তাজপুর বন্দর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তাজপুর বন্দর
তাজপুর বন্দর পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
তাজপুর বন্দর
তাজপুর বন্দর
অবস্থান
দেশ ভারত
অবস্থানতাজপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ
স্থানাঙ্ক২১°৩৯′ উত্তর ৮৭°৪৩′ পূর্ব / ২১.৬৫° উত্তর ৮৭.৭১° পূর্ব / 21.65; 87.71স্থানাঙ্ক: ২১°৩৯′ উত্তর ৮৭°৪৩′ পূর্ব / ২১.৬৫° উত্তর ৮৭.৭১° পূর্ব / 21.65; 87.71
বিস্তারিত
পরিচালনা করেতাজপুর বন্দর কর্তিপক্ষ
মালিকপশ্চিমবঙ্গ সরকার, ভারত সরকার[১]
পোতাশ্রয়ের প্রকারগভীর সমুদ্র বন্দর
উপলব্ধ নোঙরের স্থানপ্রথম দফায়:৬টি
দ্বিতীয় দফায়:৯টি
প্রোতাশ্রয়ের গভীরতা১৬ মিটার (৫২ ফু)
চ্যানেলের (প্রবেশ পথ) দৈর্ঘ্য১৮ কিলোমিটার (১১ মা)

তাজপুর বন্দর[২] হল পশ্চিমবঙ্গেরর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাজপুরে একটি প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর। বন্দরটি নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রস্তাব দিয়েছে। বন্দরটি তাজপুরের কাছে বঙ্গোপসাগর এর উপকূলে নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।[৩] এই বন্দর প্রথমে রাজ্য সরকার বেসরকারী সংস্থার দ্বারা নির্মানের কথা বলেও বর্তমানে সিধান্ত নেওয়া হয়েছে বন্দরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের সংস্থা কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথ ভাবে নির্মান করবে।বন্দরটির নির্মানের জন্য সমিক্ষা শুরু হয়েছে।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গ এর প্রধান বন্দর হল কলকাতা বন্দর (হলদিয়া বন্দর সহ)। কিন্তু হুগলি নদীর নাবত্য কমে যাওয়ার জন্য সমুদ্রগামী বড় জাহাজ কলকাতা বন্দরহলদিয়া বন্দরে নোঙর করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এই কারনে রাজ্যের শিল্পে গতি কমছে। কলকাতা ও আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পা অঞ্চলের পণ্য-দ্রব্য আমদানি ও রপ্তানি পারাদ্বীপ বন্দর এর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা রাজ্যের বন্দর শিল্পে ও হলদিয়া শিল্পা অঞ্চলের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। এই কারণে রাজ্য সরকার তাজপুর বন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে।

বন্দরের বিবরণ[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত তাজপুর বন্দর হল একটি বৃহত্ত গভীর সমুদ্র বন্দর। বন্দটির নির্মাণ তাজপুর সমুদ্র উপকূলে করা হবে। বন্দরটির নির্মাণের জন্য সমুদ্র উপকূলে পলি ফেলে বন্দরের জন্য জমি তৈরি করা হবে। বন্দরটির গভীরতা হবে ১৫ মিটার ফলে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ বন্দরে চলাচল করতে অসুবিধা হবে না। বন্দরের জন্য ১৮ কিলোমিটার একটি চ্যানেল নির্মাণ করতে হবে গভীর সমুদ্রর থেকে। প্রথম দফায় ৬টি বার্থ তৈরি করা হবে৷ পরের দফায় হবে ৯টি বার্থ৷ সমুদ্রের থেকে আলাদাও করা ওই জায়গা৷ ফলে তাজপুর সমুদ্র সৈকতের পর্যটকদেরও সমস্যা হবে না৷ তাজপুরের প্রত্যেকটি টার্মিনাল বহুমুখী কাজের হবে৷ ড্রাই কার্গোর সঙ্গে কন্টেনার কার্গো হিসাবেও কাজ করতে পারবে৷অনুমান করা হচ্ছে বন্দটরটি নির্মাণ মোট ১৬ হজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। প্রথম পর্যায় ১০ হাজার কোটি ও দ্বিতীয় পর্যায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এই বন্দর নির্মাণ হলে ১০ হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান হবে।[৫][৬]

পরিকাঠামো[সম্পাদনা]

পরিকাঠামোয় খরচ করতে হবে ১৬০ কোটি টাকার মতো৷ যেহেতু ১১৬ বি নং জাতীয় সড়ক থেকে ওই এলাকার দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার ও কাঁথি রেলস্টেশন থেকে বড়জোর ২৩ কিলোমিটার আর রেল পথ বন্দর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে ৷ তাই পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে খুব বেশি খরচ করতে হবে না রাজ্য সরকারকে

সরকারি সহযোগিতা[সম্পাদনা]

বন্দর গঠনের জন্য রাজ্য সরকার পরিকাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বন্দর থেকে জাতীয় সড়ক পর্যন্ত ১৪ মিটার চওড়া চার লেন এর সড়ক রাজ্য সরকার তৈরি করবে। এছাড়া এখানে একটি ফ্রেড রেলওয়ে স্টেশন নির্মানের কথা রয়েছে।

জটিলতা[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধির জন্য তাজপুর বন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে। এছারা হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাওয়ার জন্যও নতুন বন্দর প্রয়োজন ছিল। একই কারনে ভারত সরকারপশ্চিমবঙ্গ সরকার সাগর দ্বীপে ভোর সাগর বন্দর নির্মানের পরিকল্পনা নেয়। তবে রাজ্য সরকার সাগর বন্দর ছাড়াও বেসরকারি উদ্দোগে তাজপুর বন্দর প্রকল্প ঘোষণা করে। এতে সাগর বন্দর নির্মান প্রকল্প থেকে কেন্দ্র সরকার সরে আসার পরিকল্পনা নেয়। কারন কেন্দ্র সরকারের মতে তাজপুরে বেসরকারি উদ্দোগে বন্দর তৈরি হলে সাগর বন্দর লাভবান হবে না। সঙ্গে হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরে পন্য পরিবহন অনেক কমে যাবে।[৭] প্রথমে কেন্দ্র সরকার প্রস্তাব দেয় দুটি বন্দর কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্দোগে গড়ার। পড়ে রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে রাজি হয়। শেষে ঘোষণা করা হয় সাগর ও তাজপুর দুটি বন্দরই নির্মান করা হবে। তাজপুর বন্দর প্রথম ধাপে নির্মান করা হবে আর সাগর বন্দর দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত হবে।

২০১৯ সালের আগেই তাজপুর বন্দরের ‘টেকনো ইকনমিক ফিজিবিলিটি রিপোর্ট’ তৈরি করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলে যাবে বলে জাহাজ মন্ত্রকের আশা। সে ক্ষেত্রে ২০১৯-এই তাজপুর বন্দর তৈরির কাজ শুরু সম্ভব হবে [৮]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জটিলতা শেষ, কেন্দ্র শরিক হবে তাজপুরে" 
  2. "তাজপুর হয়ে পণ্য উত্তর-পূর্বে"। আনন্দবাজার প্রত্রিকা। ৯ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "তাজপুর বন্দর প্রকল্পের দরপত্র শীঘ্রই"আনন্দবাজার প্রত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ০২-০৯-২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. "বন্দরের উন্নয়নে কেন্দ্র-রাজ্য জোট"আনন্দবাজার প্রত্রিকা। ২৫ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭ 
  5. "তাজপুর প্রকল্পে দশ হাজার কর্ম সংস্থান,আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর"সংবাদ প্রত্রিদিন। সংগ্রহের তারিখ ০২-০৯-২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "নতুন বন্দরে আগ্রহী রাজ্য"প্লাসবাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২৬-১০-২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Tajpur port, productivity crucial for KoPT survival"। India Today। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  8. "নতুন বন্দরের জন্য নদীপথ"। আনন্দবাজার প্রত্রিকা। ৯ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]