ইস্তেখারার নামাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইস্তেখারা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, কোন জিনিসের ক্ষেত্রে কল্যাণ কামনা করা। সালাতুল ইস্তেখারা হলো, আল্লাহর নিকট কোন জিনিসের ক্ষেত্রে কল্যাণ কামনা করা। এই নামাজটির নিয়ম হলো, দুই রাকাত নামাজ পড়বে তারপর নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে অর্থা আল্লাহর হামদ পড়বে তারপর রাসুলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর দরূদ পড়বে। তারপর একটি দোয়া পড়বে যেটা নিম্নে দেওয়া হয়েছে।

হুকুম [সম্পাদনা]

ওলামায়ে কেরাম একমত যে, ইস্তিখারার নামাজ সুন্নাত। তার দলীল নিম্নের বোখারীর হাদীসটেমপ্লেট:اقتباس حديث[১]

ইস্তেখারার দোয়া[সম্পাদনা]

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) আমাদিগকে আমাদের কাজকর্মের ব্যাপারে ইস্তিখারা করিবার তরীকা এরুপ গুরুত্বসহকারে শিক্ষা দিতেন যেরুপ গুরুত্ব সহকারে আমাদিগকে কুরআন মজীদের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেহ কোন কাজ করিবার ইচ্ছা করে (আর সে উহার পরিণতি সম্পর্কে চিন্তিত হয়, তখন তাহার এইভাবে ইস্তেখারা করা উচিত যে,) সে প্রথমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, এরপর এইভাবে দোয়া করবে –إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العظيم، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ هَذَا الأَمْرَ ثُمَّ تُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ خَيْرًا لِي فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ قَالَ أَوْ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْنِي عَنْهُ [ واصرفه عني ] وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ অর্থ: হে আ্ল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ কামনা করি, আপনার কুদরত দ্বারা শক্তি চাই, এবং আপনার নিকট আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি । কেননা আপনি প্রত্যেক কাজের কুদরত ও ক্ষমতা রাখেন আর আমি কোন কাজের ক্ষমতা রাখি না । আপনি সবকিছু জানেন, আর আমি কিছুই জানি না এবং আপনিই সমস্ত গোপন বিষয়কে অতি উত্তমরুপে জানেন । আয় আল্লাহ, যদি আপনার এলেম অনুযায়ী এই কাজ আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া ও পরিণতি হিসাবে আমার জন্য কল্যাণকর হয় তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত করিয় দিন এবং সহজ করিয়া দিন, অত:পর উহার মধ্যে আমার জন্য বরকতও দান করুন । আর যদি আপনার এলেম অনুযায়ী এই কাজ আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া ও পরিণতি হিসাবে আমার জন্য কল্যাণকর না হয় তবে এই কাজকে আমার নিকট হইতে পৃথক রাখুন এবং আমাকে উহা হইতে বিরত রাখুন এবং যেখানে যে কাজেই আমরা জন্য কল্যাণ থাকে তাহা আমাকে নসীব করুন । অত:পর আমাকে সেই কাজের উপর সন্ত্তষ্ট নিশ্চিন্ত করিয়া দিন । বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাও এরশাদ করিয়াছেন যে, দোয়ার মধ্যে নিজের প্রয়োজনের নাম লইবে । 

ইস্তেখারার শর্ত[সম্পাদনা]

  1. নিয়্যাত করা।
  2. প্রয়োজনীয় সকল চেষ্টা করা। অর্থাৎ ওয়াসিলা গ্রহণ করা।
  3. আল্লাহর হুকুমে খুশী থাকা
  4. শুধুমাত্র হালাল কিংবা বৈধ বিষয়ে ইস্তেখারা করা।
  5. তাওবা করা, অন্যায় করে কিছু গ্রহন না করা, হারাম উপার্জন না করা, হারাম মাল ভক্ষণ না করা।
  6. যে সব বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে অর্থাৎ বিষয়টি তার ইচ্ছার অধীনে সেসব বিষয়ে ইস্তেখারা না করা।

ইস্তেখারা স্বপ্নে নয়[সম্পাদনা]

অধিকাংশ মানুষ এটা ধারণা করে যে, ইস্তেখারার নামাজের পর তাকে স্বপ্ন দেখানো হবে এবং সে সঠিকপথ নির্দেশিত হবে। এটি একটি প্রচলিত ভুল। তার উচিত হবে কোন একটই সিদ্ধান্তকে অগ্রগণ্য করে তারপর বিষয়টিকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন তোমরা কোন বিষয়ে দৃঢ ইচ্ছা করবে তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করবে। -আয়াতঅতএব এরপর কোন বিষয় যদি তিনি সহজ করে দেন তাহলে সেটা ঠিক আছে আর যদি তা না হয় তাহলে এটা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত অন্য কিছু নয়।

বিবাহের ক্ষেত্রে ইস্তেখারা[সম্পাদনা]

এসবের ক্ষেত্রে ইস্তেখারার ব্যপারে সুন্নাহ রয়েছে। তবে সবার প্রথমে প্রয়োজন উসিলার ব্যবহার। অর্থাৎ নিজের সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করার পর বাকীটা আল্লাহর হাও্যালায় দিয়ে দেওয়া। 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:مراجع

  1. الراوي: سعد بن أبي وقاص المحدث: السيوطي - المصدر: الجامع الصغير - الصفحة أو الرقم: 8252