মাল লয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাল লয়
Loye.JPG
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমালাচি বার্নার্ড লয়
জন্ম (1972-09-27) ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ (বয়স ৪৭)
নর্দাম্পটন, ইংল্যান্ড
ডাকনামচেয়ারম্যান, জ্যাকো
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাউদ্বোধনী/মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২০১)
১৯ জানুয়ারি ২০০৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই শার্ট নং৪৮
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০১২-বর্তমানবাকিংহামশায়ার
২০১০–২০১১নর্দাম্পটনশায়ার (দল নং ২)
২০০৩–২০০৯ল্যাঙ্কাশায়ার (দল নং ১)
২০০৬–২০০৭অকল্যান্ড
১৯৯১–২০০২নর্দাম্পটনশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা ওডিআই এফসি এলএ টি২০
ম্যাচ সংখ্যা ২৬৪ ৩০৪ ৪২
রানের সংখ্যা ১৪২ ১৫,৩২৯ ৮,৯৭৩ ১২৪৬
ব্যাটিং গড় ২০.২৯ ৩৯.৯১ ৩৩.৮৬ ৩৩.৬৭
১০০/৫০ ০/০ ৪২/৬৫ ১০/৫৯ ১/৮
সর্বোচ্চ রান ৪৫ ৩২২* ১২৭ ১০০
বল করেছে ৫৫
উইকেট
বোলিং গড় ৬১.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ১১৯/– ৬৭/– ১৫/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

মালাচি বার্নার্ড লয় (ইংরেজি: Mal Loye; জন্ম: ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২) নর্দাম্পটনে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যাণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ‘চেয়ারম্যান’ বা ‘জ্যাকো’ ডাকনামে পরিচিত মাল লয়। এছাড়াও, ইংল্যান্ড এ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী অথবা মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। প্রয়োজনে ডানহাতি অফ ব্রেক বোলিং করতে পারতেন তিনি।

প্রতিপক্ষীয় ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে স্লগ সুইপ শট খেলে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ খেলোয়াড়ী জীবন চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ দেরীতে খেলার সুযোগ হয় তার। অবশেষে, ১৯ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয় তার। এ সময় তার বয়স ছিল ৩৪ বছর ১১৩ দিন। তবে, টেস্ট ক্রিকেট খেলায় সুযোগ হয়নি তার। সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র সাতটি ওডিআইয়ে অংশ নেন মাল লয়।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় মাল লয়ের। ১৯৯৪ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সহস্রাধিক রানের মাইলফলক স্পর্শে স্বীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। ১৯৯৮ সালে ১,২০০ রানের অধিক সংগ্রহ করেন। এ সময়ে কাউন্টি দলের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩২২ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ডেভিড রিপ্লে’র সাথে ৪০১ রানের জুটি গড়েন। এরফলে, ইংল্যান্ডের মাটিতে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন।

ঐ বছর তিনি চারটি শতরানের ইনিংস উপহার দেন। নতুন মৌসুমের সেরা পরিসংখ্যান হিসেবে পিসিএ বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। এর পূর্বে ১৯৯৩ সালে পিসিএ বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন তিনি। কয়েকবছর রান খরায় ভোগেন ও ৬০০ রানের কম তোলেন। প্রত্যেক মৌসুমেই ৪৮ ঊর্ধ্ব ব্যাটিং গড়ে রান করলেও ২০০২ সালে নয় শতাধিক রান সংগ্রহে সক্ষমতা দেখান। বর্তমানে তিনি দশ সহস্রাধিক রান নিজের নামের সাথে যুক্ত করেছেন। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ ও এ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভ করেন।

২০০৩ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন মাল লয়। ২০০৫ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় বিভাগে দলের ঐতিহাসিক শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। এ সময়ে কাউন্টি দলটির সদস্যরূপে ১,১৯৮ রান তুলে শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তন্মধ্যে, ডারহামের বিপক্ষে ২০০ রানের মূল্যবান ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি।

প্রথম ল্যাঙ্কাশায়ারীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উপর্যুপরী দ্বিতীয় দ্বি-শতক ইনিংস খেলার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। কিন্তু এসেক্সের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি ১৯৪ রান তুলে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ান। টুয়েন্টি২০ কাপেও প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ডারহামের বিপক্ষে ঠিক ১০০ রানের ঐ ইনিংসটিতে পাঁচটি ছক্কা ও দশটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ারের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় থাকতে তাকে দেখা যায়। ফলশ্রুতিতে, ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার ৩০-সদস্যের প্রাথমিক দলে তাকে রাখা হয়েছিল।

২০০৮ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।[১]

নর্দাম্পটনশায়ার দল থেকে সাত বছর দূরে থাকার পর ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে ২ বছরের চুক্তিতে ওয়ান্টেজ রোডে ফিরে আসেন।[২] ২০১১ মৌসুমের পর ঐ কাউন্টি থেকে তাকে অবমুক্ত করা হয়।[৩] দল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণের পর ২০১২ সালে বাকিংহামশায়ারে যোগ দেন। ডরসেটের বিপক্ষে এমসিসিএ নক-আউট ট্রফিতে তার অভিষেক ঘটে।[৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

৪ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার জন্য তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হংকং সিক্সেস প্রতিযোগিতায় ডমিনিক কর্কের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দলে তিনি উইকেট-রক্ষক হিসেবে অংশ নেন। জানুয়ারি, ২০০৭ সালে অকল্যাণ্ডের পক্ষে খেলতে থাকেন।

তবে, ব্রিসবেনে আঘাতপ্রাপ্ত মাইকেল ভনের শূন্যতা পূরণে তাকে দলে নেয়া হয়।[৫] কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজ প্রতিযোগিতায় ১৯ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে অনুষ্ঠিত খেলায় তার ওডিআই অভিষেক ঘটে। ৩৬ বলে ৩৬ রান তুলে ইংল্যান্ডের শীর্ষ রান সংগ্রহকারী ছিলেন মাল লয়।[৬]

ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার সিমন মান খেলা শেষে মন্তব্য করেন যে, ব্রেট লি’র বলে সামনের পায়ে ভর রেখে লয়ের ছক্কাটি প্রতিযোগিতার সেরা ছিল।[৭]

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রবি বোপারাকে অগ্রাধিকার দেয়ায় তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ডেভিড গ্রেভেনি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি মাল লয়ের জন্য দূর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি কোন ভুল করেননি। তবে, যদি তাকে দলে রাখা যেতো, তাহলে দলটি আরও শক্তিশালী হতো।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টুয়েন্টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু, ঘরোয়া ক্রিকেটে চমৎকার পরিসংখ্যান ও সফলতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। ২০০৭ সালের প্রতিযোগিতায় তিনি গড়ে ৫৭ রান তুলেছিলেন।[৮][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. England legends line up for Loye ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ মার্চ ২০০৮ তারিখে Lancashire County Cricket Club Website
  2. Mal Loye is a Steelback ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ জুলাই ২০১১ তারিখে Northants Cricket Website. Retrieved 30 September 2009.
  3. "Mal Loye released by Northants"। ESPNcricinfo। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  4. "Ex-England batsman signs for Bucks"Bucks Free Press। ১১ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১২ 
  5. Vaughan out of Brisbane one-dayer BBC Sport
  6. Commonwealth Bank Series BBC Sport
  7. England spirit shakes Aussies BBC Sport
  8. Bopara wins place ahead of Loye Cricinfo. Retrieved 14 February 2007.
  9. Loye fumes at Graveney's 'lack of respect' Cricinfo

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]