জর্দি আলবা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
জর্দি আলবা
Jordi Alba Euro 2012.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম জর্দি আলবা রামোস
জন্ম (১৯৮৯-০৩-২১) ২১ মার্চ ১৯৮৯ (বয়স ২৮)
জন্ম স্থান এল'হসপিতালেত, স্পেন
উচ্চতা ১.৭০ মি (৫ ফু ৭ ইঞ্চি)
মাঠে অবস্থান লেফট ব্যাক / মিডফিল্ডার
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনা
জার্সি নম্বর ১৮
তারূণ্যের কর্মজীবন
১৯৯৬–১৯৯৮ হসপিতালেত
১৯৯৮–২০০৫ বার্সেলোনা
২০০৫–২০০৭ কর্নেয়া
২০০৭ ভ্যালেন্সিয়া
বলিষ্ঠ কর্মজীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
২০০৭ কর্নেয়া
২০০৭–২০০৮ ভ্যালেন্সিয়া বি ১৮ (৫)
২০০৮–২০১২ ভ্যালেন্সিয়া ৭৩ (৫)
২০০৮–২০০৯ জিমনাস্তিক (ধার) ৩৫ (৪)
২০১২– বার্সেলোনা ৪৪ (২)
জাতীয় দল
২০০৬ স্পেন অনূর্ধ্ব ১৯ (১)
২০০৯ স্পেন অনূর্ধ্ব ২০ (০)
২০০৮–২০১১ স্পেন অনূর্ধ্ব ২১ (০)
২০১২ স্পেন অনূর্ধ্ব ২৩ (০)
২০১১– স্পেন ২৫ (৫)
২০১৩– কাতালোনিয়া (০)
* পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে এবং ১২ এপ্রিল ২০১৪ তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

‡ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সংখ্যা এবং গোল ৫ মার্চ ২০১৪ তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

জর্দি আলবা রামোস (কাতালান: Jordi Alba, কাতালান: [ˈʒɔrði ˈaɫβə ˈramos], স্পেনীয় উচ্চারণ: [ˈʝorði ˈalβa ˈramos]; জন্ম ২১ মার্চ ১৯৮৯) একজন স্পেনীয় পেশাদার ফুটবলার যিনি ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দলের হয়ে প্রধানত একজন লেফট ব্যাক হিসেবে খেলেন। এছাড়া তিনি লেফট মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন।

হসপিতালেতের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, আলবা বার্সেলোনার যুব প্রকল্প লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের অন্যতম। লা মাসিয়া ছাড়ার পর তিনি কর্নেয়ায় যোগ দেন, অতঃপর যোগ দেন ভ্যালেন্সিয়ায়। সেখানে তিনি চারটি মৌসুম পার করেন। ২০১২ সালে আলবা পুনরায় বার্সেলোনায় ফিরে আসেন।

২০১১ সালে স্পেন জাতীয় দলে আলবার অভিষেক হয়। ২০১২ সালে তিনি উয়েফা ইউরোপীয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের হয়ে অংশগ্রহন করেন।

ক্লাব ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক সময়[সম্পাদনা]

আলবা বার্সেলোনার এল'হসপিতালেত দি লব্রেগাত শহরে জন্মগ্রহন করেন। তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন বার্সেলোনার যুব একাডেমী লা মাসিয়ায়, কিন্তু ২০০৫ সালে ক্লাব তাকে ছেড়ে দেয়। তখন তিনি যোগ দেন ইউই কর্নেয়ায়। এর ঠিক দুই বছর পর তিনি যোগ দেন ভ্যালেন্সিয়ায় এবং সেখানে তিনি তার যুব কর্মজীবন শেষ করেন। ২০০৭–০৮ মৌসুমে তিনি ভ্যালেন্সিয়ার যুব দলকে চতুর্থ সারির লীগ থেকে তৃতীয় লীগে উন্নীত করতে সহায়তা করেন। পরের মৌসুমে তার পেশাদার অভিষেক হয়। তিনি ধারে দ্বিতীয় সারির দল জিমন্যাস্তিক দি তারাগোনার হয়ে মাঠে নামেন।[১]

ভ্যালেন্সিয়া[সম্পাদনা]

ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে খেলছেন আলবা।

ভ্যালেন্সিয়ায় ফেরার পর ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, লা লিগায় আলবার অভিষেক হয়। ভায়াদোলিদের বিপক্ষে ঐ খেলায় ভ্যালেন্সিয়া ৪–২ গোলে জয় লাভ করে।[২] তিনি উয়েফা ইউরোপা লীগের গ্রুপ পর্বের টানা দুইটি খেলায় মাঠে নামেন। দুইটি খেলাই ১–১ গোলে ড্র হয়। ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্ডারদের অতিরিক্ত ইনজুরির কারণে আলবা ২০০৯–১০ মৌসুমের অধিকাংশ সময় লেফট ব্যাক হিসেবে খেলেন। ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে তিনি প্রথম গোল করেন, যদিও খেলায় রিয়াল জারাগোজা ২–৩ গোলে জয় লাভ করে।[৩]

২০১০–১১ মৌসুমে, ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগ প্রায় একাই সামাল দেন আলবা। তিনি ২৬টি খেলায় মাঠে নামেন। ভ্যালেন্সিয়া তৃতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে এবং পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

পরের মৌসুমে আলবা আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন। মৌসুমে তিনি সব ধরণের প্রতিযোগিতায় মোট ৫০টি খেলায় মাঠে নামেন এবং ৩টি গোল করেন।

বার্সেলোনা[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ২৮ জুন, আলবা বার্সেলোনার সাথে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তার স্থানান্তর ফি ছিল ১৪ মিলিয়ন ইউরো।[৪] ১৯ আগস্ট, রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে তার অভিষেক হয়। তিনি খেলার পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং বার্সেলোনা ৫–১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে।[৫]

২০১২ সালের ২০ অক্টোবর, আলবা বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৫–৪ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে। খেলার প্রথম এবং শেষ গোল করেন আলবা, অবশ্য শেষ গোলটি ছিল ওন গোল।[৬] পরের খেলায় চ্যাম্পিয়নস লীগের গ্রুপ পর্বে সেল্টিকের বিপক্ষে খেলার ৯৩তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আলবা; বার্সেলোনা ২–১ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে।[৭]

২০১৩ সালের ১২ মার্চ, আলবা বার্সেলোনার হয়ে তার পঞ্চম গোল করেন। চ্যাম্পিয়নস লীগের রাউন্ড অফ ১৬-এর ২য় লেগের খেলায় এসি মিলানের বিপক্ষে খেলার একদম শেষ মিনিটে তিনি এই গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৪–০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে।[৮]

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

উয়েফা ইউরো ২০১২ এর ফাইনালে নিজের করা গোল উদযাপন করছেন আলবা।

২০০৮ সালের উয়েফা ইউরোপীয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অংশগ্রহন করেন আলবা। ২০০৯ সালে মেডিটের‍্যানিনান গেমসে স্পেনের হয়ে তিনি চারটি খেলায় মাঠে নামেন এবং স্পেন স্বর্ণপদক জয় করে।

২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২ উয়েফা ইউরো-এর বাছাইপর্বের শেষ দুইটি খেলার জন্য আলবা স্পেনের সিনিয়র দলে প্রথম ডাক পান। খেলা দুইটি ছিল চেক রিপাবলিক এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।[৯] ১১ অক্টোবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় তার অভিষেক হয়। তারই সহায়তায় খেলার প্রথম গোলটি করেন ডেভিড সিলভা[১০] আলবার এই দূর্দান্ত অভিষেক তাকে লা রোজাদের নিয়মিত লেফট ব্যাক জোয়ান ক্যাপদেবিলার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রমাণ করে।[১১]

আলবা ২০১২ উয়েফা ইউরো-এর জন্য ঘোষিত স্পেন দলে জায়গা পান। প্রতিযোগিতায় স্পেনের সবকয়টি খেলায় তিনি মাঠে নামেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলায় তিনি শাবি আলোনসোর করা গোলে সহায়তা করেন। খেলায় ২–০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন।[১২] ফাইনালে, ইতালির বিপক্ষে আলবা পাল্টা আক্রমণ থেকে একটি গোল করেন। স্পেন ৪–০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং টানা দ্বিতীয়বারের মত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।[১৩][১৪]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ক্লাব[সম্পাদনা]

১২ এপ্রিল ২০১৪ অনুসারে।[১৫]

ক্লাব মৌসুম লীগ কাপ ইউরোপ অন্যান্য[১৬] মোট
উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল
জিমন্যাস্তিক ২০০৮–০৯ ৩৫ ৩৬
মোট ৩৫ ৩৬
ভ্যালেন্সিয়া ২০০৯–১০ ১৫ ২৬
২০১০–১১ ২৬ ৩৩
২০১১–১২ ৩২ ১০ ৫০
মোট ৭৩ ১৪ ২২ ১০৯
বার্সেলোনা ২০১২–১৩ ২৯ ৪৪
২০১৩-১৪ ১৫ ২৬
মোট ৪৪ ১০ ১৩ ৭০
ক্যারিয়ারে সর্বমোট ১৫৩ ১১ ২৫ ৩৫ ২১৬ ১৫
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং উয়েফা ইউরোপা লীগে খেলেছেন।

আন্তর্জাতিক[সম্পাদনা]

৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ অনুসারে।

জাতীয় দল মৌসুম উপস্থিতি গোল সহায়তা
স্পেন ২০১১–১২ ১১
২০১২–১৩ ১১
২০১৩–১৪
মোট ২৪

আন্তর্জাতিক গোল[সম্পাদনা]

স্কোর এবং গোলের তালিকা স্পেনের গোলের সংখ্যা প্রথমে।

# তারিখ মাঠ প্রতিপক্ষ স্কোর ফলাফল প্রতিযোগিতা
১. ১ জুলাই ২০১২ অলিম্পিক স্টেডিয়াম, কিয়েভ, ইউক্রেন  ইতালি –০ ৪–০ ইউরো ২০১২ ফাইনাল
২. ১২ অক্টোবর ২০১২ ডায়নামা স্টেডিয়াম, মিনস্ক, বেলারুশ  বেলারুশ ০– ০–৪ ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
৩. ২৩ জুন ২০১৩ ইস্তাদিও কাস্তেল্যাও, ফোর্তালেজা, ব্রাজিল  নাইজেরিয়া –০ ৩–০ ২০১৩ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ
৪. –০
৫. ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ হেলসিনকি অলিম্পিক স্টেডিয়াম, হেলসিনকি, ফিনল্যান্ড  ফিনল্যান্ড –০ ২–০ ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ক্লাব[সম্পাদনা]

বার্সেলোনা

জাতীয় দল[সম্পাদনা]

একক[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Jordi Alba ya es grana y Campano puede quedarse" (স্পেনীয় ভাষায়)। Diario AS। ২৬ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ৫ মে ২০১৩ 
  2. "Villa stars in Valencia win"ইএসপিএন সকারনেট। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  3. "Los Che complete woeful week"ইএসপিএন সকারনেট। ১১ এপ্রিল ২০১০। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  4. "Agreement with Valencia over Jordi Alba"ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। ২৮ জুন ২০১২। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  5. "Messi bags brace for five-goal Barca"। ইএসপিএন সকারনেট। ১৯ আগস্ট ২০১২। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  6. "Alba, el primero en marcar un gol y un autogol desde Kluivert en 2003" [Alba, first to score goal and own goal since Kluivert in 2003] (স্পেনীয় ভাষায়)। El Mundo Deportivo। ২১ অক্টোবর ২০১২। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  7. "Last-gasp Barcelona break Celtic hearts"উয়েফা। ২৩ অক্টোবর ২০১২। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  8. "Breathtaking Barcelona blow Milan away"। উয়েফা। ১২ মার্চ ২০১৩। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  9. "Only one new face as Del Bosque names Spain squad"Shanghai Daily। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  10. McGuire, Annie (১১ অক্টোবর ২০১১)। "Spain 3–1 Scotland"বিবিসি স্পোর্ট। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  11. "Spain's Del Bosque spoilt for choice"Sports Illustrated। ১২ অক্টোবর ২০১১। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  12. "Centurion Alonso sends Spain into last four"উয়েফা। ২৩ জুন ২০১২। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  13. "Spain overpower Italy to win UEFA EURO 2012"। উয়েফা। ১ জুলাই ২০১২। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  14. Coerts, Stefan (১ জুলাই ২০১২)। "Jordi Alba: I cannot believe what has happened"Goal.com। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৩ 
  15. "Jordi Alba Ramos"। ভ্যালেন্সিয়া সিএফ। সংগৃহীত ৯ জুন ২০১৩ 
  16. অন্যান্য এর মধ্যে রয়েছে স্পেনীয় সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]