ব্রুস ইয়ার্ডলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্রুস ইয়ার্ডলি
ব্রুস ইয়ার্ডলি.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯৪৭-০৯-০৫)৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
মিডল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৭ মার্চ ২০১৯(2019-03-27) (বয়স ৭১)
কুনুনুরা, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম, ডানহাতি মিডিয়াম, ডানহাতি অফ ব্রেক
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩
রানের সংখ্যা ৯৭৮ ৫৮
ব্যাটিং গড় ১৯.৫৫ ১৪.৫০
১০০/৫০ -/৪ -/-
সর্বোচ্চ রান ৭৪ ২৮
বল করেছে ৮৯০৯ ১৯৮
উইকেট ১২৬
বোলিং গড় ৩১.৬৩ ১৮.৫৭
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৭/৯৮ ৩/২৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩১/- ১/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৭

ব্রুস ইয়ার্ডলি (ইংরেজি: Bruce Yardley; জন্ম: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ - মৃত্যু: ২৭ মার্চ, ২০১৯) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মিডল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যবর্তী সময়কালে তিনি অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ৩৩ টেস্ট ও ৭টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অ্যাশলে মলেটের সাথে তাকেও সর্বকালের সেরা স্পিনারের মর্যাদা দেয়া হয়। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম, মিডিয়াম ও অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করেতন তিনি।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

দলীয় সঙ্গীদের কাছে তিনি ‘রু’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ইয়ার্ডলি অফ-স্পিন বোলার ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের অন্যান্য অনেক খেলোয়াড়ের ন্যায় শুরুতে তিনি পেস বোলিং করতেন। বিশ বছর বয়সের মধ্য অফ-স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হন ও ক্লাব ক্রিকেটে সফলতা দেখান। তারপর তিনি রাজ্যদলেও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। তার বোলিংয়ের ধরন ক্ষাণিকটা মিডিয়াম পেস ধরনের। আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি চারবার অর্ধ-শতকের দেখা পান। ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডার হিসেবে গালি অঞ্চলে দাঁড়িয়ে ৩৩ টেস্টে ৩১টি ক্যাচ নেন। ‘শতাব্দীর সেরা ক্যাচ’ হিসেবে জন ডাইসনের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিলভেস্টার ক্লার্ককে আউট করেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকে ইয়ার্ডলি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের স্পিনার ছিলেন। এ সময়েই তিনি তার ১২৬টি উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে ১৯৮১-৮২ মৌসুমে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার নিজস্ব সেরা বোলিং ৭/৯৮ করেন। এ মৌসুমেই তিনি বেনসন এন্ড হেজেস বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের দরুন অস্ট্রেলিয়া দল একগুচ্ছ শীর্ষস্তরের খেলোয়াড়দেরকে হারায়। স্পিনারের মর্যাদার লড়াইয়ে টনি মান আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও চার টেস্ট পর বাদ পড়েন। পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে ইয়ার্ডলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট জয় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য মনোনীত হন। সেখানে তিনি জিম হিগসের সাথে স্পিন জুটি গড়েন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নেন। ৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয়বরণের পর দল নির্বাচকমণ্ডলী পিটার টুহি, ব্রুস ইয়ার্ডলি ও ফিল কার্লসনকে দল থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেন। তাদের পরিবর্তে ডেভ হোয়াটমোর, ট্রেভর লাফলিনপিটার স্লিপকে দলে নেয়া হয়।[১] এরপর অবশ্য লাফলিন নাম প্রত্যাহার করে নেন ও ওয়েন ক্লার্ককে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।

পাকিস্তান গমন, ১৯৭৯-৮০[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালে রডনি হগঅ্যালান হার্স্টের মারাত্মক বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দল বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৩০৫/৩ হলেও ৩১০ রানে অল-আউট হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তান দল জয়ে সক্ষমতা দেখায়। স্লিপ ১/১৬ ও ১/৬২ এবং ১০ ও ০ রান তুলেন।[২][৩] খেলার এ ফলাফলে দল নির্বাচকমণ্ডলী বেশ ক্ষুদ্ধ হন। পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ এ খেলার পরে দেখা যায়। গ্রেইম উড, ওয়েন ক্লার্ক, জিম হিগস ও পিটার স্লিপকে বাদ দিয়ে রিক ডার্লিং, ট্রেভর লাফলিন, ব্রুস ইয়ার্ডলি ও জিওফ ডাইমককে দলে আনা হয়।[৪]

ভারত গমন, ১৯৭৯-৮০[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালে ভারত সফরে যান। এ সফরের জন্য ব্রুস ইয়ার্ডলিকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ঐ দলে তিনজন স্পিনারের অন্যতম ছিলেন তিনি। অপর স্পিনারদ্বয় ছিলেন - জিম হিগস ও পিটার স্লিপ।[৫] অসুস্থতার কবল থেকে ব্রুস ইয়ার্ডলি ফিরে আসলে পঞ্চম টেস্টে পিটার স্লিপকে দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।[৬]

অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার পর টেস্ট দল থেকে পিটার স্লিপকে বাইরে রাখা হয়। তার পরিবর্তে রে ব্রাইট, জিম হিগস ও ব্রুস ইয়ার্ডলিকে স্পিনার হিসেবে দলে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

১৯৭৯-৮০ মৌসুমে বিশ্ব সিরিজ থেকে ক্রিকেটারগণ ফিরে আসলে তিনি নিজ আসন হারান। কিন্তু ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ছন্দ ফিরে আসলে জাতীয় দলে পুণরায় স্থান পান। ১৯৮১ সালের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে গ্রেম বিয়ার্ডের তুলনায় অধিক উইকেট সংগ্রহ করা স্বত্ত্বেও অ্যাশেজ সিরিজে স্থান পাননি। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৮২ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বে পাকিস্তান গমনের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।[৭] ব্রুস ইয়ার্ডলির অসুস্থতার কারণে দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করেন পিটার স্লিপ। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলেন ও ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে যান।

১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক তিনি উপেক্ষিত হন। এরপর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তারপরও ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে ফিরে আসলেও প্রথমদিককার সাফল্যের দিকে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হন তিনি।

তার অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্য থাকা স্বত্ত্বেও খুব কম সময়ের জন্য একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হতেন। ১৯৮১ সালে বিতর্কিতভাবে তিনি ইংল্যান্ড সফরে অ্যাশেজ সিরিজে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন। ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সফরে যান। ইনিংসে পাঁচ উইকেটসহ খেলায় তিনি ৭ উইকেট পান। এ টেস্টটিই ছিল তার শেষ টেস্ট।

অবসর[সম্পাদনা]

অবসর শেষে ইয়ার্ডলি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ক্রিকেট কোচ ও ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ নিযুক্ত হন। শ্রীলঙ্কার রেকর্ড সৃষ্টিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরনের দোসরায় তিনি উৎসাহ যোগাতেন। মুরালিধরনকে ‘চাকার’ বলতে রাজী নন তিনি। এরপর ২০০১ সালের আইসিসি ট্রফিতে সিঙ্গাপুর দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কোচের দায়িত্ব থাকাকালীন ইম্পারজা কাপের ইতিহাসের প্রথম শিরোপার সন্ধান পায়।[৮]

২৭ মার্চ, ২০১৯ তারিখে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কুনুনুরায় ৭১ বছর বয়সে ব্রুস ইয়ার্ডলি’র দেহাবসান ঘটে।[৯][১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "SPORTS SECTION."The Canberra Times। ৬ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 1 Section: SPORTS SECTION। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  2. [১]
  3. "Sarfraz Nawaz, 9–86, turns Test."The Canberra Times। ১৬ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 35। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  4. "Four dropped from Australia's team."The Canberra Times। ১৭ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 41। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  5. "Wood back for tour of India."The Canberra Times। ১৯ জুলাই ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 30। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  6. "CRICKET Yardley fit to play in Test."The Canberra Times। ২৬ অক্টোবর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  7. "Kim Hughes to lead Pakistan-tour team."The Canberra Times। ২৬ মার্চ ১৯৮২। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  8. "Western Australia claim Imparja Cup"Cricinfo। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০। 
  9. Baum, Greg (২৭ মার্চ ২০১৯)। "In age of fast men, the late Bruce Yardley put his own spin on fame"The Sydney Morning Herald। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৯ 
  10. Townsend, John (২৭ মার্চ ২০১৯)। "Test cricketer Bruce Yardley dies age 71 after cancer battle"The West Australian। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]