ফরজ নামাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফরজ নামাজ বা ওয়াজিব নামাজ হল মুসলিমদের সেসকল নামাজ যেগুলো পড়া তাদের জন্য ফরজ/ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক। ইসলামে বিশুদ্ধ ঈমান-আকীদার পর সবচেয়ে বড় ফরজ ইবাদত হলো ফরজ নামাজ। এগুলো হলো ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ (যথাক্রমে ফজরের নামাজ ২ রাকাত, যোহরের নামাজ ৪ রাকাত, আসরের নামাজ ৪ রাকাত, মাগরিবের নামাজ ৩ রাকাত, এশার নামাজ ৪ রাকাত) পাশাপাশি অনেক আলেম বিতর নামাজকেও ফরজ বা ওয়াজিব বলে দাবি করে থাকেন, আবার কিছু আলেম একে ফরজ বা ওয়াজিব নয় বলে দাবি করে থাকেন। ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ পুরুষদের জন্য জামাত পড়া ফরজ এবং মুসলিম নারীদের জন্য ঘরে পড়া ফরজ ও জামাতে পড়া নফল, পাশাপাশি ২ ঈদের নামাজ জামাতে পড়াও মুসলিম পুরুষদের জন্য ফরজ ও মুসলিম নারীদের জন্য নফল। এছাড়াও জানাজার নামাজ জামাতে পড়া ফরজে কিফায়া[১]

৫ ওয়াক্তে ফরজ নামাজের রাকাত[সম্পাদনা]

১ ফযর, ২ যোহর, ৩ আসর, ৪ মাগরিব, ৫ ইশা

প্রতিদিন একজন মুসলিমকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। প্রথম ওয়াক্ত হল "ফজর নামাজ" সুবহে সাদিক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত এর ব্যপ্তিকাল। এরপর "যুহর ওয়াক্ত" বেলা দ্বিপ্রহর হতে "আসর ওয়াক্ত"-এর আগ পর্যন্ত যার ব্যপ্তি। তৃতীয় ওয়াক্ত "আসর ওয়াক্ত" যা সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত পড়া যায়। চতুর্থ ওয়াক্ত হচ্ছে "মাগরিব ওয়াক্ত" যা সূর্যাস্তের ঠিক পর পরই আরম্ভ হয় এবং এর ব্যপ্তিকাল প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট। "মাগরিব ওয়াক্ত" এর প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর আরম্ভ হয় "ইশা ওয়াক্ত" এবং এর ব্যপ্তি প্রায় "ফজর ওয়াক্ত"-এর আগ পর্যন্ত।

উপর্যুক্ত ৫ টি ফরজ নামাজ ছাড়াও ইশা'র নামাজের পরে বিতর নামাজ আদায় করা হানাফী আলেমদের মতে ওয়াজিব, ও সালাফী আলেমদের মতে সুন্নত। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি সুন্নত নামাজ ও মুসলিমরা আদায় করে থাকে।

কোন ওয়াক্ত-এর নামাজ কয় রাকাত তা দেয়া হল :

নাম সময় ফরয
ফযর (فجر) ঊষা থেকে সূর্যোদয় ২ রাকাত
যুহর (ظهر) ঠিক দুপুর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাকাত
আসর (عصر) যোহরের শেষ ওয়াক্ত থেকে সূর্য হলুদ বর্ণ পূর্ব পর্যন্ত অন্য মতে সূর্যস্তের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাকাত
মাগরিব (مغرب) সূর্যাস্তের পর থেকে গোধূলি পর্যন্ত ৩ রাকাত
ইশা (عشاء) গোধূলি থেকে অর্ধ রাত পর্যন্ত ৪ রাকাত
বিতর (وتر) ইশার পর থেকে ফজরের পূর্র পর্যন্ত ১ বা ৩ বা ৫ বা ৭ বা ৯ বা ১১ বা ১৩

ইসলামী নবী মুহাম্মদ প্রতিদিন এ নামাজগুলো পড়তেন।

শুক্রবারে জুমার নামাজ যুহর নামাজের পরিবর্তে পড়তে হয়

এশা নামাজ আদায় করার পর বেজোড় সংখ্যক রাকাত বিতর এর ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে হয়।

জামাতে ফরজ নামাজের পুরস্কার[সম্পাদনা]

আনাস বিন মালিক বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রসূল, সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তার উপর আল্লাহর আশীর্বাদ ও শান্তি বর্ষিত হোক), বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রথম তাকবীর ধরে চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহর জন্য জামাতে (৫ ওয়াক্ত ফরজ) নামায আদায় করে, তার জন্য দু’টি নাজাত লেখা হয়ঃ জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং মুনাফেকী থেকে মুক্তি।

— হাদীসের মান: যঈফ (দারুসসালাম)/হাসান লিগাইরিহি, তথ্যসূত্রঃ জামে আত-তিরমিযী ২৪১, সহীহা ১৯৭৯, সহীহ আত-তারগীব ৪০৯, সহীহ আল-জামি' ৬৩৬৫।

ফজর ও ঈশা মুনাফিকের জন্য সবচেয়ে কঠিন[সম্পাদনা]

উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুনাফিক (ভণ্ড)দের উপর ফজর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই। যদি তারা এর ফযীলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।"

— সহীহুল বুখারী ৬৫৭, ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, দাউদ, ৭২৬০, ৭৮৫৬, ২৭৩৬৬, ২৭৪৭৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৯, দারেমী ১২১২, ১২৭৪

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rasdi, Mohamad Tajuddin Mohamad (২০১৪)। Rethinking the Mosque In the Modern Muslim Society (ইংরেজি ভাষায়)। ITBM। পৃষ্ঠা 161। আইএসবিএন 978-967-430-387-7। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০২২