মরিস মেটারলিংক‌

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মরিস মেটারলিংক
মরিস মেটারলিংক,একজন বিখ্যাত নাট্যকার
জন্মমরিস পলিডোর মেরি বার্নার্ড
(১৮৬২-০৮-২৯)২৯ আগস্ট ১৮৬২
ঘেন্ট,বেলজিয়াম
মৃত্যুমে ৬, ১৯৪৯(1949-05-06) (বয়স ৮৬)
নাইস,ফ্রান্স
পেশানাট্যকার • কবি • প্রবন্ধকার
ভাষাফ্রেঞ্চ
জাতীয়তাবেলজিয়ান
শিক্ষাঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়
সাহিত্য আন্দোলনপ্রতীকীবাদ
উল্লেখযোগ্য রচনাবলিইন্ট্রুডার (১৮৯০)
দ্য ব্লাইন্ড (১৮৯০)
পেলিসেট মেলিসান্ড(১৮৯৩)
ইন্টিরিয়র(১৮৯৫)
দ্য ব্লু বার্ড(১৯০৮)
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারসাহিত্যে নোবেল পুরস্কার-১৯১১
ট্রাইএনিয়েল প্রাইজ ফর ড্রামাটিক লিটারেচার -১৯০৩
দাম্পত্যসঙ্গী রিনি ডাহন
সঙ্গীজর্জেট লেবলাঙ্ক

স্বাক্ষর

মরিস পলিডোর মেরি বার্নার্ড মেটারলিংক(ইংরেজি: Maurice Polydore Marie Bernard Maeterlinck[১];তিনি কাম্ট মেটারলিঙ্ক নামেও পরিচিত[২] [mo.ʁis ma.tɛʁ.lɛ̃ːk]বেলজিয়ান, [mɛ.teʁ.lɛ̃ːk]ফ্রেঞ্চ;[৩] ২৯ আগস্ট ১৮৬২-৬ মে ১৯৪৯) ছিলেন একজন বেলজিয়ান নাট্যকার, কবি এবং প্রবন্ধকার, যিনি একজন ফ্লেমিশ হয়েও ফ্রেঞ্চ ভাষায় রচনা করতেন।তিনি ১৯১১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, "তাঁর বহুমুখী সাহিত্যকর্মের সমাদরের জন্যে এবং বিশেষ করে তাঁর নাটকীয় কাজের জন্যে, যা তাঁর কল্পনার প্রাচুর্যতা এবং ছন্দোময় কল্পনাশক্তির মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জন করেছে, যা তাঁর রূপকথার ছলের মধ্যে মাঝে মাঝে প্রকাশ করে এক গভীর উদ্দীপনা যখন তা এক রহস্যময়তার মধ্যে পাঠকদের অনুভূতি ও অন্তর স্পর্শ করে এবং তাদের কল্পনাকে উদ্দীপিত করে।" তার রচনার মুখ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে মৃত্যু এবং জীবনের মর্মার্থ। তাঁর নাটক প্রতীকীবাদ আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা রাখে ।

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মেটারলিংকের কৈশোরকাল

মেটারলিংক বেলজিয়াম এর ঘেন্ট শহরের এক সম্ভ্রান্ত ফ্রেঞ্চ ভাষী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর মা, ম্যাথিল্ড কোলেট ফ্র্যান্সোয়াস (নিঁ ভ্যান দেন বশঁ), একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন[৪][৫] । তাঁর পিতা, পলিডোর একজন দলিলপত্র সম্পাদক ছিলেন, যিনি তাদের সম্পত্তির ভান্ডার তত্ত্বাবধান করতেন ।

১৮৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে দ্য জেস্যুট কলেজ অব সেইন্ট-বার্ব এ প্রেরণ করা হয়, যেখানে ফ্রেঞ্চ রোমান্টিক রচনাকে অবজ্ঞা করা হতো এবং সেখানে শুধু ধর্মসম্বন্ধীয় নাটক অনুমোদিত ছিল । এই বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা ক্যাথলিক চার্চ এবং সেখানে সংগঠিত ধর্মের প্রতি তাঁর বিমুখতাকে প্রভাবিত করে।[৬]

১৯০১ সালে মেটারলিংক

তিনি ছাত্রাবস্থায় কবিতা এবং ছোট গল্প রচনা করতেন । কিন্তু তাঁর পিতা চাইতেন তাঁকে আইনজীবী বানাতে । ১৮৮৫ সালে ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ক পড়া শেষ করার পর, তিনি কিছু মাস ফ্রান্স এর প্যারিস এ অতিবাহিত করেন । তাঁর সেখানে নতুন প্রতীকীবাদ আন্দোলনের কিছু সদস্যদের সাথে সাক্ষাত হয়, যাদের মধ্যে ভিলিয়ার্স দে এল'ইসলে অ্যাডাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যিনি মেটারলিংকের পরবর্তী রচনাসমূহ দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন ।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কর্মজীবনের শুরুতে মেটারলিংক

মেটারলিংকের প্রথম নাটক, প্রিন্সেস মালেইন, অকট্যাভ মারব্যূর কাছ থেকে এক উদ্যমী প্রশংসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন; লে ফিগার এর সাহিত্য সমালোচক, আগস্ট, ১৮৯০ । পরবর্তী বছরসমূহে, তিনি অদৃষ্টবাদ এবং অতীন্দ্রি়বাদ দ্বারা চিহ্নিত প্রতীকীবাদী নাটক এর ক্রমধারা রচনা করেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইন্ট্রুডার (১৮৯০), দ্য ব্লাইন্ড (১৮৯০) এবং পেলিসেট মেলিসান্ড (১৮৯২)

১৮৯৫ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত শিল্পী ও অভিনেত্রী জর্জেট লেবলাঙ্ক এর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন । পরবর্তী দুই দশক মেটারলিংকের কাজ লেবলাঙ্ককে প্রভাবিত করে। অ্যাগলাভ্যাইন এট সেলাইসেট নাটকের মধ্য দিয়ে মেটারলিংক চরিত্র, বিশেষ করে নারী চরিত্র তৈরি করতে শুরু করেন, বেশির ভাগই তাদের ভাগ্যের উপর নিয়ন্ত্রিত ছিল । লেবলাঙ্ক মঞ্চে এইসব নারী চরিত্রে অভিনয় করতেন । যদিও অতীন্দ্রি়বাদ ও দর্শনশাস্ত্র তার কর্মজীবনে তার কাজকে প্রভাবিত করেছিল, তবুও সে ধীরে ধীরে তাঁর প্রতীকীবাদকে আরও বেশি অস্তিত্ব-সম্বন্ধীয় রচনাশৈলী দিয়ে আগের বিষয়ে ফিরে আসেন ।[৭]

১৮৯৫ সালে, তাঁর পিতা-মাতা তাঁর এই খোলামেলা সম্পর্ককে অসমর্থন করলে, মেটারলিংক ও লেবলাঙ্ক প্যারিস এর পাসি জেলায় চলে যান । ক্যাথলিক চার্চ তাকে তার স্প্যানিশ স্বামীর থেকে তার বিবাহবিচ্ছেদে অনুমোদন দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন । তাঁরা প্রায়ই অতিথিদের (যেমন-মারব্যূ, জিন লরেইনপল ফোর্ট) আপ্যায়ন করতেন । তাঁরা তাঁদের গ্রীষ্মের দিনগুলো নরম্যান্ড এ অতিবাহিত করতেন । এই সময়ের মধ্যে, মেটারলিংক তাঁর "টুয়েল্ভ সংস" (১৮৯৬), "দ্য ট্রেজার অব দ্য হাম্বল" (১৮৯৬), "দ্য লাইফ অব দ্য বি" (১৯০১) এবং "অ্যারিয়ান এন্ড ব্লুবিয়ার্ড" (১৯০২) প্রকাশ করেন ।[৭]

১৯০৩ সালে, মেটারলিংক নাটকীয় সাহিত্যের জন্য বেলজিয়াম সরকারের নিকট থেকে ত্রিবার্ষিক পুরস্কার পান ।[৮] এই সময়ে এবং মহাযুদ্ধের শুরুতে, তিনি একজন মহাজ্ঞানী ও সেই সময়ের উচ্চ ধ্যান-ধারণার মূর্তপ্রতীক হিসেবে সমগ্র ইউরোপে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন ।

১৯০৬ সালে, মেটারলিংক ও লেবলাঙ্ক গ্র্যাস এর একটি বাগানবাড়িতে চলে আসেন । তিনি তাঁর সময়গুলো হাঁটতে ও চিন্তার মধ্যে অতিবাহিত করতেন । যখন তিনি লেবলাঙ্কের থেকে দূরে সরে যাওয়ার টান অনুভব করতেন, তখন তিনি বিষণ্ণতায় ভোগতেন । তিনি তাঁর অস্থিরতা বুঝতে পেরে নরম্যান্ডের সেইন্ট ভ্যান্ড্রিলেইনের বেনেডিক্টিন মঠকে খাজনা দেন তাঁকে এই অস্থিরতা থেকে আরাম দেওয়ার জন্য । মঠকে খাজনা দেওয়ার মাধ্যমে একটি রাসায়নিক কারখানাকে বিক্রি হওয়ার অপব্যবহার থেকে রক্ষা করেন এবং এভাবেই তিনি পোপের কাছ থেকে আশীর্বাদ পান । [৯] লেবলাঙ্ক প্রায়শই একজন মঠধারিণীর পোশাকে ঘুরে বেড়াতেন; সে রোলার স্কেইট পরিধান করে ঘরের আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন ।[১০] এই সময়, তিনি তাঁর প্রবন্ধ "ফুলের বুদ্ধিমত্তা"(১৯০৬) রচনা করেন, যার মধ্যে তিনি সমাজতান্ত্রিক মনোভাবের সাথে সহানুভূতি প্রকাশ করেন । তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সংস্থাকে এবং সমাজতান্ত্রিক দলকে অর্থ দান করেন । এই সময়, তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্যের জন্ম দিয়েছেন:রূপকথার নাটক, নীল পাখি(১৯০৮, তবে মূলত ১৯০৬ সালে লেখা হয়েছিল) । "ফুলের বুদ্ধিমত্তা" লেখার পর, তিনি অস্থিরতা ও লেখার প্রতিবন্ধকতায় ভোগেন । যদিও তিনি পরবর্তী এক বা দুই বছরে এই অসুখ থেকে সুস্থতা লাভ করেন, তবুও তিনি আগের উদ্ভাবনাগুলোর মতো আর কখনোই লেখতে পারেননি । তাঁর পরবর্তী নাটকগুলি, যেমন মেরি-ভিক্টোয়ার (১৯০৭) ও মেরি ম্যাগডালেন (১৯১০), লেবলাঙ্কের জন্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল,[১১] লক্ষ্যণীয়ভাবে ইহা তার পূর্বসূরিদের থেকে নিম্নতর ছিল এবং কখনও কখনও কেবল তার পূর্বের ফর্মুলা পুনরাবৃত্তি করত । যদিও সেইন্ট ভ্যান্ডারিলে তাঁর কিছু নাটক উন্মুক্তভাবে মঞ্চস্থ করা হয় এবং তা সফল হয়, তবুও মেটারলিংক মনে করেছিলেন যে তিনি তাঁর গোপনীয়তা হারাচ্ছেন । ১৯১০ সালের ১১ জুন, তাঁর মায়ের মৃত্যু তাঁকে আবারও অস্থিরতায় ফেলে ।[১২]

মেটারলিংক ও তাঁর স্ত্রী
রিনি ডাহন

১৯১০ সালে "নীল পাখি" নাটকের মহড়া চলাকালীন সময়ে তাঁর সাথে ১৮ বছর বয়সী অভিনেত্রী রিনি ডাহন এর সাক্ষাৎ হয় । সে তাঁর হাসি-খুশির সঙ্গীতে পরিণত হয় । কার্ল বিল্ট তাঁকে সুইডিশ একাডেমির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার পর, ১৯১১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান, যা তাঁর মানসিক অস্থিরতাকে আরো হালকা করে ।[১৩] ১৯১৩ সালে, ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে সে আরো বেশি খোলাখুলিভাবে সমাজতান্ত্রিক হয়ে পড়ে এবং পাশাপাশি বেলজিয়ান ট্র্যাড ইউনিয়নের সাথে একত্রে ক্যাথলিক পার্টির বিরোধিতা করে ।[১৪] তিনি তাঁর প্রবন্ধগুলিতে মহাবিশ্বের ইতিহাসের ধরণকে ভুল করার জন্য অতীন্দ্রিবাদ পড়তে এবং ক্যাথলিক চার্চের নিন্দা করতে শুরু করেন ।[১৫] ২৬ জানুয়ারি,১৯১৪ সালে রোমান ক্যাথলিক চার্চ এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে তাঁর গীতিনাট্য ওমনিয়াকে লিব্রোরাম প্রোহিবিটোরাম সূচীতে স্থাপন করেন ।

১৯১৪ সালে, যখন জার্মানি বেলজিয়াম আক্রমণ করে, মেটারলিংক তখন ফরাসি বৈদেশিক সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাঁর বয়সের জন্য তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় । তিনি এবং লেবলাঙ্ক সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা গ্র্যাস ত্যাগ করে নাইস এর কাছাকাছি এক বাগানবাড়িতে উঠবেন, যেখানে তিনি তাঁর জীবনের পরবর্তী দশক অতিবাহিত করেন । তিনি যুদ্ধে বেলজিয়ানদের নির্ভীকতা এবং জার্মানদের অপরাধিত্ব সম্পর্কে বক্তব্য দেন । যদিও তাঁর স্বদেশপ্রেমিকতা, ও ক্ষতির প্রতি তাঁর উদাসীনতা, তবুও তিনি জার্মানিতে তাঁর সম্মানজনক অবস্থার জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন, এটাকে তিনি কৃতিত্ব দিতেন, এটাই একজন মহাজ্ঞানী হিসেবে তাঁর খ্যাতিকে গুরুতরভাবে নষ্ট করে । নাইসে, যখন তিনি "স্টিলমান্ডের মেয়র" রচনা করেন, যা আমেরিকান গণমাধ্যম দ্বারা "মহাযুদ্ধের নাটক" হিসেবে আখ্যায়িত হয় এবং ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম এর উপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে । তিনি আরও রচনা করেন "নীল পাখি" নাটকের পরিণতির একটি ধারাবাহিক বেত্রথ্যাল, স্পষ্টত যেটার নায়িকা লেবলাঙ্ক ছিল না ।[১৬]

১৯১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে মেটারলিংক ডাহনকে বিয়ে করেন । তিনি আমেরিকার আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন । স্যামুয়েল গোল্ডউইন তার চলচ্চিত্রের জন্য তাঁকে কিছু চিত্রনাট্য রচনা করার অনুরোধ করেন । মেটারলিংকের নতির শুধুমাত্র দুটি এখনও বিদ্যমান আছে; গোল্ডউইন সেগুলো ব্যবহার করেননি । মেটারলিংক সেগুলো "মৌমাছির জীবনের" উপর ভিত্তি করে বানিয়েছিলেন । ইহার প্রথম কয়েক পাতা পড়ার পর গোল্ডউইন তার অফিসে বিস্ফারিত কন্ঠে চিৎকার করে বললেন, "ওহ্ ঈশ্বর, নাটকের নায়ক একটা মৌমাছি!"

১৯২০ সালের পরে মেটারলিংক থিয়েটারে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখা বন্ধ করে দেন, কিন্তু তিনি তাঁর পছন্দের বিষয়: "প্রাকৃতিক, নীতিশাস্ত্র এবং জীবতত্ত্বের" উপর প্রবন্ধ লেখা চালিয়ে যান । ১৯২০'র দশকের শুরুর দিকে এইসবের প্রতি আন্তর্জাতিক চাহিদা প্রবলভাবে হ্রাস পায়, কিন্তু ১৯৩০'র দশকের শেষের দিকে ফ্রান্সে তাঁর বিক্রয় যথেষ্ট পরিমাণে ছিল । ১৯২৫ সালে ডাহন একটি মৃত শিশু জন্ম দেয় ।

প্রতিপাদিত রচনাচুরি[সম্পাদনা]

১৯২৫ সালে মেটারলিংক

১৯২৬ সালে, মেটারলিংক তাঁর প্রবন্ধ "লা ভায় দেস টারমাইটস" (ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় "সাদা পিঁপড়ের জীবন" নামে) প্রকাশ করেন, এটি একটি তাত্ত্বিক বই, যেটা আফ্রিকান কবি ও বিজ্ঞানী ইউগেন মারিস এর গবেষণা ও লেখা " সাদা পিঁপড়ের সত্তা" বইয়ের সত্ত্ব চুরি করে লেখা,[১৭] যাকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় এর জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক, ডেভিড বিগনেল "একাডেমিক চুরির সর্বোত্তম উদাহরণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেন ।[১৮]

মারিস মেটারলিংককে তাঁর বইয়ে উইপোকার বাসার "সাংগঠনিক অবিচ্ছিন্নতা" সম্পর্কে তাঁর ধারণা নকল করার জন্য অভিযুক্ত করেন ।[১৯] ১৯২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ডায় বার্গারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকান ভাষী পত্রিকায় মারিস উইপোকার বাসা সম্পর্কে তাঁর ধারণা প্রকাশ করেন, যা ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত "সাদা পিঁপড়ের সত্তা" শিরোনামের অধীনে উইপোকা সম্পর্কিত নিবন্ধ আকারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয় । ১৯২৬ সালে মেটারলিংকের বইটি প্রায় একই রকম বিষয়বস্তু[১৮] নিয়ে প্রকাশিত হয় । কথিত আছে যে, ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত আফ্রিকান পত্রিকা ডায় হুইসগেনোট এ প্রকাশ হওয়া ইউগেন মারিসের নিবন্ধগুলি মেটারলিংক সংগ্রহ করে আসছিলেন, এবং মেটারলিংকের জন্য সেগুলো ফরাসিতে অনুবাদ করা সহজ ছিল । কারণ তিনি ডাচ ভাষা জানতেন এবং ইতিমধ্যেই তিনি ডাচ ভাষা থেকে ফরাসিতে বেশ কিছু নিবন্ধ অনুবাদও করেছিলেন ।[২০] সেই সময় আফ্রিকান পত্রিকায় প্রকাশিত মূল্যবান নিবন্ধগুলি ফ্লেমিশডাচ পত্রিকায় পুনর্মুদ্রণ করা হতো ।

মারিস মেটারলিংকের সম্পর্কে লন্ডনে ড. উইনিফ্রেড ডে কককে একটি চিঠি লিখেছিলেন । তার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হল :

আমার গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুরি করে বিখ্যাত লেখক আমাকে সন্দেহজনক অভিনন্দন জানিয়েছেন । যদিও তিনি স্বীকার করেন যে তিনি তাঁর জীবনে কখনোই উইপোকা দেখেননি, তবুও তিনি তাঁর পাঠকদের স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি আমার তত্ত্বগুলিতে (দশ বছরের পরিশ্রমের ফল) পৌঁছেছেন তাঁর নিজস্ব নিরাবলম্ব বুদ্ধি দিয়ে । আপনি নিশ্চয় বুঝবেন যে এটা কল্পনার নিছক একটা রচনা নয়, সেজন্যই বলা । তিনি অক্ষরে অক্ষরে পড়ে সেগুলো নকল করেছেন ।[২০][২১]

মারিস তার আফ্রিকান জাতীয়তাবাদী বন্ধুদের এক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার গণমাধ্যমে ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন এবং মেটারলিংকের বিরুদ্ধে একটা আন্তর্জাতিক মামলা করার চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু সেটা প্রমাণ করা আর্থিকভাবে অসম্ভব ছিল এবং তাই মামলাটি আর চলেনি । যাইহোক, মারিস একজন আফ্রিকান গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, যিনি নিজেকে তার সত্ত্ব চুরির মাধ্যমে প্রকাশ করেন, কারন তিনি আফ্রিকায় জাতীয়তাবাদী আনুগত্যের বাইরে নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন । মারিস এই কেলেঙ্কারির সময় গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "আমি বিস্মিত হয় যে মেটারলিংক যখন এই ধরনের বিষয়গুলো (সংকটপূর্ণ প্রশংসা) পড়েন, এবং তিনি অচেনা বোয়ারকর্মীর সাথে যে অবিচার করছেন সে সম্পর্কে কোন চিন্তাভাবনা করেন কি?"[১৯]

সাদা পিঁপড়ের জীবন প্রবন্ধে মেটারলিংকের নিজস্ব কথা ইঙ্গিত করে যে সত্ত্ব চুরির কথা প্রকাশ হওয়া বা অভিযুক্ত হওয়া সম্ভব, যা তাঁকে চিন্তিত করেছিল :

পাঠ্যসূচি ও তথ্যসূত্রের সাথে নিবন্ধটিকে বদ্ধ করার জন্য প্রতিটি বিবৃতির বিষয় সহজ ছিল । কিছু অধ্যায়ে কোনো বাক্য ছিল না তবে এর জন্য কথা বলা হবে ; এবং মুদ্রাঙ্কিত বিষয়সমূহ করায়ত্ত করা হবে, যেমনটা আমাদের স্কুলের বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য বইয়ের সাথে করা হত । খন্ডটির শেষে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থপঞ্জি রয়েছে যা একই তাত্পর্য সরবরাহ করবে না এতে সন্দেহ করার কিছুই নেই ।

এই বিভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও, উক্ত গ্রন্থপঞ্জিতে ইউগেন মারিসের কোনো উল্লেখ নেই । তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে মেটারলিংকের অন্যান্য রচনাসমূহ হচ্ছে পিঁপড়ের জীবন (১৯৩০) এবং দ্য গ্লাস স্পাইডার (১৯৩২) ।

অধ্যাপক ভি.ই. ডি'অ্যাজোনভিল মেটারলিংক সম্পর্কে বলেছেন, " নোবেল পুরস্কার বিজয়ী যিনি তাঁর সারা জীবনের কখনোই উইপোকা দেখেননি এবং কখনোই আফ্রিকার মাটিতে পা রাখেননি, বিশেষ করে ওয়াটারবার্গেতো কখনোই না ।"[২০]

যদিও মারিসের জীবনী লেখক লিওন রুসাউ ভেবেছিলেন যে মারিস এই বিতর্কে মনোযোগ দিয়ে উন্নতি লাভ করেছেন[২২], তবুও ইউগেন মারিসের একজন ভক্ত রবার্ট আরদ্রে মারিসের পরবর্তী আত্মহত্যার জন্য মেটারলিংকের করা আধ্যাত্মিক সম্পত্তি ও রচনার সত্ত্ব চুরিকে দায়ী করেন ।[২৩]

কথিত আছে যে মেটারলিংকের নাটক মন্না ভান্না রবার্ট ব্রোইঙ্গের নাটক লুরিয়া থেকে সত্ত্ব চুরি করা ।[২৪]

শেষ জীবন[সম্পাদনা]

Maurice Maeterlinck 7862.jpg

১৯৩০ সালে তিনি একটা জমিদার বাড়ি কিনেন এবং এর নাম দেন ওরলামন্ড, যা তাঁর রচিত কুইঞ্জ চ্যান্সন্সে দেখা যায় ।[২৫]

১৯৩২ সালে বেলজিয়ামের রাজা প্রথম আলবার্ট তাঁকে কাম্ট উপাধি দেন ।[২৬]

১৯৪০ সালে নিউইয়র্ক টাইমস এর একটি শিরোনাম অনুসারে, তিনি লিসবন থেকে গ্রিক লাইনার নিয়া হেলাসে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছান । তিনি বেলজিয়াম এবং ফ্রান্সে নাৎসি বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে লিসবন চলে আসেন । দ্য টাইমসকে তিনি বলেছেন, "আমি জানতাম যে যদি জার্মানরা আমাকে ধরতে পারতো, তাহলে আমাকে এক গুলিতে হত্যা করত । কারণ, আমাকে তারা আমার নাটকের ("স্টিলমান্ডের মেয়র" ১৯১৮ সালে বেলজিয়ামে জার্মানদের ব্যবসায় প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল) জন্য জার্মানির শত্রু হিসেবে গণ্য করতো ।" আমেরিকায় তাঁর আগে থেকেই যাতায়াত থাকায়, সে তখনও তাঁর সুনামের জন্য আমেরিকানদের নৈমিত্তিক, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ফ্রান্সের প্রতি প্রচন্ড রকম মমত্ববোধ সম্পন্ন হিসেবে খুঁজে পান ।[২৭]
যুদ্ধ শেষে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট তিনি নাইসে ফিরে আসেন । তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ব লেখক সমিতি পেন ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি ছিলেন । ১৯৪৮ সালে, ফরাসি একাডেমি তাঁকে ফরাসি ভাষার জন্য পদক প্রদান করে । ৬ মে, ১৯৪৯ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • ১৯২০: Order of Leopold[২৮] এর গ্রান্ড কর্ডন লাভ ।
  • ১৯৩২: রাজা আলবার্ট এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে মরিসকে কাম্ট উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু মরিস নিবন্ধীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ফরম পূরণে অবহেলা করায় তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থির নাটক[সম্পাদনা]

মরিস মেটারলিংক

মেটারলিংকের মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি তাঁর প্রথম নাটকগুলির উপর নির্ভর করে (১৯৮৯ ও ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত), যা রচনায় এক নতুন শৈলী উদ্ভাবন করেছিল, সেখানে যা বলা হয় তার থেকে যে পরামর্শ দেওয়া হয় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । নাটকের চরিত্রগুলোর কোন পারদর্শিতা নেই এবং তা শুধু তাদের বোধশক্তি বা তাদের চারপাশের পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।

মেটারলিংক আর্থার শোপেনহাওয়ার এর একজন আগ্রহী পাঠক ছিলেন, যিনি ভাগ্যের ক্ষমতার বিরুদ্ধে ক্ষমতাহীন মানুষকে বিবেচনা করতেন । তিনি বিশ্বাস করতেন যে কোনো অভিনেতা, শারীরিক ধরন ও অভিব্যক্তিগুলোর প্রতিবন্ধকতা রোধে, অপর্যাপ্তভাবে তাঁর নাটকের প্রতীকী দৃশ্যগুলো দৃশ্যায়ন করবে । তাই তিনি এর বিকল্প হিসেবে পুতুলনাচকে বেছে নিয়েছিলেন । পুতুলকে দড়ির দ্বারা পরিচালনা করার মাধ্যমে মেটারলিংক বিবেচনা করেছিলেন পুতুলনাচ মানুষের বিকল্প হিসেবে খুবই চমৎকার প্রতিনিধিত্ব করে । তিনি পুতুলনাচের নাট্যশালার জন্য ইন্টিরিয়র, দ্য ডেথ অব টিন্টাগিলস ও আলাদিন এন্ড প্যালোমাইডস রচনা করেছিলেন ।[২৯]

সেখান থেকেই স্থির নাটকের প্রতি তাঁর প্রবণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছিল । তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এটা একজন শিল্পীর দায়িত্ব, সৃজনশীল কিছু তৈরি করা যা মানুষের আবেগ প্রকাশ করতে পারতো না বরং এটা একটা বাহ্যিক বল যা মানুষকে বাধ্য করতো ।[৩০] মেটারলিংক একসময় বলেছিলেন, "মঞ্চ হচ্ছে এমন একটি যায়গা যেখানে শিল্পের কাজকে ধ্বংস করা হয় । কবিতা মরে যায় যখন জীবন্ত মানুষ এর মর্মার্থ বুঝতে পারে ।"[৩১]

তিনি তাঁর প্রবন্ধ দ্য ট্রেজিক অন ডেইলি লাইফে (১৮৯৬) তাঁর ধারণা ব্যাখ্যা করেছিলেন, যা দ্য ট্রেজার অব দ্য হাম্বলে প্রদর্শিত হয়েছিল । অভিনেতাদের কথা বলা এবং নড়াচড়া করার জন্য অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে টানা এবং ধাক্কা দেওয়া হতো । তারা তাদের গতিবিধিকে বাধ্য করতে তাদের ভিতরের আবেগকে বল প্রয়োগ করতে পারতো না । মেটারলিংক প্রায়ই চরিত্রগুলোকে পুতুল হিসেবে উল্লেখ করতেন।[৩২]

তিনি বেশ কয়েকটি অ্যাথেনিয়ান ট্রাজেডির উদ্ধৃতি দেন-তিনি প্রমান করেন যা প্রায় স্থির এবং যা "স্বতঃস্ফুর্তের মুখোমুখি হওয়া" -তে স্বার্থের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য মানসিক কর্মশক্তিকে হ্রাস করে-যেমন স্থির নাটক সম্পর্কে তাঁর ধারণা একটি উদাহরণ; অ্যাসাইলাস এবং সোফোক্লেস অ্যাজ্যাক্স , অ্যান্টিগোন , ওডিপাস এট কলোনাস এবং ফিলোকটেটেস এগুলির মধ্যে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে ।[৩৩] এই নাটকগুলি দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন :

এটা আর হিংস্র নয়, এটা আমাদের জীবনের এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত যা আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যায়- এটিই জীবন।সেখানে হাজার হাজার আইন আছে, যা আবেগপ্রবণদের চেয়ে শক্তিশালী এবং আরো শ্রদ্ধাশীল; কিন্তু এই আইন নীরব, এবং বিচক্ষণ এবং ধীর গতির; এবং এটি কেবলমাত্র সেই সন্ধ্যায়ই দেখা যায় এবং শুনতে পাওয়া যায়, যা জীবনের শান্ত মুহূর্তগুলিতে আমাদের কাছে আসে।[৩৪]

সঙ্গীতে মেটারলিংক[সম্পাদনা]

পেলিসেট মেলিসান্ড ২০ শতকের শুরুর পর্যায়ের বেশ কয়েকটি গীতিনাট্য রচনাকে অনুপ্রাণিত করে:

  • ১৮৯৭: উইলিয়াম ওয়ালেস বাদকদলের জন্য একটি যন্ত্রসঙ্গীত রচনা করেন: পেলিস এন্ড মেলিসান্ড
  • ১৮৯৮: গ্যাব্রিয়েল ফোর একটি ঐকবাদন-সংক্রান্ত যন্ত্রসঙ্গীত(যা মাঝে মাঝে প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত হিসেবে বর্ণিত) রচনা করেন:পেলিসেট মেলিসান্ড (ফোর)[৩৫]
  • ১৮৯৩-১৯০২: ক্লাউড ডেবুসি (এল.৮৮, প্যারিস) পেলিসেট মেলিসান্ড দেখে একটি যাত্রা বা গীতিনাট্য রচনা করেন
  • ১৯০২-১৯০৩: আর্নল্ড শোয়েনবার্গ একটি সুসঙ্গতিপূর্ণ কবিতা রচনা করেন
  • ১৯০৫:জিন সিবেলিয়াস পেলিসেট মেলিসান্ড (সিবেলিয়াস) দেখে একটি প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন

মেটারলিংকের অনেক নাটককে ভিত্তি করে অন্যান্য অনেক গীতিনাট্য রচনা করা হয়েছে ।
নিচে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হল:

  • অ্যাগলাভ্যাইন এট সেলাইসেট
    • আর্থার হনেগার ঐকবাদন-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা দেন
    • সিরিল স্কট ঐকবাদন-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন
  • আলাদিন এট পেলোমাইডস
    • বার্গোসার গীতিনাট্য রচনা করেন
    • ওজভ্যাল্ড ক্লাবনা গীতিনাট্য রচনা করেন
    • এমিল ফ্র্যান্টিসেক বুরিয়ান গীতিনাট্য রচনা করেন
  • অ্যারিয়ান এট বার্ব-ব্লিউ
    • পল ডুকাস তিন ভাগে গীতিনাট্য রচনা করেন
    • এনাটলি নিকোলায়েভিক আলেকজান্ড্রোভ প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
  • দ্য বেট্রোথ্যাল
    • আর্মস্ট্রং গিবস প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
  • দ্য ব্লাইন্ড
    • বিট ফারের গীতিনাট্য রচনা করেন
    • মেটারলিংকের লেস এভিউগলস এর প্রকাশের পর পলিশ গীতিকার জ্যান অ্যাস্ট্রিয়াব কক্ষ গীতিনাট্য স্লেপসি রচনা করেন
    • লেরা ওরবাখ গীতিনাট্য রচনা করেন
  • লা মোর্ট দে টিনটাগালস
    • চার্লস মার্টিন লোয়েফ্লার সুসঙ্গতিপূর্ণ কবিতা রচনা করেন
    • রাল্ফ ভো'ঘান উইলিয়ামস প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
    • লরেন্স কলিংউড গীতিনাট্য রচনা করেন
    • কার্স প্রস্তাবনা পেশ করেন
    • নওগেস গীতিনাট্য রচনা করেন
    • স্যান্টোলিকুইডো সুসঙ্গতিপূর্ণ কবিতা রচনা করেন
    • ভোরমলেন ঐকবাদন-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পেশ করেন
  • হার্যগেওয়াক্স (হৃদয়ের পর্ণরাজি)
    • আর্নল্ড শোয়েনবার্গ ছোট

ঐকতান-সঙ্গীতের সাথে তীক্ষ্ণ সুরের জন্য জার্মান রোমান্টিক গান রচনা করেন

  • মন্না ভান্না
    • এমিল আব্রাণি তিন ভাগে গীতিনাট্য রচনা করেন
    • হেনরি ফেভরিয়ার চার ভাগে গীতিনাট্য রচনা করেন : মন্না ভান্না
    • সারগেই রেকম্যানিনফ অসমাপ্ত গীতিনাট্য রচনা করেন : মন্না ভান্না
    • নিকোলা ব্র্যান্জু চার ভাগে গীতিনাট্য রচনা করেন
  • এল'ওইজিউ ব্লিউ (নীল পাখি)
    • আলবার্ট উল্ফ গীতিনাট্য রচনা করেন
    • ফ্রিট্জ হার্ট বাদকদলের জন্য ১৩টি দৃশ্য নির্মাণ করেন
    • লেসলি হেওয়ার্ড প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
    • এঙ্গেলবার্ট হাম্পারডিন্ক প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
    • ক্রিকা প্রস্তাবনা পেশ করেন
    • নরমেন ও'নেইল প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
    • সেলিগস্কি প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
  • প্রিন্সেস মালেইন
    • পিয়েরে দে ব্রেভিল প্রস্তাবনা পেশ করেন
    • সিরিল স্কটান প্রস্তাবনা পেশ করেন
    • লিলি বোল্যান্জার সমাপনী গীতিনাট্য (অথবা প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত) রচনা করেন
    • মেক্সিমিলিয়ান স্টেইনবার্গ প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
  • দ্য সেভেন প্রিন্সেসেস
    • পিয়েরে দে ব্রেভিল প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত রচনা করেন
    • ভ্যাসিলি ভ্যাসিলিভিচ নেচিভ গীতিনাট্য রচনা করেন
  • সয়ার বিয়াটরাইস
    • আলেকজান্ডার গ্রেক্যানিনভ গীতিনাট্য রচনা করেন
    • অ্যানাটোলি লিয়াদভ ঐকতান সংগীত রচনা করেন
    • মারকুয়েজ পুইগ গীতিনাট্য রচনা করেন
    • ডিমিট্রি মিট্রোপলাস গীতিনাট্য রচনা করেন
    • রাস গীতিনাট্য রচনা করেন
  • ইন্টেরিয়ার
    • গিড্রিয়াস কিউপ্রিভিসিয়াস গীতিনাট্য রচনা করেন

রচনাবলী[সম্পাদনা]

কাব্য[সম্পাদনা]

  • সেরেস কডস (১৮৮৯)
  • ডিওয চেনসন্স (১৮৯৬)
  • কুইঞ্জ চেন্সন (ডিওয চেন্সন এর সম্প্রসারিত সংস্করণ:১৯০০)

নাটক[সম্পাদনা]

  • লা প্রিন্সেস মালেইন (প্রিন্সেস মালেইন) (প্রকাশকাল ১৮৮৯)
  • এল'ইন্ট্রাস (ইন্ট্রুডার) (প্রকাশকাল ১৮৯০; প্রথম মঞ্চস্থ ২১ মে ১৮৯১)
  • লেস এভিউগলস (দ্য ব্লাইন্ড) (প্রকাশকাল ১৮৯০; প্রথম মঞ্চস্থ ৭ ডিসেম্বর ১৮৯১)
  • লেস সেপ্ট প্রিন্সেসেস (দ্য সেভেন প্রিন্সেসেস) (প্রকাশকাল ১৮৯১)
  • পেলিস এন্ড মেলিসান্ড (প্রকাশকাল ১৮৯২; প্রথম মঞ্চস্থ ১৭ মে ১৮৯৩)
  • আলাদিন এট পেলোমাইডস (প্রকাশকাল ১৮৯৪)
  • ইন্টেরিয়ার (ইন্টিরিয়র) (প্রকাশকাল ১৮৯৪; প্রথম মঞ্চস্থ ১৫ মার্চ ১৮৯৫)
  • লা মোর্ট দে টিনটাগালস (দ্য ডেথ অব টিনটাগালস) (প্রকাশকাল ১৮৯৪)
  • অ্যাগলাভ্যাইন এট সেলাইসেট (প্রথম মঞ্চস্থ ডিসেম্বর ১৮৯৬)
  • অ্যারিয়ান এট বার্ব-ব্লিউ (অ্যারিয়ান এন্ড ব্লুবিয়ার্ড) (প্রথম প্রকাশ জার্মান অনুবাদে ১৮৯৯)
  • সয়ার বিয়াটরাইস (সিস্টার বিটরাইস) (প্রকাশকাল ১৯০১)
  • মন্না ভান্না (প্রথম মঞ্চস্থ মে ১৯০২; প্রকাশকাল ১৯০২)
  • জয়যাল (প্রথম মঞ্চস্থ ২০ মে ১৯০৩; প্রকাশকাল ১৯০৩)
  • লে মিরাকল দে সেইন্ট আনটয়েন (দ্য মিরাকল অব সেইন্ট এন্টনি) (প্রথম মঞ্চস্থ জার্মান অনুবাদে ১৯০৪)
  • এল'ওইজিউ ব্লিউ (দ্য ব্লু বার্ড) (প্রথম মঞ্চস্থ ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯০৮)
  • মেরি-ম্যাগডালাইন (মেরি ম্যাগডালেন) (প্রথম মঞ্চস্থ জার্মান অনুবাদে ১৯১০; ফ্রান্সে প্রকাশকাল ১৯১৩)
  • লে বর্গমিস্ট্রে দে স্টিলমান্ড (প্রথম মঞ্চস্থ বুয়েনোস আইরেসে ১৯১৮; প্রকাশকাল ১৯১৯)
  • লেস ফিয়ানকেইলস (প্রকাশকাল ১৯২২)
  • দ্য ক্লাউড দ্যাট লিফ্টেড (প্রকাশকাল ১৯২৩)
  • লে মালহিয়ার পাসে (প্রকাশকাল ১৯২৫)
  • লা পুইসেন্স দেস মোর্টস (প্রকাশকাল ১৯২৬)
  • বার্নিকুয়েল (প্রকাশকাল ১৯২৬)
  • মেরি-ভিক্টোয়ার (প্রকাশকাল ১৯২৭)
  • জুডাস দে কেরিওথ (প্রকাশকাল ১৯২৯)
  • লা প্রিন্সেস ইসাবেল (প্রকাশকাল ১৯৩৫)
  • জিন ডি'আর্ক (জোয়ান অব আর্ক) (প্রকাশকাল ১৯৪৮)

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • "আওয়ার ফ্রেন্ড দ্য ডগ" ডড,মিড এন্ড কোম্পানি (পুনর্মুদ্রণ: সাইমন ও সাস্টার,১৯৪৩)
  • লে ট্রেজর দেস হাম্বলেস (দ্য ট্রেজার অব দ্য হাম্বল):১৮৯৬
  • লা সাগেস এট লা ডেস্টিনি (অভিজ্ঞতা ও ভাগ্য):১৮৯৮
  • লা ভায় দেস এবায়েলস (মৌমাছির জীবন):১৯০১
  • লে টেম্পল এনসেভেলি (প্রোথিত মন্দির):১৯০২
  • লে ডাবল জার্ডিন (দ্বিভাগবিশিষ্ট বাগান):১৯০৪
  • এল'ইনটেলিজেন্স দেস ফ্লেয়ার্স (ফুলের বুদ্ধিমত্তা):১৯০৭
  • লা মোর্ট (আমাদের মৃত্যুর পরের জীবন, প্রথমে ইহার অসম্পূর্ণ সংস্করণ মৃত্যু শিরোনামে ১৯১১ সালে ইংরেজিতে প্রকাশ পায়;তারপর ১৯১৩ সালে ইহার সম্পূর্ণ সংস্করণ ফ্রেঞ্চে প্রকাশ পায়)
  • এল'হোট ইনকনু (প্রথম প্রকাশ ইংরেজি অনুবাদে ১৯১৪;মুল সংস্করণ ফ্রেঞ্চে ১৯১৭)
  • লেস ডেব্রিস দে লা গিউয়ার:১৯১৬
  • লে গ্রান্ড সিক্রেট:১৯২১ (দ্য গ্রেট সিক্রেট:১৯২২)
  • লা ভায় দেস টারমাইটস (উইপোকার জীবন):১৯২৬
  • লা ভায় দে এল'এস্পেস (মহাশূন্যের জীবন):১৯২৮
  • লা গ্রান্ড ফীরি:১৯২৯
  • লা ভায় দেস ফোরমিস (পিঁপড়ার জীবন):১৯৩০
  • এল'আরাইগনি দে ভিরি:১৯৩২
  • আভান্ট লে গ্রান্ড সাইলেন্স (মহানীরবতার আগে):১৯৩৪
  • এল'ওমব্রে দেস আইলস (পাখার ছায়া):১৯৩৬
  • ডিভান্ট ডিউ:১৯৩৭
  • এল'অটরে মান্ড ওঁ লে ক্যাডরেন স্টেলাইয়ার (অন্য দুনিয়া, অথবা নক্ষত্র প্রণালী):১৯৪১

স্মৃতিকথা[সম্পাদনা]

  • বুলস ব্লুজ:১৯৪৮

অনুবাদ[সম্পাদনা]

  • লে লিভ্রে দেস xii বিগুইন্স এন্ড এল'ওরনেমেন্ট দেস নোসেজ স্পিরিচুয়ালস(ফ্লেমিশ "রুজব্রোক" থেকে ফ্রেঞ্চে অনুবাদ করেন):১৮৮৫
  • এল'ওরনেমেন্ট দেস নোসেজ স্পিরিচুয়ালস দে রুয়াইজব্রোক এল'এডমিরেবল:১৮৯১
  • এনাবেলা, এন এডাপশন অব জন ফোর্ড'স 'টিস পিটি শি'স অ্যা হুর(মঞ্চস্থ ১৮৯৪)
  • শেক্সপিয়রের "ম্যাকবেথ" অনুবাদ করে ১৯০৯ সালে মঞ্চস্থ করেন

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

মরিস মেটারলিংক স্মারক মুদ্রা[৩৬]
  • মরিসের সর্বাধিক সমসাময়িক সাফল্যের ১০০ বছর পূর্তিতে তাঁর বিখ্যাত নাটক দ্য ব্লু বার্ড উচ্চ মানসম্মত সংগ্রাহক মুদ্রার মুখ্য প্রসঙ্গ হিসেবে নির্বাচিত হয় : দ্য বেলজিয়ান ৫০ ইউরো মরিস মেটারলিংক স্মারক মুদ্রা[৩৭] তৈরি করা হয় ২০০৮ সালে ।
  • বেলজিয়ান সাহিত্য[৩৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Spelled Maurice (Mooris) Polidore Marie Bernhard Maeterlinck on the official Nobel Prize page.
  2. Maeterlinck, Maurice in Encyclopædia Britannica.
  3. Jean-Marie Pierret, Phonétique historique du français et notions de phonétique générale, 1994.
  4. Bettina Knapp, Maurice Maeterlinck, Boston: Thackery Publishers, 1975, p. 18.
  5. Gale, Thomson (১ মার্চ ২০০৭)। "Dictionary of Literary Biography, Volume 331: Nobel Prize Laureates in Literature, Part 3: Lagerkvist-Pontoppidan"। Gale / Cengage Learning – Google Books-এর মাধ্যমে। 
  6. Knapp, 22–23.
  7. Knapp, 87–92.
  8. Knapp, 111.
  9. "The Banning of Bergson"The Independent। ২০ জুলাই ১৯১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১২ 
  10. Knapp, 129.
  11. Knapp, 127–28.
  12. Knapp, 133–34.
  13. "The official website of the Nobel Prize - NobelPrize.org"NobelPrize.org 
  14. Knapp, 133–36.
  15. Knapp, 136–38.
  16. Knapp, 147–50.
  17. "Die Huisgenoot", Nasionale Pers, 6 January 1928, cover story.
  18. David E. Bignell। "Termites: 3000 Variations On A Single Theme"। ২৭ আগস্ট ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৭-২৮ 
  19. Sandra Swart (২০০৪)। "The Construction of Eugène Marais as an Afrikaner Hero"Journal of Southern African Studies। December (30.4)। ৮ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  20. V. E. d'Assonville, Eugene Marais and the Waterberg, Marnix, 2008, pp. 53–54.
  21. L. Rousseau, 1974, Die Groot Verlange, Capetown: Human & Rousseau, p. 398.
  22. Leon Rousseau, The Dark Stream, (Jonathan Ball Publishers:Cape Town, 1982).
  23. Robert Ardrey, The Territorial Imperative: A Personal Inquiry into the Animal Origins of Property and Nations (1966).
  24. William Lyon Phelps, PhD, "Maeterlinck and Browning", Vol.55 No.2831 (5 March 1903) The Independent, New York.
  25. Maurice Maeterlinck. Quinze Chansons, 1896–1900 (VII):

    "Les sept filles d'Orlamonde,
    Quand la fée fut morte,
    Les sept filles d'Orlamonde,
    Ont cherché les portes."

  26. Joris Casselman, Etienne De Greeff (1898–1961): Psychiatre, criminologue et romancier.9. "Maurice Maeterlinck (1862–1949). 9.1 Sa vie et son oeuvre" . Bruxelles : Larcier, DL 2015 আইএসবিএন ৯৭৮২৮০৪৪৬২৮১৯ Primento Digital Publishing , 2015 e আইএসবিএন ৯৭৮২৮০৪৪৭৯৮৩১.
  27. Knapp, 157-58.
  28. RD 12 January 1920
  29. Knapp, 77–78.
  30. Knapp, 78.
  31. "Drama—Static and Anarchistic", New York Times, 27 December 1903.
  32. Peter Laki, Bartók and His World, Princeton University Press, 1995, pp. 130–31.
  33. Cole 1960, 31–32.
  34. Cole 1960, 32.
  35. পেলিসেট মেলিসান্ড (ফোর)[১]
  36. মরিস মেটারলিংক স্মারক মুদ্রা
  37. MauricenMaeterlinck commemorative coin [২],
  38. Belgian literature

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • ডব্লিউ.এল. কোর্টনি, "দ্য ডেভেলপমেন্ট অব এম.মেটারলিংক" (লন্ডন, ১৯০৪)
  • এম.জে. মোজেস, "মরিস মেটারলিংক:অ্যা স্টাডি" (নিউইয়র্ক, ১৯১১)
  • ই. থমাস, "মরিস মেটারলিংক" (নিউইয়র্ক, ১৯১১)
  • জে. বেথেল, "দ্য লাইফ এন্ড ওয়ার্কস অব মরিস মেটারলিংক" (নিউইয়র্ক, ১৯১৩)
  • আর্চিবল্ড হেন্ডারসন, "ইউরোপিয়ান ড্রামাটিস্টস" (সিনসিনাটি, ১৯১৩)
  • ই.ই. শ্লোসন, "মেজর প্রোফেটস অব টু-ডে" (বোস্টন, ১৯১৪)
  • জি.এফ. স্টারজিস, "দ্য সাইকোলজি অব মেটারলিংক এজ শওন ইন হিজ ড্রামাজ" (বোস্টন, ১৯১৪)
  • পি. মেকগিনেজ, "মেটারলিংক এন্ড দ্য মেকিং অব মডার্ন থিয়েটার" (অক্সফোর্ড, ২০০০)

অতিরিক্ত লিংকসমূহ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে: