অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল
| অস্ট্রেলিয়া | |
|---|---|
|
ব্যাগী গ্রীনের প্রতিকৃতি |
|
| টেস্ট মর্যাদা | ১৮৭৭ |
| প্রথম টেস্ট | বনাম ইংল্যান্ড, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন, ১৫-১৯ মার্চ, ১৮৭৭(স্কোরকার্ড) |
| অধিনায়ক | মাইকেল ক্লার্ক (টেস্ট ও ওডিআই) জর্জ বেইলি (টি২০) |
| কোচ | মিকি আর্থার |
| আইসিসি টেস্ট, ওডিআই এবং টি২০আই র্যাঙ্কিং | ২য় (টেস্ট), ২য় (ওডিআই), ১০ম (টি২০) [১] |
| টেস্ট ম্যাচ – বর্তমান বছর |
৭৪৪ ৬ |
| সর্বশেষ টেস্ট | বনাম ভারত, ওয়াকা, পার্থ, অস্ট্রেলিয়া, ৩-৭ জানুয়ারি, ২০১২([২]) |
| জয়/পরাজয় – বর্তমান বছর |
৩৫০/১৯৫ ৩/১ |
| ৭ ডিসেম্বর, ২০১২[১] পর্যন্ত | |
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল (ইংরেজি: Australia national cricket team) অস্ট্রেলিয়ার পুরুষদের জাতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে পরিচিত। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সাথে যুগ্মভাবে প্রাচীনতম দল হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। ১৮৭৭ সালে দলটি সর্বপ্রথম টেস্ট ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়।[২] এছাড়াও, দলটি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে থাকে। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে[৩] এবং ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে।[৪] উভয় খেলাতেই তারা জয়লাভ করে।
৭ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখ পর্যন্ত দলটি ৭৪৪টি টেস্ট খেলায় অংশ নেয়। তন্মধ্যে তাদের জয় - ৩৫০, পরাজয় - ১৯৫, ড্র - ১৯৮ এবং টাই - ২।[৫] টেস্ট ক্রিকেট র্যাঙ্কিংয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলটি ৭৪ মাস পর্যন্ত রেকর্ড সময়ে শীর্ষস্থানে ছিল।
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলটি ৭৯৭ খেলায় অংশগ্রহণ করে ৪৯০ জয়, ২৭২ পরাজয়বরণ করে ও ৯ টাই এবং ২৬ খেলায় ফলাফলবিহীন ছিল।[৬] আইসিসি ওডিআই চ্যাম্পিয়নশীপ প্রবর্তনের পর ২০০৭ সালে ৪৮ দিন ব্যতীত বাকী দিনগুলোয় শীর্ষস্থান ধরে রাখে।
২০০৬ ও ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দুইবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে। একমাত্র দল হিসেবে তারা পরপর দু'বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়। দলটি এ পর্যন্ত টুযেন্টি২০ আন্তর্জাতিকে ৪৯টি খেলায় অংশগ্রহণ করেছে।[৭]
পরিচ্ছেদসমূহ |
ইতিহাস [সম্পাদনা]
দলটি ১৮৭৭ সালে এমসিজিতে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। এ খেলায় তারা ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে ৪৫ রানে পরাজিত করেছিল। চার্লস ব্যানারম্যান ১৬৫ রান রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন এবং টেস্টের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরী করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। ঐ সময়ে টেস্ট ক্রিকেট শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভৌগোলিক দূরত্বজনিত কারণে সাগর পরিভ্রমণ করে খেলার জন্যে কয়েক মাস লেগে যেতো। তুলনামূলকভাবে স্বল্প জনসংখ্যা থাকা স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে খেলতো। জ্যাক ব্ল্যাকহ্যাম, বিলি মারডক, ফ্রেড 'দ্য ডেমন' স্পোফোর্থ, জর্জ বোনার, পার্সি ম্যাকডোনেল, জর্জ গিফেন, চার্লস 'দ্য টেরর' টার্নার প্রমূখ ক্রিকেটারগণ স্মরণীয় হয়ে আছেন। অধিকাংশ ক্রিকেটারই নিউ সাউথ ওয়েলস কিংবা ভিক্টোরিয়ার পক্ষ হয়ে খেলেছেন। তন্মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন জর্জ গিফেন; তিনি সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অল-রাউন্ডার ছিলেন।
দি এ্যাশেজ [সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ১৮৮২ সালে ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়লাভ। ৪র্থ ইনিংসে ফ্রেড স্পোফোর্থের অবিস্মরণীয় ক্রীড়ানৈপুণ্যে ইংল্যান্ড মাত্র ৮৫ রানের লক্ষ্যমাত্রায়ও পৌঁছুতে পারেনি। এতে স্পোফোর্থ ৪৪ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট লাভ করেছিলেন। ফলে, ইংল্যান্ড তার নিজ ভূমিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সিরিজে ১–০ ব্যবধানে হেরে যায়। ফলে লন্ডনের প্রধান সংবাদপত্র দ্য স্পোর্টিং টাইমস্ তাদের প্রতিবেদনে ইংলিশ ক্রিকেট নিয়ে বিদ্রুপাত্মকভাবে বিখ্যাত উক্তি মুদ্রিত করে:
| “ | ইংলিশ ক্রিকেটকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে ওভালের ২৯ আগস্ট, ১৮৮২ তারিখটি। গভীর দুঃখের সাথে বন্ধুরা তা মেনে নিয়েছে। ইংলিশ ক্রিকেটকে ভস্মিভূত করা হয়েছে এবং ছাইগুলো অস্ট্রেলিয়াকে প্রদান করেছে। | ” |
এভাবেই বিখ্যাত এ্যাশেজ সিরিজের সূত্রপাত ঘটে যাতে কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজই অন্তর্ভূক্ত থাকে। যারা সিরিজ জয় করে তারা এ্যাশেজ ট্রফি লাভ করে। দুই দলের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ নিয়ে গঠিত এ প্রতিযোগিতাটি অদ্যাবধি ক্রীড়া বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ-কৌতুহলের সৃষ্টি করে।
বর্তমান সদস্য [সম্পাদনা]
বিশ্বকাপ ক্রিকেট [সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়া ছয়বার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে অংশগ্রহণ করে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়। একমাত্র দল হিসেবে তারা ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালে ধারাবাহিকভাবে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এছাড়াও ১৯ মার্চ, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলার পূর্ব পর্যন্ত দলটি একাধারে ৩৪টি খেলায় অপরাজিত ছিল। এদিন তারা পাকিস্তানের কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।[১০]
| বিশ্বকাপ ক্রিকেট রেকর্ড | ||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| বছর | অবস্থান | খেলার সংখ্যা | জয় | পরাজয় | টাই | ফলাফল হয়নি | ||
| রানার-আপ | ৫ | ৩ | ২ | ০ | ০ | |||
| ১ম রাউন্ড | ৩ | ১ | ২ | ০ | ০ | |||
| ১ম রাউন্ড | ৬ | ২ | ৪ | ০ | ০ | |||
| চ্যাম্পিয়ন | ৮ | ৭ | ১ | ০ | ০ | |||
| ১ম রাউন্ড | ৮ | ৪ | ৪ | ০ | ০ | |||
| রানার-আপ | ৭ | ৫ | ২ | ০ | ০ | |||
| চ্যাম্পিয়ন | ১০ | ৭ | ২ | ১ | ০ | |||
| চ্যাম্পিয়ন | ১১ | ১১ | ০ | ০ | ০ | |||
| চ্যাম্পিয়ন | ১১ | ১১ | ০ | ০ | ০ | |||
| কোয়ার্টার ফাইনাল | ৭ | ৪ | ২ | - | ১ | |||
| - | – | – | – | – | – | |||
| - | – | – | – | – | – | |||
| সর্বমোট | স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা অর্জন | ৭৬ | ৫৫ | ১৯ | ১ | ০ | ||
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ "Records | Test matches | Team Records | Results Summary | ESPN Cricinfo"। Stats.espncricinfo.com। 4 January 2010। সংগৃহীত ৭ ডিসেম্বর, ২০১২।
- ↑ "1st Test: Australia v England at Melbourne, Mar 15–19, 1877 | Cricket Scorecard"। ESPN Cricinfo। 1 January 1970। সংগৃহীত 14 January 2011।
- ↑ "Only ODI: Australia v England at Melbourne, Jan 5, 1971 | Cricket Scorecard"। ESPN Cricinfo। সংগৃহীত 14 January 2011।
- ↑ "Only T20I: New Zealand v Australia at Auckland, Feb 17, 2005 | Cricket Scorecard"। ESPN Cricinfo। সংগৃহীত 14 January 2011।
- ↑ "Records | Test matches | Team Records | Results Summary | ESPN Cricinfo"। Stats.espncricinfo.com। সংগৃহীত 4 January 2011।
- ↑ "Records | One-Day Internationals | Team records | Results summary | ESPN Cricinfo"। Stats.espncricinfo.com। সংগৃহীত 14 January 2011।
- ↑ "Records | Twenty20 Internationals | Team records | Results summary | ESPN Cricinfo"। Stats.espncricinfo.com। সংগৃহীত 20 August 2012।
- ↑ ODI/Twenty20 shirt numbers CricInfo
- ↑ Ricky Ponting has played Twenty20 for Australia in the past year, but has since retired from the format. Ponting retires from Twenty20 internationals
- ↑ "World Cup day 29 as it happened"। BBC News। 19 March 2011। http://news.bbc.co.uk/sport2/hi/cricket/9428278.stm।
আরও দেখুন [সম্পাদনা]
- জর্জ বেইলি
- ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল
- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল
- ওয়ানডে ক্রিকেট রেটিং
- আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ
- আব্দুর রাজ্জাক (ক্রিকেটার)
- সাকিব আল হাসান
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্যদের তালিকা
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
টেমপ্লেট:Cricket in Australia টেমপ্লেট:Australian cricket team seasons
- Articles containing explicitly cited English language text
- ১৮৭৭-তে অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা
- ১৮৭৭-এ প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া ক্লাব
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া
- অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেট
- লারিযাস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী
- জাতীয় ক্রিকেট দলসমূহ
- অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ জাতীয় ক্রীড়া দল
- অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেট দলসমূহ