বিষয়বস্তুতে চলুন

গোঠাভয় রাজাপক্ষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গোঠাভয় রাজপক্ষ
ගෝඨාභය රාජපක්ෂ
கோட்டாபய ராஜபக்ஸ
২০১৯ সালে রাজপক্ষ
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি
দায়িত্ব গ্রহণ
৯ই জানুয়ারি ২০২০
যার উত্তরসূরীমৈত্রীপাল সিরিসেন
শ্রীলঙ্কার সামরিক সচিব
কাজের মেয়াদ
নভেম্বর ২০০৫  ৮ই জানুয়ারি ২০১৫
রাষ্ট্রপতিমহিন্দ রাজপক্ষ
প্রধানমন্ত্রীরত্নসিরি বিক্রমনায়ক
দিসানায়ক মুদিয়নসেলাগে জয়রত্ন
পূর্বসূরীঅশোক জয়বর্ধন
উত্তরসূরীবি.এম.ইউ.ডি বসনায়ক
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মনন্দসেন গোঠাবয় রাজপক্ষ
(1949-06-20) ২০ জুন ১৯৪৯ (বয়স ৭৬)
পলতুব, মাতর, সিলন অধিরাজ্য
নাগরিকত্ব
  • শ্রীলঙ্কান (২০০৩ পর্যন্ত)
  • মার্কিন (২০০৩–০৫)[][]
  • মার্কিন ও শ্রীলঙ্কান (২০০৫–২০১৯)[][]
  • শ্রীলঙ্কান (২০১৯ থেকে)[]
দাম্পত্য সঙ্গীঅয়োমা রাজপক্ষ
সম্পর্কমহিন্দ রাজপক্ষ (ভাই)
বাসিল রাজপক্ষ (ভাই)
চমল রাজপক্ষ (ভাই)
সন্তানমনোজ
পিতামাতাডি. এ. রাজপক্ষ (পিতা)
দন্দিনা রাজপক্ষ (মাতা)
আত্মীয়স্বজনরাজপক্ষ পরিবার
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়
ওয়েবসাইটgota.lk
সামরিক পরিষেবা
ডাকনামগোঠা
আনুগত্যশ্রীলঙ্কা
শাখাশ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী
কাজের মেয়াদ১৯৭১–১৯৯২
পদলেফট্যানেন্ট কর্নেল
ইউনিটগজবা রেজিমেন্ট
কমান্ড১ম গজবা রেজিমেন্ট
জেনারেল শ্রীমৎ জন কোতলাবল আরক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়
যুদ্ধশ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ
১৯৮৭–১৯৮৯ জেভিপি বিদ্রোহ
পুরস্কার রণবিক্রম পদক্কম
রণশূর পদক্কম

লেফটেন্যান্ট কর্নেল নন্দসেন গোঠাভয় রাজপক্ষ[] রণবিক্রম, রণশূর (সিংহলি: නන්දසේන ගෝඨාභය රාජපක්ෂ; তামিল: நந்தசேன கோட்டாபய ராஜபக்ஸ; জন্ম: ২০শে জুন ১৯৪৯) হলেন একজন শ্রীলঙ্কান সাবেক রাষ্ট্রপতি, রাজনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, যিনি ২০১৯ থেকে ১৪ই জুলাই ২০২২ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ৮ম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাঁর বড়ভাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মহিন্দ রাজপক্ষের প্রশাসনের অধীনে প্রতিরক্ষা ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তামিল টাইগার্সের সামরিক পরাজয়ে শ্রীলঙ্কা সশস্ত্র বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা শ্রীলঙ্কার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজপক্ষ রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া গোঠাভয় কলম্বোর আনন্দ কলেজে শিক্ষালাভ করেন এবং ১৯৭১ সালের এপ্রিলে সিলন সেনাবাহিনীতে (বর্তমান শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী) যোগদান করেন। শ্রীলঙ্কা সামরিক বিদ্যাপীঠে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে তিনি একজন অফিসার হিসেবে কমিশনপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাঁকে পদাতিক রেজিমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীতে প্রবেশের পরপরই গোঠাভয় বেশ কিছু বড় আক্রমণে অংশ নেন, যার মধ্যে রয়েছে বডমারচ্চি অভিযান, অপারেশন স্ট্রাইক হার্ড এবং অপারেশন ত্রিবিধ বলয়। এছাড়াও ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জেভিপি বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহ বিরোধী অভিযানে অংশ নেন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে বয়স শেষ হওয়ার পূর্বেই অবসর নেন এব তথ্যপ্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী হন।

২০০৫ সালে তিনি তাঁর ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য দেশে ফিরে আসেন ও তার ভাই বিজয়ী হওয়ার পর সেই প্রশাসনে সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাঁর সময়ে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী তামিল বিদ্রোহীদের পরাজিত করে ও এদের দলনেতা বেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে হত্যা করে, যার ফলে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের ইতি ঘটে। ফলে তিনি তামিল টাইগারদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন এবং ২০০৬ সালে তামিল আত্মঘাতীরা তাঁকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে। তাঁর সময়ে তিনি বেশ কিছু শহুরে উন্নয়নের প্রকল্প শুরু করেন। ২০১৫ সালে তাঁর ভাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনিও সামরিক সচিবের পদ হারান। ২০১৮ সালের দিকে তিনি সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন এবং ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় লাভ করেন। গোঠাভয়ের বাবা ডি. এ. রাজপক্ষও খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ছিলেন।

তাঁর প্রশাসন শ্রীলঙ্কায় কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় ব্যর্থ হয় এবং শ্রীলঙ্কাকে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ঠেলে দেয়, যার ফলে দেশটি ২০২২ সালে ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়। ব্যাপক ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জনরোষের ফলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও নাগরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। রাজপক্ষ সরকার কর্তৃত্ববাদী দমন-পীড়নের মাধ্যমে এর জবাব দেয়—জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সান্ধ্য আইন জারি, সেনা-নেতৃত্বাধীন গ্রেফতার, ভিন্নমত দমন এবং সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা। সংকট আরও ঘনীভূত হলেও তিনি মাসের পর মাস পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান; শেষ পর্যন্ত ১৩ই জুলাই ২০২২ তারিখে তিনি একটি সামরিক বিমানে করে শ্রীলঙ্কা ত্যাগ করে ৫০ দিনের স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান।[][] পরদিন সিঙ্গাপুর থেকে ইমেইলের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন, ফলে তিনি মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগকারী শ্রীলঙ্কার প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। রাজপক্ষ ২রা সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে আবার শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Police to probe Gota's citizenship, passports"Daily FT। Colombo, Sri Lanka। ১০ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯
  2. "Gota's Lanka citizenship in doubt, candidacy under cloud"The Island। Colombo, Sri Lanka। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯। ২৪ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯
  3. Singh, Anurangi (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "Gota's citizenship challenged in Court of Appeal"Sunday Observer। Colombo, Sri Lanka। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯
  4. "People want non-traditional politicians - Gotabhaya Rajapaksa"www.dailymirror.lk (English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  5. "CT finds Gota's true U.S. renunciation certificate"। Ceylon Today। ১ আগস্ট ২০১৯। ৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৯
  6. "Plane Said to Carry Sri Lanka's President Most-Tracked in World"Bloomberg। ১৪ জুলাই ২০২২। ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০২২
  7. "Sri Lanka: President Gotabaya Rajapaksa flees the country on military jet"। BBC। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২
  1. এই সিংহল ব্যক্তিনামটির বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে উইকিপিডিয়া:বাংলা ভাষায় সিংহল শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে ব্যাখ্যাকৃত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি