মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(পীর আবু বকর সিদ্দিকী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি
Furfura Mazar.jpg
মাজার
ব্যক্তিগত
জন্ম(১৮৪৫-০৪-১৫)১৫ এপ্রিল ১৮৪৫
মৃত্যু১৭ মার্চ ১৯৩৯(1939-03-17) (বয়স ৯৩)
সমাধিস্থলফুরফুরা শরীফ, পশ্চিম বাংলা
ধর্মইসলাম
সন্তান৫ ছেলে
পিতামাতা
  • আব্দুল মোক্তাদির সিদ্দিকী (পিতা)
  • মুহব্বতুন নিসা বেগম (মাতা)
আখ্যাসুন্নি
মুসলিম নেতা
শিক্ষকজামালুদ্দীন, বিলায়েত, আমীন বিদ্ওয়ান

ফুরফুরা শরীফের পীর মুজাদ্দিদে যামান আমীরে শরীয়ত আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহ: ইসলামের প্রথম খলীফার বংশের বিখ্যাত পীর ছিলেন।[১] বাংলা ও ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামী শরীয়ত তরীকত প্রচার, ওয়াজ-নসিহত, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, পত্রপত্রিকা প্রকাশ ও শিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।[২][৩][৪][৫]

ফুরফুরার পরিচয়[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালের Hooghly district hand book গ্রন্থে ফুরফুরার সম্পর্কে বলা হয়েছে "a place of pilgrimage for muslims" ১৯৭২ সালের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত West Bengal district gazetters; Hooghly " by Amiya kumar I.a.s." একই কথা বলা হয়েছে। হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ গ্রন্থে বলা হয়েছে " ফুরফুরা বঙ্গের মুসলিম দিকের একটি প্রসিদ্ধ পীঠস্থান"। ফুরফুরার পীর বংশে ভগদ্ভক্ত ফকির মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করায় এই স্থান বঙ্গের মুসলমানদের নিকট তীর্থক্ষেত্র বলে পরিগণিত" । [৬][৭]

       এই পুণ্যভূমি কেবলমাত্র তীর্থস্থানই নয়, উভয় বঙ্গ আসামের ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও প্রসিদ্ধ। আজকের মত অতীতেও শিক্ষা-দীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হতো এই ফুরফুরা। পূর্ববঙ্গের (অধুনা বাংলাদেশ) প্রসিদ্ধ ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক হাজী শরীয়তুল্লাহ মক্কায় উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে ফুরফুরাতে এসে আরবি, ফার্সী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।[৮][৯]

হুগলি জেলার এই ফুরফুরা গ্রামে ১৮৪৫/৪৬ সনে জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন যুগে সংস্কারক শাহ আবু বাকর সিদ্দিকি (রহঃ:)।[১০] সুদূর মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গগ,বাংলাদেশ, আসাম ও অন্য আরও স্থানে তাঁর খলিফাগণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। তাদের মোট সংখ্যা ছিল ৫৭০।

নিম্নে তাঁদের মধ্যে কতিপয় এর নাম উল্লেখ করা হলো।

খলিফাগনঃ

মৌলানা রুুুহুল আমিন (রহঃ আল্লামা হাতেম আলী দুধলী রহঃ ),প্রফেসরর আব্দুল খালেক (রহঃ),মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, হাফেজ আব্দুর রহমান হানাফি (রহঃ) ওজিহুল্লাহ খান সন্দিপী (রহঃ) আল্লামা নেসার উদ্দিন (রহঃ)

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি ১৮৪৫ সালে হুগলী জেলার ঐতিহাসিক গ্ৰাম ফুরফুরা শরিফে পিতা আব্দুল মুক্তাদির সিদ্দিকীর ঘরে জন্ম গ্ৰহণ করে, এবং ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিকির সরাসরি বংশধর, তিনি সবার কাছে দাদা হুজুর পীর কেবলা নামে পরিচিত ।

শিক্ষা ও সাধনা

কোরআন হাদিস শিক্ষা:

সে যুগে মুসলমানদের মধ্যে ইংরাজী শিক্ষার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তথাপিও আত্মীয় স্বজনদের উৎসাহে শাহ আবুবকর (রঃ) স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু মহান প্রভুর ইচ্ছা ছিল, তাঁকে দিয়ে স্বীয় দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করার।

এক রাত্রে বালক আবুবকর (রঃ) স্বপ্ন দেখেন, একজনের জানাজা উপলক্ষে বহু ওলীআল্লাহ সেই সাথে স্বয়ং নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) উপস্থিত হয়েছেন। বালক আবু বকরও ঐ জামাতে অংশ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করতে,নবী পাক (সাঃ) বললেন, “যদি তুমি এই জামাতে শরীক হতে ইচ্ছা কর তাহলে যে শিক্ষা তুমি অর্জন করেছ তাহা ত্যাগ করো"।[১১]

সুতরাং এই শিক্ষা ত্যাগ করে ফুরফুরার নিকটবর্তী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিতাপুর মাদ্রাসায়(১৭৭২) ভর্তি হন। এখানের পড়াশোনা শেষ করে হুগলি সদর শহরের মুহসিনিয়া মাদ্রাসা থেকে তৎকালীন সর্বোচ্চ জামাতে উলা ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন[১২][১৩]। অতঃপর কলকাতায় গমন করতঃ সিন্দুরিয়া পট্টি (অধুনা কলুটলা, কলকাতা) মসজিদে জামালুদ্দিন শিক্ষা কেন্দ্রে হাফিজ জামালুদ্দিন মুঙ্গেরী (রহঃ) এর নিকট হাদীস, তফসির ও ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যায়ন করেন।হাফেজ জামাল উদ্দিন ছিলেন তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া আন্দোলনের প্রবর্তক সৈয়দ আহমদ বেরলভী (রহঃ)এর খলিফা। বালাকোট যুদ্ধে তিনি নিজ পীরের সঙ্গী ছিলেন। [১৪][১৫][১৬]হেকমত, মান্তিক বা দর্শন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন ফিরিঙ্গি মহলের নজর শাহ বেলায়েতী (রহঃ) এর কাছে। তখন তিনি কলকাতার নাখোদা মসজিদে অবস্থানরত ছিলেন[১৭][১৮][১৯]। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে ধারাবাহিক ভাবে দীর্ঘ ১৮ বছর ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার মধ্যে অতিবাহিত করেন[২০][২১]। উল্লেখ থাকে যে, আবু বকর সিদ্দিকীর ছিল নিজস্ব একটি লাইব্রেরী। যাতে ছিল বহু দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থসমূহ। যেটি বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফুরফুরা টাইটেল মাদ্রাসার(১৯০২) সঙ্গে যুক্ত।

[২২][২৩][২৪]

১৮৯২ সালে তিনি মক্কা ও মদিনা গমন করেন। মদীনা শরীফে কিছু কম এক বছর অবস্থান করে মদিনার তৎকালীন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শাইখুদ্ দালায়েল সৈয়দ মোহাম্মদ আমিন ইবনে আহমাদ ইবনে রেদওয়ান মাদানীর নিকট 40 টি হাদিস গ্রন্থের সনদ লাভ করেন[২৫][২৬][২৭][২৮]

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান[সম্পাদনা]

তার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ১১০০ মাদরাসা এবং ৭০০ মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়।[২৯]

হাদীসের সনদ লাভ[সম্পাদনা]

পূর্ববঙ্গের ফেনী আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রসিদ্ধ আলেম এম ওবায়দুল (১৯০৩-১৯৮৪)রহঃ লিখেছেন "ইলমে জাহের ব্যতীত আল্লাহ তাঁকে ইলমে লাদুন্নীও (আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান) প্রদান করেছিলেন। একদিন স্বপ্ন দেখেন, হযরত নবী করীম (দঃ) আগে আগে যাচ্ছেন আর তিনি তাঁর পিছনে পিছনে মাসআলা জিজ্ঞেস করতে করতে যাচ্ছেন এবং হুযুর (দঃ) উত্তর প্রদান করছেন।"ফলে আল্লাহ পাক তাঁকে কোরআন, হাদীস ও ফিকহের বিদগ্ধ পণ্ডিত করেছিলেন । [৩০]

হাফেজ মোহাদ্দেস জামালুদ্দিন আহমদ (রহঃ) এর সনদের ধারাটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

  • শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি(রহঃ)
  • হাফেজ জামালুদ্দিন আহমেদ(রহঃ)
  • মুহাদ্দিস আহমদ আলী সাহারানপুরী(রহঃ)
  • মোহাদ্দেস  শাহ ইসহাক দেহলবী(রহঃ)
  • মোহাদ্দেস শাহ আব্দুল আযীয দেহলবী(রহঃ)
  • শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী(রহঃ)।

মুহাদ্দিস সৈয়দ আমিন ইবনে আহমদ রিদওয়ান (রহঃ)  এর সনদের দুটি ধারা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি(রহঃ)  সৈয়দ মোহাম্মদ আমিন ইবনে আহমাদ ইবনে রিদুওয়ান  মাদানী(রহঃ)  ➡️  আব্দুল গনি মুজাদ্দেদী (রহঃ)  ➡️  শাহ মুহাম্মদ ইসহাক(রহঃ) এবং শাহ মাখসুসুল্লাহ ইবনে রফিউদ্দিন দেহলবী(রহঃ)  ➡️  শাহ আব্দুল আযীয দেহলবী(রহঃ)  ➡️  শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী(রহঃ) ।

২) শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি (রহঃ)  ➡️  সৈয়দ মোহাম্মদ আমিন ইবনে আহমাদ ইবনে রিদুওয়ান  মাদানী(রহঃ)  ➡️   শাহ আব্দুল গনি মুজাদ্দেদী (রহঃ)  ➡️  পিতা আবু সাঈদ মুজাদ্দেদী (রহঃ)  ➡️  আল আরিফ আল আলীম সিরাজ আহমদ(রহঃ)  ➡️   মোহাম্মদ মুর্শিদ (রহঃ)  ➡️  মোহাম্মদ আরশাদ(রহঃ)  ➡️   মোহাম্মদ ফাররুখ শাহ সেরহেন্দী (রহঃ)  ➡️  খাজা মোহাম্মদ সাঈদ খাজে নূর রহমত (রহঃ)  ➡️  শায়েখ আহমদ মুজাদ্দেদ আলফেসানী সেরহেন্দী (রহঃ)।

মদিনার মহাদ্দেস সৈয়দ আমিন রেদওয়ান (রহঃ) এর বহু সনদ আছে। এখানে শুধুমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সনদ উল্লেখ করা হলো।[৩১]

তখনকার সময়ে মাদরাসায় আলিয়ায় হাদীস শরীফের দারন বা পাঠদান হতাে না। এই অভাব উপলব্দ করে, শাহ আবুবকর (রঃ) ১৯০২ সালে কলকাতা ঘাসপট্টি মসজিদে হাদিস পাঠ দানের ব্যবস্থা করেন। শামসুল উলামা শাহ সাফিউল্লাহ (রহঃ) কে কুড়ি টাকা বেতনে হাদিস পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করেন। সম্ভবতঃ কোনো কোনো সময় তিনি নিজেও হাদিসের পাঠ দান করতেন।[৩২][৩৩][৩৪] তদীয় মেজ সাহেব জাদা শাহ আবু জাফর সিদ্দিকী মেজ হুজুর পীর কেবলা (রহঃ) তাঁর কাছ থেকে ২০টি হাদীস গ্রন্থের সনদ লাভ করেছিলেন।[৩৫]

উলামা শাহ সফিউল্লাহ (রঃ)কে ২০ টাকা বেতনে হাদিস পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করেন, সম্ভবতঃ কোন কোন সময় তিনি নিজেও হাদিসের পাঠদান করতে[৩৬]ন।  তদীয় মেজ সাহেবজাদা শাহ আবু যাফর সিদ্দিকী (রঃঁ) তার কাছ থেকে ২০টি হাদিস গ্রন্থের সনদ পেয়েছিল[৩৭]েন।


ফুরফুরারা শরীফের বাসিন্দা তদীয় আত্মীয় সৈয়দ মাওলানা মানসুর হােসায়েন (রঃ) সাহেব তার নিকট “মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা” হাদিস গ্রন্থের পাঠ গ্রহণ করেছিলেন এ হলাে তাঁর নিজেস্ব বর্ণনা। আমরা হয়তাে অবগত নয়, এই ভাবে অনেকেই তার নিকট হাদিসের পাঠগ্রহণ করতঃ সনদ লাভ করেছিলেন।[৩৮]

আধ্যাত্মিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

আল্লাহ পাক বলেন “যাকে ইচ্ছা তাকে আল্লাহ প্রিয়পাত্র রূপে মনােণীত করেন, এবং যে অতি আগ্রহের সাথে তাঁর অভিমুখী হন, তাকে তিনি স্বীয় নৈকট্যের পথ দেখান।”

কুরআনের এই আয়াতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের দুটি পথ উল্লেখ হয়েছে 'জাজবী' ও 'সুলুুক'।

কোন, কোন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ জজবা’ ও ‘সুলুক’ উভয় পর্যায়ের মর্যদা দান করে থাকেন। আল্লাহ পাকের বিশেষ কল্যাণহেতু হযরত শাহ পীর আবু বক্কার সিদ্দিকী (রহঃ) এই মর্যাদায় বিভূষিত হন। ছাত্রজীবনে হুগলি মাদ্রাসায় থাকাকালীন তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে, অধিকাংশ রাত্রে তাঁর অন্তরের সাথে চার তরিকার নিসবত বা এক ধরনের যোগসুত্র ঘটতো। এই যোগসুত্র যখন যে তরিকার সাথে হতো তখন তিনি অধীর হয়ে ওই তরিকার জিকির করতেন।

অনেক সময় একটি নূর বা জ্যোতি দ্বারা তাঁর আপাদ-মস্তক আচ্ছাদিত হয়ে পড়ত এবং তাঁর আত্মবিস্মৃত ঘটতাে। শাহ আবুবকর (রঃ) প্রথম জীবনে, জনমানব শূণ্য ময়দানে যিকরে জলীর (উচ্চস্বরে যিকর) ্যেধ্ বহু বহু রাত্রি অতিবাহিত করেন। এককথায় ছাত্রজীবন থেকেই তার জাজবী অবস্থার সাথে সাথে কৃচ্ছ্র সাধনাও শুরু হয়েছিল।

এরপরও তিনি ইলমুত তাছাউফের জ্ঞান লাভ ও আমলি চর্চার জন্য সমকালীন শ্রেষ্ঠ সাধক শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহঃ) এর নিকটে বায়'আত হন। ইলমুত তরিকত তথা তাছাউফের চারধারার মাসয়ালা (প্রত্যকটি মাসয়ালার তারিফ,সবাব,আলামত,এলাজ) শিক্ষা করেন এবং তার সোহবাতে থেকে আমলিভাবে রিয়াজত মোজাহাদা করেন। পাশাপাশি তাঁর সান্নিধ্যে চার তরিকার নিয়ম নীতি অনুযায়ী (নফল) জিকিরের অনুশীলন পূর্বক খিলাফত লাভ করেন। পীরের ভালোবাসায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর কোলে মাথা রেখেই শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহঃ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।

সময়টা ছিল ১৩০৪ হিজরী ৮ই রবিউল আউয়াল । ইং ১৮৮৬ রবিবার । বেলা ৪ ঘটিকা।

ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

উনিশ শতকের শেষার্ধের দিনগুলি ছিল মুসলমানদের জন্য চরম দুর্যোগ ও দুর্ভোগের দিন, ফারয়েজী ও ওয়াহাবী বা তরীকায়ে মুহাম্মদীয়া’ আন্দোলনের তীব্রতা তখন প্রশমিত। একদিকে ক্ষমতার শীর্ষে ইংরেজ, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করেছে জাতীয় উন্নতি, অবনতি। ভাষাগত দ্বন্দ্বের সাথে সাথে স্বজাতি বিজাতীর মধ্যে ছিল ধর্মগত বিরােধ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘাত।

ইসলামের সঠিক ধর্মমত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে শীয়া সুন্নি, হানাফী,মােহাম্মাদী, বেদাতী পীর-ফকির, কাদিয়ানী বিরােধের পাশাপাশি খৃষ্টান, আৰ্য্য,বাউলদের প্রচার ও প্রভাবে মুসলিম সমাজ ছিল উভ্রান্ত। [৩৯][৪০][৪১]

“এই সময় বাংলাদেশের নানা জেলা থেকে খবর আসে, মুসলমানেরা খ্রীষ্টান, ব্রাহ্ম ও হিন্দু ধর্ম অবলম্বন করছেন।যশােহর জেলায় কিছু সংখ্যক মুসলমান কারিগর খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে হাটে মাঠে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচার করে বেড়ায়। চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে , খুলনায় ও সাক্ষীরা মহকুমায় কতিপয় মুসলমান ব্রাহ্ম ধর্ম অবলম্বন করে। এমন খবরও প্রকাশিত হয় যে, রংপুর জেলায় কিছুসংখ্যক মুসলমান “খােল করতাল যােগে হরি সংকীৰ্ত্তন করে নিরামিষ খায়। তাহাদের মধ্যে মুসলমানের কোন কিছু দৃষ্ট হয় না।” [৪২][৪৩]

তাছাড়া নানা দেশাচার কুসংস্কারে ও শিক্ বিদআতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ছিল মুসলিম সমাজ, শিক্ষার আলাে বলতে যা ছিল তা হলাে অপ্রতুল অতিক্ষুদ্রকায় শ্রেণীর মধ্যেই  সীমাবদ্ধ। মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক দিকের পর্যালােচনায় এটি খুবই স্পষ্ট যে, সবদিক থেকেই যুগটি ছিন্নপতনের যুগ। অথচ ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র কাওমী মাদ্রাসা আধ্যাত্মিক অনুশীলন কেন্দ্র খানকা ছিল না তা নয়।

সমকালীন অবিভক্ত বঙ্গ আসামে এমন সব উলামা লক্ষ্য করা যায়,আজকের দিনে ভারতে যেরূপ বিদগ্ধ পণ্ডিত ব্যক্তি দুর্লভ বললে অত্যুক্তি হবে না। যেমন – শামসুল উলামা পীর হযরত গােলাম সালমানী (রঃ) (মৃঃ১৯১২) ইসলামিক দর্শন শাস্ত্রের, পণ্ডিত, আল্লামা, লুতফর রহমান বর্ধমানী(রঃ) (মৃঃ ১৯২০-২১) হাদিসতত্ববিদ, আল্লামা, এসহাক বর্ধমানী (রঃ) (মৃঃ১৯২৮) শ্রেষ্ঠ ফকিহ, আল্লামা, বেলায়েত হােসেন কলকাতাবী (১৮৬৪ -১৯২২) আরবী সাহিত্যের পণ্ডিত, আল্লামা, বেলায়েত হােসেন বীরভূমী (১৮৮৭) (রঃ), মুহাদ্দিস, আল্লামা, আবদুল ওয়াহেদ চাটগামী (রঃ) (মৃঃ১৯১০), আল্লামা মুহাম্মদ মঙ্গলকোটি বর্ধমানী (রঃ) (মৃঃ ১৯০৭), চট্টগ্রামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ হাসান ওরফে মুহাদ্দিস সাহেব (রঃ) (মৃঃ১৯২০), আল্লামা মুহাম্মদ তাহের সিলেটি (রঃ) (মৃঃ ১৯৪০), এমন অনেক বিদগ্ধ পণ্ডিতগণের নাম জানা যায়। এই সকল উলামারা মাদ্রাসায় শিক্ষাদানে রত ছিলেন। অনেকে উর্দু ও আরবী বই-পুস্তকও রচনা করেন।[৪৪][৪৫][৪৬] কেউ কেউ পীরও ছিলেন, যেমন শামসুল উলামা গােলাম সালমানী (রঃ)। ফুরফুরার শাহ

আবুবকর সিদ্দিকী (রঃ)'র সাথে তার কেবল আত্মীয়তার সম্পর্ক নয়, উভয়ের মধ্যে ছিল নিবিড় এক আত্মিক যােগসূত্র। গােলাম সালমানী (রঃ) বয়সে বড় ছিলেন বলে, শাহ আবুবকর সিদ্দিকী (রঃ) তাকে বড় ভাই বলে সম্বােধন করতেন। উভয়ে ছিলেন শাহ সুফী ফতেহ আলী (রঃ)’র খলিফা! শাহ গােলাম

সালমানী (রঃ) এই বলে তাঁকে দুয়া করতেন; আল্লাহ আমার ভাই শাহ আবুবকর (রঃ) দ্বীনের প্রচার করছেন, আমার হায়াত কম করে দিয়ে তাঁর হায়াতে বরকত দান করবেন। গােলাম সালমানী (রঃ) যেমন একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত ছিলেন, অনুরূপ একজন পীর মুর্শিদও ছিলেন।[৪৭] আল্লামা আবদুল আউওয়াল জৌনপুরী (রঃ) (১৮৬৬-১৯২১) মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (১৮০০ - ১৮৭৩) (রঃ)’র কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত, উর্দু, আরবী ও ফারসী ভাষায় ১২১টি পুস্তক-পুস্তিকা রচনা করেন। যেসব ছােট-বড় পুস্তক-পুস্তিকা এবং গ্রন্থ তিনি রচনা করেছিলেন, তার মধ্যে ৮৭টি প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ৪৫টি আরবীতে, ৪০টি উর্দুতে দু'টি ফার্সীতে।তার বৃহৎ গ্ৰন্থ ‘মুফীদুল মুফতী’ ২৮৬ পৃষ্ঠার। [৪৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আল-জামেয়াতুস সিদ্দিকীয়া দারুল উলুম মাদরাসা"। furfura.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  2. "প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ ফুরফুরা শরীফের যুব সংস্কারক"। দৈনিক জনকণ্ঠ। ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "যুগসংস্কারক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রহ)"। দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  4. "জাতীয় জাগরণে পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.)-এর অবদান"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  5. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৪। 
  6. শ্রী সুধীর কুমার মিত্র (১৯৯১)। হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ। ৭৮/১ মহাত্মা গান্ধী রোড, কোলকাতা: মন্ডল বুক হাউস। পৃষ্ঠা ১৩০১। 
  7. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২। 
  8. ডঃ এম, এ রহিম (১৯৯৪)। বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস। ঢাকা, বাংলাদেশ: আহমদ পাবলিশিং হাউস। পৃষ্ঠা ৭৪। 
  9. ডঃ অমলেন্দু দে (১৯৯১)। বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। পৃষ্ঠা ৪৬। 
  10. সৈয়দ বাহাউদ্দিন (২০০২)। বাংলার ইতিহাসে ফুরফুরা শরীফ। ফুরফুরা, হুগলি: হযরত পীর আবু বাকার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার। পৃষ্ঠা ৭৭,৮০। 
  11. বিস্তারিত জীবনী। বসিরহাট উত্তর ২৪ পরগনা: নবনূর কম্পিউটার ও প্রেস। ১৪২১সন। পৃষ্ঠা ১৪,১৫।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  12. বাংলাদেশের পীর আউলিয়া গান। ঢাকা, বাংলাদেশ: মদীনা পাবলিকেশন। ২০০৮। পৃষ্ঠা ৫৯। 
  13. আমীন, মৌলানা রুহুল (১৪২১ সংঃ ষষ্ঠ)। বিস্তারিত জীবনী। বসিরহাট উত্তর ২৪ পরগনা: নবনূর কম্পিউটার ও প্রেস। পৃষ্ঠা ১৫।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  14. আমীন, মাওলানা রুহুল (১৪২১)। বিস্তারিত জীবনী। বসিরহাট উত্তর ২৪ পরগনা: নবনূর কম্পিউটার ও প্রেস। পৃষ্ঠা ১৬। 
  15. আবু ফাতেমা, মোহাম্মদ ইসহাক (জুন ১৯৮০)। ফুরফুরার পীর হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী। ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা , বাংলাদেশ: ইফা প্রকাশনা। পৃষ্ঠা ৯। 
  16. Muhammad, Makki (1972 oct)। The Muslim Digest। 100 Brick Field Road, Durban, South Africa: International monthly of Muslim affairs। পৃষ্ঠা 72।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  17. মাওলানা কুতুব উদ্দিন, (পীর সাহেব) (১৯৯৫)। ফুরফুরা বিজয়ী ও মোজাদ্দেদে জামান। তালতলা, কলকাতা: সুফী প্রেস। পৃষ্ঠা ২৪। 
  18. মাওলানা এম, ওবায়দুল হক (২০০৮)। বাংলাদেশের পীর আউলিয়া গান। ঢাকা, বাংলাদেশ: মদিনা পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ৫৯। 
  19. সৈয়দ মোহাম্মদ, বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৭। 
  20. সৈয়দ মোহাম্মদ, বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৮। 
  21. ফুরফুরার পীর আল্লামা, আবু জাফর সিদ্দিকী (২০০৯)। আল- মাওযুআত, একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা, পর্যালোচক: ডাঃ খন্দকার ব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ: উসামা খন্দকার, আস - সুন্নাহ পাবলিকেশন্স। পৃষ্ঠা ২৯।  line feed character in |শিরোনাম= at position 14 (সাহায্য)
  22. সৈয়দ মোহাম্মদ, বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৮,৯। 
  23. আবু ফাতেমা, মোহাম্মদ ইসহাক (১৯৮০)। ফুরফুরার পীর হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। পৃষ্ঠা ১০। 
  24. আবু ফাতেমা, মোহাম্মদ ইসহাক (১৯৮০)। ফুরফুরার পীর হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ১০। 
  25. ডঃ মুহাম্মদ, শহীদুল্লাহ (ভাষাবিদ) (১৯৬৩)। ইসলাম প্রসঙ্গ। ৩৯ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০: মাওলা ব্রাদার্স। পৃষ্ঠা ১০৭। 
  26. সৈয়দ মোহাম্মদ, বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি। আরামবাগ , হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৮,৯। 
  27. মাওলানা রুহুল, আমিন (১৪২১ সংঃ ষষ্ঠ)। বিস্তারিত জীবনী। বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগনা: নবনূর কম্পিউটার ও প্রেস। পৃষ্ঠা ১৬,১৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  28. ডাঃ সৈয়দ আবুল, হোসেন (১৯২৪)। মোসলেম পতাকা "তারীখুল ইসলাম"। ৬৩ ক্লিন স্ট্রীট ,: দরবার প্রেস। পৃষ্ঠা দ্বিতীয় খন্ড ৮০৩। 
  29. দৈনিক ইনকিলাব 4জুন 2016 লিঙ্ক https://m.dailyinqilab.com/article/21766/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81-%E0%A6%AC%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%80-%28%E0%A6%B0%E0%A6%B9%29-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8
  30. আব্দুস সাত্তার (১৯৩৯)। মোহাম্মদ আবু বকর ( জীবন চরিত)। ৬০, হেমেন্দ্র দাস রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ: আব্দুল্লাহ প্রিন্টার্স এন্ড পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা ৩৬। 
  31. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বক্কার সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মুহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৯,১০। 
  32. মাওলানা মমতাজ উদ্দিন (২০০৪)। মাদ্রাসা আলিয়ার ইতিহাস। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ৫৮। 
  33. আব্দুল ওহাব এম.এ. (১৯৭৯)। হযরত মাওলানা সাফিউল্লাহ। ঢাকা, বাংলাদেশ: সোসাইটি ফর পাকিস্তান স্ট্রাডিজ। পৃষ্ঠা ৪০৭। 
  34. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ১১। 
  35. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৩৯৩ সন)। জীবন চরিত। মহাত্মা গান্ধী রোড, কলকাতা: বাংলা প্রিন্ট। পৃষ্ঠা ২৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  36. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলী: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ১১। 
  37. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ১১। 
  38. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ১১। 
  39. ডঃ ওয়াকিল আহমদ (১৯৮৩)। উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা-চেতনার ধারা। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ১–৫০। 
  40. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২৩। 
  41. ডঃ অমলেন্দু দে (১৯৯১)। বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। 8th Floor, 6-A, Raja Subodh Mullick Square Rd, Bowbazar, Kolkata, West Bengal 700013: পঃ বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। পৃষ্ঠা ১১৯। 
  42. ডঃ অমলেন্দু দে (১৯৯১)। বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। 8th Floor, 6-A, Raja Subodh Mullick Square Rd, Bowbazar, Kolkata, West Bengal 700013: পঃ বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। 
  43. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২৩। 
  44. মাওলানা নূর মোহাম্মদ আ'জামী (১৯৯৭)। হাদিসের তত্ব ও ইতিহাস। দিল্লি, ভারত: বাংলা ইসলামিক একাডেমী। পৃষ্ঠা ১–৫০। 
  45. ওলামা সংগঠন (২০০১)। মুসলিম মনীষী (সংকলন)। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ৩১৫–৩৪১। 
  46. সৈয়দ মোহঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২৪। 
  47. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২৮। 
  48. ডঃ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৯৯৫)। মাওলানা আব্দুল আওয়াল জৌনপুরী। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ৭,২৬। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

[১]

  1. সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ প্রবর্তক শাহ আবু বাকার সিদ্দিকি। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ৯,১০। 

[১][২]

  1. মাওলানা মমতাজ উদ্দিন (২০০৪)। মাদ্রাসা আলিয়ার ইতিহাস। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ২য় ঘন্ড ৮০৩। 
  2. মৌলানা মমতাজ উদ্দিন (২০০)। মাদ্রাসা আলিয়ার ইতিহাস। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ২য় খন্ড ৫৮। 

[১]

  1. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ভাষাবিদ) (১৩৯৩)। জীবন চরিত। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ২৭।