আবদুল হাই সিদ্দিকী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বড় হুজুর

আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল হাই সিদ্দিকী
আব্দুল হাই সিদ্দিকীর মাজার
আব্দুল হাই সিদ্দিকীর মাজার
২য় পীর, ফুরফুরা দরবার শরীফ
কাজের মেয়াদ
১৯৩৯ – ১৯৭৭
পূর্বসূরীআবু বকর সিদ্দিকী
উত্তরসূরীআবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯০৩
১৯৭৭
সমাধিস্থলফুরফুরা শরীফ, পশ্চিম বাংলা
পিতাআবু বকর সিদ্দিকী
ধর্মইসলাম

আবদুল হাই সিদ্দিকী (জন্ম. ১৯০৩ - মৃত্যু ১৯৭৭) ভারতীয় একজন আলেম, পীর, সমাজসেবক ও ধর্মপ্রচারক ছিলেন। তার প্রকৃত নাম ছিলো আবু নসর মুহাম্মদ আবদুল হাই। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত ফুরফুরা দরবার শরীফের পীর মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিকীর সন্তান। তার পিতা ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের বংশধর। আব্দুল হাই স্থানীয়ভাবে বড় হুজুর নামে অধিক পরিচিত।[১] তিনি ১৯৪৪ সালের রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ছিলেন এবং এই সংগঠনকে সাথে নিয়ে মুসলিম লীগের পাকিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করতেন।

বাল্যকাল[সম্পাদনা]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

তিনি বাল্যকালে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন ফুরফুরা মাদরাসা থেকে। এরপর তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন, এই মাদ্রাসা থেকে তিনি টাইটেল পাশ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন আলেমের সান্নিধ্যে অবস্থান করে বহু ইসলামিশাস্ত্র পড়াশোনা করেছেন। তিনি তার পিতার নিকট আত্ন্যাধিক সাধন সংশ্লিষ্ট পড়াশোনা, শরিয়ত ও মারিফত শিক্ষা লাভ করেছেন। এবং সমস্ত শিক্ষা লাভ শেষে পিতার খেলাফত উত্তরাধিকার লাভ করেন। ১৯৩৯ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরের স্থানে সমাসীন হোন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ২০ শতকের একজন প্রভাবশালী সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি মুসলিম সমাজের ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও ইসলামি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত আনজুমানে ওয়ায়েজিন ও ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে বাংলা ও আসাম সংগঠনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। এ উভয় সংগঠনই খ্রিস্টান মিশনারিদের ইসলাম-বিরোধী কার্যকলাপ ও অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলো।

১৯২৩ সালে তিনি তার পিতার সাথে মক্কা ও মদিনায় যান, সেখানে গিয়ে বিশিষ্ট আলেমদের সান্নিধ্যে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি কুরআন হাদিস, ফিকহ, আকাইদ, মানতিক, ফালসাফা, ইতিহাস এবং ফারসি এবং উর্দূ কাব্য সাহিত্যের উপর দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।[২]

এছাড়াও আবদুল হাই একজন ভালো বক্তা ছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ বাংলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ওয়াজ করতেন। তিনি ১৯৪৪ সালে রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কর্মীদের নিয়ে মুসলিম লীগের সঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করতেন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়ে তার এই সংগঠনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এছাড়াও তিনি সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য জমিয়তে উলামায়ে হানাফিয়া সিদ্দিকীয়া, নূরুল ইসলাম বায়তুল মাল, হিজবুল্লাহ্ (১৯৪৮) প্রভৃতি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও প্রত্যক্ষ সাহায্যে ১৯৪৩ সালে কলকাতায় মাসিক নেদায়ে ইসলাম নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়, পত্রিকাটি এখনও ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

অবদান[সম্পাদনা]

তিনি তৎকালীন ভারতের মুসলমানদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল। তিনি যেসকল প্রতিষ্ঠান নির্মান করেছিলেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল

  • ইসলাম মিশন (১৯৬৩) প্রতিষ্ঠা,
  • ফৎহিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার উন্নয়ন
  • ইউনিয়ন হেলথ সেন্টার
  • নিউ স্কিম হাই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস উন্নয়ন
  • পশ্চিমবঙ্গ সিদ্দিকীয়া গার্লস হাই মাদ্রাসা (১৯৬৭)
  • এবং ইসলাম মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা
  • পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে খানকাহ প্রতিষ্ঠা
  • ঢাকার মীরপুরে দারুস সালামে খানকাহ প্রতিষ্ঠা

উপমহাদেশে ইসলামের উন্নয়নে আবদুল হাই সিদ্দিকীর বিশেষ কাজ করেছে। তার কাজের পরিধি সমস্ত বাংলা জুড়েই ছিলো, এইজন্য ভারত বাংলা ও বাংলাদেশের তার অনেক ভক্ত রয়েছে। প্রতিবছর তার মৃত্যু বার্ষিকে তারা দোয়া আয়োজন করে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সিদ্দিকী, আবদুল হাই - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-১৪ 
  2. ইসলামী বিশ্বকোষ, ১ম খণ্ড ৫১৯-৫২০ পৃষ্ঠা