ব্রেন্ডন ন্যাশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রেন্ডন ন্যাশ
Brendan Nash.jpg
২০০৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ব্রেন্ডন ন্যাশ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রেন্ডন পল ন্যাশ
জন্ম (1977-12-14) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৭ (বয়স ৪৩)
অ্যাট্টাডেল, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামবুব্বা[১]
উচ্চতা৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৭২)
১১ ডিসেম্বর ২০০৮ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৩ জুন ২০১১ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৪৩)
২০ আগস্ট ২০০৮ বনাম বারমুদা
শেষ ওডিআই১৩ জানুয়ারি ২০০৯ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং৪৯
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০০/০১ - ২০০৬/০৭কুইন্সল্যান্ড
২০০৭/০৮ - ২০১১/১২জ্যামাইকা (জার্সি নং ৪৯)
২০১২ - ২০১৫কেন্ট (জার্সি নং ৪০)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২১ ১৩৯ ৮৮
রানের সংখ্যা ১,১০৩ ১০৪ ৭,৭৫২ ১,৫৯৬
ব্যাটিং গড় ৩৩.৪২ ২৬.০০ ৩৮.৯৫ ৩১.৯২
১০০/৫০ ২/৮ ০/০ ১৮/৩২ ০/৮
সর্বোচ্চ রান ১১৪ ৩৯* ২০৭ ৯৮*
বল করেছে ৪৯২ ২৯৪ ১,৬৫৭ ৭৯৮
উইকেট ২৩ ১৬
বোলিং গড় ১২৩.৫০ ৪৪.৮০ ৩৪.৮২ ৩৫.১২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৩৪ ৩/৫৬ ২/৭ ৪/২০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬/– ১/– ৫০/– ২৮/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ অক্টোবর ২০২০

ব্রেন্ডন পল ন্যাশ (ইংরেজি: Brendan Nash; জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭) ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাট্টাডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের শেষদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘বুব্বা’ ডাকনামে পরিচিত ব্রেন্ডন ন্যাশ

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার অ্যাট্টাডেল এলাকায় ব্রেন্ডন ন্যাশের জন্ম। পার্থ, কেয়ার্নস ও ব্রিসবেনে বসবাস করেছেন এবং ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে নাজি কলেজে অধ্যয়ন করেন।[২] জ্যামাইকীয় অলিম্পিক সাঁতারু পল ন্যাশ তার পিতা ছিলেন। ঐ সূত্র ধরে তিনি জ্যামাইকার পক্ষে ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন।[৩][৪] তার পিতা ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল অবধি অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসে জ্যামাইকার পক্ষে সাঁতারু হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।

ব্রিসবেনভিত্তিক গ্রেড ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমের ব্রিসবেন এক্সএক্সএক্সএক্স প্রতিযোগিতায় শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।[২] বড়দের দলে অংশগ্রহণের পূর্বে কুইন্সল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার পাশাপাশি কুইন্সল্যান্ড কোল্টস ও কুইন্সল্যান্ড স্পোর্ট একাডেমি (কিউএএস) দলের পক্ষে খেলেছেন।[৫] এক পর্যায়ে প্রথম পছন্দের উইকেট-রক্ষকের আঘাতের কারণে তাকে কিউএএসে পরিবর্তিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলানো হয়।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রেন্ডন ন্যাশের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

২০০১ সালে নিয়মিত ব্যাটসম্যান মার্টিন লাভ আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ও কুইন্সল্যান্ড বুলসের পক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।[২] ২০০২ সালে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো শতরানের ইনিংস খেলেন। অ্যাডিলেড ওভালে তার ১৫৭ রানের কল্যাণে কুইন্সল্যান্ড দল সাউদার্ন রেডব্যাকসকে পরাভূত করতে সমর্থ হয়।[৬] এরপর তাকে কুইন্সল্যান্ড দলের ব্যাটিং উদ্বোধনে খেলানো হয় ও দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করেন। ২০০১-০২ মৌসুমের পুরা কাপের চূড়ান্ত খেলায় তাসমানিয়ান টাইগার্সের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলে কুইন্সল্যান্ডকে শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন। ব্রিসবেনভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সহযোগিতায় ব্রেন্ডন ন্যাশ ফ্যান ক্লাব তার সম্মানে করা হয়।[৭]

২০০২-০৩ মৌসুমের শুরুতে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭৬ ও অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, এরপর থেকেই তার খেলায় ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তী ২০ ইনিংসের কোনটিতেই ৪০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। তাকে কুইন্সল্যান্ড দ্বিতীয় একাদশে ঠাঁই করে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়। দূর্বল খেলার ফলে ২০০৪-০৫ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ড বুলসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে অস্বীকার করেন।[৭]

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০০৭-০৮ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ড বুলসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে না পারায় নতুন করে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাড়ি জমান। এ সিদ্ধান্তে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, চুক্তিবদ্ধ হতে না পারায় আমি বেশ মনোক্ষুণ্ন হয়েছি। তবে, আমি আরও পরিশ্রম করে আবারও স্বীয় স্থান ফিরে পাবো ও আমি আরও প্রস্তাবনা পাবো।[৮] অক্টোবর, ২০০৭ সালে জ্যামাইকা দলের সদস্যরূপে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৩] কেএফসি কাপের শিরোপা বিজয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চূড়ান্ত খেলায় ১১৭ রান তুলে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোকে নয় উইকেটে পরাজিত করে তার দল।[৯] ঐ মৌসুম শেষে ৪৬.৮৮ গড়ে ৪২২ রান তুলেন তিনি। এরফলে, ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ব্যাটিং গড়ে তিনি তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন। তবে, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাকে না খেলানোয় অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ান তিনি।[১০]

২০১০-১১ মৌসুমের রিজিওন্যাল ফোর ডে কম্পিটিশন প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে ব্রেন্ডন ন্যাশ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। ৩৪৯ বলে তিনি ২০৭ রান তুলে পূর্বেকার সর্বোচ্চ ১৭৬ রানকে ছাঁপিয়ে যান। তবে, সেমি-ফাইনালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[১১] চূড়ান্ত খেলায় জ্যামাইকা দল কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেসের মুখোমুখি হয়। আঘাতের কারণে তিনি ব্যাটিং করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, তার দল আট উইকেটে জয় পায়।[১২]

ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

সীমিত ওভারের খেলায় ব্যাটিংয়ের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে (সিএলএল) মন্টন এন্ড ওয়িস্ট সিসি’র পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এর পূর্বে তিনি পাঁচ খেলায় মাত্র ৬৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ক্লাবের পেশাদার ক্রিকেটার হবার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হন ও জ্যামাইকায় খেলায় অংশ নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।[১৩] এ পর্যায়ে সিএলএল উড কাপের চূড়ান্ত খেলায় হেউড সিসিকে পরাজিত করতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ৩ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ দলকে সাত উইকেটের বিজয়ী করেন।[১৪]

২০০৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ইস্ট ল্যাঙ্কস দলের সাথে পেশাদারী পর্যায়ে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে দলটি পুরোপুরি পেশাদারী পর্যায়ের ছিল না। প্রথম মৌসুমে দূর্দান্ত খেলেন। লীগের ১৬ ইনিংসে ৭২.৮৩ গড়ে ৮৭৪ রান তুলেন। সর্বোচ্চ করেন ১৪০ রান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২২১.৪ ওভার বোলিং করেন। ১২.২৫ গড়ে ৪৭ উইকেট পান। সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৭/২১। ২০/২০ প্রতিযোগিতায় ৪ খেলায় ২৫৭ গড়ে ২৫৭ রান তুলেন। কেবলমাত্র একবারই আউট হন তিনি। সর্বোচ্চ করেন অপরাজিত ১০৯ রান। এছাড়াও, ১৪.৩ ওভার বোলিং করে ৭.৮ গড়ে ১০ উইকেট লাভ করেন তিনি। সেরা বোলিং করেন ৩/১।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একুশটি টেস্ট ও নয়টিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রেন্ডন ন্যাশ। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২০ জুন, ২০১১ তারিখে কিংস্টনে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২০০৫ সালে গাব্বায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। ৫ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। পরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলেন। পয়েন্ট অঞ্চলে ফিল্ডিংকালীন তিনি একটি ক্যাচ ফেলে দেন।[১৫][১৬]

১২ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে বারমুদা ও কানাডার সাথে ত্রি-দেশীয় খেলায় অংশগ্রহণকল্পে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওডিআই দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৪] ২০ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে লিওন জনসনকেমার রোচের সাথে বারমুদার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একযোগে ওডিআই অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি ১০-১-৪৩-১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ডেলিওন বর্ডেনকে উইকেট-রক্ষক কার্লটন বাউয়ের কট বিহাইন্ডে তিনি তার প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট লাভ করেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সহ-অধিনায়ক রামনরেশ সারওয়ানের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে ছয় উইকেটের জয় এনে দেন। তিনি ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।[১৭]

কানাডার বিপক্ষে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় খেলায় ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে জাভিয়ের মার্শালের সাথে ১১১ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। তন্মধ্যে, জাভিয়ের মার্শাল ওডিআই ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ১০-১-৫৬-৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।[১৮] এরপর চূড়ান্ত খেলায় আবারও কানাডার মুখোমুখি হন তিনি। ১/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লেও তিনি ব্যাট করার সুযোগ পাননি। ঐ খেলায় ক্রিস গেইলের শতরানের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত উইকেটে বিজয়ী হয়।[১৯]

টেস্ট অভিষেক[সম্পাদনা]

১ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে পাকিস্তান সফরে ওডিআই দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ জন ডাইসন তার অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে মন্তব্য করেন যে, কানাডা ও বারমুদার বিপক্ষে তার ক্রীড়াশৈলীতে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে শীর্ষ ক্রিকেটে খেলার জন্যে প্রস্তুত।[২০] একই দিনে লিওনেল বাকের, লিওন জনসন ও কেমার রোচের সাথে তাকেও টেস্ট ক্যাপবিহীন অবস্থায় নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। জন ডাইসন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তার বোলিং নিউজিল্যান্ডের উইকেটে কার্যকরী হবে।[২০]

১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একই খেলায় ফাস্ট বোলার লিওনেল বাকেরেরও একযোগে অভিষেক ঘটে।[২১] গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে জিওফ গ্রীনিজের পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের পর প্রথম শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলছেন।[২২] জ্যামাইকার পক্ষে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় তাকে শ্বেতাঙ্গ বালক হিসেবে বর্ণবাদের শিকারে পরিণত হতে হয়।[২৩] জ্যামাইকার অধিনায়ক ক্রিস গেইল তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তুমি আমাদেরই একজন, কেউ এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে দুঃশ্চিন্তা করো না। যদি কেউ সমস্যার সৃষ্টি করে, আমি তোমাকে সহায়তা করবো।[২৪] পরবর্তীতে জানা যায় যে, তিনি মিশ্র-বর্ণের অধিকারী।[২৩] ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ম্যাট প্রায়রকে প্রথম আউট করে নিজস্ব প্রথম টেস্ট উইকেট পান। শিবনারায়ণ চন্দরপল তার বোলিংয়ে ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।[২৫] ত্রিনিদাদে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তিনি তার প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৭টি চার সহযোগে ১০৯ রান তুলেন তিনি। চন্দরপলের সাথে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ২৩৪ রান তুলেন। প্রথম টেস্টে ৮১ রানের সুন্দর ইনিংস খেলেছিলেন। দিনেশ রামদিনের সাথে ১৪১ রানের জুটি গড়েন। রামদিন করেছিলেন ৬১ রান।

স্বর্ণালী মুহুর্ত[সম্পাদনা]

নভেম্বর, ২০০৯ সালে টেস্ট অভিষেকের এক বছরের মধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লিউআইসিবি) থেকে তাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তিতে উপনীত করা হয়।[২৬] অক্টোবর, ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। পূর্বতন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক ক্রিস গেইল ও ডোয়েন ব্র্যাভো ডব্লিউআইসিবির পক্ষে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় স্থলাভিষিক্ত হন।[২৭]

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন খেলার সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়ে ব্রেন্ডন ন্যাশ তার সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[২৮] ঐ সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া খেলায় প্রভাববিস্তার করে।[২৯] ৫৩.৩৩ গড়ে ১৬০ রান সংগ্রহ করেন তিনি।[৩০]

২০১০-১১ মৌসুমের ক্যারিবীয় আঞ্চলিক প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।[৩১] নয় খেলায় অংশ নিয়ে ৬২.৬০ গড়ে ৬২৬ রান সংগ্রহ করেন তিনি।[৩২] ঐ প্রতিযোগিতায় জ্যামাইকা দল শিরোপা লাভ করে।[৩৩] প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে ব্রেন্ডন ন্যাশ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার প্রথম দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন। ৩৪৯ বল মোকাবেলা করে ২০৭ রান সংগ্রহ করেন তিনি। এরফলে, তিনি তার পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৭৬ রানকে ছাপিয়ে যান।[৩৪]

এপ্রিল ও মে, ২০১১ সালে পাকিস্তান দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনে আসে। ঐ সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। প্রায় দুই বছরের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের প্রথম টেস্ট জয় করে।[৩৫][৩৬] ন্যাশ চার ইনিংসে ৪৪ রান তুলেছিলেন।[৩৭] ১৩ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখ থেকে ২৭ মে, ২০১১ তারিখের মধ্যে তিনি ৩৫.২৫ গড়ে ১,০৯৩ টেস্ট রান তুলেন। কেবলমাত্র শিবনারায়ণ চন্দরপল, ক্রিস গেইল ও রামনরেশ সারওয়ান তার তুলনায় অধিক রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।[৩৮]

২০১১ সালে ভারত দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনে আসে। ছয় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রান সংগ্রহ করলে প্রথম টেস্ট শেষে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়।[৩৯] অক্টোবর মাসে ব্রেন্ডন ন্যাশকে ডব্লিউআইসিবি থেকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় এবং মারলন স্যামুয়েলসফিদেল অ্যাডওয়ার্ডসকে চুক্তিতে উপনীত করা হয়।[৪০]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার এক বছর পর কেন্টের সাথে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে মনোনিবেশ ঘটান। ২০১২ সালকে সামনে রেখে কেন্ট দলে ব্রেন্ডন ন্যাশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।[৪১] তিন মৌসুমে ৩০০০-এর অল্প কম প্রথম-শ্রেণীর রান সংগ্রহ করে নিজেকে পরিচিত করে তুলেন ও কাউন্টি দলের বিশ্বস্ত রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

২০১৩ সালেও কেন্টের সাথে খেলেন তিনি। ঐ সালে নিজের সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। পাঁচটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১৯৯ রানের ইনিংস খেলে সফলতার সাথে দলকে জয় এনে দেন। ১৩ জুলাই, ২০১৩ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখেন তিনি। ৪১১ রানের দিকে অগ্রসর হন ও ৩০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় সানস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অবসর নিতে বাধ্য হন। এ পর্যায়ে তিনি ১৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। পরবর্তীতে নিচেরসারির ব্যাটসম্যানেরা বাকী ২১ রান তুলে দলকে মৌসুমের প্রথম জয়লাভ করায়।[৪২] আগস্ট, ২০১৫ সালে পারস্পরিক সমঝোতায় দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন।[৪৩]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

১ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখ অনুযায়ী

ব্যাটিং বোলিং (ইনিংস)
রান খেলা মাঠ মৌসুম বোলিং পরিসংখ্যান খেলা মাঠ মৌসুম
টেস্ট ১১৪ ওয়েস্ট ইন্ডিজদক্ষিণ আফ্রিকা বাসেতেরে ২০১০ ১/২১ ওয়েস্ট ইন্ডিজশ্রীলঙ্কা গালে ২০১০
ওডিআই ৩৯* ওয়েস্ট ইন্ডিজকানাডা কিং সিটি ২০০৮ ৩/৫৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজকানাডা কিং সিটি ২০০৮
এফসি ২০৭ জ্যামাইকাত্রিনিদাদ ও টোবাগো সেন্ট অগাস্টিন ২০১১ ২/৭ জ্যামাইকাকম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস কিংস্টন ২০০৮
এলএ ৯৮* কেন্ট স্পিটফায়ার্সওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্স বার্মিংহাম ২০১৩ ৪/২০ জ্যামাইকাগায়ানা ব্রিজটাউন ২০০৭
টি২০ ২৬ কেন্ট স্পিটফায়ার্সএসেক্স ঈগলস চেমসফোর্ড ২০১২ ১/৩২ কেন্ট স্পিটফায়ার্সসাসেক্স শার্কস হোভ ২০১২

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Brendan Nash player profile, ESPNcricinfo  Retrieved on 11 January 2009.
  2. Queensland Cricket (৩০ জানুয়ারি ২০০১), Nash to make Bulls debut, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  3. Australian Nash named in Jamaica squad, ESPNcricinfo, ৩ অক্টোবর ২০০৭  Retrieved on 20 August 2008.
  4. Nash in line for West Indies debut, ESPNcricinfo, ১২ আগস্ট ২০০৮  Retrieved on 20 August 2008.
  5. Torrens, Warwick; Culpan, Pat (১৮ মার্চ ২০০১), Brendan Nash – biographical details, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  6. Queensland Cricket (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০১), Nash set for opening spot, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  7. Ryan, Christian (২৮ মে ২০০৪), Nash crashes, Hauritz hangs on, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  8. Jackson, Ed (১৮ জুলাই ২০০৪), Nash eyes West Indies after losing contract, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  9. De Freitas, Kern (২৫ এপ্রিল ২০০৮), Nash hundred gives Jamaica the edge, Cricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  10. Fazeer Mohammed (৯ মে ২০০৮), More baffling decisions, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  11. f53131 Trinidad and Tobago v Jamaica: Regional Four Day Competition 2010/11 (Semi-Final), CricketArchive  Retrieved on 17 November 2011.
  12. f53157 Combined Campuses and Colleges v Jamaica: Regional Four Day Competition 2010/11 (Final), CricketArchive  Retrieved on 17 November 2011.
  13. English, Peter (২১ মে ২০০৮), Journeyman lands main role, ESPNcricinfo  Retrieved on 20 August 2008.
  14. Lawrenson, Dave (৭ আগস্ট ২০০৮), "Cup Delight", Salford Advertiser  Retrieved on 20 August 2008.
  15. Brett, Oliver (৮ ডিসেম্বর ২০০৮), Windies switch pays off for Nash, BBC Online  Retrieved on 23 December 2008.
  16. Test # 1769: The Frank Worrell Trophy, 2005–06, 1st Test, Australia v West Indies, ESPNcricinfo  Retrieved on 23 December 2008.
  17. Sarwan seals West Indies success, ESPNcricinfo, ২০ আগস্ট ২০০৮  Retrieved on 21 August 2008.
  18. Marshall breaks sixes record in West Indies win, ESPNcricinfo, ২২ আগস্ট ২০০৮  Retrieved on 30 August 2008.
  19. Gayle century blasts West Indies to title, ESPNcricinfo, ২৪ আগস্ট ২০০৮  Retrieved on 30 August 2008.
  20. Nash in West Indies Test squad, ESPNcricinfo, ১ নভেম্বর ২০০৮  Retrieved on 12 November 2008.
  21. Nash and Baker debut as New Zealand bat, ESPNcricinfo, ১১ ডিসেম্বর ২০০৮  Retrieved on 11 December 2008.
  22. Simon Evans (১০ ডিসেম্বর ২০০৮), Australian-born Nash set for West Indies debut, Reuters.com  Retrieved on 11 December 2008.
  23. English, Peter (১১ জানুয়ারি ২০০৯), Light Nash No White, ESPNcricinfo  Retrieved 11 July 2011.
  24. Veera, Sriram (২৫ জুন ২০১১), Brendan Nash's fight to fit in, ESPNcricinfo  Retrieved 11 July 2011.
  25. Test # 1908: The Wisden Trophy, 2008–09, 3rd Test, West Indies v England, ESPNcricinfo, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯  Retrieved on 16 February 2009.
  26. Injured Fidel Edwards' contract withheld by WICB, ESPNcricinfo, ১২ নভেম্বর ২০০৯  Retrieved on 23 October 2011.
  27. Darren Sammy named West Indies captain, ESPNcricinfo, ১৭ অক্টোবর ২০১০  Retrieved 17 October 2010.
  28. Fernando, Andrew (২ ডিসেম্বর ২০১০), Sri Lanka fight back after Nash, Chanderpaul stand, ESPNcricinfo  Retrieved on 2 December 2010.
  29. Thawfeeq, Sa'adi (৫ ডিসেম্বর ২০১০), Happy with drawn result – Sammy, ESPNcricinfo  Retrieved on 5 December 2010.
  30. Records / West Indies in Sri Lanka Test Series, 2010/11 / Most runs, ESPNcricinfo  Retrieved on 5 December 2010.
  31. Nash keen to take first-class form into Tests, ESPNcricinfo, ১১ মে ২০১১  Retrieved on 3 June 2011.
  32. Records / Regional Four Day Competition, 2010/11 / Most runs, ESPNcricinfo  Retrieved on 3 June 2011.
  33. f53157 Combined Campuses and Colleges v Jamaica: Regional Four Day Competition 2010/11 (Final), CricketArchive  Retrieved on 3 June 2011.
  34. f53131 Trinidad and Tobago v Jamaica: Regional Four Day Competition 2010/11 (Semi-Final), CricketArchive  Retrieved on 3 June 2011.
  35. Purohit, Abhishek (১৯ মে ২০১১), West Indies eye rare series win, ESPNcricinfo  Retrieved on 3 June 2011.
  36. Pakistan draw series with emphatic victory, ESPNcricinfo, ২৪ মে ২০১১  Retrieved on 3 June 2011.
  37. Records / Pakistan in West Indies Test Series, 2011 / Most runs, ESPNcricinfo  Retrieved 3 June 2011.
  38. Rajesh, S (২৭ মে ২০১১), Wanted: Star batsmen for Pakistan and West Indies, ESPNcricinfo  Retrieved on 3 June 2011.
  39. Veera, Sriram (২৫ জুন ২০১১), West Indies drop vice-captain Nash, ESPNcricinfo  Retrieved on 11 July 2011.
  40. Samuels, Fidel Edwards given WICB contracts, ESPNcricinfo, ২২ অক্টোবর ২০১১  Retrieved on 23 October 2011.
  41. https://www.bbc.co.uk/sport/0/cricket/17397432
  42. Brendan Nash knock helps Kent to win at Gloucestershire, BBC Sport, ১৩ জুলাই ২০১৩  Retrieved on 14 July 2013.
  43. Brendan Nash departs Kent after three years ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে, Canterbury Times, 2015-08-21. Retrieved 2016-01-30.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]