সুতরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সুতরা নিয়ে নামাজ পড়ছেন একজন মুসলিম

সুতরা (আরবি: سترة‎‎) হলো নামাজের সময় ব্যবহৃত একটি বস্তু, যা তার সামনে দিয়ে চলমান সবকিছু থেকে নামাজ অবস্থাকালীন তাকে আলাদা করে রাখে।[১][২][৩][৪] কমপক্ষে তিন হাত বা এর কম দুরত্বে সুতরা রেখে নামাজ পড়া হয়। এর উচ্চতা হয় কমপক্ষে এক হাত।[৫] প্রস্থে যেকোনো পরিমাণ হতে পারে।[৬] সুতরাহ শব্দের অর্থ আড়াল

রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের খুঁটিকে, ফাঁকা ময়দানে বর্শা গেড়ে, নিজের উটকে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে সুতরা বানাতেন। তিনি (সা.) বিভিন্ন সময় উটের পিঠে বসার জিনপোশ, গাছ ও শোয়ার খাটকে সামনে রেখেও নামাজ পড়েছেন। কেউ যদি নামাজির বরাবর সামনে থাকে, তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নামাজের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়।[৭][৮]

সুতরা সম্পর্কিত হাদীস[সম্পাদনা]

  1. হযরত ত্বালহা (রাঃ) বলেন, "আমরা যখন নামাজ পড়তাম তখন পশুরা আমাদের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করত। যখন রাসুল(সঃ) কে এই ব্যাপারে অবগত করা হল তখন তিনি বললেন, ”যদি উটের পালকির সমান কোন বস্তুও তোমাদের সামনে থাকে তাহলে সামনে দিয়ে গমনকারীরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (ইবনে মাজাহ)
  2. হযরত আবু জুহাইম (রাঃ) বলেন, "রাসূল (সঃ) বলেছেন, যদি নামাজরত ব্যক্তির সম্মুখ দিয়ে গমনকারী ব্যক্তির জানা থাকত যে, তার উপর কি পাপের বোঝা চেপেছে, তবে চল্লিশ পর্যন্ত - দাঁড়িয়ে থাকাকেও সে প্রাধান্য দিত। হযরত আবু নছর বলেন, "আমি জানিনা তিনি চল্লিশ দিন বলেছেন কিংবা মাস অথবা বছর।" (বুখারী ও মুসলিম)
  3. আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, "রাসুল (সঃ) যখন ঈদের দিন নামাজের জন্য বের হতেন তখন স্বীয় বর্শা সাথে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিতেন এবং তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। তার দিক হয়ে নামাজ পড়াতেন আর লোকেরা তার পিছনে দাঁড়াতেন। সফরকালেও তিনি সুতরা ব্যবহার করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরার বিধান[সম্পাদনা]

ইমামের সামনে সুতরা থাকলে মুক্তাদিদের জন্য পৃথক সুতরার দরকার নেই।

  1. ইমামের সামনে সুতরা থাকলে মুক্তাদিদের জন্য পৃথক সুতরার দরকার নেই।
  2. সুতরা মাটি থেকে অল্প উঁচুতে হতে হবে।
  3. জায়নামাজের শেষ প্রান্তকে সুতরা বলে গণ্য করা যাবে না।
  4. বিনা সুতরায় নামাজ পড়লে কেউ সামনে দিয়ে গেলে নামাজ নষ্ট হয় না। কিন্তু নামাজের ক্ষতি হয়।

আবু হানিফার মতে, কেউ যদি এমন নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে হেটে চলে যায়, যার সামনে কোন সুতরা ছিলো না, এতে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির নামাজ নষ্ট হবে না।[৯][১০] ইমাম ইবনুল কাইয়ুম বলেনঃ “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন কোনো কিছুর সামনে দাঁড়াতেন, অথবা সামনে কিছু দাঁড় করিয়ে দিতেন, কিংবা অন্তত সামনে একটা রেখা এঁকে দিতেন। তিনি সালাতের সামনে আড়াল সৃষ্টিকারী (সুতরা) কিছু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কখনো দেয়াল সামনে রেখে সালাত আদায় করেছেন। তখন তার সাজদা ও দেয়ালের মাঝখান দিয়ে একটি বকরী বা ভেড়া পার হবার জায়গা থাকতো মাত্র। তার ও সুতরার মাঝে এর চাইতে বেশী দূরত্ব থাকতো না। বরং তিনি সুতরার নিকটবর্তী দাঁড়াবার নির্দেশ দিয়েছেন। কখনো তিনি খাট, কাঠ, গাছ কিংবা মসজিদের খুঁটিকে সামনে রেখে সালাত আদায় করেছেন।

যখন (তিনি) যুদ্ধের সফরে থাকতেন, কিংবা কোনো খোলা মাঠে সালাত আদায় করতেন, তখন সামনে হাতিয়ার গেড়ে সেটাকে সুতরা বানিয়ে সালাত আদায় করতেন এবং লোকেরা তার পিছনে সালাত আদায় করতেন। কখনো বাহন সামনে রেখে সালাত আদায় করেছেন, বাহঙ্কেই সুতরা বানিয়েছেন। কখনো কখনো সোয়ারীর আসনকেই সুতরা বানিয়েছেন।

তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসল্লিদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো আড়াল পাওয়া না গেলে অন্তত তীর বা লাঠি সামনে পুতে নিয়ে সেটাকে সুতরা বানিয়ে যেনো তারা সালাত আদায় করে। তীর বা লাঠিও পাওয়া না গেলে অন্তত সামনে মাটিতে যেনো একটি রেখা এঁকে নেয়। আবু দাউদ বলেন, আমি আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, মাটিতে রেখা আঁকলে সেটা নতুন চাঁদের মতো আড়াআড়ি আঁকবে। আব্দুল্লাহ বলেছেন, লম্বালম্বি আঁকবে। আর লাঠি গাড়লে সেটা খাড়া করে গাড়বে।"

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bukhari, Book 2, Volume 15, Hadith 89, 90: The Two Festivals (Eids)
  2. Bukhari, Book 1, Volume 8, Hadith 373, 422: Prayers
  3. Bukhari, Book 1, Volume 4, Hadith 187: Ablutions
  4. Sahih Muslim, Book 4, Hadith 1011: The Book of Prayers
  5. Muslim, Book 4, Hadith 1008, 1009: The Book of Prayers
  6. Bukhari, Book 1, Volume 9, Hadith 485: Virtues of the Prayer Hall (Sutra of the Musalla)
  7. Bukhari, Book 1, Volume 9, Hadith 488, 489: Virtues of the Prayer Hall (Sutra of the Musalla)
  8. Muslim, Book 4, Hadith 1023: The Book of Prayers
  9. Al Mabsut Vol. 1, page 191
  10. Majmoo’ Fataawa Ibn Baaz (24/21, 22)