মাহেলা জয়াবর্ধনে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাহেলা জয়াবর্ধনে
Mahela Jayawardene.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম দেনাগামাগে প্রবোথ মাহেলা ডি সিলভা জয়াবর্ধনে
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকা ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৬৯) ২ আগস্ট ১৯৯৭ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট ৩ জানুয়ারি ২০১২ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৯২) ২৪ জানুয়ারি ১৯৯৮ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই ২ মার্চ ২০১২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই শার্ট নং ২৭
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৯৫-বর্তমান সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব
২০০৭-বর্তমান ওয়েম্বা ইলাভেনস
২০০৮ ডার্বিশায়ার
২০০৮-২০১০ কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব
২০১১ কোচি তাস্কার্স কেরালা
২০১২-বর্তমান দিল্লি ডেয়ারডেভিলস
২০১২-বর্তমান ওয়েম্বা ইউনাইটেড
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি লিস্ট এ
ম্যাচ সংখ্যা ১৩৮ ৩৯১ ২২০ ৪৭১
রানের সংখ্যা ১০,৮০৬ ১০,৮৪৪ ১৬,৪৮৮ ১৩,০৪৭
ব্যাটিং গড় ৪৯.৫৬ ৩৩.৩৬ ৪৯.৮১ ৩৩.২৮
১০০/৫০ ৩১/৪৫ ১৫/৬৮ ৪৮/৭১ ১৬/৮২
সর্বোচ্চ রান ৩৭৪ ১৪৪ ৩৭৪ ১৬৩*
বল করেছে ৫৫৩ ৫৮২ ২,৯৬৫ ১,২৬৯
উইকেট ৫২ ২৩
বোলিং গড় ৪৯.৫০ ৭৯.৭১ ৩১.০৭ ৪৯.৬০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ২/৩২ ২/৫৬ ৫/৭২ ৩/২৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৯৪/– ১৯৪/– ২৮৫/– ২৩৫/–
উত্স: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ২৭ ডিসেম্বর ২০১২

দেনাগামাগে প্রবোথ মাহেলা ডি সিলভা জয়াবর্ধনে (সিংহলি: දෙනගමගේ ප්‍රබොත් මහේල ද සිල්වා ජයවර්ධන; জন্ম: ২৭ মে, ১৯৭৭) শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। তিনি মূলতঃ মাহেলা জয়াবর্ধনে নামেই বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অতি পরিচিত ক্রিকেটারব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান জয়াবর্ধনে। এর পরের মৌসুমে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে তিনি ২০০৬ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৭৪ রান করে ইতিহাসের পর্দায় নিজেকে ঠাঁই করে নেন। অক্টোবর, ২০১২ পর্যন্ত টেস্টে তাঁর গড় পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে এবং ওডিআইয়ে ত্রিশের উপর। শ্রীলঙ্কার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দশ সহস্রাধিক রান করেন।

ওডিআইয়ে নিম্নমূখী গড় থাকা স্বত্ত্বেও জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন। তাঁর সহযোগী খেলোয়াড় কুমার সাঙ্গাকারা'র সাথে তিনিও বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে সনাথ জয়াসুরিয়া এবং কুমার সাঙ্গাকারা'র পর তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ হাজার রান করেছেন।

পীচের মাঝখানের বৃত্তে অবস্থানের মাধ্যমে ফিল্ডিংয়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদর্শনে তিনি পারঙ্গমতা প্রদর্শন করতে পেরেছেন। ২০০৫ সালের শেষদিকে ক্রিকইনফো একটি প্রতিবেদনে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর থেকে যে কোন ফিল্ডারের তুলনায় তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান আউট করেছেন।[১]পরিসংখ্যানে আরো দেখানো হয়েছে যে, 'ক জয়াবর্ধনে ব মুরালিধরন' লেখাটি ছিল বোলার-ফিল্ডারের সমন্বয়ে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা যা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

অধিনায়কত্ব[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে মার্চ-এপ্রিল মাসে পাকিস্তান সফরে মাহেলা জয়াবর্ধনে টেস্ট সিরিজের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত পাকিস্তান সফর ভেঙ্গে দিলে ঐ সিরিজের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথম টেস্টটি ড্র হয়। এতে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি বা দ্বি-শতক করেন। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের পর তিনি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ঐ টেস্টে শ্রীলঙ্কা খুবই ভাল অবস্থানে ছিল। থিলান সামারাবীরা পরপর দুই টেস্টে দু'টি দ্বি-শতক এবং তিলকরত্নে দিলশান সেঞ্চুরি করেছিলেন। গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টটির তৃতীয় দিনের খেলায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাত্রার মাঝখানে ১২ জন মুখোশধারী অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয় বাসটি।

জয়াবর্ধনে ও তাঁর সহযোগী আরো ছয়জন শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাঁদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছয়জন পুলিশ এবং দুইজন সাধারণ নাগরিক এ আক্রমণে নিহত হন। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে পরাজিত হবার পর সহ-অধিনায়কত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। তিলকরত্নে দিলশানের বিতর্কিত অধিনায়কত্বের পর তিনি পুণরায় অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের কোচি তুস্কারস কেরালা দলেরও অধিনায়ক ছিলেন।[২] বর্তমানে তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন।[৩]

২৮ জুলাই, ২০১২ সালে জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকার জুটির ৩০টি শতরানের জুটি গড়ে যা ক্রিকেট ইতিহাসে চতুর্থ। এদিন তারা ভারতের বিরুদ্ধে ৩য় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রেকর্ডটুকু গড়েন।[৪]

প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টেস্ট পারফরম্যান্স[সম্পাদনা]

৫ ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত :

প্রতিপক্ষ ম্যাচ ইনিংস অপরাজিত রান সর্বোচ্চ স্কোর শতক অর্ধ-শতক গড়
 অস্ট্রেলিয়া ১০ ১৮ ৫৮১ ১০৪ ৩২.২৭
 বাংলাদেশ ১১ ১৪ ৮৬০ ১৬৬ ৬৫.৫৪
 ইংল্যান্ড ১৬ ২৭ ১৫৮১ ২১৩* ৬৫.৮৭
 ভারত ১৮ ২৮ ১৮২২ ২৭৫ ৬৭.৪৮
 নিউজিল্যান্ড ১১ ১৯ ৯২৮ ১৬৭ ৫১.৫৫
 পাকিস্তান ১৮ ৩৪ ১১১৫ ২৪০ ৩৪.৮৪
 দক্ষিণ আফ্রিকা ১২ ২২ ১৪৭২ ৩৭৪ ৭০.০৯
 ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ ১৮ ৭৪৮ ১৩৬ ৪৪.০০
 জিম্বাবুয়ে ১০ ৪২০ ১০০* ৬০.০০
সর্বমোট ১১৬ ১৯০ ১৩ ৯৫২৭ ৩৭৪ ২৮ ৩৮ ৫৩.৮২

টেস্ট ক্রিকেটে শতক[সম্পাদনা]

নম্বর স্কোর প্রতিপক্ষ অবস্থান ইনিংস টেস্ট মাঠ দেশ/বিদেশ তারিখ ফলাফল
&10000000000001670000000 ১৬৭♠  নিউজিল্যান্ড ২/৩ গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, গল দেশ 01998-০৬-03৩ জুন ১৯৯৮ জয়[৫]
&10000000000002420000000 ২৪২♠  ভারত ২/৪ সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো দেশ 01999-০২-24২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ ড্র[৬]
&10000000000001670000000 ১৬৭  দক্ষিণ আফ্রিকা ১/৩ গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, গল দেশ 02000-০৭-20২০ জুলাই ২০০০ জয়ী[৭]
&10000000000001011000000 ১০১*  দক্ষিণ আফ্রিকা ৩/৩ সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো দেশ 02000-০৮-06৬ আগস্ট ২০০০ ড্র[৮]
&10000000000001010000000 ১০১  ইংল্যান্ড ২/৩ আসগিরিয়া স্টেডিয়াম, ক্যান্ডি দেশ 02001-০৩-07৭ মার্চ ২০০১ হার[৯]
&10000000000001040000000 ১০৪  ভারত ২/৩ আসগিরিয়া স্টেডিয়াম, ক্যান্ডি দেশ 02001-০৮-22২২ আগস্ট ২০০১ হার[১০]
&10000000000001390000000 ১৩৯  ভারত ৩/৩ সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো দেশ 02001-০৮-29২৯ আগস্ট ২০০১ জয়ী[১১]
&10000000000001500000000 ১৫০  বাংলাদেশ ২/৩ সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো দেশ 02001-০৯-06৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ জয়ী[১২]
&10000000000001070000000 ১০৭  ইংল্যান্ড ১/৩ লর্ড’স ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লন্ডন বিদেশ 02002-০৫-16১৬ মে ২০০২ ড্র[১৩]
১০ &10000000000001340000000 ১৩৪  ইংল্যান্ড ৩/৩ সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো দেশ 02003-১২-18১৮ ডিসেম্বর ২০০৩ জয়ী[১৪]

সাফল্য গাঁথা[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল মাহেলা জয়াবর্ধনেকে বছরের সেরা আন্তর্জাতিক অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে। পরের বছর বছরের সেরা টেস্ট ক্রিকেট খেলোয়াড়ের জন্যে মনোনয়ন লাভ করেছিলেন।

দ্বিতীয় উইকেট তথা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যে-কোন উইকেটে সবচেয়ে দীর্ঘতম জুটি গড়েন তিনি। জুলাই, ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম জুটি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সাঙ্গাকারা’র সাথে ৬২৪ রান করেন।[১৫] দ্বিতীয় উইকেটে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড ছিল কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত ক্রিকেট দলের বিপক্ষে রোশন মহানামা-সনাথ জয়াসুরিয়া’র ২২৫ রান।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Basevi, Travis (2005-11-08). "Statistics – Run outs in ODIs". Cricinfo. Retrieved 2007-02-05.
  2. IPL auction begins: Shahrukh Khan's Knight Riders buy Gambhir, Yusuf Pathan, collect: 9 Oct, 2012
  3. "IPL auction: Daredevils delighted with new acquisitions - The Times of India". The Times Of India.
  4. "Sri Lanka’s tireless twosome scales another peak". Wisden India. 29 July 2012.
  5. "New Zealand in Sri Lanka Test series (1998) – Scorecard of 2nd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  6. "Asian Test Championship (1998–1999) – Scorecard of 2nd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  7. "South Africa in Sri Lanka Test series (2000) – Scorecard of 1st Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  8. "South Africa in Sri Lanka Test series (2000) – Scorecard of 3rd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  9. "England in Sri Lanka (2000–2001) – Scorecard of 2nd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  10. "India in Sri Lanka Test series (2001) – Scorecard of 2nd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  11. "India in Sri Lanka Test series (2001) – Scorecard of 3rd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  12. "Asian Test Championship (2001–2002) – Scorecard of 2nd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  13. "Sri Lanka in England Test series (2002) – Scorecard of 1st Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  14. "England in Sri Lanka Test series (2003–2004) – Scorecard of 3rd Test"। Cricinfo। সংগৃহীত 2 March 2010 
  15. "Test matches – Partnership records – Highest partnerships for any wicket"ESPNCricinfo। সংগৃহীত 3 April 2012 
  16. World record-holder Mahanama Observer Schoolboy Cricketer in 1983 and 1984, The Observer, 6 April 2008, সংগৃহীত 3 April 2012 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
তিলকরত্নে দিলশান
শ্রীলঙ্কান জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক
২০১১–


উত্তরসূরী
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস
পূর্বসূরী
মারভান আতাপাত্তু
শ্রীলঙ্কান জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক
২০০৬-২০০৯


উত্তরসূরী
কুমার সাঙ্গাকারা