রসুলপুর বন্দর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রসুলপুর বন্দর
অবস্থান
দেশ ভারত
অবস্থানরসুলপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত
স্থানাঙ্ক২২°০৬′ উত্তর ৮৮°০৭′ পূর্ব / ২২.১০° উত্তর ৮৮.১২° পূর্ব / 22.10; 88.12
বিস্তারিত
পরিচালনা করেআন্মা লাইন্স
মালিকআন্মা লাইন্স[১]
পোতাশ্রয়ের প্রকারকৃত্রিম (নদী বন্দর)

রসুলপুর বন্দর[২] হল একটি বেসরকারি সংস্থার প্রস্তাবিত গভীর জলের বন্দর। এই বন্দর তৈরি করবে আন্মা লাইন্স। বন্দরটিতে জলের গভীরতা হবে ১৮ মিটার।বন্দরটি রসুলপুর নদী মহনায় গড়ে উঠবে।এই বন্দরটি তৈরি হলে এটিই হবে পশ্চিমবঙ্গ এর প্রথম বেসরকারি জাহাজ বন্দর। এবং এটিই হবে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি গভীরতা যুক্ত বন্দর।এই বন্দর পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গতি আনবে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে রসুলপুর বন্দর তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মেকা গোষ্ঠীর শাখা আম্মা লাইন্সকে।বিভিন্ন লাল ফিতার ফাঁসে পরে প্রকল্পটি রুপায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১০ সালে যখন বন্দরটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে নিষেধগার ফলে নির্মাণ থমকে যায়।২০১৩ সালে নিষেধগা উঠে যাবার পড় আবার নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।[১] কিন্তু রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবে নির্মান সংস্থা বন্দর নির্মান প্রকল্প স্থগিত করে রেখেছে। [৩][৪]

নির্মাণ কাজ[সম্পাদনা]

বন্দরটি নির্মাণের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র ও "কোক্টাল রেগুলুশন জোন ম্যাপ" দরকার।এই দুটিই পাওয়া গেছে বন্দরটি নির্মাণের জন্য।বন্দটি নির্মাণের প্রথম ধাপে উপকূলে মাটি ফেলে জমি তৈরি করা হবে ।বন্দরটি নির্মাণে "আম্মা লাইন্স" মোট ৬,০০০ কোটি টাকা (₹) খরচ করবে।

বন্দর পরিকাঠামো গড়ায় দক্ষ আম্মা লাইন্সের দাবি, যে প্রযুক্তিতে বন্দরের চ্যানেল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার পেটেন্ট রয়েছে তাদের। এর আগে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রে মুকেশ অম্বানীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রেওয়াস বন্দর গড়েছে তারা। রেওয়াসে নাব্যতা যেখানে ১৬ মিটার, রসুলপুরে তা দাঁড়াবে ১৮ মিটার।

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

বন্দর থেকে ৯ কিলোমিটার (৫.৬ মা) দূরে জাতীয় সড়ক ১১৬ বি অবস্থিত। রেলপথও ১০ কিমি দূরে কাঁথিতে অবস্থিত। ফলে বন্দর থেকে পন্য পরিবহনের জন্য সড়ক পথ ও রেলপথ নির্মান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সড়ক নির্মান পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

প্রকল্পের জন্য জুনপুট থেকে কাঁথি পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার রাস্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যাবতীয় পণ্য যাওয়া আসার জন্য এই সংযোগ জরুরি বলে উল্লেখ করে বন্দর নির্মাতা আম্মালাইন্স। কিন্তু জুনপুট-কাঁথি সড়কের উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঘুরপথে হরিপুর থেকে কাঁথি পর্যন্ত রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করে সংস্থাটি।

আপাতত জুনপুট থেকে কাঁথি পর্যন্ত রাস্তা মাত্র দেড় লেন চওড়া। কমপক্ষে তিন লেন না-তৈরি করতে পারলে পণ্য পরিবহণ সম্ভব নয়। তবে রাস্তা চওড়া করার জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। জমি বহু আগেই নিয়ে রেখেছিল সরকার। কিন্তু সেই জমি অধিগ্রহণের মানচিত্র না থাকায় সংস্থাটি সড়ক নির্মানে ব্যর্থ হয়।

মোট তেরোটি মৌজার জমি এই রাস্তায় রয়েছে। তাই রাস্তা চওড়া করার জন্য এই জমির মানচিত্র ও বিবরণ জরুরি। দক্ষিণ রামপুর, দক্ষিণ গোপীনাথপুর, খাকিনা, বেণীপুর, বিচুনিয়া-সহ তেরোটি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

আম্মালাইন্স প্রাথমিক সমীক্ষায় পর বিকল্প হরিপুর-কাঁথি পথে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি পরিকল্পনা করে। তার জন্য জমির মালিকদের থেকে জমি কিনবে সংস্থা। জমি কেনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে দাবি সংস্থা কর্তৃপক্ষের।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "রসুলপুর বন্দর নিয়ে আশার আলো"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২২ মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  2. "KoPT help sought in Rasulpur port plan"। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ 
  3. "বন্দর নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  4. "রাজ্যে গভীর সমুদ্র-বন্দর তৈরি আরও অনিশ্চিত"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ১২ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮