বিষয়বস্তুতে চলুন

রাজনৈতিক ভূগোল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রাজনৈতিক ভূগোল, স্থানিক কাঠামো কর্তৃক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াসমূহের প্রভাবিত হওয়া ও রাজনৈতিক কার্যধারার অমসৃণ ফলাফল অধ্যয়নের সাথে জড়িত। প্রচলিতভাবে, বিশ্লেষণের সুবিধার জন্য, রাজনৈতিক ভূগোল একটি তিন মাত্রার কাঠামো গ্রহণ করে, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের (ভূ-রাজনীতি) অধ্যয়ন থাকে সবার ওপরে, এরপর থাকে রাষ্ট্রের অধ্যয়ন ও সবশেষে স্থানীয় অঞ্চলের অধ্যয়ন। এক কথায় বলতে গেলে, রাজনৈতিক ভূগোলের মৌলিক বিষয় হলো জনগণ, রাষ্ট্র ও অঞ্চলসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক।

অধ্যয়নের বিষয়সমূহ

[সম্পাদনা]
১৯৬১ সালে বার্লিন প্রাচীরের ব্র্যান্ডেনবার্গ ফটক।

১৯৭০ এর দশকের শেষের দিক থেকে, রাজনৈতিক ভূগোলের নবজাগরণ ঘটেছে এবং বর্তমানে একে উপশাখাগুলোর মধ্যে অগ্রসরতার দিক থেকে অন্যতম বললে ভুল হবে না। নবজাগরণটি ত্রৈমাসিক পলিটিকাল জিওগ্রাফি (এবং দ্বি-মাসিক হিসেবে এর সম্প্রসারণ পলিটিকাল জিওগ্রাফি ) দ্বারা ত্বরান্বিত হয়েছিলো। আংশিকভাবে এই বিকাশ, রাজনৈতিক ভূগোলবিদ্গণ কর্তৃক, ইতোমধ্যে মানবীয় ভূগোলের অন্যান্য শাখায় গৃহীত পদক্ষেপের অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছিল, যেমন, পরিমাণগত স্থানিক বিজ্ঞানের(কুয়ানটিটিভ স্পেসিয়াল সাইন্স) ওপর নির্ভর করে রন জে জনস্টনের (১৯৭৯) নির্বাচনী ভূগোল নিয়ে কাজ, আচরণগত পন্থা(বিহেভিওরাল অ্যাপ্রোচ) এর উপর ভিত্তি করে আঞ্চলিকতার(টেরিটোরিয়ালিটি) বিষয়ে রবার্ট স্যাকের (১৯৮৬) কাজ, রাজনৈতিক ভূগোলের উপর তথ্য এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলির প্রভাব সম্পর্কে হেনরি বেকিস (১৯৮৭) এর কাজ এবং কাঠামোগত মার্কসবাদের ওপর নির্ভর করে পিটার টেলরের (২০০৭) ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস থিওরির কাজ। যাইহোক, এই উপশাখার সাম্প্রতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির ফলে বিশ্বের পরিবর্তনের সাথেও জড়িত। এছাড়া নব্য বিশ্ব শৃঙ্খলা(নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) এর উত্থান (যা এখনও, খুব দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত) এবং নতুন নতুন গবেষণা এজেন্ডার বিকাশ যেমন, সামাজিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের উপর সাম্প্রতিক আলোকপাত, যা জাতীয়তাবাদের অধ্যয়নকে অতিক্রমণ করে, তার সাথেও জড়িত। তাছাড়া, পরিবেশগত প্রতিবাদের ভূ-রাজনীতি সহ সবুজ রাজনীতির(গ্রিন পলিটিক্স) ভূগোলবিদ্যা নিয়ে এবং উপস্থিত রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সক্ষমতার আওতায়, সমসাময়িক এবং ভবিষ্যতের যে কোনও পরিবেশগত সমস্যা নির্দেশের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে (উদাহরণস্বরূপ, ডেভিড পেপার(১৯৬৬) এর কাজ দেখুন)।

ক্ষমতার অনুশীলন যে কেবলমাত্র রাজ্য এবং আমলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ, এই কথা সামনে আনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভূগোল গতানুগতিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে। এর ফলে রাজনৈতিক ভূগোলের বিষয়গুলো মানবীয় ভূগোলের অন্যান্য উপ-শাখার সাথে যেমন, অর্থনৈতিক ভূগোল এবং বিশেষত স্থানিক রাজনীতির অধ্যয়নের সঙ্গে জড়িত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূগোলের সাথে অধিক্রমণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।(উদাহরণস্বরূপ, ডেভিড হার্ভে(১৯৯৬) ও জো পেইন্টার(১৯৯৫) এর বই দেখুন)। যদিও সমসাময়িক(কনটেম্পোরারি) রাজনৈতিক ভূগোল তার চিরাচরিত বিষয়গুলোর অধিকাংশই রক্ষা করে (নীচে দেখুন), তবুও সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে এর শাখা-প্রশাখা বিস্তার মানবীয় ভূগোলের একটি সাধারণ প্রক্রিয়ারই অংশ, যে প্রক্রিয়া পূর্ববর্তী বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর মধ্যে সীমানা দুর্বল করে এবং ফলস্বরূপ পুরো শাখাটিই সমৃদ্ধ হয়।

প্রধানত, সমকালীন রাজনৈতিক ভূগোলে আলোচিত হয়ঃ

  • কীভাবে এবং কেন রাষ্ট্রসমূহের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে (উদাঃ ইউরোপীয় ইউনিয়ন) অথবা অনানুষ্ঠানিকভাবে (উদাঃ তৃতীয় বিশ্ব) আঞ্চলিক গ্রুপিঙের সৃষ্টি হয়
  • রাষ্ট্র এবং প্রাক্তন উপনিবেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক এবং কীভাবে সময়ের সাথে তা প্রসারিত হয় (উদাঃ নব্য উপনিবেশবাদ)
  • সরকার ও তার জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং চুক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সম্পর্ক
  • সীমানার কার্যাবলি, নির্ধারণ ও রক্ষনাবেক্ষণ
  • ভৌগোলিক স্থানের উপর রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব
  • আধুনিক মিডিয়াসমূহের রাজনৈতিক প্রভাব (উদাঃ রেডিও, টিভি, আইসিটি, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম)
  • নির্বাচনের ফলাফল অধ্যয়ন (নির্বাচনী ভূগোল বা ইলেক্টোরাল জিওগ্রাফি)

সমালোচনামূলক রাজনৈতিক ভূগোল

[সম্পাদনা]

সমালোচনামূলক রাজনৈতিক ভূগোল মূলত প্রচলিত রাজনৈতিক ভূগোলকে আধুনিক প্রবণতার মুখোমুখি রেখে, তার সমালোচনা করে। 'সমালোচনামূলক ভূগোল' এর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, আর্গুমেন্টগুলো মূলত উত্তর আধুনিক, পোস্ট স্ট্রাকচারাল এবং উত্তর উপনিবেশবাদ তত্ত্বসমূহ থেকে অঙ্কিত হতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপঃ

  • নারীবাদী ভূগোল, যা ক্ষমতার সম্পর্ককে পুরুষতান্ত্রিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে যুক্তি প্রদান করে এবং পরিচয় ও পরিচয়ের রাজনীতির(আইডেন্টিটি পলিটিক্স) বিকল্প ধারণাগুলির তাত্ত্বিক রূপদান করার চেষ্টা করে;
  • উত্তর উপনিবেশবাদী তত্ত্ব, যা রাজনৈতিক ভূগোলের সাম্রাজ্যবাদী ও সার্বজনীন রূপের স্বীকৃতি প্রদান করে, বিশেষ করে উন্নয়ন ভূগোল(ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি) এর ক্ষেত্রে;
  • পরিবেশগত বিচার(এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস) যা পরিবেশ সম্পর্কিত আইন, বিধিবিধান এবং নীতিগুলোর বিকাশ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতি, বর্ণ বা আয় নির্বিশেষে সকলের সাথে সুষ্ঠু আচরণ এবং অর্থপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবি রাখে।[] অন্য কথায়, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ দ্বারা প্রদত্ত সুবিধাগুলো সমানভাবে ভোগ করা সমস্ত মানুষের জন্য মানবাধিকার।[]

উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ভূগোলবিদগণ

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  1. Environmental Justice and Environmentalism: The Social Justice Challenge to the Environmental Movement। The MIT Press। ২০০৭। পৃ. ২৯আইএসবিএন ৯৭৮-০২৬২১৯৫৫২২
  2. The Environmental Justice Reader: Politics, Poetics, & Pedagogy। The University of Arizona Press। ২০০২। পৃ. আইএসবিএন ০৮১৬৫২২০৬৫

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

অধিকতর পঠন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]