আবদুর রহমান বিশ্বাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আবদুর রহমান বিশ্বাস
বাংলাদেশের ১১ তম রাষ্ট্রপতি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯২৬-০৯-২৬)২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৬
শায়েস্তাবাদ, বরিশাল জেলা
সন্তান
  • শামসুদ্দোহা কালাম বিশ্বাস
  • এনসানুল কবির জামাল বিশ্বাস
  • মিজানুর রহমান এ. হাসান মনু বিশ্বাস
  • এহতেশামুল হক নাসিম বিশ্বাস
  • আঁখি বিশ্বাস
  • জামিলুর রহমান শিবলী বিশ্বাস
  • রাখি বিশ্বাস
  • রোমেন বিশ্বাস রুবেল
বাসস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ
ধর্ম ইসলাম

আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আবদুর রহমান বিশ্বাস স্কুল ও কলেজ জীবন বরিশালে কাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথমে তিনি স্থানিয় সমবায় ব্যাঙ্কের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষাবিস্তারেরে উদ্দেশ্যে তিনি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে সেচ্ছাসেবি সমাজ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। সাটের দশকে কিছু দিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।[১]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬২১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশ করেন। ১৯৭৪১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় পাট মন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস্‌ সাত্তারের মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হবার পর ১৯৯১ এর ৮ অক্টোবর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি থাকা কালীন তিনি দেশের এক সামরিক ক্যু প্রতিহত করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৬ সালের এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান।

পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রহমান বিশ্বাস।

এখন ঢাকার গুলশান-এর বাসায় কোরআন শরিফ তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওয়াক করে দিন কাটে আবদুর রহমান বিশ্বাসের। বরিশাল শহরে তার পৈতৃক বাড়িতে কেয়ারটেকার ছাড়া এখন আর কেউ থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।[২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আবদুর রহমান বিশ্বাস আট ছেলে মেয়ের বাবা।

সুত্র[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
-অক্টোবর ৮ ১৯৯১, অক্টোবর ৮১৯৯৬
উত্তরসূরী:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ


  1. "কেমন আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি রহমান বিশ্বাস"। Bengali Times। Bengali Times। ১৪ জুন ২০১৫। সংগৃহীত ৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  2. "কেউই নিচ্ছে না সাবেক রাষ্ট্রপতিদের খোঁজ"আল ইহসান। আল ইহসান। সংগৃহীত ৬ নভেম্বর ২০১৬