বরিশাল জিলা স্কুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বরিশাল জিলা স্কুল
Barisal Zilla School Logo.png
বরিশাল জিলা স্কুলের প্রতীক
"পড় তোমার প্রভুর নামে"
ঠিকানা
সদর রোড
বরিশাল
৮২০০, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক ২২°৪১′৫৩″উত্তর ৯০°২২′০৮″পূর্ব / ২২.৬৯৮° উত্তর ৯০.৩৬৯° পূর্ব / 22.698; 90.369স্থানাঙ্ক: ২২°৪১′৫৩″উত্তর ৯০°২২′০৮″পূর্ব / ২২.৬৯৮° উত্তর ৯০.৩৬৯° পূর্ব / 22.698; 90.369
তথ্য
ধরন সরকারী বিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাকাল ২৩ ডিসেম্বর ১৮২৯ (১৮২৯-১২-২৩)
স্কুল বোর্ড মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল
অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন
শ্রেণীসমূহ তৃতীয় - দশম
লিঙ্গ বালক বিদ্যালয়
নিয়োগ ২৫০০+
ভাষা বাংলা
রং         
ডাকনাম BZS
ইয়ারবুক সবুজ পাতা
বিশেষ প্রকল্প ব্রিটিশ কাউন্সিল এর অধীনে ক্লাস পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

বরিশাল জিলা স্কুল (ইংরেজি: Barisal Zilla School) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৮২৯ সালে বরিশাল ইংলিশ স্কুল নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৩ সালে ব্রিটিশ সরকার এ বিদ্যালয়টির ব্যয়ভার ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ও তখন থেকে নাম হয় "বরিশাল জিলা স্কুল"। এটি সমগ্র বরিশাল বিভাগের ভিতরে সর্বশ্রেষ্ঠ স্কুল এবং বাংলাদেশের বিখ্যাত স্কুল গুলোর মধ্যে একটি। [১] এটি বর্তমানে দক্ষিন এশিয়ার সর্ব প্রাচীন জিলা স্কুল। বর্তমানে বরিশাল জিলা স্কুলে প্রভাতী ও দিবা দুটি শাখায় তৃতীয় শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। [২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বরিশাল জিলা স্কুলের ছাত্র দল

বরিশাল জিলা স্কুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন স্বনামধন্য স্কুল এবং এটি বরিশাল বিভাগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্কুল। মূলত ঐতিহাসিক বরিশাল জিলা স্কুল তৎকালীন বরিশাল জেলার জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট মি. ডব্লিউ এন গ্যারেট এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়। তাঁর নির্দেশনায় ১৮২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্থানীয় জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় শ্রীরামপুর মিশনের মাধ্যমে বরিশাল ইংলিশ স্কুল নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র আটজন ছাত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ও ছাত্রসংখ্যা সেবছর ২৭ জনে গিয়ে দাঁড়ায়।

প্রথম দিকে বিদ্যালয়টি মিশন কর্তৃক পরিচালিত হত। সেসময় বিদ্যালয়টি (প্রোটেস্ট্যান্ট গীর্জার পশ্চিম দিকে) স্থানীয় জমিদার মি. লুকাসের জমির মধ্যে স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ব্রাউন কম্পাউন্ড এবং ১৮৪২ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। ওই জমির মালিক ছিলেন মি. স্পেনসার। তৎকালীন বাংলার গভর্নর এর নির্দেশ মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্কুলের সেক্রেটারি ই জে বার্টন সরকারকে বিদ্যালয়টি উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিতে থাকেন। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় অভিজাত ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে ৩৮,৮১৭ টাকা চাঁদা তোলেন এবং তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন। ফলাফল স্বরূপ বিশাল পরিমাণ জমির উপর বরিশাল জিলা স্কুল নির্মিত হয়। এটি বর্তমানে পুনঃসংস্কারের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ১৯৫৩ সাল থেকে ব্রিটিশ সরকার এই বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার গ্রহণ করে এবং তখন থেকে এর নামকরণ হয় বরিশাল জিলা স্কুল

১৮২৯ সালে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মি. জন স্মিথ। ১৯৬১ সাল থেকে এই স্কুলকে পাইলট স্কুলে পরিণত করা হয়। তখন আমেরিকান বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এর নানাবিধ পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এই স্কুলের ছাত্ররা গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখে।[১][৩]

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

১৮০ বছরের প্রাচীন বিদ্যালয়টির জমির পরিমাণ ২০ একর। বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনসহ একাডেমিক ভবনের সংখ্যা ৬টি। স্কুলে ১টি মসজিদ, ১টি ছাত্রাবাস, প্রধান শিক্ষকের বাসভবন ও ২টি খেলার মাঠ রয়েছে।

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিদ্যালয়ে ২ শিফটে মোট ২৪০০ ছাত্র লেখাপড়া করছে। এখানে ৫৩ জন শিক্ষক আছেন ছাত্রদের জন্য রয়েছে বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, শিল্পকলা বিভাগ, বিএনসিসি, কাব ও স্কাউট কার্যক্রম। এছাড়া ছাত্রদের জন্য বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়, বার্ষিক মিলাদ ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয় এবং ম্যাগাজিন (সবুজপাতা) প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৯৭.২৭% এবং ২০০৮ সালে পাশের হার ৯৯.৩০%।

শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের তালিকা[সম্পাদনা]

  • মিঃ জন স্মিথ (১৮২৯ - ১৮৩৮)
  • মিঃ সিলভেস্টার বারীরো ( ১৯৩৮ - ১৮৫৩)
  • মিঃ জন স্মিথ
  • মিঃ অ্যান্থনি
  • রামতনু লাহিড়ী
  • গোপাল চন্দ্র দত্ত (১৮৫৬ - ১৮৫৭)
  • চন্দ্র মোহন ঠাকুর (১৮৫৭ - ১৮৬৩)
  • ব্রজমোহন রায় (অস্থায়ী)
  • গৌর নারায়ণ রায় (১৮৬৩ - ১৮৭০)
  • জগবন্ধু লাহা (১৮৭০ - ১৮৭৮)
  • রসময় বসাক (মার্চ ১৮৭৮ - সেপ্টেম্বর ১৮৭৯)
  • হরিপ্রসাদ ব্যানার্জী ( অক্টোবর ১৮৭৯ - ডিসেম্বর ১৮৯২)
  • হরি মোহন সেন (জানুয়ারী ১৮৯৩ - জুলাই ১৮৯৭)
  • কালি প্রসন্ন দত্ত (আগস্ট ১৮৯৭ - ফেব্রুয়ারী ১৯০৩)
  • পরেশ নাথ সেন (মার্চ ১৯০৩ - জুন ১৯০৩)
  • প্রসন্ন কুমার বসু (জুলাই ১৯০৩ - জুন ১৯০৩)
  • নব কৃষ্ণ ভাদুরী (নভেম্বর ১৯০৩ - আগস্ট ১৯১৫)
  • ক্ষীরোদ চন্দ্র সেন (সেপ্টেম্বর ১৯১৫ - ১৯২১)
  • রায় সাহেব বসন্ত চন্দ্র দাস (১৯২১ - ১৯২৫)
  • সুধাংশু মোহন সেন গুপ্ত (অস্থায়ী)
  • দ্বিজেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত (১৯৩৬ - ১৯৩৫)
  • খান সাহেব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (মার্চ ১৯৩৫ - আগস্ট ১৯৪২)
  • অবিনাশ চন্দ্র সেন গুপ্ত (আগস্ট ১৯৪২ - মে ১৯৪৩)
  • বি কে বিশ্বাস (জুন ১৯৪৩ - )
  • আব্দুল হামিদ (১৪/৮/৪৭ - ২/৯/৪৭)
  • আজিজুর রহমান (৩/৯/৪৭ - ১৮/২/৫০)
  • এ কে এম আবদুল আজিজ (৮/৩/৫০ - ১/১১/৫০)
  • আবদুল ওয়াহেদ মুহাম্মদ কাবেল (২/১১/৫০ - ২৭/৮/৫৪)
  • আবদুর রশীদ (২৮/৮/৫৪ - ৮/৬/৫৬)
  • মোহাম্মদ সিরাজুল হক (৮/৬/৫৬ - ১০/১১/৫৬)
  • খান মোহাম্মদ সালেক (১১/১১/৬০ - ৬/৬/৬১)
  • পল গুডা (৪/১১/৬১ - ২৩/৯/৬৩)
  • বজলুল হক (১৩/৪/৭০ - ২/৫/৭২)
  • তসীর উদ্দীন আহমদ (৩/৫/৭২ - ৩১/১/৭৩)
  • মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (৩/২/৭৩ - ১৫/১/৮৭)
  • রাজিয়া বেগম (৩১/১/৮৭ - ৩/৯/৮৭)
  • রওশন আরা বেগম (৩/৯/৮৭ - ২০/৩/৯০)
  • মুহাম্মদ মতিউর রহমান (৩০/৩/৯০ - ২৯/৪/৯১)
  • সৈয়দ মোহাম্মদ ইসমাইল (ভারপ্রাপ্ত) (৩০/৪/৯১ - ১৯/১০/৯১)
  • রাজিয়া বেগম (২০/১০/৯১ - ০৮/০১/২০০১)
  • সৈয়দ হাফিজুল ইসলাম (০৬/০১/২০০১ - ১০/১২/২০০৩০
  • মুহাম্মদ আবদুর রব (১১/১২/২০০৩ - ২৪/০৩/২০০৪
  • নমিতা সরখেল ( ২৫/০৩/২০০৪ - ২৩/০৫/২০০৪)
  • মুহাম্মদ আবদুর রব (২৪/০৫/২০০৪ - ১৯/১০/২০০৫
  • মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (১৯/১০/২০০৫ - )
  • এবায়দুল হক
  • সাবিনা ইয়াসমিন

উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ[সম্পাদনা]

যে সব খ্যাতিনামা ব্যাক্তিরা এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলঃ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Barisal Zilla School"মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল 
  2. http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDdfMTJfNF80Ml8xXzEyNzA=
  3. ৩.০ ৩.১ Yasmin, Sabina (২০১২)। "Barisal Zila School"Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]