বিভু ভট্টাচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিভু ভট্টাচার্য
জন্ম(১৯৪৪-০৯-১৭)১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪
মৃত্যু২২ সেপ্টেম্বর ২০১১(2011-09-22) (বয়স ৬৭)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাঅভিনেতা
পরিচিতির কারণফেলুদা সিনেমা জটায়ু

বিভু ভট্টাচার্য (ইংরেজী: Bibhu Bhattacharya) (১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪- ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১) একজন ভারতীয় বাঙালী টেলিভিশন ও সিনেমা অভিনেতা ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমানে ঝারিয়া, ঝাড়খন্ড, ভারত) ঝারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি সুখ্যাতি ও পরিচিতি লাভ করেন সন্দীপ রায়ের চলচ্চিত্র ফেলুদা সিনেমায় জটায়ুর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য। এই ছবির নির্মাতা সন্দ্বীপ রায়, যা নির্মিত হয় তার পিতা সত্যজিত রায়ের ফেলুদা গল্প অনুসারে। ২০১১ সালে তিনি কলকাতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যান নি। তিনি স্টুডিওতে অভিনয় করতে যেতেন, যখন তার বয়সী ছেলেরা লেখাপড়ার জন্য স্কুলে যেত। সাড়ে চার বছর বয়সে তিনি অভিনয় শুরু করেন। তিনি প্রথম অভিনয় করেন উত্তম কুমার অভিনীয় “মারইয়াদা” (১৯৫০) সিনেমায়। তাকে মাস্টার বিভু নামে ডাকা হত। তিনি তখন বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বিখ্যাত শিশু শিল্পীগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন এবং জহর গঙ্গোপাধ্যায় এবং ছবি বিশ্বাসের মতন সুপরিচিত শিশু শিল্পী ছিলেন। তিনি “প্রহ্লাদ(১৯৫২)” সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। তার অন্যান্য সিনেমাগুলোর মধ্যে বিন্দুর ছেলে (১৯৫৩), রাণী রাশমণী (১৯৫৫), দুই বোন (১৯৫৫) অন্যতম। তিনি বড় হয়ে উঠার পর, তিনি শিশু শিল্পী রইলেন না, তাই তার সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব আসা কমে গেল। শিশু শিল্পী হিসেবে তার অভিনীত শেষ সিনেমা সাগর সঙ্গমে (১৯৫৯)। তারপর তিনি প্রায় ৩৮ বছর কোন সিনেমায় অভিনয় করেন নি। এই সময়ে, তিনি নিজেকে টেলিভিশন নাটক ও থিয়েটারে ব্যস্ত রাখেন।

ফেলুদা সিরিজ[সম্পাদনা]

সময়টা ছিল ১৯৯৮ সাল, বিভু ভট্টাচার্য তার স্বপ্নের চরিত্র “জটায়ু” খুজে পান। জটায়ু চরিত্রে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩) এবং জটায়ু চরিত্রে তিনি কৈলাশে কেলেঙ্কারী (২০০৭), টিনটোরেটোর যীশু (২০০৭) এবং গোরস্থানে সাবধান (২০১০) এ অভিনয় করেন। তার কিংবদন্তিতুল্য অভিনয় জটায়ু চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলে। ফলে সবাই এমনকি সিনেমার পরিচালক সন্দ্বীপ রায়, তাকে এই চরিত্রের উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। মৃত্যুর আগেরদিন তিনি ফেলুদা সিনেমা “রয়েল বেঙ্গল রহস্য” সিনেমার ডাবিং শেষ করেন। আসলে এটা খুবই কঠিল ছিল যে কিংবদন্তী অভিনেতা “সন্তোষ দত্ত” –কে পরিবর্তন করে অন্য কোন অভিনেতা’র আগমণ ঘটানো, কিন্তু সময়ের সাথে বিভু ভট্টাচার্যও পরিচিত লাভ করেন।

সিনেমা[সম্পাদনা]

  • মাচো মস্তানা (২০১২)
  • ভূতের ভবিষ্যৎ (২০১২)
  • আলো ছায়া (২০১২)
  • রয়েল বেঙ্গল রহস্য (২০১১)
  • টেনিদা (চলচ্চিত্র) (২০১১)
  • গোরস্থানে সাবধান (২০১০)
  • বেলা শেষে (২০০৯)
  • মল্লিক বাড়ি (২০০৯)
  • স্বার্থ (২০০৯)
  • টিনোটরেটোর যীশু (২০০৮)
  • অবেলায় গরম ভাত (২০০৮)
  • কৈলাশে কেলেঙ্কারী (২০০৭)
  • বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩)
  • সাগর সঙ্গমে (১৯৫৯)
  • স্বপ্নপুরী (১৯৫৯)
  • ঠাকুর হরিদাস (১৯৫৯)
  • পুরীর মন্দির (১৯৫৮)
  • শ্রী শ্রী মা (১৯৫৮)
  • হরিশচন্দ্র (১৯৫৭)
  • জন্মতিথি (১৯৫৭)
  • খেলা ভাঙার খেলা (১৯৫৭)
  • ওমকারার জয়যাত্রা (১৯৫৭)
  • মামলার ফল (১৯৫৭)
  • পুত্রবধু (১৯৫৬)
  • বীর হম্বীর (১৯৫৫)
  • ঝড়ের পরে (১৯৫৫)
  • প্রশ্ন (১৯৫৫)
  • রাণী রাশমণি (১৯৫৫)
  • শ্রীকৃষ্ণ সুদমা (১৯৫৫)
  • অগ্নি পরীক্ষা (১৯৫৪)
  • বকুল (১৯৫৪)
  • লেডিস সিট (১৯৫৪)
  • নববিধান (১৯৫৪)
  • প্রফুল্ল (১৯৫৪)
  • ধ্রুব (১৯৫৩)
  • সীতার পাতাল প্রবেশ (১৯৫৩)
  • আধি (১৯৫২)
  • বিন্দুর ছেলে (১৯৫২)
  • বিশ্বমিত্র (১৯৫২)
  • নীলদর্পন (১৯৫২)
  • পল্লীসমাজ (১৯৫২)
  • প্রহ্লাদ (১৯৫২)
  • সহসা (১৯৫২)
  • ভক্ত রঘুনাথ (১৯৫১)
  • কুলহারা (১৯৫১)
  • প্রত্যাবর্তন (১৯৫১)
  • মারইয়াদা (১৯৫১)

ফেলুদা সিরিজ টেলিফিল্ম[সম্পাদনা]

  • জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (১৯৯৮)
  • অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য (১৯৯৮)
  • গোলাপী মুক্তা রহস্য (১৯৯৮)
  • ডাক্তার মুনশীর ডায়রী (২০০০)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]