ফরাসি ইন্দোচীন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ইন্দোচৈনিক ফেডারেশন
Fédération indochinoise
Federation of French colonial possessions
১৮৮৭-১৯৫৪
পতাকা Emblem
সঙ্গীত
"La Marseillaise"
Green: French Indochina
Dark grey: Other French possessions
Darkest grey: France
রাজধানী
  • Saigon (1887–1902)
  • Hanoi (1902–45)
  • Saigon (1945–54)
ভাষাসমূহ French (official)
ধর্ম
সরকার Federation of French colonial possessions
Governor-General List of Governors-General
ঐতিহাসিক যুগ New Imperialism
 -  Established ১৭ অক্টোবর ১৮৮৭
 -  Addition of Laos ৩ অক্টোবর ১৮৯৩
 -  Addition of Kwangchow Wan ৫ জানুয়ারি ১৯০০
 -  Independence of North Vietnam (proclaimed) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫
 -  ফরাসি ইন্দোচীন চুক্তি 28 February 1946
 -  Independence of South Vietnam 21 July 1954
আয়তন
 -  1935 ৭,৩৭,০০০ বর্গ কি.মি. (২,৮৪,৫৫৭ বর্গ মাইল)
জনসংখ্যা
 •  1935 আনুমানিক ২,১৫,৯৯,৫৮২ 
     ঘনত্ব ২৯.৩ /কিমি  (৭৫.৯ /বর্গ মাইল)
মুদ্রা French Indochinese piastre
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
French Cochinchina
Nguyễn dynasty
French Protectorate of Cambodia
Kingdom of Luang Phrabang
Kingdom of Champasak
Rattanakosin Kingdom
Qing dynasty
North Vietnam
State of Vietnam
Kingdom of Cambodia (1953–70)
Kingdom of Laos
Republic of China (1912–49)
বর্তমানে অংশ

টেমপ্লেট:Contains Khmer text টেমপ্লেট:Contains Lao text

Indochina in 1891 (from Le Monde illustré).
1. Panorama of Lac-Kaï.
2. Yun-nan, in the quay of Hanoi.
3. Flooded street of Hanoi.
4. Landing stage of Hanoi

ফরাসি ইন্দোচীন (ইংরেজি French Indo-China বা Indochina; ফরাসি Indochine বা Indo-Chine française}}; খ্‌মের: សហភាពឥណ្ឌូចិន; ভিয়েতনামীয়: Đông Dương thuộc Pháp, টেমপ্লেট:IPA-vi, সংক্ষেপে Đông Pháp; লাও: ຝຣັ່ງແຫຼັມອິນດູຈີນ; ক্যান্টনীয়: 法屬印度支那; faat3 suk6 jan3 dou6 zi1 naa5), আনুষ্ঠানিক নাম ইন্দোচীন ইউনিয়ন (Union indochinoise)[১] ১৮৮৭ সালের পর যার নামকরণ করা হয় ইন্দোচীন ফেডারেশন (Fédération indochinoise) ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সাথে একত্রীভূত করে নামকরণ করা হয় ফরাসি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য

১৮৮৭ সালে তিনটি ভিয়েনামীয় অঞ্চল, টনকিন(উত্তর), আন্নাম (মধ্য), এবং কম্বোডিয়ার সাথে কোচিনচীন (দক্ষিন) নিয়ে গটিত হয় ইন্দোচীন গঠিত হয়। ১৮৯৩ সালে লাওসকে এর সাথে যুক্ত করা হয়। ১৮৯৮ সালে চীনের কাছ থেকে ইজারা নেয়া গ্যাংকঝউয়ান এর সাথে যুক্ত করা হয়।

দেশটির রাজধানী সাইগন থেকে সরিয়ে প্রথমে কোচিনচীন এবং পরে হ্যানয়ে স্থানান্তর করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পতনের পর জাপান ঔপনিবেশিক শাসনকে উচ্ছেদ করে এবং ১৯৪৫ সাল পর্য়ন্ত দেশটিকে নিজের অধীনে রাখে। ১৯৪১ সালের মে মাসে ভিয়েন মিন নামের কমিউনিষ্ট সৈন্যরা হো চি মিনের নেতৃত্বে জাপানীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে। আগষ্ট ১৯৪৫ সালে তারা ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষনা করে এবং প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধের সূচনা করে। ১৯৪৯ সালে সায়গনে কমিউনিষ্ট বিরোধী রাষ্ট্র ভিয়েতনাম প্রাক্তন সম্রাট বাও জাই এর নেতৃত্বে স্বাধীনতার স্বীকৃতি পায়। ৯ নভেম্বর ১৯৫৩ সালে লাওস রাজ্য এবং কম্বোডিয়া রাজ্য স্বাধীনতা লাভ করে। ফরাসিরা এই অঞ্চল ত্যাগ করে। সেই সাথে ইন্দোচীন নামের অবসান হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭ শতকে সোসাইটি অব যেশাসের ধর্মযাজগ আলেক্সান্ডার ডি রোডসের কর্মকান্ডের মাধ্যমে ফ্রান্স এবং ভিয়েতনামের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। সে সময় ভিয়েতনাম মেকং ব-দ্বীপ অধিগ্রহন করা শুরু করেছে। মেকং ছিল চাম্পা রাজ্যের অংশ যা ১৪৭১ সালে ভিয়েতনাম কর্তৃক বিজিত হয়েছিল।[২] ১৮ শতক পর্য়ন্ত ইউরোপিয়ানরা ভিয়েতনামে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করত। ১৭৮৭ সালে একজন Pierre Pigneau de Behaine নামক একজন ফরাসি ধর্মযাজক তার দখরকৃত জমি উদ্ধারের জন্য ফরাসি সামরিক বাহিনীর সাহায্য প্রার্থনা করেন। ১৮০২ সাল পর্য়ন্ত লড়াই কেরে ফরাসি সৈন্যরা সে জমি উদ্ধার করেন।

১৯ শতক[সম্পাদনা]

১৯ শতকের ভিয়েতনামে ফরাসিদের কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেতে থাকে। তৎকালিন শাসক নিগুয়েন বংশের সম্রাটরা ফরাসি ধর্ম্প্রচারকদের কর্মকান্ডকে রাজনৈতিক হুমকি হিসাবে বিবেচনা করত। ১৮৫৮ সালে সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের আদেশে ফরাসি অ্যাডমিরাল শার্ল রিগো দ্য জনুই (Charles Rigault de Genouilly) ভিয়েতনাম আক্রমণ করেন। রাষ্ট্রদূত শার্ল দ্য মোঁতাইনের মিশন ব্যর্থ হয়। অ্যাডমিরাল জনুইয়ের (Genouilly) মিশন ছিল ভিয়েতনাম থেকে ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারকদেরকে বহিষ্কার করতে বাধা দেয়া, সব রকম অত্যাচারের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা এবং ধর্মপ্রচারের কাজ অব্যাহত রাখতে সাহায্য করা।[৩]

সাইগনে অবস্থিত ফরাসি গভর্ণর জেনারেলের প্রাসাদ, ১৮৭৫ সালের দিকে তোলা ছবি।

সেপ্টেম্বর ১৮৫৮ সালে চৌদ্দটি ফরাসি যুদ্ধ জাহাজ, ৩০০০ সৈন্য এবং স্পেনীয়দের পাঠানো ৩০০ ফিলিপিনি যোদ্ধা[৪] টুরানের বন্দর আক্রমন করে এবং শহর দখল করে নেয়। এই আক্রমণে বন্দরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এর কয়েকমাস পর অ্যাডমিরাল জনুই, অসুস্থতা এবং পর্য়াপ্ত রসদ সরবরাহের অভাবে বন্দর শহরটি ত্যাগ করেন।[৩]

আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৯ সালে অ্যাডমিরাল দ্য জনুই দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় থাকা সাইগন শহর দখল করে। ১৩ এপ্রিল ১৮৬২ সালে, ভিয়েতনাম সরকার Biên Hòa, Gia Định এবং Định Tường এই তিনটি প্রদেশ ফরাসিদের কাছে সমর্পন করতে বাধ্য হয়। অ্যাডমিরাল দ্য জনুইকে তার কৃতকর্মের জন্য তিরস্কার করা হয় এবং ১৮৫৯ সালে অ্যাডমিরাল পাজকে তার স্থানে নিয়োগ দেয়া হয়। নতুন অ্যাডমিরালের প্রতি নির্দেশ ছিল এলাকা অধিগ্রহন থেকে বিরতে থেকে তার সেনারা যেন ক্যাথলিক ধর্ম যাজকদের নির্বিঘ্নে ধর্মপ্রচার নিশ্চিত করার জন্য একটি চুক্তি করতে অধিক সচেষ্ট হয়।[৩]

চার বছর পর ফরাসিরা ভিয়েতনামে তাদের নীতি পরিবর্তন করে ভিয়েতনামের বিভিন্ন স্থান দখল করতে শুরু করে। ১৮৬৭ সালে Châu Đốc, Hà Tiên এবং Vĩnh Long প্রদেশগুলো ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সাথে যুক্ত হয়।

স্থাপনা[সম্পাদনা]

টনকিনে ফরাসি মেরিন পদাতিক সৈন্য, ১৮৮৪ সালের ছবি

১৮৮৪-৮৫ সালে চীনা-ফরাসি যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার পর উত্তর ভিয়েতনাম ফ্রান্সের দখলে আসে। ১৭ অক্টোবর ১৮৮৭ সালে Annam, Tonkin, Cochinchina কে নিয়ে নিয়ে ফরাসি ইন্দোচীন গঠিত হয় (পরে যা মিলিত হয়ে আধুনিক ভিয়েতনাম হয়েছে)। ১৮৮৩ সালে ফরাসি-শ্যাম যুদ্ধের পর কম্বোডিয়া রাজ্য, এবং লাওস ফরাসি ইন্দোচীনের অন্তর্ভূক্ত হয়। এই সংযুক্ত রাষ্ট্র ২১ জুলাই ১৯৫৪ পর্য়ন্ত টিকে ছিল।

ভিয়েতনাম বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

১৮৫৮ সালে ফরাসি সৈন্যবাহিনী ভিয়েতনামে প্রবেশ করে। ১৮৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তারা সমগ্র উত্তরাঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। ১৮৮৫ থেকে ১৮৯৫ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংগটিত হতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতীয়তাবাদী চেতনা দৃঢ় হতে থাকে। যদিও সে সময়ে ফারসি প্রভূদের কাছ থেকে খুব বেশী কোন দাবী তারা আদায় করতে পারেনি।

ফরাসি-শ্যাম যুদ্ধ (১৮৯৩)[সম্পাদনা]

ইন্দোচীন উপদ্বীপে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৮৯৩ সালে ফরাসি-শ্যাম যুদ্ধের সূচনা হয়। ফরাসি গানবোট ব্যাংককে প্রবেশ করে এবং মেকং নদীর পশ্চিমে থাকা লাওস তাদের নিকট হস্তান্তরের দাবী করে। রাজা চুলালংকর্ন বৃটিশদের দ্বারস্থ হন। বৃটিশ মন্ত্রী তাকে ফরাসীদের দাবী মেনে নিতে বলেন। একটি চুক্তির বিনিময়ে, বার্মার অন্তর্গত থাই ভাষাভাষী শান অঞ্চলকে বৃটিশদের নিকট হস্তান্তর করে এবং লাওসকে ফরাসীদের নিকট ছেড়ে দেয়। এসময়ে মেকং নদী অববাহিকায় অবস্থিত Luang Prabang, দক্ষিন লাওসের Champasak এবং পশ্চিম কম্বোডিয়া ফরাসিদের নিকট হস্তান্তর করতে হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Decree of 17 October 1887.
  2. Kahin, George McTurnin; Lewis, John W. (১৯৬৭)। The United States in Vietnam: An analysis in depth of the history of America's involvement in Vietnam। Delta Books। 
  3. Tucker, Spencer C. (১৯৯৯)। Vietnam (Google Books)। University Press of Kentucky। পৃ: 29। আইএসবিএন 0-8131-0966-3 
  4. Chapuis, Oscar (১৯৯৫)। A History of Vietnam: From Hong Bang to Tu Duc (Google Books)। Greenwood Publishing Group। পৃ: 195। আইএসবিএন 0-313-29622-7