েছে। প্রচলিত ধারণা অণুযায়ী অপ্সরারা ইচ্ছে মতো রূপ ধারণ করতে পারেন এবং তাঁরা জুয়া খেলায় ভাগ্য নির্ধারণ করেন।

একটি মত অণুযায়ী ইন্দ্রের সভায় ২৬ জন অপ্সরা রয়েছেন এবং এরা প্রত্যেকেই এক একটি শিল্পকলায় পারদর্শী।

অপ্সরাদের মধ্যে অন্যতমা হলেন উর্বশী, মেনকা, রম্ভা, তিলোত্তমা। এছাড়া ঘৃতাচী, অলম্বুষা, মিশ্রকেশী্, জানপদী, ও বিদ্যুৎপর্ণা, অদ্রিকা, পঞ্চচূড়া, সোমা, মরীচি, শুচিকা, অম্বিকা, ক্ষেমা, অসিতা, সুবাহু, সুপ্রিয়া, সুগন্ধা, সুরসা, বিশ্বাচী, পূর্বচিত্তি, প্রম্লোচা, বর্গা, প্রমথিনী, কাম্যা, শারদ্বতী, গুণবরা, ঋতুস্থলা, বুদ্বুদা, সৌরভেয়ী, ইরা, চিত্রাসেনা, সমীচী, চারুনেত্রা, পুঞ্জিকস্থলা, শুচিস্মিতা, বিশালনয়নার নামও নানা স্থানে উল্লেখিত হয়েছে। [১]

দেবরাজ ইন্দ্র প্রায়েই অপ্সরাদের মর্তে পাঠাতেন মুনি-ঋষিদের প্রলোভিত করে ধ্যান-ভঙ্গ করার জন্য। কারণ ধ্যান সমাপ্ত হলে তাঁরা প্রবল পরাক্রান্ত হয়ে ওঁর ইন্দ্রত্ব দাবী করে বসতে পারেন!

উর্বশী[সম্পাদনা]

বি. সুন্দরীশ্রেষ্ঠা ও অনন্তযৌবনা অপ্সরাবিশেষ। [সং. উরু + √ বশ্ + অ + ঈ]। উর্বশী অপরূপ রূপলাবণ্যময়ী স্বর্গের অপ্সরী।


উর্বশীর কি ভাবে জন্ম হয়েছে তা নিয়ে নানা ধরনের মত প্রচলিত আছে। কারো কারো মতে উর্বশী নারায়ণের উরু ভেদ করে জন্মগ্রহণ করেন তাই তার নাম উর্বশী। আবার একথাও বলা হয় সমুদ্র হতে উর্বশীর জন্ম। এটাও প্রচলিত যে উর্বশী সাতজন মনুর সৃষ্টি।

ঋগ্বেদে উর্বশী[সম্পাদনা]

ঋগ্বেদে উর্বশী ও পুরূরবার প্রেম কাহিনী সম্পর্কে অল্পবিস্তর জানা যায়। কিন্তু সম্পূর্ণ কাহিনী পাওয়া যায় শতপথব্রাহ্মণে।


একদিন ইন্দ্রের নৃত্যসভায় রাজা পু্রূরবা আমন্ত্রিত হন। নৃত্যের জন্য উবর্শীকে অনুরোধ করলে তিনি নৃত্য শুরু করেন। কিন্তু উর্বশী রাজা পুরূরবার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিলে উর্বশীর নৃত্যের ছন্দ ভঙ্গ হয়। ফলে ইন্দ্র উর্বশীকে অভিশাপ দেন। এবং তাকে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ হিসেবে বসবাস করতে হবে।


উর্বশী এই অভিশাপ শোনার পরে দেবতা ইন্দ্রের কাছে একটি আর্জি করেন। উর্বশী মর্ত্যলোকে পু্রূরবার স্ত্রী হিসেবে থাকতে চান। দেবতা ইন্দ্র তার এই মনোবাসনা পুরণ করেন কিন্তু এখানে ইন্দ্র কয়েকটি শর্ত দিয়ে দেন। শর্তগুলো অনেকটা এই রকম যে- দিনে তিনবার পুরূরবা উর্বশীকে আলিঙ্গন করতে পারবেন। উর্বশীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুরূরবা কখনো উর্বশীর সাথে মিলিত হতে পারবেন না এবং উর্বশী কখনো পুরূরবাকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পারবেন না।


উর্বশী এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে মর্ত্যলোকে পুরূরবার স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে রাজী হলেন। এই ভাবে পুরূরবার স্ত্রী হিসেবে উবর্শী বহু বছর পার করে দেন। বহু বছর গত হবার পর স্বর্গের সভাসদগন স্বর্গে উর্বশীর অভাব অনুভব করলেন। এখন কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনা যায় সেই পথ খুঁজতে থাকেন। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে তারা একটি বুদ্ধি বের করলেন। তো স্বর্গের সভাসদরা উর্বশীর শয়ন কক্ষে দুইটি মেষশাবক বেঁধে দিয়ে যান স্বর্গের উপহার হিসেবে। এই মেষশাবক দুইটি সবসময়ই উর্বশীর শয়ন কক্ষেই থাকত। তো একদিন রাতে এই দুইটি মেষশাবকের মধ্যে একটি চুরি করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন স্বর্গের সভাসদরা। মেষশাবক চুরি করার সময় উর্বশী টের পেয়ে যান। উর্বশী রাজাকে অনুরোধ করেন চোর ধরে আনার জন্য। রাজা উর্বশীর কথায় হন্তদন্ত হয়ে নিদ্রা থেকে উঠে পরেন। এই সময় রাজা উলঙ্গ অবস্থায় ছিলেন। রাত ছিল বিধায় রাজার উলঙ্গ অবস্থা উর্বশী দেখতে পাচ্ছিলেন না। এই সময় স্বর্গের সভাসদরা এটা বুঝতে পেরে দ্রুত বজ্রের সাহায্যে বিদ্যুতের সৃষ্টি করলেন এবং তার আলোয় ঘর ভরে উঠল। এই সময় উর্বশী রাজার নগ্ন অবস্থা দেখে ফেলেন। ফলে উর্বশী তার শাপ মুক্ত হয়ে সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যান।


উর্বশীকে হারানোর শোকে রাজা পুরূরবা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। ধীরে ধীরে উর্বশীকে পুনরায় পাবার আশা ক্ষীণ হতে লাগল। কিন্তু একদিন কুরুক্ষেত্রের নিকটে আরো চারজন অপ্সরীর সাথে উর্বশীকে দেখতে পেলেন স্নানরত অবস্থায়। রাজা উর্বশীকে বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন ফিরে আসার জন্য। কিন্তু উর্বশী কোন ভাবেই রাজী হচ্ছিলেন না। এই ভাবে বেশ কয়েক দিন যাওয়ার পর একদিন উর্বশী বলেন- বছরের শেষ রাতে আসলে আমি তোমার সাথে শয্যা গ্রহণ করব। এর ফলে আমাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম হবে। তো রাজা পুরূরবা বছরের শেষ রাত্রিতে এসে উর্বশীর সাথে শয্যা গ্রহণ করলেন এবং তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করল। এভাবে প্রতিবছরের শেষ দিন উর্বশী ও পুরূরবার মিলন হতে থাকল এবং প্রতিবছর একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম নিতে থাকল। বলা হয় যে উর্বশী ও পুরূরবার পুত্র সন্তানের সংখ্যা পাঁচ জন।


একদিন উর্বশী এসে পুরূরবাকে বললেন যে- দেবতা তোমার মনের ইচ্ছে পুরণ করবে, তবে একটা শর্ত আছে। পুরূরবা শর্ত শুনতে চাইলেন। উর্বশী বলল- স্থায়ী ভাবে মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে এসে সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতে হবে। এই জন্য তাকে একবার মৃত্যুকে গ্রহণ করতে হবে। পুরূরবা এই শর্তে রাজী হয়ে গেলেন। এরপর থেকে উর্বশী ও পুরূরবা এক সাথে আবার বসবাস শুরু করলেন।

কালিদাসের উর্বশী[সম্পাদনা]

উর্বশীকে নিয়ে আরো কয়েকটি মিথ প্রচলিত আছে- এর মধ্যে অন্যতম হলো মহাকবি কালিদাসের ‘বিক্রম উর্বশী’ নাটকে উল্লেখ করেছেন- কেশী দৈত্য উর্বশীকে হরণ করলে পুরূরবা উর্বশীকে উদ্ধার করেন। এর ফলে উর্বশী ও পুরূরবা উভয়ে প্রেমে আসক্ত হয়। স্বর্গে অভিনয়কালে ভুল ক্রমে পুরূরবার নাম উর্বশী উচ্চারণ করায় দেবতাগণ উর্বশীকে অভিশাপ দেন মর্ত্যে পুরূরবার স্ত্রী হবার জন্য। পুত্রের মুখ দেখার পর উর্বশী অভিশাপ থেকে মুক্ত হন। পরে দেব গায়ক নারদের বরে উর্বশী ও পুরূরবার মিলন চিরস্থায়ী হয়।

পদ্মপুরাণে উর্বশী[সম্পাদনা]

পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে যে, বিষ্ণু ধর্মপুত্র হয়ে পর্বতে তপস্যা করছিলেন। ইন্দ্র তার তপস্যায় ভীত হয়ে তাতে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য কয়েকজন অপ্সরার সাথে বসন্ত ও কামদেবকে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তারা এই তপস্যা ভঙ্গ করতে ব্যর্থ হলে পুনরায় কামদেব অন্যান্য অপ্সরার উরু থেকে উর্বশীকে সৃষ্টি করে উর্বশীকে বিষ্ণুর নিকট পাঠিয়ে দেন। উর্বশী বিষ্ণুর ধ্যন ভঙ্গ করতে সফল হন। এই সময় ইন্দ্র উর্বশীর উপর সন্তুষ্ট হন এবং তার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে পাবার ইচ্ছে পোষণ করেন। উর্বশী এতে রাজী হয়ে যায়। কিন্তু পরে মিত্র ও বরুণও উর্বশীকে পাবার ইচ্ছে পোষণ করলে উর্বশী তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। এই মিত্র ও বরুন উর্বশীকে অভিশাপ দেন যে- উর্বশী মনুষ্যভোগ্যা হয়ে মর্ত্যলোকে জন্ম গ্রহণ করবে। এর ফলে উর্বশী পুরুরবার স্ত্রী হিসেবে মর্ত্যলোকে জন্ম গ্রহণ করেন।

মেনকা[সম্পাদনা]

বি. ১. হিমালয়-পত্নী ও গৌরী-জননী; ২. স্বর্গের অপ্সরাবিশেষ। [সং. √ মন্ + অক + আ]।


বিশ্বামিত্র কঠোর সাধনায় রপ্ত হলে দেবরাজ ইন্দ্র ভীত হলেন। বিশ্বামিত্র না আবার স্বর্গ রাজ্য কেড়ে নেন তার কাছ থেকে। তাই সাধনা ভঙ্গের জন্য পাঠালেন অপ্সরা মেনকাকে। মেনকা তার রূপ, রস, গন্ধ, কলা নিয়ে এলেন। ধ্যানরত ঋষির পাশে মেনকা শুরু করলেন কামনা মদির নৃত্য ও সঙ্গীত, কাম শৃঙ্গার। একদিকে দেবরাজ ইন্দ্রের চক্রান্ত। অন্যদিকে কামনার মেনকা, মোহিনী সঙ্গীত, মোহনীয় নৃত্য; আর কাম দেবতার ফুলশর।


বিশ্বামিত্রের ধ্যান ভাঙ্গে না। মেনকাও হাল ছাড়েন না। বরফ গলল। আগুন দাউদাউ করল। কামশাস্ত্রের সকল কলা নৈপুণ্য মেনকা প্রয়োগ করলেন। বিশ্বামিত্র পুরোদমে কামনাতুর প্রেমিক হয়ে গেলেন। বিশ্বামিত্র ও মেনকার মিলনে শকুন্তলার জন্ম হল। বিশ্বামিত্র দায়িত্ব না নিয়ে চলে গেলেন সাধনা ভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে। অপ্সরা মেনকাও চলে গেলেন শকুন্তলাকে ফেলে। (অভিজ্ঞানম শকুন্তলম)

কালিকা পুরাণে মেনকা[সম্পাদনা]

দক্ষ কন্যা সতী যখন হিমালয়ে মহাদেব অর্থাৎ শিবের সাথে হিমালয়ে বসবাস করতেন তখন মেনকা ছিলেন সতীর শখি। কিন্তু সতী যখন মারা যান তখন মেনকা কঠোর তপস্যা করতে আরম্ভ করলেন- যেন সতী তার কন্যা হয়ে আবার জন্ম গ্রহণ করেন। তার তপস্যা ভগবতী সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বর দেন- তার একশত পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা সন্তান হবে। বর লাভের পর মৈনাক প্রভৃতির জন্ম হয় এবং সতী পুনরায় জন্ম গ্রহণ করেন। (কালিকা পুরাণ)

মহাভারতে মেনকা[সম্পাদনা]

গন্ধর্বরাজ বিশ্বাবসু ও মেনকা মিলনে এক কন্য সন্তানের জন্ম হয়। মেনকা তাকে মহর্ষি স্হূলকেশ এর আশ্রমের পাশে নদীর তীরে রেখে চলে যায়। মহর্ষি সে কন্যা আশ্রমে রেখে বড় করে এবং নাম রাখে প্রমদ্বরা। এই প্রমদ্বরাই মহাভারতের বিখ্যাত রাজা রুরুর স্ত্রী।

রম্ভা [সম্পাদনা]

বি. ১. অপ্সরাবিশেষ; কলাগাছের মতো সুপুষ্ট ও সুন্দর ঊরুবিশিষ্টা নারী। [সং. √ রম্ভ্ + অ + আ]।

রামায়ণে রম্ভা[সম্পাদনা]

রম্ভা কুবেরের পুত্র নলকুবেরের নিকট অভিসার গমন কালে রাবণ তাকে দেখে কামমুগ্ধ হয়ে পড়েন। তাই রাবণ তাকে ধর্ষণ করেন। রম্ভা নলকুবেরকে এই ঘটনা বললে নলকুবের রাবণকে অভিশাপ দেন, রাবণ কোন নারীর অনিচ্ছায় তার প্রতি বল প্রয়োগ করে ধর্ষণ করতে গেলে রাবণের মাথা সাত খন্ডে বিভক্ত হয়ে যাবে। এই জন্যই সীতা রাবণ কর্তৃক অপহৃত হয়েও নিজের সতীত্ব রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (রামায়ণ-উত্তর)

স্কন্ধ পুরাণে রম্ভা[সম্পাদনা]

একবার ইন্দ্র বিশ্বমিত্রের তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য অপ্সরা রম্ভাকে প্রেরণ করেন। কিন্তু বিশ্বমিত্রের অভিশাপে রম্ভা শিলাতে পরিণত হয়ে ১০০০ বছর অস্থান করেন। রম্ভা যখন বিশ্বমিত্রের আশ্রমে শিলারূপে বাস করছিলেন তখন অঙ্গকার নামে একজন রাক্ষসী সেখানে নানা উপদ্রব করতে আরম্ভ করেন। তখন ঐ আশ্রমে তপস্যা রত শ্বেতমুণি বায়ব্য অস্ত্রে ঐ শিলাখণ্ড দুই ভাগে ভাগ করে রাক্ষসকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপ করেন। অস্ত্রের ভয়ে ভীত হয়ে রাক্ষসী পলায়ন করে কপিতীর্থে এলে তার মাথায় সেই শিলা খন্ড পড়ে রাক্ষসের মুত্যু হয়। এই শিলাখন্ড কপিতীর্থে নিমগ্ন হলে রম্ভা আবার নিজের রূপ ফিরে পান।(স্কন্ধ পুরাণ)


ইন্দ্র সভায় নৃত্যকালে রম্ভার তালভঙ্গ হয়। তখন ইন্দ্র ক্রদ্ধ হয়ে রম্ভাকে অভিশাপ দেন-রম্ভা স্পন্দনহীন বিকলাঙ্গ হয়ে ভূতলে পতিত হন। পরে নারদের পরামর্শে শিবের পূজা করে পুনরায় স্বর্গে ফিরে যান। (স্কন্ধ পুরাণ)


ইন্দ্রের আদেশে রম্ভা জাবালি মুনির তপোভঙ্গ করেন। মুনির ঔরষে রম্ভার এক কণ্যা জন্মগ্রহণ করে। জাবালি এই কন্যার প্রতিপালন করেন; এই কন্যার নাম ফলবতী।

তিলোত্তমা [সম্পাদনা]

বি. সুন্দ ও উপসুন্দ নামে দুই অসুর বধের জন্য ব্রহ্মার নির্দেশে বিশ্বকর্মা তিল তিল করে সৃষ্টির যাবতীয় সৌন্দর্য আহরণপূর্বক যে অপ্সরাকে নির্মাণ করেছিলেন। [সং. তিল + উত্তমা]।

কালিকা পুরাণে তিলোত্তমা[সম্পাদনা]

দৈত্যরাজ নিকুম্ভের দুই পুত্র সুন্দ ও উপসুন্দ ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করে ত্রিলোক বিজয়ের জন্য অমরত্ব প্রার্থণা করেন। কিন্তু ব্রহ্মা এদের অমরত্বের বরদান করতে সম্মত হন নি। তবে তিনি বলেন যে, স্থাবর-জঙ্গমের কোন প্রাণী তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। যদি এদের মৃত্যু হয় তবে পরস্পরের হাতেই হবে। এই বর পাবার পর তারা দেবতাদের উপর নিপীড়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তখন দেবতারা প্রাণ রক্ষা করার জন্য ব্রহ্মার নিকট প্রার্থনা করেন এদের বদ করার জন্য। ব্রহ্মা এদের বধ করার জন্য পরমা সুন্দর এক রমনীর সৃষ্টি করলেন। ত্রিভুবনের সমস্ত উত্তম জিনিস তিল তিল করে সংগ্রহ করে ব্রহ্মা এক অতুলনীয়া নারী সৃষ্টি করেন। তিল তিল সুন্দর বস্তু মিলিত হয়ে এই সুন্দরী সৃষ্টি হয়েছিল বলে এর নাম হয় তিলোত্তমা। তিলোত্তমাকে সৃষ্টির পর ব্রহ্মা সুন্দ ও উপসুন্দরের নিকট পাঠিয়ে দেন। তিলোত্তমা এদের দুই জনের সামনে নৃত্য করতে থাকে। সুন্দ ও উপসুন্দ তিলোত্তমার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে পাবার জন্য পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হন। এতে একে অন্যের হাতে নিহত হন।

ঘৃতাচী[সম্পাদনা]

মহর্ষি ভৃগুর পুত্র চ্যবন মুনির স্ত্রীর নাম সুকন্যা। তাদের পুত্র প্রমতির স্ত্রী ছিল স্বর্গের অপ্সরা ঘৃতাচী। ঘৃতাচীর গর্ভে জন্ম লাভ করে মহাভারতের অন্যতম রাজা রুরু।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]