এস আই এম নূরুন্নবী খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এস আই এম নূরুন্নবী খান
জন্ম১৯৪২
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর বিক্রম

এস আই এম নূরুন্নবী খান (জন্ম: ১৯৪২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

এস আই এম নূরুন্নবী খানের জন্ম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীধরপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম হাবীবউল্লাহ খান এবং মায়ের নাম শামছুন নাহার বেগম। তার দুই স্ত্রী। তাদের নাম জাকিয়া মাহমুদা ও সুলতানা নবী। তাঁদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে চাকরি করতেন এস আই এম নূরুন্নবী খান। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় প্রশিক্ষণে ছিলেন। ২৭ মার্চ সেখান থেকে কৌশলে দ্বিতীয় কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সঙ্গে ঢাকায় এসে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ভারতে যাওয়ার পর তিনি কিছুদিন এমএজি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেলটা কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। অসংখ্য যুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। এর মধ্যে বাহাদুরাবাদ, ছাতক, গোয়াইনঘাট, রাধানগর, ছোটখেল, সালুটিকর যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। অসাধারণ রণনৈপুণ্য ও সাহস প্রদর্শনের জন্য তখন তার নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি যুদ্ধে তিনি দলনায়ক হিসেবে অসম সাহস প্রদর্শন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর সিলেট জেলার অন্তর্গত সালুটিকরের অবস্থান ছিলো শহর থেকে সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। নবাটিলার দক্ষিণ দিক ঘেঁষে বিমানঘাঁটি এলাকা। সালুটিকরে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত এক প্রতিরক্ষা অবস্থান। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী সেখানে আক্রমণ করে। কয়েক দিন ধরে যুদ্ধ হয়। ১২ ডিসেম্বরের যুদ্ধই ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধ। সেদিন সকাল থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর অবস্থানে আর্টিলারি আক্রমণ শুরু করে। মুক্তিবাহিনীও তার পাল্টা জবাব দেয়। পরে পাকিস্তানি সেনারা মার্চ করে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের একদম কাছে আসতে থাকে তখন নূরুন্নবী খান কৌশলগত কারণে সহযোদ্ধাদের গোলাগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে পাশের দাড়িকান্দি দখল করে নদীর তীরবর্তী চৌধুরীকান্দি ও কচুয়ারপাড় এলাকায় আসতে থাকে। কাছেই ছিল ফরেস্ট ডাকবাংলো। সেখানে একদল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিলেন নূরুন্নবী খান। তার সঙ্গে ছিলেন মিত্রবাহিনীর কর্নেল রাজ সিং। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের অবস্থানের ২০০ গজের মধ্যে আসামাত্র রাজ সিং বারবার নূরুন্নবী খানকে অনুরোধ করেন গুলি শুরু করতে। দুঃসাহসী নূরুন্নবী খান তা না করে বলেন, শত্রুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হবে। পাকিস্তানি সেনারা এক সারিতে এগিয়ে আসতে থাকে। তারা ভেবেছিল, মুক্তিযোদ্ধারা পালিয়ে গেছে। ১০ গজের মধ্যে আসামাত্র নূরুন্নবী খান বলে ওঠেন, ‘হ্যান্ডস আপ।’ এতে পাকিস্তানি সেনারা হতভম্ব হয়ে পড়ে। সামনে থাকা কয়েকজন সঙ্গে সঙ্গে আত্মসমর্পণ করে। পেছনে থাকা পাকিস্তানি সেনারা এদিক-সেদিক দৌড়ে যায়। তারপর শুরু হয় ভয়াবহ যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নিহত হয় বহু পাকিস্তানি সেনা। বন্দী হয় বেশ কয়েকজন। সন্ধ্যার মধ্যেই গোটা সালুটিকর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ১৬-১২-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ১৪০। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১২২। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]