মুতাজিলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুতাযিলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুতাজিলা (আরবি: المعتزلة‎‎) হল ইসলামি ধর্মতত্ত্বের একটি শাখা। এটি কারণ ও যুক্তি আলোচনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ৮ম থেকে ১০ শতাব্দীতে বসরাবাগদাদে এর প্রাধান্য ছিল। কুরআনকে আল্লাহর সৃষ্ট বলার কারণে তারা বেশি আলোচিত। তাদের মতে কুরআন আল্লাহর সাথে একই অস্তিত্বে ছিল না বরং তা আল্লাহর সৃষ্ট।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উমাইয়া যুগে মুতাজিলা আন্দোলনের আবির্ভাব হয়। ওয়াসিল ইবনে আতাকে মুতাজিলা মতবাদের জনক হিসেবে ধরা হয়। তিনি ছিলেন হাসান বসরির শিষ্য, একটি মাসলাকে কেন্দ্রকরে তিনি হাসান বসরীর মতাবাদ থেকে বের হয়ে নিজে একটি মতাদর্শ চালু করেন, যা মুতাজিলা মতবাদ নামে পরিচিতি পায়। মুতাজিলা শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় "নিজেকে আলাদা করে নেয়া বা কিছু থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া"।

আব্বাসীয় যুগে এটি রাজনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় কারণ আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন এই মতবাদ গ্রহণ করেন। কিন্তু এই মতবাদকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ধর্মীয় নিপিড়ন শুরু হয় শিয়া, সুন্নি আলেমদের উপর এবং অন্য যারা এই মতবাদ গ্রহণ করে নি। এই নীতি পনের বছর (৮৩৩-৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ) ধরে চলে এবং এই সময়ের মধ্যে একজন বিখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব আহমদ বিন হাম্বল কারারুদ্ধ হন। মুতাজিলা মতবাদের আলেমরাও এই সকলের প্রতিবাদ না করে নিরব থাকেন। পরে আল-মুতাওয়াক্কিল (১০ম আব্বাসীয় খলিফা) ক্ষমতায় এলে বিন হাম্বল মুক্তি পান।

চিন্তাধারা[সম্পাদনা]

মুতাজিলাদের চিন্তাধারাকে পাঁচটি মূলনীতির মধ্যে সংক্ষিপ্ত করা যায়ঃ ১। তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী তথা সিফতকে আল্লাহর সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে স্বীকার করে না। তারা যুক্তি দেয় আল্লাহকে কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যাবে না। তাই এগুলো আল্লাহর প্রতি দেওয়া যাবে না।

২। প্রাচীন গ্রীকদের মত মুতাজিলারাও মানুষের স্বাধীন ইচ্ছায় বিশ্বাস করে। তারা মনে করে যে আল্লাহ মানুষের ভাগ্য পূর্বনির্ধারণ করতে পারেন না। বরং মানুষ আল্লাহর ইচ্ছার বাইরেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

৩। মুতাজিলারা তাদের যুক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে আল্লাহর কোন দয়া বা অনুকম্পা হবে ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন ও তাঁর প্রকৃতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। মুতাজিলারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার করতে বাধ্য।

৪। মুতাজিলারা মনে করে যে একজন মুসলিম যদি সর্বোচ্চ পাপ বা কবিরা গুনাহ করে তাওবা করা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করে, তবে ঐ ব্যক্তিকে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী-এই দুইয়ের কোনটির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

৫। ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ’ ধারণাকে মুতাজিলারা গ্রহণ করে। এই লক্ষ্যে শক্তিপ্রয়োগকে তারা বৈধ মনে করে, যা মিহনা নামে নতুন এক ধারণার সাথে পরিচিত করায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]