মোজাফফর আহমদ (বীর বিক্রম)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মোজাফফর আহমেদ
মৃত্যু১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর বিক্রম

মোজাফফর আহমেদ (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মোজাফফর আহমদের জন্ম নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম অলি মিয়া এবং মায়ের নাম হাবিয়া খাতুন। তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ইপিআরে চাকরি করতেন মোজাফফর আহমদ। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন রাজশাহী ইপিআর সেক্টরের অধীনে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন তিনি। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে যুদ্ধ করেন ৭ নম্বর সেক্টরের লালগোলা সাব-সেক্টরে। বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্তর্গত হরিপুর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশে-ভারত সীমান্তবর্তী অনেক এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে এলেও হরিপুর থেকে যায় পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হরিপুরে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। সেদিন ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল একযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ চালায়। রাতের অন্ধকারে মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে আক্রমণ চালালেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানে। মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকটি দলে বিভক্ত ছিলেন। একটি দলে ছিলেন মোজাফফর আহমদ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের একদম কাছে গিয়ে সাহস আর বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন মোজাফফর আহমদ। হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পাকিস্তানি সেনাদের অস্ত্রের কয়েকটি গুলি এসে লাগল তাঁর শরীরে। সেখানেই তিনি মারা যান। মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে আক্রমণ চালালে পাকিস্তানি বাহিনী প্রথমে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের ঘাঁটি ছিল বেশ সুরক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধারা, বিশেষত মোজাফফর আহমদের দল পাকিস্তানি সেনাদের তীব্র গোলাগুলি উপেক্ষা করে সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যান। তাঁদের সাহস দেখে মুক্তিযোদ্ধার অন্যান্য দলও অনুপ্রাণিত হয়। তাঁরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধ করতে থাকেন। তুমুল যুদ্ধ চলতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, এমন সময় মোজাফফর আহমদ পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন। কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী হরিপুর থেকে পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক হতাহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মোজাফফর আহমদসহ চারজন শহীদ ও কয়েকজন আহত হন। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা সহযোদ্ধাদের মরদেহ উদ্ধার করে সেখানেই সমাহিত করেন। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ০৮-০২-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ২১৩। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা (দ্বিতীয় খন্ড)। ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃষ্ঠা পৃ ১৩৪। আইএসবিএন 9789849025375 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]