জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (বাংলাদেশ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর.svg
Bangladesh National Museum of Science and Technology Entrance.JPG
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের প্রবেশপথ
স্থাপিত২৬ এপ্রিল ১৯৬৫ (1965-04-26)
অবস্থানশেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭
স্থানাঙ্ক২৩°৪৬′৪৪″ উত্তর ৯০°২২′১৮″ পূর্ব / ২৩.৭৭৮৮° উত্তর ৯০.৩৭১৬° পূর্ব / 23.7788; 90.3716স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৬′৪৪″ উত্তর ৯০°২২′১৮″ পূর্ব / ২৩.৭৭৮৮° উত্তর ৯০.৩৭১৬° পূর্ব / 23.7788; 90.3716
ধরনবিজ্ঞান জাদুঘর
পরিদর্শকমাসে ৪,০০০
পরিচালকমোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী[১]
তত্ত্বাবধায়কবদিউর রহমান, কাজী হাসিবুদ্দীন আহমেদ, সুকল্যাণ বক্কর
মালিকবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
ওয়েবসাইটnmst.gov.bd

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসে। এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের একমাত্র বিজ্ঞান যাদুঘর এবং জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২৬ এপ্রিল, ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকারের এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর আত্মপ্রকাশ করে।[২] প্রতিষ্ঠার বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এটি ঢাকা গণগ্রন্থাগার ভবনে কাজ শুরু করে। ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে এটিকে ঢাকার চামেলীবাগে স্থানান্তর করা হয় ও পরের বছরের মে মাসে এটিকে ধানমন্ডির ১নং সড়কে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭২ সালে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা প্রদান করা হয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭৯ সালে এ জাদুঘরকে ধানমন্ডির ৬নং সড়কে নেয়া হয় ও পরের বছর পুনরায় কাকরাইল মসজিদের সামনের একটি স্থানে স্থানান্তর করা হয়। জাদুঘরের একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ঢাকার আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগরে ৫ একরের এক খণ্ড জমি বরাদ্দ করে এবং সেখানে ১৯৮১ সালে এর নিজস্ব ভবন তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে।

ভবন প্রাঙ্গণ[সম্পাদনা]

জাদুঘর প্রাঙ্গণ ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে। ভবনের ১ম ও ২য় তলায় প্রদর্শশালা, ৩য় তলায় অফিস এবং ৪র্থ তলায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অবস্থিত। প্রদর্শশালা ছাড়া এখানে একটি গ্রন্থাগার, কর্মশালা ও মিলনায়তন রয়েছে। ভবন প্রাঙ্গণে একটি ডাইনোসরের মূর্তি এবং একটি ছোট যুদ্ধ বিমান রয়েছে।

প্রদর্শশালা (গ্যালারি)[সম্পাদনা]

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে ৮টি গ্যালারি রয়েছে। এগুলি হলো:[২]

  1. ভৌত বিজ্ঞান প্রদর্শশালা
  2. শিল্প প্রযুক্তি প্রদর্শশালা
  3. জীব বিজ্ঞান প্রদর্শশালা
  4. তথ্য প্রযুক্তি প্রদর্শশালা
  5. মজার বিজ্ঞান প্রদর্শশালা ১
  6. মজার বিজ্ঞান প্রদর্শশালা ২
  7. মহাকাশ বিজ্ঞান প্রদর্শশালা
  8. ইনোভেশন গ্যালারি (প্রদর্শশালা) / তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পের গ্যালারি (প্রদর্শশালা)

কার্যক্রম[সম্পাদনা]

প্রদর্শশালা পরিদর্শন[সম্পাদনা]

শনিবার থেকে বুধবার, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা প্রদর্শশালা পরিদর্শন করা যায়। বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।

পাঠাগার[সম্পাদনা]

সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক তথ্য মতে, জাদুঘরের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর-পূর্ব কোণে স্থাপিত পাঠাগারটিতে ৬ হাজার বই, সাময়িকী ও অন্যান্য প্রকাশনা রয়েছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।[৩]

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

নিয়মিতভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের জন্য মিউজ়ু বাস[৪], চতুর্মাত্রিক মুভি বাস ও অবজ়ারভেটরি ভ্যান (মানমন্দির ভ্যান)[৫] যুক্ত করা হচ্ছে জাদুঘরের নিয়মিত কার্যক্রমে।

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

  • জনসাধারণের মধ্যে বিজ্ঞান অনুরাগ ও বিজ্ঞান সচেতনতা সৃষ্টি করা;
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করা;
  • জাদুঘরে স্থায়ী বিজ্ঞান প্রদর্শনী স্থাপন করা;
  • বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞান বিষয়ক নানাবিধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা;
  • ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা;
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশনার ব্যবস্থা করা;
  • বক্তৃতামালা, সেমিনার ও সম্মেলনের ব্যবস্থা করা;
  • জাদুঘরের উন্নয়নে প্রদর্শনীবস্ত্তসমূহের সাহায্যে *গবেষণামূলক কর্মকান্ডের ব্যবস্থা করা;
  • প্লানেটরিয়াম স্থাপনসহ মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার ব্যবস্থা করা;
  • স্কুল ও কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা;
  • বিজ্ঞান শিক্ষার যুগোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করা;
  • নবীন ও শৌখিন বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনমূলক কাজে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করা;
  • দেশের বিজ্ঞান ক্লাবগুলোকে সাহায্য, সহযোগিতা ও উৎসাহ দান এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে

সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বিজ্ঞান আন্দোলনকে জোরদার করা;

  • বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ইতিহাস তুলে ধরা;
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রাচীন ও আধুনিক *নিদর্শনাবলী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রায়োগিক ব্যবস্থা করা;
  • মানব জাতির কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদানের ও বিজ্ঞানীদের কীর্তিসমূহের ভূমিকা সঠিকভাবে উপলব্ধিতে জনসাধারণকে সাহায্য করা।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

  • নবীন বিজ্ঞানী
  • উদ্ভাবন
  • লুব্ধক

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ[সম্পাদনা]

১৯৭৮ সাল থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপিত হয়ে আসছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান মেলা আঞ্চলিক পর্যায় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.nmst.gov.bd/site/office_head/7940452d-2f6d-4e42-8f87-8afb3227ed08/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4
  2. "আমাদের কথা"nmst.gov.bd। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  3. http://www.nmst.gov.bd/sites/default/files/files/nmst.portal.gov.bd/page/d3b9cfac_dd9f_4e38_9c0d_71704a415433/library%20information.pdf
  4. http://www.nmst.gov.bd/site/view/officer_list/forms/form/feedback_forms/%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9C%E0%A7%81-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8
  5. "বিজ্ঞান জাদুঘরে আসছে অত্যাধুনিক মুভি বাস"। দৈনিক প্রথম আলো। 
  6. "জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন সংক্রান্ত নিয়মাবলী"nmst.gov.bd। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]