হ্যান্ডবল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

হ্যান্ডবল [Handball] প্রতি দলে বারো জন নিয়ে গঠিত দুটি দলের মধ্যে চামড়া দিয়ে তৈরি বল ধরতে, নিক্ষেপ করতে বা থামাতে মুখ্যত হাত দ্বারা অনুষ্ঠিত খেলা। হ্যান্ডবল খেলার পূর্ণ মাঠের দৈর্ঘ্য বা পার্শ্বরেখা ৪০ মিটার এবং প্রস্থ বা প্রান্তরেখা (goal line) ২০ মিটার। মাঠের উভয় প্রান্তে গোল লাইনের ঠিক মাঝখানে গোল পোস্টটির অবস্থান। প্রতিটি গোলপোস্ট লম্বায় ৩ মিটার এবং উচ্চতায় ২ মিটার হয়। খেলার সময়সীমা মাঝখানে ১০ মিনিট বিরতিসহ  ৭০ মিনিট। বলটি হয় গোলাকার, পরিধি ৫৮-৬০ সেন্টিমিটার ও ওজন ৪২৫-৪৭৫ গ্রাম। একজন খেলোয়াড় হ্যান্ডবল খেলায় বল ধরতে, থামাতে বা ছুঁড়ে দিতে বাহু, মাথা, পৃষ্ঠদেশ, উরু বা হাঁটু ব্যবহার করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ তিন সেকেন্ড পর্যন্ত বলটি হাতে অথবা মাটিতে ধরে রাখতে পারেন। বলটি ক্রসবারের নিচে গোল-পোস্টদ্বয়ের মধ্যকার দাগটি সম্পূর্ণভাবে অতিক্রম করলে একটি গোল হয়।

হ্যান্ডবল একটি প্রাচীন খেলা। গ্রিক কবি হোমারের ওডিসি মহাকাব্যে এই খেলার উলে­খ আছে। খ্রিস্টপূর্ব যুগে নীল নদের উপত্যকা ভূমিতে বল নিয়ে যেসব খেলা প্রচলিত ছিল তার সব কটিই ছিল হাতের খেলা। তবে খেলার ধরন-পদ্ধতির দিক দিয়ে আজকের হ্যান্ডবল সম্পূর্ণ নতুন একটি সংযোজন। কেউ কেউ মনে করেন আধুনিক আউটডোর হ্যান্ডবল খেলার জন্ম জার্মানিতে। ১৯০৪ সালে ডেনমার্কের জনৈক ক্রীড়াশিক্ষক হোলজার নিয়েলসেন ‘হ্যান্ড বোল্ড’ নামে একটি খেলা প্রবর্তন করেন। ১৯১৭ সালে মহিলাদের ক্রীড়াশিক্ষক বার্লিনের ম্যাক্স হিসার মেয়েদের জন্য অভিনব পদ্ধতিতে হ্যান্ডবল খেলার প্রবর্তন করেন। ১৯১৯ সালে অন্য একজন ক্রীড়াশিক্ষক কার্ল শিলেঞ্জ এই খেলায় তাঁর নিজস্ব কিছু পদ্ধতি সংযোজন করে খেলাটিকে সমৃদ্ধ করেন। তিনিই প্রথম খোলা মাঠে এই খেলার আয়োজন করেন। ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি বার্লিনে প্রথম শিলেঞ্জের পদ্ধতিতে দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক হ্যান্ডবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৩ সালে ম্যাক্স হিসার পদ্ধতিতে বার্লিন ও ড্রেসডেন দলের মধ্যে প্রথম দুটি মহিলা দলের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হ্যালিম্যালিতে জার্মান ও অস্ট্রিয়া দলের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে এর নিয়মকানুন পুনর্বিন্যাস করা হয়। ১৯২৮ সালে আমস্টারডামে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, অস্ট্রিয়া, সুইডেন ও চেকোশ্লোভাকিয়া এই ১১টি দেশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার হ্যান্ডবল ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৩৬ সালে বার্লিনে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে খোলা মাঠে হ্যান্ডবল খেলা দেখানো হয়। এরপর থেকে হ্যান্ডবল খেলা খুব জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৬৫ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির বৈঠকে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হ্যান্ডবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ইউরোপে খেলাটি আরও জনপ্রিয়তা পায়।

১৯৭৪ সাল থেকে এশিয়ায় হ্যান্ডবল জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। ঐ বছর তেহরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস উপলক্ষে সমবেত ক্রীড়া সংগঠকদের উদ্যোগে এশিয়ান হ্যান্ডবল ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে কুয়েতে ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কুয়েতে ফেডারেশনের সদর দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়।

যেসব দেশে এ খেলার প্রচলন রয়েছে তাদের মধ্যে, পোল্যান্ড, সাইপ্রাস, রোমানিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, মলদোভা, বেলারুশ, গ্রীস, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, জর্জিয়া, আর্মেনিয়াআজারবাইজান উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]