ঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ঘর

ঘর বলতে মানুষের বসবাসের জন্য নির্মিত কাঠামোকে বোঝায়। গৃহ শব্দ থেকে ঘর শব্দটি এসেছে। ঘর শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দগুলো হচ্ছে - ভবন, আলয়, আবাস, নিবাস ইত্যাদি।

আদিকালে মানুষ প্রকৃতির রুদ্ররোষ থেকে বাঁচার জন্য পাহাড়-পর্বতের গুহায় অবস্থান করতো। সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষ ঐ গুহাকেই নিজের ঘর হিসেবে ভাবতে শেখে। পরবর্তীতে মানুষ তার তীক্ষ্ণ বিচার-বুদ্ধি, ক্ষমতা, দক্ষতা প্রয়োগ করে কালের পরিক্রমায় বর্তমানে ঘরে অবস্থান করছে।

ঘর তৈরী করে মানুষ সংসারী হয়েছে। সাধারণতঃ বসবাস উপযোগী ঘর তৈরীতে বাঁশের খুঁটি, টিনসহ অন্যান্য সহায়ক সামগ্রীর দরকার পরে। ঘর বাঁধা কিংবা কুটীর নির্মাণে কুঁড়েঘরে ধানের খড় কিংবা পাটকাঠির প্রচলন ছিল তিন/চার দশক পূর্বে। বর্তমানে এগুলোর পাশাপাশি ইট, বালু, সিমেন্ট, লোহার প্রচলন বেশ বেড়ে গেছে।

ঘরের প্রকারভেদ হিসেবে - কুঁড়েঘর, টিনের ঘর, দালান, মাটির ঘর, আধা-পাকা ঘর ইত্যাদি প্রয়োগ করা হয়। ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার উপর ঘরের স্তরগুলো লক্ষ্য করা যায়।

সামাজিকভাবে নিজস্ব ঘরকে বাড়ী এবং যারা অন্যের বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন, তাদেরকে ঘর শব্দের পরিবর্তে বাসা হিসেবে আখ্যায়িত করতে দেখা যায়।

ব্যক্তি হিসেবে পুরুষ তার স্ত্রীকে ঘরনী কিংবা গৃহলক্ষ্মী হিসেবে দেখে থাকে। গৃহিণী হিসেবে পুরুষের সাথে থাকাকে ঘর করা বলে। এছাড়ও, বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপনের উপযোগী বংশ অন্বেষণকে ঘর খোঁজা বলে। দুঃখজনক সংবাদ হিসেবে ঘর ভাঙানো শব্দটি সত্যিকার অর্থেই বেশ কষ্টকর। কুমন্ত্রণা, ব্যক্তির চরিত্র, মানসিক ভারসাম্য ইত্যাদি ঘর ভাঙানোর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী।

ঘরের রক্ষণাবেক্ষনে পুরুষের ভূমিকাই বেশী। তবে সাংসারিক শান্তিসহ সামাজিক ভারসাম্যতা রক্ষার্থে স্ত্রীর ভূমিকাও কোন অংশেই কম নয়।