টেরি অল্ডারম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টেরি অল্ডারম্যান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামটেরেন্স মাইকেল অল্ডারম্যান
জন্ম১২ জুন, ১৯৫৬
সুবিয়াকো, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
উচ্চতা১.৮৭ মি
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি ব্যাটিং
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কডি এমারসন (ভগ্নী)
আরএ এমারসন (ভগ্নীপতি)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩১০)
১৮ জুন ১৯৮১ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৭ এপ্রিল ১৯৯১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৬৬)
৬ জুন ১৯৮১ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই১৫ জানুয়ারি ১৯৯১ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৪–১৯৯৩ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া
১৯৮৪-১৯৮৬কেন্ট
১৯৮৮গ্লুচেস্টারশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৪১ ৬৫ ২৪৫ ১৬৬
রানের সংখ্যা ২০৩ ৩২ ১৩০৭ ১৬৩
ব্যাটিং গড় ৬.৫৪ ২.৬৬ ৮.৩২ ৫.৮২
১০০/৫০ –/– –/– –/১ –/–
সর্বোচ্চ রান ২৬* ৯* ৫২* ২৬*
বল করেছে ১০১৮১ ৩৩৭১ ৪৮,৭০১ ৮৮২৯
উইকেট ১৭০ ৮৮ ৯৫৬ ২৩২
বোলিং গড় ২৭.১৫ ২৩.৩৬ ২৩.৭৪ ২৩.১৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪ ৫৩
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৬/৪৭ ৫/১৭ ৮/৪৬ ৫/১৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২৭/– ২৯/- ১৯০/– ৬৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩ আগস্ট ২০১৪

টেরেন্স মাইকেল অল্ডারম্যান (ইংরেজি: Terry Alderman; জন্ম: ১২ জুন, ১৯৫৬) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা।[১] অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে টেস্টএকদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও কেন্টের পক্ষে খেলেছেন। মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী টেরি অল্ডারম্যান সীমিত আকারের পেস দিয়ে নিখুঁত বোলিং করতেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

অল্ডারম্যান পার্থের অ্যাকুইনাস কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন।[২] ১৯৭৪ সালে শেফিল্ড শিল্ডে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এর মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাটিংয়ে বেশ দূর্বল ছিলেন অল্ডারম্যান। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি কেবলমাত্র একবারই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার গড় রান মাত্র আট। ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে তিন মৌসুম খেলেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ মৌসুমে কেন্ট এবং ১৯৮৮ মৌসুমে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮১ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্য জাতীয় দলে তার অন্তর্ভুক্তি ঘটে। অভিষেক টেস্টে ৯ উইকেটসহ সমগ্র সিরিজে তিনি ৪২ উইকেট লাভ করেন।[৩] ১৯৫৬ সালে জিম লেকারের ৪৬ উইকেটের পর তা সর্ববৃহৎ অর্জন। সিরিজে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তার অবস্থান চতুর্থ। ৪২ উইকেট লাভ করলেও সিরিজের কোন টেস্টেই তিনি ১০ উইকেট দখল করতে পারেননি।[৪]

১৯৮২ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বে পাকিস্তান গমনের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে তাকে মনোনীত করা হয়।[৫] তৃতীয় টেস্টে তাকে পিটার স্লিপের স্থলাভিষিক্ত করা হয়।[৬] ১৩ নভেম্বর, ১৯৮২ তারিখে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে কাঁধে আঘাতপ্রাপ্তির ফলে তাকে এক বছরের অধিক সময় মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়।[৭] ১৯৮৫-৮৬ ও ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার অনানুষ্ঠানিক সফরে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকা কমনওয়েলথের বর্ণবাদ বিরোধী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ছিল। এরফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত হন তিনি। ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৮৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে দল থেকে বাদ পড়েন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবার পর অল্ডারম্যান পুণরায় অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরে আসেন ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুণরায় সফলতা পান। ১৯৮৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ৪১ উইকেট দখল করেন। এরপর তার সর্বশেষ ১৯৯০-৯১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ১৬ উইকেট দখল করেন। কিন্তু অন্যান্য দলের বিপক্ষে তিনি তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেননি। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি তার সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি ১৭০টি টেস্ট উইকেট পান।

উইজডেন কর্তৃপক্ষ ১৯৮২ সালের জন্য তাকে বর্ষসেরা ক্রিকেটাররূপে ঘোষণা করে।[৮] ২৮ জুলাই, ২০০০ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বকালের সেরা শীর্ষ উইকেট সংগ্রহকারী হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস মেডেল লাভ করেন।[৯]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় রেডিও ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন। তার বোন ডেনিস এমারসন সাবেক টেস্ট আম্পায়ার রস এমারসনের সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। ডেনিস নিজেও অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে সাত টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Phil Derriman (১১ ডিসেম্বর ১৯৮৪)। "This Australian XI are world-beaters"The Sydney Morning HeraldFairfax Media। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৪ 
  2. ICMI Speakers - Terry Alderman
  3. "1st Test: England v Australia at Nottingham, Jun 18-21, 1981"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 
  4. Walmsley, Keith (২০০৩)। Mosts Without in Test Cricket। Reading, England: Keith Walmsley Publishing Pty Ltd। পৃষ্ঠা 457। আইএসবিএন 0947540067 
  5. "Kim Hughes to lead Pakistan-tour team."The Canberra Times। ২৬ মার্চ ১৯৮২। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  6. "CRICKET Test recall for Terry Alderman."The Canberra Times। ১৪ অক্টোবর ১৯৮২। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  7. Williamson, Martin (২০০৮-০৩-০৮)। "A costly tackle"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-০৯ 
  8. "Wisden Cricketers of the Year" (English ভাষায়)। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 
  9. "Terry Alderman"Department of the Prime Minister and Cabinet। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]