চৈতন্য মহাপ্রভু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(শ্রীচৈতন্য থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চৈতন্য মহাপ্রভু
হিন্দু ধর্মগুরু
Chaitanya-Mahabrabhu-at-Jagannath.jpg
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু
জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৬
জন্মস্থান নবদ্বীপ (অধুনা নদিয়া জেলা, পশ্চিমবঙ্গ)
পূর্বাশ্রমের নাম নিমাই মিশ্র
মৃত্যু ১৫৩৩
মৃত্যুস্থান পুরী (বর্তমান ওড়িশা)
গুরু কেশব ভারতী
দর্শন গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম
সম্মান "বিদ্যাসাগর বাদীসিংহ", কৃষ্ণের পূর্ণাবতার
উক্তি

"চণ্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তিপরায়ণঃ"

"মুচি যদি ভক্তিসহ ডাকে কৃষ্ণধনে।
কোটী নমস্কার করি তাহার চরণে।।" ('গোবিন্দদাসের কড়চা'য় উল্লিখিত)

"তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুনা।
অমানীনা মানদেন কীর্তনীয়া সদা হরি।।"

পাদটীকা

বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো (৬০ ফুট) চৈতন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপে

চৈতন্য মহাপ্রভু (১৪৮৬ – ১৫৩৩) ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী এবং ষোড়শ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক। তিনি অধুনা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[১] গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ তাকে শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণাবতার মনে করেন।[২] শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ছিলেন ভাগবত পুরাণভগবদ্গীতা-য় উল্লিখিত দর্শনের ভিত্তিতে সৃষ্ট বৈষ্ণব ভক্তিযোগ মতবাদের একজন বিশিষ্ট প্রবক্তা।[৩] তিনি বিশেষত রাধাকৃষ্ণ রূপে ঈশ্বরের পূজা প্রচার করেন এবং জাতিবর্ণ নির্বিশেষে আচণ্ডাল-ব্রাহ্মণের কাছে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রটি জনপ্রিয় করে তোলেন। এটি হল:

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হারে হরে।।

[৪] [৫] সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষাষ্টক নামক প্রসিদ্ধ স্তোত্রটিও তারই রচনা। গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতানুসারে, ভাগবত পুরাণের শেষের দিকের শ্লোকগুলিতে রাধারাণীর ভাবকান্তি সংবলিত শ্রীকৃষ্ণের চৈতন্য রূপে অবতার গ্রহণের কথা বর্ণিত হয়েছে।[৬]

চৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্বাশ্রমের নাম 'গৌরাঙ্গ', বা 'নিমাই'। তার গাত্রবর্ণ স্বর্ণালি আভাযুক্ত ছিল বলে তাকে 'গৌরাঙ্গ' নামে অভিহিত করা হত;[৭] অন্যদিকে, নিম বৃক্ষের নীচে জন্ম বলে তার নামকরণ হয়েছিল 'নিমাই'।[৮] ষোড়শ শতাব্দীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী সাহিত্য বাংলা সন্তজীবনী ধারায় এক নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়েছিল। সেযুগে একাধিক কবি চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী অবলম্বনে কাব্য রচনা করে গিয়েছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর চৈতন্য চরিতামৃত, বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের চৈতন্য ভাগবত,[৯] এবং লোচন দাস ঠাকুরের চৈতন্যমঙ্গল[১০]

চৈতন্য জীবনকথা[সম্পাদনা]

চৈতন্য মহাপ্রভু, নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরে

চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি দোলপূর্ণিমার রাত্রে চন্দ্রগ্রহণের সময় নদিয়ার নবদ্বীপে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম।[১১] তাঁর পিতামাতা ছিলেন অধুনা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার অন্তর্গত নবদ্বীপের অধিবাসী জগন্নাথ মিশ্র ও শচী দেবী।[১২] চৈতন্যদেবের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ওড়িশার জাজপুরের আদি বাসিন্দা। তাঁর পিতামহ মধুকর মিশ্র ওড়িশা থেকে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন।[১৩]

চৈতন্যদেবের পিতৃদত্ত নাম ছিল বিশ্বম্ভর মিশ্র। শৈশবাবস্থায় তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। প্রথম যৌবনে তিনি ছিলেন স্বনামধন্য পণ্ডিত। ব্যাকরণশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনের পর মাত্ৰ কুড়ি বছর বয়সে তিনি ছাত্রদের অধ্যয়নের জন্য একটি টোল স্থাপন করেন।[১৪] তর্কশাস্ত্রে নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিতের খ্যাতি ছিল অবিসংবাদিত। কেশবকাশ্মীর নামক এক দিগ্বিজয়ী পণ্ডিতকে তরুণ নিমাই তর্ক-যুদ্ধে পরাস্ত করেন। জপ ও কৃষ্ণের নাম কীর্তনের প্রতি তাঁর আকর্ষণ যে ছেলেবেলা থেকেই বজায় ছিল, তা জানা যায় তাঁর জীবনের নানা কাহিনি থেকে।[১৫] কিন্তু তাঁর প্রধান আগ্রহের বিষয় ছিল সংস্কৃত গ্রন্থাদি পাঠ ও জ্ঞানার্জন। নিমাইয়ের পূর্ববঙ্গে পর্যটনকালে তাঁর প্রথমা পত্নী লক্ষ্মীদেবীর সর্পদংশনে মৃত্যু ঘটলে তিনি মায়ের অনুরোধে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। [১৬]

এরপর গয়ায় পিতার পিণ্ডদান করতে গিয়ে স্ত্রীবিয়োগকাতর নিমাই তাঁর গুরু ঈশ্বর পুরীর সাক্ষাৎ পান। ঈশ্বর পুরীর নিকট তিনি গোপাল মন্ত্রে দীক্ষিত হন। এই ঘটনা নিমাইয়ের পরবর্তী জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।[১৭] বাংলায় প্রত্যাবর্তন করার পর শিক্ষাভিমানী পণ্ডিত থেকে কৃষ্ণভাবময় ভক্ত রূপে তাঁর অপ্রত্যাশিত মন পরিবর্তন দেখে অদ্বৈত আচার্যের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় বৈষ্ণব সমাজ আশ্চর্য হয়ে যান। অনতিবিলম্বে নিমাই নদিয়ার বৈষ্ণব সমাজের এক অগ্রণী নেতায় পরিণত হন। হিন্দুধর্মের জাতিভেদ উপেক্ষা করে তিনি সমাজের নিম্নবর্গীয় মানুষদের বুকে জড়িয়ে ধরে 'হরি বোল' ধ্বনি বিতরণ করতেন এবং হরিনাম প্রচারে খোল-করতাল সহযোগে অনুগামীদের নিয়ে 'নগর সংকীর্তন'এ বের হতেন। অত্যাচারী জগাই ও মাধাইকে তিনি ভক্তে পরিণত করেন। তাঁর প্রভাবে মুসলিম 'যবন হরিদাস' বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নবদ্বীপের শাসক চাঁদকাজী তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন। চৈতন্যভাগবত-এ আছে, জাতিভেদের অসারতা দেখানোর জন্য তিনি শূদ্র রামরায়কে দিয়ে শাস্ত্র ব্যাখ্যা করিয়েছিলেন। [১৮]

মাত্ৰ চব্বিশ বছর বয়সে কাটোয়ায় কেশব ভারতীর নিকট সন্ন্যাসব্রতে দীক্ষিত হওয়ার পর নিমাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম গ্রহণ করেন।[১৯] সন্ন্যাস গ্রহণের পর তিনি জন্মভূমি বাংলা ত্যাগ করে কয়েক বছর ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান যথা: নীলাচল, দাক্ষিণাত্য, গৌড়, বৃন্দাবন পর্যটন করেন। পথে সত্যবাই, লক্ষ্মীবাই নামে বারাঙ্গনাদ্বয় এবং ভীলপন্থ, নারেজী প্রভৃতি দস্যুগণ তাঁর শরণ গ্রহণ করে। এইসব স্থানে ভ্রমণের সময় তিনি এতদাঞ্চলের ভাষা (যথা: ওড়িয়া, তেলুগু, মালয়ালম প্রভৃতি) বিশেষভাবে শিক্ষা করেন। এই সময় তিনি অশ্রুসজল নয়নে অবিরত কৃষ্ণনাম জপ ও কঠোর বৈরাগ্য সাধন (আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে কৌপীনসার হয়ে) করতেন। জীবনের শেষ চব্বিশ বছরের অধিকাংশ সময় তিনি অতিবাহিত করেন জগন্নাথধাম পুরীতে[২০] ওড়িশার সূর্যবংশীয় হিন্দু সম্রাট গজপতি মহারাজা প্রতাপরুদ্র দেব চৈতন্য মহাপ্রভুকে কৃষ্ণের সাক্ষাৎ অবতার মনে করতেন। মহারাজা প্রতাপরুদ্র চৈতন্যদেব ও তাঁর সংকীর্তন দলের পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছিলেন।[২১] ভক্তদের মতে, জীবনের শেষপর্বে চৈতন্যদেব ভক্তিরসে আপ্লুত হয়ে হরিনাম সংকীর্তন করতেন এবং অধিকাংশ সময়েই ভাবসমাধিস্থ থাকতেন।[২২]১৫৩৩ খ্রীষ্টাব্দে আষাঢ় মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে রবিবারে পুরীধামে মাত্ৰ ৪৮ বছর বয়সে তাঁর লীলাবসান ঘটে।[২৩]

অবতারত্ব[সম্পাদনা]

চৈতন্য মহাপ্রভু (ডানে) ও নিত্যানন্দের (বামে) মূর্তি, ইসকন মন্দির, দিল্লি

গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মতে, চৈতন্য মহাপ্রভু ঈশ্বরের তিনটি পৃথক পৃথক রূপের আধার: প্রথমত, তিনি কৃষ্ণের ভক্ত; দ্বিতীয়ত, তিনি কৃষ্ণভক্তির প্রবক্তা; এবং তৃতীয়ত, তিনি রাধিকার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ কৃষ্ণের স্বরূপ।[২৪][২৫][২৬][২৭] ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত চৈতন্য জীবনীগ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, তিনি একাধিকবার অদ্বৈত আচার্যনিত্যানন্দ প্রভুকে কৃষ্ণের মতো বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন।[২৮][২৯][৩০] চৈতন্যদবের দেহকান্তি ও স্বভাব সম্পর্কিত একটি পদ নিম্নরূপ:

[৩১]

চৈতন্য সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Britannica: Caitanya Movement
  2. Ravi Shankar discusses Sri Chaitanya Mahaprabhu
  3. Srimad Bhagavatam (Introduction) "Lord Caitanya not only preached the Srimad-Bhagavatam but propagated the teachings of the Bhagavad-gita as well in the most practical way"
  4. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা-১৩, প্রকাশ: ১৯৮৬
  5. Sri Chaitanya Mahaprabhu "He spread the Yuga-dharma, or the practice most recommended for the attainment of pure love for Sri Sri Radha-Krishna. That process is Harinam Sankirtan, or the congregational chanting of the Holy Names of the Lord: Hare Krishna Hare Krishna Krishna Krishna Hare Hare, Hare Rama Hare Rama Rama Rama Hare Hare"
  6. Bhag-P 11.5.32 "In the age of Kali, intelligent persons perform congregational chanting to worship the incarnation of Godhead who constantly sings the names of Krishna. Although His complexion is not blackish, He is Krishna Himself. He is accompanied by His associates, servants, weapons and confidential companions. "
  7. In the Name of the Lord (Deccan Herald) "He was also given the name of ‘Gaura’ (meaning golden) because of his extremely fair complexion."
  8. KCM Archive "they named Him, Nimai, as he was born under a neem tree"
  9. Gaudiya Literature
  10. Biography of Sri Locana Dasa Thakura (salagram.net)
  11. Sri Caitanya Mahaprabhu: His Life and Precepts, by Bhaktivinoda Thakura "Caitanya Mahäprabhu appeared in Mäyäpur in the town of Nadia just after sunset on the evening of the 23rd Phälguna 1407 Shakabda, answering to 18 February, 1486, of the Christian Era. The moon was eclipsed at the time of His 'birth'"
  12. Sri Caitanya Mahaprabhu: His Life and Precepts, by Bhaktivinoda Thakura
  13. Nair, p. 87
  14. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা-১৩, প্রকাশ: ১৯৮৬
  15. CC Adi lila 14.22
  16. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা-১৩, প্রকাশ: ১৯৮৬
  17. CC Adi lila 17.9 "In Gayla, Sri Chaitanya Mähaprabhu was initiated by Isvara Puri, and immediately afterwards He exhibited signs of love of Godhead. He again displayed such symptoms after returning home."
  18. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা-১৩, প্রকাশ: ১৯৮৬
  19. Teachings of Lord Chaitanya "They were surprised to see Lord Caitanya after He accepted his sannyasa order from Kesava Bharati"
  20. History of Gaudiya Vaishnavism "Chaitanya spent the remainder of His life, another 24 years, in Jagannäth Puri in the company of some of His intimate associates, such as Svarüpa Dämodara and Rämänanda Räya"
  21. Gaudiya Vaishnavas "His magnetism attracted men of great learning such as Särvabhauma Bhattächärya, the greatest authority on logic, and Shree Advaita Ächärya, leader of the Vaishnavas in Bengal, and men of power and wealth like the King of Orissa, Pratapa Rudra and his brähman minister, Rämänanda Räya..."
  22. Srimad Bhagavatam, Introduction "At Puri, when he [Caitanya] entered the temple of Jagannätha, he became at once saturated with transcendental ecstasy"
  23. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা-১৩, প্রকাশ: ১৯৮৬
  24. Daniel Coit Gilman, Harry Thurston Peck, Frank Moore Colby, The New International Encyclopædia - Encyclopedias and dictionaries (1904) p. 198, "was regarded as also divine and as a reincarnation of Krishna Himself".
  25. Margaret H. Case, Seeing Krishna: The Religious World of a Brahman Family in Vrindaban (2000) p. 63
  26. C. J. Fuller, The Camphor Flame: Popular Hinduism and Society in India (2004) p. 176
  27. David G. Bromley, Larry D. Shinn, Krishna Consciousness in the West(1989) p. 69
  28. CC Adi-lila 17.10
  29. Chaitanya Bhagavata Ādi-khaṇḍa 1.122
  30. Chaitanya Bhagavata, Madhya-khaṇḍa 24
  31. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খন্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]