শাম্মাস ইবনে উসমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শাম্মাস ইবন উসমান (মৃত্যু ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) রাসুল (সঃ)-এর একজন সাহাবা ছিলেন।[১] তিনি আরবের একজন সুদর্শন যুবক ছিলেন। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুলের উপর আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

নাম ও বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

তার মূলনাম শাম্মাস তবে হিশাম কালবী বলেছেন তার প্রকৃত নাম ছিল উসমান। শাম্মাস অর্থ অতিরিক্ত সূর্য কিরণ বিচ্ছুরণকারী ।[২] শাম্মাস ইবনে উসমান (রাঃ) এর পিতার নাম উসমান এবং মাতার নাম সাফিয়া বিনতু রাবিয়া। শাম্মাস কুরাইশ গোত্রের বনু মাখযুম শাখার সন্তান।

যুবাইর ইবন বাক্কার বলেনঃ তিনি ছিলেন মক্কার অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি। [আল ইসাবা-১/১৫৫]।

ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত[সম্পাদনা]

হযরত শাম্মাস ও তার মা হযরত সাফিয়া বিনতু রাবিয়া ইসলামের প্রথম পর্বে নবী মোহাম্মদের ইসলামের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। মুশরিকদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি তার মাকে সঙ্গে নিয়ে হাবশায় হিজরত করেন। সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আবার মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় হযরত মুবাশশির ইবন আল মুনজির-এর অতিথি হন । হযরত হানজালা ইবন আবী আমের আল-আনসারীর সাথে ভাতৃ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

যুদ্ধে অংশগ্রহন[সম্পাদনা]

বদর ও উহুদ যুদ্ধে হযরত শাম্মাস বীরত্বের সাথে লড়াই করেন।

উহুদের যুদ্ধে[সম্পাদনা]

উহুদের যুদ্ধে হঠাৎ করে যখন মুসলমানদের চরম বিপদ সংকটে পড়ে, তখন অল্প কয়েকজন সাহাবা মুহাম্মদ(সাঃ) পাশে থেকে কাফিরদের প্রতিহত করেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন শাম্মাস। কাফিরদের আক্রমণ প্রতিহত করতে যেয়ে তার সারাটি দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। এ অবস্থায় তাকে মদীনায় আনা হয় ও হযরত উম্মু সালামাকে তার সেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার কিছু পরেই শাম্মাস ইবনে উসমান মৃত্যু বরণ করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

হযরত রাসূলে কারীম (সাঃ) তার রক্তমাখা জামাকাপড়েই জানাযার নামায ছাড়াই উহুদের শহীদদের কবরস্থানে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাকে আবার উহুদে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়। তবে ঐতিহাসিক ওয়াকিদী বলেনঃ তাকে মদীনার বাকী গোরস্তানে দাফন করা হয়। তিনি ছাড়া উহুদে শাহাদাত প্রাপ্ত আর কেউ বাকী গোরস্তানে সমাহিত হননি।[৩] মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. (বইঃ আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – দ্বিতীয় খন্ড) 
  2. [উসুদুল গাবা-৩/৩৭৫] 
  3. [আল ইসাবা-২/১৫৫]