এয়ার আহমদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এয়ার আহমদ
মৃত্যু৯ নভেম্বর, ১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর বিক্রম

শহীদ এয়ার আহমদ (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

এয়ার আহমদের জন্ম ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বালুয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নজির আহম্মদ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন এয়ার আহমদ। ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে বাবা- মা পাশের গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা করে তাঁকে চিঠি লেখেন। সেই চিঠি পেয়ে তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি যান। এর মধ্যে শুরু হয়ে যায় অসহযোগ আন্দোলন। কয়েক দিন পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তাঁর আর বিয়ে করা হয়নি। ৯ নভেম্বর বিলোনিয়ায় এক যুদ্ধে শহীদ হন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

ফেনী জেলার অন্তর্গত বিলোনিয়া থেকে রেললাইন চলে এসেছে ফেনী পর্যন্ত। পাশ দিয়ে সমান্তরাল কাঁচা রাস্তা। অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে সেখানে একটানা বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যে চিথলিয়া-পরশুরামের মাঝামাঝি এক স্থানে ভোররাতে রেললাইনের পাশের রাস্তা ঘেঁষে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর টহল দলকে আক্রমণ করার জন্য। সকাল হলেই রেলট্রলিতে শুরু হবে পাকিস্তানি সেনাদের টহল। এমন সময় চিথলিয়ার দিক থেকে অস্পষ্ট শব্দ। এয়ার আহমদ সেদিকে তাকালেন। তিনি এবং তাঁর সহযোদ্ধা কয়েকজন পরিষ্কার দেখতে পেলেন একটা রেলট্রলি। ট্রলিতে বসা বেশ কজন পাকিস্তানি সেনা। তাদের সঙ্গে এক অফিসার। বুঝতেই পারেনি মুক্তিবাহিনী এত কাছে ওতপেতে বসে আছে। মুক্তিযোদ্ধা যাঁরা ওখানে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এয়ার আহমদই ছিলেন সবচেয়ে সাহসী। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছিলেন। রেলট্রলিটা এগিয়ে আসছে। আওতার মধ্যে আসা মাত্র এয়ার আহমদ ও তাঁর সহযোদ্ধাদের অস্ত্র একসঙ্গে গর্জে উঠল। প্রথম গুলি করেন এয়ার আহমদই। গোলাগুলির শব্দে জায়গাটা মুখরিত হয়ে গেল। একজন পাকিস্তানি সেনাও প্রাণে বাঁচতে পারল না। গোলাগুলির শব্দে চিথলিয়া ও পরশুরামে অবস্থানরত পাকিস্তানিরা দুই দিক থেকেই গোলাগুলি শুরু করে। এদিকে আক্রমণের তাৎক্ষণিক সাফল্যে আনন্দে বাঙ্কার থেকে উঠে পড়লেন এয়ার আহমদ। দৌড়ে গেলেন বাঙ্কারের অদূরে পড়ে থাকা নিহত পাকিস্তানি এক সেনা অফিসারের দিকে। গোলাগুলির কথা মুহূর্তের মধ্যে ভুলে গেলেন। নিহত পাকিস্তানি অফিসারের কোমরে বাঁধা খাপ থেকে পিস্তলটি বের করে নিজের পকেটে রাখলেন। এরপর সেই অফিসারকে টেনে আনতে থাকলেন নিজেদের বাঙ্কারের দিকে। ঠিক তখনই চিথলিয়ার দিক থেকে পাকিস্তানিদের ছোড়া একটি বুলেট এসে লাগল তাঁর মাথায়। ঢলে পড়লেন বাঙ্কারের সামনে। পরে সহযোদ্ধারা তাঁকে সমাহিত করেন দক্ষিণ পৈথারা গ্রামে। এ গ্রাম তাঁর নিজ গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। এয়ার আহমদ প্রকৃতপক্ষেই একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত ২ নম্বর সেক্টরের রাজনগর সাব-সেক্টর এলাকার পরশুরাম, মুন্সিরহাট, ফুলগাজী, সালধরসহ আরও কয়েক স্থানে সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর অধিনায়ক ছিলেন ইমাম-উজ-জামান (বীর বিক্রম)। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ১৬-০৮-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ৪৭৭। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ৩১৭। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]