স্টিভ ওয়াহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্টিভ ওয়াহ
SRWaugh.png
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম স্টিফেন রজার ওয়াহ
জন্ম (১৯৬৫-০৬-০২) ২ জুন ১৯৬৫ (বয়স ৪৯)
ক্যান্টারবারি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ডাকনাম টুগ্গা, আইসম্যান, ম্যান-ও’ওয়ার
উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকা ব্যাটসম্যান
সম্পর্ক ডিপি ওয়াহ, এমই ওয়াহ (ভাই)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৩৩৫) ২৬ ডিসেম্বর ১৯৮৫ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট ২ জানুয়ারি ২০০৪ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৯০) ৯ জানুয়ারি ১৯৮৬ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ ওডিআই ৩ ফেব্রুয়ারি ২০০২ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই শার্ট নং
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৮৪/৮৫-২০০৩/০৪ নিউ সাউথ ওয়েলস
২০০২ কেন্ট
১৯৯৮ আয়ারল্যান্ড
১৯৮৭-১৯৮৮ সমারসেট
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি লিস্ট এ
ম্যাচ সংখ্যা ১৬৮ ৩২৫ ৩৫৬ ৪৩৬
রানের সংখ্যা ১০,৯২৭ ৭,৫৬৯ ২৪,০৫২ ১১,৭৬৪
ব্যাটিং গড় ৫১.০৬ ৩২.৯০ ৫১.৯৪ ৩৭.৭০
১০০/৫০ ৩২/৫০ ৩/৪৫ ৭৯/৯৭ ১৩/৬৭
সর্বোচ্চ রান ২০০ ১২০* ২১৬* ১৪০*
বল করেছে ৭,৮০৫ ৮,৮৮৩ ১৭,৪২৮ ১১,২৪৫
উইকেট ৯২ ১৯৫ ২৪৯ ২৫৭
বোলিং গড় ৩৭.৪৪ ৩৪.৬৭ ৩২.৭৫ ৩৩.৪৯
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ৫/২৮ ৪/৩৩ ৬/৫১ ৪/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১১২/– ১১১/– ২৭৩/– ১৫০/–
উত্স: Cricinfo, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৪

স্টিফেন রজার "স্টিভ" ওয়াহ, ওএ (ইংরেজি: Steve Waugh; ২ জুন, ১৯৬৫) অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে জন্মগ্রহণকারী সাবেক ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম-পেস বোলিংয়েও সফলতা পেয়েছেন। ২০১০ সালে ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকারের পর তিনি সর্বোচ্চ ১৬৮ টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণের নজীর স্থাপন করেছেন। একসময় তিনি তাঁর সময়কালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের একজন ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আক্রমণাত্মক এবং কখনোবা নিষ্ঠুর উপযোগী অধিনায়কের ভূমিকা পালন করতেন।[২] ক্রিকেটে পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতির ঘোর বিরোধী ছিলেন। ২০০৩ সালে দ্য টাইমসের ক্রিকেট কলামলেখক সিমন বার্নস তাঁকে শীতল-রক্ত, বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের অধিকারী হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছেন, ওয়াহ আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে পরাজিত করতে চাইবেন।[৩] নিজস্ব চূড়ান্ত টেস্টে ওয়াহ দলের খেলোয়াড়দের সাথে নিয়ে নিজস্ব মাঠ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রদক্ষিণ করেন।[৪]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

রজার এবং বেভারলি ওয়াহ দম্পতির যমজ সন্তান স্টিভ ওয়াহ ক্যান্টারবুরি হাসপাতালে ২ জুন, ১৯৬৫ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন। সহোদর ও সাবেক অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান মার্ক ওয়াহের চেয়ে তিনি চার মিনিট পূর্বে ভূমিষ্ঠ হন। বাবা রজার ওয়াহ ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মা বেভারলি ওয়াহ ছিলেন শিক্ষিকা।[৫] তাদের পরিবার সাউথ-ওয়েস্টার্ন সিডনী’র নিকটবর্তী গ্রাম পানানিয়ায় বসবাস করতেন।[৬] অস্ট্রেলিয়ার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ডিন ওয়াহ ও ড্যানি ওয়াহ তাদের আরো দুই ভাই আছে।[৭] শিশুকালেই পিতা-মাতা সন্তানদেরকে ক্রীড়ানুরাগী হতে যথেষ্ট সহায়তা করেন।[৮][৯] ছয় বছর বয়সেই যমজ ভাইয়েরা ফুটবল, টেনিস ও ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে। জীবনের প্রথম ক্রিকেট খেলায় ভ্রাতৃদ্বয় শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন।[১০]

১৯৮৩ সালে তাঁরা উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়াশুনো শেষ করেন।[১১] ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে উভয়েই নিউ সাউথ ওয়েলস কম্বাইন্ড হাইস্কুল ও অনূর্ধ্ব-১৯ রাজ্যদলের সদস্য ছিলেন।[১২] ওয়াহ গ্রেট পাবলিক স্কুলের বিপক্ষে ১৭০ রান করেন।[১৩] তারপর দু’জনেই অস্ট্রেলিয়া দলে প্রথমবারের মতো মনোনীত হন। জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে একটি টেস্ট ও একদিনের সিরিজে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন।[১১]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ২য় টেস্টে ভারত দলের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে ওয়াহ’র। ১৩ ও ৫ রানের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ৩৬ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট লাভ করেন তিনি।[১৪][১৫] সিরিজে উল্লেখযোগ্য রান করতে না পারলেও একই মৌসুমে নিউজিল্যান্ড সফরে অন্তর্ভূক্ত হন। ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাস্টার পার্কের দ্বিতীয় টেস্টে ৭৪ রানের পাশাপাশি ৪/৫৬ করে চমকপ্রদ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। কিন্তু তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৭.৪০।[১৫]

কীর্তিগাঁথা[সম্পাদনা]

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১১জন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে তিনি দশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন। ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়া দলকে রেকর্ডসংখ্যক ১৬ টেস্ট জয় করতে সহায়তা করেছেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৪ সালে তাঁকে বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[১৬][১৭] জানুয়ারি, ২০১০ সালে নিজ মাঠ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্তি করা হয়।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rajesh, S. An Ashes superstar and much more from CricInfo. Retrieved 27 November 2011.
  2. Haigh, Gideon, One hundred per cent Australian from CricInfo. Retrieved 27 November 2011.
  3. Barnes, Simon. The man who changed the game from CricInfo. Retrieved 27 November 2011.
  4. Engel, Matthew. Australia v India – Wisden Report. Fourth Test, At Sydney, 2, 3, 4, 5, 6 January 2004 from Cricinfo and Wisden. Retrieved 27 November 2011.
  5. Knight 2003, পৃ. 4–5
  6. Knight 2003, পৃ. 6
  7. Knight 2003, পৃ. 9, 13
  8. Knight 2003, পৃ. 8
  9. Perry 2000, পৃ. 348
  10. Knight 2003, পৃ. 11
  11. ১১.০ ১১.১ Knight 2003, পৃ. 27
  12. Knight 2003, পৃ. 26
  13. Perry 2000, পৃ. 349
  14. Perry 2000, পৃ. 350
  15. ১৫.০ ১৫.১ "Statsguru – SR Waugh – Tests – Innings by innings list"Cricinfo। সংগৃহীত 5 June 2008 
  16. "Australian of the Year Awards"। সংগৃহীত 3 October 2009 [অকার্যকর সংযোগ]
  17. Lewis, Wendy (2010)। Australians of the Year। Pier 9 Press। আইএসবিএন 978-1-74196-809-5 
  18. "Lindwall, Miller, O'Reilly, Trumper and Waugh – Australian legends inducted into ICC Cricket Hall of Fame" [অকার্যকর সংযোগ]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
মার্ক টেলর
অস্ট্রেলীয় টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৯৯-২০০৪


উত্তরসূরী
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট
পূর্বসূরী
এরিক সিমন্স
পেশাদার নেলসন ক্রিকেট ক্লাব
১৯৮৭


উত্তরসূরী
অ্যান্থন ফেরেইরা